

Buy নজরুলের পত্রাবলি Online in Bangladesh
লেখক: কাজী নজরুল ইসলাম
- Author: কাজী নজরুল ইসলাম
- Publisher: নজরুল ইন্সটিটিউট
- Isbn: 9789843413130
- Number Of Pages: 168
- Language: বাংলা
- Edition: 6th Printed, December 2019
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"নজরুলের পত্রাবলি" বইটি সম্পর্কে ভেতরের কিছু অংশ:সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় নজরুলের বিচরণ ছিল স্বচ্ছন্দ। তাঁর প্রতিটি রচনাই বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। সুস্থাবস্থায় নজরুল বহু পত্র লিখেছেন। আত্মীয়-অনাত্মীয়, সুহৃদ, শুভাকাঙ্ক্ষী, গুণগ্রাহী বহুজনকে। পত্রগুলাের ভাব-ভাষা অতুলনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর। পত্রগুলােতে নজরুলের রস-বােধ, আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক ভাবনা, মানবতাবােধ ইত্যাদি অপূর্ব সুন্দর ও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এমনকি ভয়াবহ আর্থিক সংকটের বিষয়টিও সরস উপস্থাপনের গুণে একটি ছন্দায়িত গদ্যে পরিণত হয়েছে। এগুলাের সাহিত্যমূল্য অপরিসীম। নজরুলের পত্রাবলি সংকলনে নজরুল লিখিত অনেক পত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। পাঠক সমাজ এ পত্রাবলি পাঠ করে নজরুলের অন্যান্য সকল রচনার মতই তৃপ্তি বােধ করবেন।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

প্রথমে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা, এরপর জাতীয় কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করার পর একাধারে ওনার ৮৪ টি চিঠি উল্লেখ করা হয়েছে। সবগুলো চিঠিই বাংলাদেশের হারানো সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে। আল্লাহ আমাদের মহামান্য কবি কে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

গুড
so so

“অবশ্য যদিও আমি “কোরক” ব্যতীত প্রস্ফুটিত ফুল নই ;আর যদি সেরকম হয়ে থাকি কারুর চক্ষে, তবে সে বে-মালুম ধুতরো ফুল।” কোরক শব্দটির অর্থ আমি বুঝিনি, কারো জানা থাকলে জানাবেন। উক্তিটি উল্লেখ করলাম, কাজী নজরুল ইসলামের লেখা, একটি চিঠি থেকে। আজকের রিভিউ নজরুলের পত্রাবলী নিয়ে। চিঠিগুলো পড়ে আমি আসলে একটু দোটানা তে ভুগছি, নজরুল কি ভাবে কথা গুলো বলেছে। একবার মনে হতে পারে, যে মেনে নিয়েই বলেছেন, কিন্তু নজরুল কে চিনি বলেই মনে হচ্ছে তিনি একটু খোঁচা দিয়ে বলেছেন। যেমন তাঁর লেখা প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম “মুক্তি” বলে জানা যায়, সেটার নাম নজরুল দিয়েছিলেন “ক্ষমা” যেভাবে লিখেছেন আমার কাছে মনে হয়েছে, বেশ বিরক্ত হয়েই জবাব দিয়েছেন। অন্যায় সহ্য করার মানুষ যে তিনি নন। নজরুলের অনেক লেখা থেকে কিছু কিছু চুম্বক অংশ, কিছু চিঠির পুরোটা, কিছু কিছু বিশাল আকারের চিঠি নিয়েই এই বই। বহু মানুষকে প্রয়োজনেই লিখেছেন চিঠি। সে চিঠিতে আছে নিজের মনের কথা, সুবিধা-অসুবিধার কথা, ভালো লাগার কথা, প্রত্যাশা চাওয়া পাওয়ার কথা। নার্গিসের সাথে বিয়ের পরের দিন যখন পালিয়ে আসেন, তাঁর শ্বশুর কে এক পত্র লিখেছিলেন তিনি। সেখানে নিজেকে “অসুর জামাই” বলে সম্বোধন করেছেন। এই চিঠির একটা কথা অদ্ভুত ভাল লেগেছে, সেটা হল “আমিও আপনাদেরই পাঁচজনের মতন মানুষ, আমার গন্ডারের চামড়া নয়, কেবল সহ্যগুণটা কিছু বেশি” ….প্রতিটি চিঠিতে বার বার উঠে এসেছে একটা কথায় অন্যায় কে প্রশ্রয় তিনি দিবেন না, দিতে শেখেন নি। কথা নিয়ে খুব সুন্দর ভাবে খেলেছেন, যেমন জ্বরজ্বর মন ঝরঝরে হয়ে উঠেছে। কিছু চিঠি চলিত ভাষায় লেখা আবার কিছু চিঠি সাধু ভাষায়। আবার ১৯২৫ এর চিঠির উত্তর ১৯২৭ এ দিয়েছেম বলে নিজেই মজা করেছেন। কত বিচিত্র একটা সংকলন। কাজী মোতাহার হোসেন কে লেখা বেশ কিছু চিঠির সংকলন এই বইটিতে পাবেন। মোতিহার নামে তাঁকে সম্বোধন করে কত কথা যে তিনি ব্যক্ত করেছেন! চিঠি লিখেছেন, বেগম ফজিলাতুন্নেসা কে, রবীন্দ্রনাথ, জসিম-উদ্দিন, নিজের ছেলে অনিরুদ্ধ কে, প্রতিটা চিঠি এক এক টা রত্ন। নিজের আর্থিক-শারীরিক-মানসিক অবস্থা যেমন ফুটে উঠেছে, ঠিক সেরকম ফুটে উঠেছে, তাঁর প্রতিবাদী রূপ। ভুল করেছেন কি করেননি, কিন্তু ক্ষমা চেয়েছেন প্রাপকের কাছে। বইটা পড়তে গেলে মাঝে মধ্যে একটু ঝামেলা হয়, কারন কিছু পুরনো শব্দের ব্যবহার। যেটা কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দিতে পারে, তবে দু-একবার পড়লে বুঝতে পারবেন। অবশ্য নজরুল কে বোঝা সহজ নয়। সে যে বিদ্রোহী কবি, অন্য লেভেলের একজন মানুষ। যে বাস করবে যুগ থেকে যুগে, কাল থেকে কালে। আমার খুব প্রিয় কিছু লাইন দিয়েই শেষ করছি “এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের শ্রাদ্ধ দিনে-বন্ধু তুমি যেন যেওনা। যদি পার চুপটি করে বসে আমার অলিখিত জীবনের কোন একটি কথা স্মরণ করো, তোমার আঙ্গিনায় বা আশেপাশে যদি একটা ঝরা পায়ে পেষা ফুল পাও সেইটিকে বুকে চেপে বলো, বন্ধু আমি তোমায় পেয়েছি……...।।”

:9























