

Buy ম্যাডাম Online in Bangladesh
লেখক: নিমাই ভট্টাচার্য
- Author: নিমাই ভট্টাচার্য
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129532237
- Number Of Pages: 96
- Language: বাংলা
- Edition: 11th Edition, 2017
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
অনেক দিন আগেকার কথা। কিন্তু সব মনে পড়ছে। সব কিছু স্পষ্ট মনে আছে আমার। মনে থাকবে না? ওই দিনটার কথা কি ভোলা যায়? অসম্ভব। কোনোদিন ভুলতে পারব না। কোনোদিন না, জীবনেও না। এই অ্যালবামটায় আর কটা ছবি আছে? সব ছবি কি ক্যামেরাম্যানের ক্যামেরায় তোলা সম্ভব? কোনো ক্যামেরাম্যান তুলতে পারে না, পারবে না। যত রকমের যত দামি ক্যামেরাই আবিষ্কার হোক, মানুষের মনের ক্যামেরার কাছে হেরে যাবেই। এই তো এই এত মোটা অ্যালবামে সেই একটি দিনের কত ছবি রয়েছে। কয়েক ডজন ফটোগ্রাফার এইসব ছবি তুলেছিলেন। প্রত্যেকটা ছবি সুন্দর উঠেছে। এত বছর পরেও একটা ছবি নষ্ট হয়নি। মনে হচ্ছে কয়েক দিন আগেই তোলা হয়েছে। লরিটায় এত ভিড়। কতজন যে সেদিন ওই লরিতে উঠেছিল তার হিসাব নেই। সবার মুখগুলোই ছোট ছোট উঠেছে। কিন্তু তবুও আমি প্রত্যেককে চিনতে পারছি। আনন্দ, বিমল, হেমেন, তুলসী, কানাই... । ওই তো ছোট ভাই! আনন্দে গোরার কাঁধে উঠেছে। গলায় মালা পরেছে। সৌমেনেরই একটা মালা নিয়ে পরেছিল আর কি! সব্বাইকে দেখতে পারছি, চিনতে পারছি। ছবিগুলো সত্যি খুব ভালো উঠেছিল কিন্তু— কিন্তু অত বড় বড় নামকরা প্রেস ফটোগ্রাফাররাও কি আমার মনের ছবি তুলতে পেরেছেন? পেরেছেন কি অশোক, মানু, টিঙ্কুর আনন্দের ছবি তুলতে? দাদার গর্ব? দিদির তৃপ্তি? মা-র বুকভরা স্নেহের ছবি? প্রসেশানটা আমাদের বাড়ির সামনে থামিয়ে সৌমেন মা-দাদাকে প্রণাম করতে এসে এক মুহূর্তের জন্য আমার দিকে তাকিয়েছিল। শুধু এক মুহূর্তের জন্য। কোনো কথা বলেনি। বলতে পারেনি। অত ভিড়ের মধ্যে আমাকে কি বলবে? কোনো, কথা না বললেও ওই ক্ষণিক মুহূর্তের জন্য চোখ তুলে দেখার মধ্যেই সব কথা বলা হয়েছিল। সব কথাই কি মুখ দিয়ে বলতে হয়? নাকি কান দিয়ে শুনতে হয়? ওই এক টুকরো মুহূর্তের ওই অবিস্মরণীয় দৃষ্টিপাতের কি ছবি তোলা যায়? শুধু মনের ক্যামেরাতেই ও-ছবি তোলা যায়। এই পুরনো অ্যালবামটা আমি দেখি না। দেখতে চাই না।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

Good quality

নিমাই ভট্টাচার্যের “ম্যাডাম” উপন্যাসটি তাঁর সাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি—যেখানে কলকাতার সমাজজীবনের চকচকে মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কামনা, লোভ, ক্ষমতা ও বঞ্চনার গভীর বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে। এটি কেবল একটি নারীর গল্প নয়; বরং এক সমগ্র সমাজব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি, যেখানে নারী নিজের অস্তিত্ব, সম্মান ও স্বপ্ন নিয়ে এক কঠিন সংগ্রামে নামেন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘ম্যাডাম’ — এক দৃঢ়, বুদ্ধিমতী, তীক্ষ্ণচিন্তাশীল নারী, যিনি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অজস্র বাঁধা অতিক্রম করে নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার নিঃসঙ্গতা, সামাজিক কটাক্ষ, এবং মানসিক ক্লান্তি। নিমাই ভট্টাচার্য তাঁর স্বভাবসিদ্ধ সাহসী ভাষা ও সাংবাদিকসুলভ সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ‘ম্যাডাম’-এর অন্তর্জগতকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যে পাঠক বুঝতে পারেন—ক্ষমতা বা অর্থ নয়, আসলে স্বাধীনতাই এক নারীর সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা। বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে দেখা যায়, কিভাবে এক নারী নিজের চারপাশের মিথ্যা সম্পর্ক, ভণ্ডামি আর সুবিধাবাদী মানুষদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের জায়গা তৈরি করে। নিমাই ভট্টাচার্য এখানে শুধু সমাজের অন্ধকারকে নয়, মানুষের মনস্তত্ত্বের জটিল স্তরগুলোও উন্মোচন করেছেন। “ম্যাডাম” পড়লে মনে হয়—এটি শুধু একজন নারীর আত্মকাহিনি নয়, বরং এক সময়ের সমাজের আয়না, যেখানে নারী মানে ছিল এক বস্তু, আর বিদ্রোহ মানেই পাপ। এককথায়, “ম্যাডাম” হলো এক তীব্র, সাহসী, এবং গভীর বাস্তবধর্মী উপন্যাস—যেখানে ভালোবাসা, প্রতারণা, এবং আত্মমর্যাদার প্রশ্ন একত্রে গড়ে তুলেছে এক অনবদ্য মানবিক নাটক। এটি এমন একটি বই, যা শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে—সমাজ বদলেছে, কিন্তু নারীর সংগ্রাম কি সত্যিই শেষ হয়েছে?























