

Buy ডায়েরি ১৮৫৭ Online in Bangladesh
লেখক: আবদুল লতিফ
- Author: আবদুল লতিফ
- Publisher: প্রজন্ম পাবলিকেশন
- Isbn: 9789849748960
- Number Of Pages: 152
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
১৮৫৭ সালে ভারতবর্ষে সিপাহী-জনতার এক মহাবিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল। বিদ্রোহী সিপাহীদের হাতে হাত রেখে দখলদার ব্রিটিশদের থেকে মুক্তির উত্তাল লড়াইয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ইতিহাসে এমন বিস্তৃত ও সর্বব্যাপী মুক্তি আন্দোলন খুব কমই ঘটেছে। ইতিহাসে পাতায় পাতায় আজও রয়েছে বিদ্রোহে দিল্লীর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল বখত খান রহ., মাওলানা আহমাদুল্লাহ শাহ রহ., মাওলানা ফজলে হক খায়রাবাদী রহ., নবাব বিরজিস কদর, ঝাঁসির রানী লক্ষ্মী বাঈ, নানা সাহেব, তাতিয়া টোপীসহ অসংখ্য বীরযোদ্ধার বীরত্বমাখা বর্ণনা। তাদের কুরবানি ও আত্মোৎসর্গের রক্তাক্ত দাস্তান। কিন্তু আপনজনদের সেই প্রতারণা ও গাদ্দারির ফলে এই মহান ভারতবর্ষ জুড়ে বিস্তৃত এই মুক্তিযুদ্ধ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। বিপ্লবে নেতৃত্ব দানকারী অসংখ্য যোদ্ধা ও আলিম-উলামাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছিল। ব্রিটিশরা এতো নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে এই আন্দোলন দমন করেছিল, যা পাঠ করলে আজও শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠে! চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়! হৃদয় দুঃখ-কষ্টে ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে! কেন ব্যর্থ হয়েছিল সিপাহী-জনতার এই মহান স্বাধীনতা আন্দোলন? কারা ইংরেজদের সাথে হাত মিলিয়ে ভারতবর্ষের মানুষদের সাথে গাদ্দারি করেছিল? বিপ্লবের পুরোধা মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ কি আসলেই বিপ্লবে পরিচালনায় যোগ্য নেতৃত্ব ছিল? কী প্রতিকূল পরিস্থিতি ও পরিবেশে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছিল জেনারেল বখত খান রহ. কে? ইংরেজরা কীভাবে দমন করেছিল সিপাহী-জনতার এই মহাবিপ্লব? একজন প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে এ সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে এবং সিপাহী বিপ্লবের ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে আপনাকে সাহায্য করবে মুঘল দরবারের সদস্য আবদুল লতিফ লিখিত ‘ডায়েরি ১৮৫৭: সিপাহী বিদ্রোহের চাক্ষুষ বিবরণ’। বইটি আপনাকে নিয়ে যাবে ১৮৫৭ সালের দিল্লীর মুঘল রাজদরবারে। চিনিয়ে দিবে বিপ্লবের দোস্ত-দুশমনকে। সিপাহী-জনতার মহা বিপ্লবের এটি একটি ঐতিহাসিক মূল্যবান দলীল।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

Good!

"১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ইতিহাস যারা জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি অসাধারণ বই। বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর 'চাক্ষুষ বিবরণ'। বিভিন্ন ডায়েরি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানের মাধ্যমে লেখক সেই সময়ের অস্থির ও রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি জীবন্ত চিত্র তুলে ধরেছেন। ইতিহাসের শুকনো তথ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাগুলো এখানে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। যারা ইতিহাস নিয়ে পড়তে ভালোবাসেন, তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই। রকমারি থেকে দ্রুত ডেলিভারিতে বইটি পেয়েছি, ধন্যবাদ।"





সিপাহী বিদ্রোহের মূল এবং অরিজিনাল সব তথ্য এই বইয়ে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। আবদুল লতিফের নিজের লৈখা ডায়েরি। যিনি ১৮৫৭ সালের তার দেখা ঘটনা ও ইতিহাসগুলো লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন








