

Buy মৌষলকাল Online in Bangladesh
লেখক: সমরেশ মজুমদার
- Author: সমরেশ মজুমদার
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9789350403075
- Number Of Pages: 392
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Edition, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"মৌষলকাল" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: সত্তরের নকশাল রাজনীতিতে অনিমেষের জড়িয়ে পড়া এবং পুলিশি অত্যাচারে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার কাহিনি তুমুল এক ইতিহাসের কথাই বলে। সমরেশ মজুমদার এই চরিত্রটিকে নিয়ে তিনটি বিখ্যাত উপন্যাস রচনা করেছেন, যা ধারণ করে আছে পশ্চিমবঙ্গের অনতি-অতীতকালের রাজনৈতিক-সামাজিক সময় প্রবাহ।অনিমেষের বান্ধবী হিসেবে সময়ের সঙ্গে যুঝেছে মাধবীলতা। সময়ের ফসল হিসেবে এসেছে তাদের সন্তান অর্ক। বড় হয়ে অর্কও দুঃখী মানুষদের নিয়ে সাধ্যমতো স্বপ্নপ্রয়াসে জড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যর্থ হয়েছে যথারীতি। সর্বত্রই ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল হিংস্র থাবা নিয়ে তৈরী। পঁচিশ বছরেরও বেশি পার করে সমরেশ মজুমদার লিখেছেন অনিমেষ-মাধবীলতা-অর্কের নতুন কাহিনি ‘মৌষালকাল'। এই উপন্যাসের আধার পশ্চিমবঙ্গের এক উত্তাল সময়। রাজনৈতিক পালা বদলের সেই ইতিহাসের নানান বাঁকে উপস্থিত মাঝবয়সি অর্ক। স্বভাব-প্রতিবাদে, আবেগে, অস্পষ্ট ভালবাসায় অর্ক যেন এক অবাধ স্বর। মৌষল পর্বের পারস্পারিক অবিশ্বাসের দিনকালেও পৌঢ় অনিমেষ-মাধবীলতা ঝলসে ওঠে আর-একবার।কেউ বিপ্লব-বিশ্বাসে, কেউ বা জীবন-বিশ্বাসে অটুট।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

1000 0F 1000
মুগ্ধতা মুগ্ধতায় শেষ করে ফেললাম অনিমেষ সিরিজের ৪ নম্বর ও সর্বশেষ বই মৌষলকাল-ও! (১ ও ২ পড়ি নাই :p ) প্রথম তিনটি উপন্যাস-- উত্তরাধিকার, কালবেলা এবং কালপুরুষ ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে প্রকাশিত হলেও মৌষলকাল প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিনের সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষিতে লেখক এই বইটি লেখেন। যদিও তাঁর নাম নেই বইতে কোথাও, 'নেত্রী' বলেই লিখেছেন সবখানে। রাজনীতির আশ্চর্য রূপ দেখলাম বইটাতে। যারা রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী, অনাগ্রহী, রাজনীতি করতে চান বা করেন, সবারই মনে হয় বইটা একবার পড়ে নেয়া উচিত। রাজনীতি করে কি সৎ থাকা যায় না? অথবা সৎ রাজনীতি করে কি টিকে থাকা যায় না? বার বার মনে হচ্ছিলো, 'সৎ রাজনীতিবিদ'- এই phrase টা কি একটা oxymoron? পরিশেষে, সমরেশ মজুমদারের লেখাকে নতুন করে আবিষ্কার করছি। আমার কোন প্রিয় লেখক নেই, প্রিয় বই আছে। এই ব্যাপারটাকে কি একটা second thought দিতে হবে? দেখি, লেখকের আরো কয়েকটা বই পড়ে নেই :p