#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ ◽নির্বাচিত লাইন: ❝১৮৫৭ সালের আন্দোলন কোনো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ থেকে উদ্ভূত হয়নি। এর পেছনে কোনো সংগঠিত ষড়যন্ত্রও ছিল না। দীর্ঘকাল ধরে মানুষের হৃদয়ে ইংরেজদের প্রতি যে গভীর বিদ্বেষ ও উদ্বেগ দানা বেঁধেছিল,এটা ছিল তার খুবই স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।❞ . ◽বই প্রকাশের তথ্য: বই: ডায়েরি ১৮৫৭ (সিপাহি বিদ্রোহের চাক্ষুষ বিবরণ) মূল: আবদুল লতিফ ভূমিকা: খালিক আহমেদ নিজামী অনুবাদক: Muhiuddin Mazharee প্রকাশনায়: প্রজন্ম পাবলিকেশন প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০২৩ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৫২ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০৳ . ▫️লেখক পরিচিতি: ডায়েরি ১৮৫৭-যা আবুল লতিফের লিপিবদ্ধ করা। লেখকের (আবদুল লতিফ) বিস্তারিত জীবনী পাওয়া না গেলেও। তিনি দিল্লির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য ছিলেন। সেইসাথে তিনি ছিলেন মুঘল রাজদরবারের একজন এক্টিভ সদস্য। তার জবানে আলোচ্য ডায়েরিতে উঠে এসেছে সে সময়ের বিবরণ। ফলে তার চাক্ষুষ বর্ণনায় ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের দিনগুলি হয়ে উঠেছে জীবন্ত। . ▫️বই সম্পর্কে: মূল ডায়েরিটা ফারসিতে লিপিবদ্ধ করা হলেও সেখান থেকে উর্দুতে ভাষান্তরিত, পূর্ণসংকলন এবং সম্পাদিত করেন আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক খালিক আহমেদ নিজামী। সর্বশেষ বাংলায় অনুবাদ করেন মুহিউদ্দিন মাযহারী। . ▫️অনুভূতি : সিপাহিদের সর্বব্যাপী প্রচেষ্ঠা ও দিনশেষে তাদের ব্যর্থতার বর্ণনা বারংবারই আপ্লূত করেছে। শেষমেশ দিল্লির পরাজয় এবং ইংরেজদের বিজয়ের ফলশ্রুতিতে ফিরিঙ্গিদের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার শিকার হতে হয় হাজারো নিরীহ মানুষের। তাদের হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের উক্ত নির্মম আবহের মর্মান্তিক স্বরূপ উপলব্ধি করার জন্য বইয়ে উল্লেখ্য নিম্নোক্ত লাইন-ই যথেষ্ঠ মনে করছি— “লাশগুলোকে বাড়িঘর থেকে টেনে নিয়ে নৌকার পর নৌকায় ভরেছে। কোনো কবরও নেই, কাফনও হয়নি, কাঁদারও কেউ নেই!” খুবই দুঃখজনক ব্যাপার ছিল। গাঁ শিউরে ওঠার মতো অবস্থা! এটাই ছিল ব্রিটিশদের নির্দয় ও নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। যা পাঠ করলে আজও শরীরে কাটা দিয়ে ওঠে। হৃদয়ে দুঃখ-কষ্টের ভার চেপে বসে। . ◽পাঠ পর্যালোচনা: পুস্তিকাটির পুরোদস্তুর বর্ণনা বিপ্লবের ঘটনাপ্রবাহ পড়ে যখন আপনার মনে চিত্র আঁকতে শুরু করবেন। তখন মনের আয়নায় ভেসে উঠবে উক্ত সময়ের রোডম্যাপ। কিন্তু এর জন্য অবশ্যই বইটাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো থাকা চাই তথাপি উক্ত সময়ের: ১. মানুষের জীবনাচরণ, সংস্কৃতি, প্রথা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রভূতি। ২.ভৌগোলিক বর্ণনা ও মানুষের পেশাগত হালচাল। যার দীর্ঘ কন্টাকাকীর্ণ মানুষকে বিপ্লবী করে তুলেছিল। দিনশেষে বইটা পাঠ করে তিনটি প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং তার প্রকৃত কারণ সমাধা করতে সক্ষম হয়। তথা- ১.কেন জনমনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মহাবিপ্লবের জন্য উদ্যমী হয়ে উঠলো? ২.এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল সেই বিপ্লব? ৩.কেনই বা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল সেটা?? সর্বোপরি বইখানা পাঠে উপরিউক্ত দিকগুলি নিদারুণভাবেই ফুটে উঠেছে বলে মনে হয়েছে। তবে হ্যাঁ, পড়াকালীন মনে হচ্ছিলো ডায়েরির পাতার বিবরণ যদি আরও বর্ণনাকর হতো? তাহলে আরও বেশ দুর্দান্ত ধারণা ফুটে উঠতো সে সময়ের অবস্থাদি। এছাড়াও বইটা যেহেতু অনুবাদ করা। তাই এক্ষেত্রে দেখতে পাই কিছু শব্দ সম্পূর্ণ বাংলায় অনুবাদ করা হয়নি। যেটা পড়তে একটু বিরক্তই লাগেছে বটে। সার্বিকভাবে সাবলীল হলেও আরও প্রাঞ্জল হতে পারত। এবং অনুবাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করা বেমানানই হবে। কেননা উনার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং এমন ঐতিহাসিক ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণে বইটা বাংলা ভাষায় সংযোজন জরুরতই ছিল। ◽পরিশেষে- ডায়েরিতে আবদুল লতিফ দৈনিক কর্মদিবসের যে চাক্ষুষ বিবরণ দিয়েছেন সেটা অধ্যয়ন আপনাকে তৎকালীন ভারতের সুলতান,শাহজাদা, আমির-উমারা ও মন্ত্রীদের হালাত ও রাজদরবারসহ পরিবেশ পরিস্থিতি কল্পনায় চিত্রিত হবে। বইটি আপনাকে নিয়ে যাবে তৎকালীন মুঘল রাজদরবারে। সেইসাথে তৎকালীন মানুষের বাজার- খানুমের সৌন্দর্য ও আর্থিক অবস্থার দৃশ্য ভেসে উঠবে। খালিক আহমেদ নিজামীর সুবিস্তৃত বিশ্লেষণাত্মক ভূমিকাই বইটিকে অধিক বোধগম্য ও তথ্যবহুল হিসেবে গুরুত্ববহ করে তুলেছে। . 🔸ব্যক্তিগত রেটিং– ৪.৬/৫ রিভিউ কার্টেসি: আমিনুর ইসলাম রিফাত রিভিউ নং—১

এটি একটি ঐতিহাসিক দলীল। উপমহাদেশের ইতিহাস নিয়ে যারা আগ্রহী, তারা পড়তে পারেন। অমূল্য সম্পদ এটি।