উত্তরাধিকার, কালবেলা ও কালপুরুষ সিরিজের আরেকটি উপন্যাস মৌষলকাল। 'মৌষলকাল' নামের অর্থ আমার অজানা তবে খুব সম্ভবত 'মৌষল' মহাভারত সম্পৃক্ত। মৌষলকাল মূলত পশ্চিম বঙ্গের উত্তাল সময়ের গল্প। সত্তর দশকে নকশাল রাজনীতিতে জড়িয়ে পরে অনিমেষ। রাজনীতির টানে ঘর ছেড়েছে, পুলিশের অত্যাচারে পঙ্গু হয়েছে। কালক্রমে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়েও নেয়। সুখ দুঃখে ছায়ার মতো পাশে ছিল মাধবীলতা। অনিমেষ, মাধবীলতার পরের প্রজন্ম অর্ক। কেউ বিপ্লবে বিশ্বাসী। কেউ জীবন অভিজ্ঞতায় বিশ্বাসী। অর্কর বাবা বামফ্রন্টের জন্য আন্দোলন করেছেন। অর্ক আন্দোলন করছে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে! দুজনের আদর্শ এক সততার পথে হাঁটা। একটি দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে স্বৈরাচারী আচারন করে। ব্যাতিক্রম ঘটেনি বামফ্রন্টের বেলায়ও। সব কিছু দেখে শুনে চুপ করে থাকতে পারেনি অর্ক। সাহস, সততা, আবেক, ভালোবাসা, প্রতিবাদে অর্ক যেন এক অবাধ্য স্বর। তৃণমূলের সাথে মিলে নেমে পড়ে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে। কিন্তু সবই যেনো এক গোয়ালের গরু। ক্ষমতায় গেলে সবাই নিজের পকেট আগে ভরতে চায়। প্রেম - ভালোবাসা, রাজনীতি, সাহস, প্রতিবাদ, সংসার ধর্ম, স্বপ্ন - স্বপ্নভঙ্গ, সুখ - দুঃখ মিলে সুন্দর একটি বই। জী ধন্যবাদ

বইয়ের নামঃমৌষলকাল লেখকঃসমরেশ মজুমদার প্রকাশনীঃআনন্দ পাবলিশার্স মূল্যঃ৫৪০টাকা মৌষলকাল প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিনের সিপিএমকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষিতে লেখক এই বইটি লেখেন। যদিও তাঁর নাম নেই বইতে কোথাও, 'নেত্রী' বলেই লিখেছেন সবখানে।রাজনীতির আশ্চর্য রূপ দেখলাম বইটাতে। যারা রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী, অনাগ্রহী, রাজনীতি করতে চান বা করেন, সবারই মনে হয় বইটা একবার পড়ে নেয়া উচিত। রাজনীতি করে কি সৎ থাকা যায় না? অথবা সৎ রাজনীতি করে কি টিকে থাকা যায় না? বার বার মনে হচ্ছিলো, 'সৎ রাজনীতিবিদ'- এই phrase টা কি একটা oxymoron?সমকালিন বলে বিতর্ক আছে। চারিদিকে সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে চলছে অসম্ভব লুঠতরাজ ও অত্যাচার। সবই একজনের ভাবমূর্তি ভাঙ্গিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন তাঁর দলের নেতা নেত্রীদের কীর্তিকলাপ। তাঁর কি কিছুই করার নেই? উপন্যাসের শেষাংশে আছে,কোটি কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখানো দিদি যেন মহাভারতের মুষলপর্বের শ্রীকৃষ্ণ। সবমিলিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অসাধারণ এক বই বলে মনে হয়েছে।
কাহিনীকেকে পরিনতি দিতে এই গল্পের সৃষ্টি। 'কালবেলা'র অনিমেষ ছিল কনফিউজড, তারপর আবেগি। 'কালপুরুষে' এসে সে ম্রিয়মান। কিন্তু এই ষাট বছরে এসে সে তার নিজের ভাবনায়, মননে অনেকখানি স্থির। এখন তার মত কিংবা পথ কোনটিই ভাষা ভাষা নয়। ধর্মে অবিশ্বাসী অনিমেষ তাই যখন ছোটমার শ্রাদ্ধে মাথা কামিয়ে জানায়, তার বিশ্বাসের চেয়ে অপর এক বিশ্বাসীর সুখ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তখন মাধবী বোঝে যে অনিমেষকে সে আজও চেনেনি। আর যখন শেষবার অনিমেষকে পুলিশের গাড়িতে উঠতে হয়, তখন অনিমেষের পঙ্গুত্ব কেবল শরীরে। আদর্শবাদী সেই নকশাল অনিমেষ এখনও তার আদর্শে অটল। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করায় অটল মাধবী আজও অনিমেষের পাশে।























