

Buy কোয়েলের কাছে Online in Bangladesh
লেখক: বুদ্ধদেব গুহ
- Author: বুদ্ধদেব গুহ
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788170663751
- Number Of Pages: 184
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Edition, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"কোয়েলের কাছে" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:প্রকৃতিই এখানে প্রধান চরিত্র সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই সূত্রে আর যেকটি মানুষের উল্লেখ, তারাও কম কৌতুহলকর নয়। মারিয়ানার প্রেম, সুমিতা। বৌদির কামনা, লালতির সােহাগ, জগদীশ পাণ্ডের হিংস্রতা, ঘােষদার কৃত্রিমতা আর যশেয়ন্তের আদিমতা—কেবল নদীর মতােই প্রাণবান এক-প্রবাহ। সৌন্দর্যে, রােমাঞ্চে, উৎকণ্ঠায়, আবেগে উজ্জ্বল উপন্যাস কোয়েলের কাছে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বইয়ের প্রথম পাতাটা খুলেই আমি যেন ঢুকে পড়লাম এক ঘন সবুজ জগতে। শহরের কংক্রিটের জঙ্গলের বাইরের এক জগৎ,যেখানে হর্নের চিৎকার নেই, নেই মানুষের ধোঁয়াটে মুখ।আছে শুধু শাল-সেগুনের নিবিড় ছায়া, অজানা পাখির ডাক আর আদিম গন্ধমাখা হাওয়া। এই বইয়ের শুরুতেই আমার মনে পড়ল বিভূতিভূষণের “আরণ্যক”-এর কথা। বুকের ভেতর প্রশ্ন উঠল, “আরণ্যকের মতো স্বাদ কি আর কোনো বই দিতে পারে?” একটু ভয়ও লাগল। কিন্তু পাতার পর পাতা পড়তে পড়তে বুঝলাম এই বই ঠিক তার নিজস্ব পথে চলে, নিজস্ব ছন্দে কথা বলে। আমার পরিচয় হলো এক যুবকের সঙ্গে,যিনি শহর ছেড়ে চাকরির খাতিরে চলে এসেছেন রুয়ান্ডির গভীর অরণ্যে। লালসাহেব, অথবা যাকে আদর করে ‘মাখনবাবু’ও বলে কেউ কেউ। শুরুতে তিনি ছিলেন শহরেরই একজন,চোখে ছিল ধোঁয়া, কানে ছিল ট্রামলাইনের আওয়াজ। কিন্তু অরণ্যে এসে যেন তার সব ইন্দ্রিয় জেগে উঠল। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙল, কুয়াশায় ভিজল সকাল, আর সন্ধ্যার হিমে জেগে উঠল এক নিঃশব্দ প্রেম। এখানে তার পরিচয় হলো যশোয়ন্ত পাঠকের সঙ্গে,এক প্রাগৈতিহাসিক, এক আদিম প্রকৃতির মানুষ। সে যেন অরণ্যেরই রূপান্তরিত রূপ,ভাষায় কম, অনুভবে বেশি। একসঙ্গে শিকার করলেন তারা। না, কেবল পশু হত্যা নয়, বরং তারা জঙ্গলকে অনুভব করলেন—প্রাণীর চোখে, পাতার স্পন্দনে, আর শিকারের উত্তেজনায়। শিকার যেন রোমাঞ্চের আড়ালে এক গভীর দর্শন হয়ে উঠল,বেঁচে থাকার রুদ্ধশ্বাস পাঠ। আস্তে আস্তে লালসাহেবের সামনে খুলে গেল এক নতুন সমাজের পর্দা, সুনীতা বউদি, যার চোখে লুকিয়ে আছে অতৃপ্ত প্রেম; জগদীশ পান্ডে, যে শত্রু না বন্ধু বোঝা দায়; মারিয়ানা,এক রহস্যময় পাহাড়ি নারী, যার উপস্থিতি ঝড় তোলে লালসাহেবের স্থির হৃদয়ে। এই সব সম্পর্ক তার চারপাশে এক অদ্ভুত ঘূর্ণি তৈরি করল, প্রেম, দ্বন্দ্ব, আকর্ষণ, আঘাত। এইসব মিলিয়ে বইটা যেন এক ব্লেন্ডারে মেশানো অরণ্যজীবনের ককটেল,সুগন্ধি, ঝাঁঝালো, কখনো মধুর, আবার কখনো তিক্ত। কিন্তু বইটা শুধু গল্প নয়। এটা একটা উপলব্ধি। কখনো মনে হয়েছে আমি মাখনবাবুর সঙ্গে জঙ্গলের ভেতর হাঁটছি। কখনো মনে হয়েছে, কোয়েলের ডাক আমাকেও কাছে ডাকছে। বুদ্ধদেব গুহর ভাষা এমন…যা কেবল পড়া যায় না, অনুভব করতে হয়। তার বর্ণনায় ঝরে পড়ে পাতা, তার সংলাপে বাজে সোঁদা গন্ধ, তার ছন্দে বাজে ঝরনার শব্দ। প্রেম, শিকার, মানবপ্রেম, পশুপ্রেম, পাহাড়ি সংস্কৃতি সব মিলে যেন গড়ে ওঠে এক পাহাড়ি আরণ্যক। শেষ পৃষ্ঠায় এসে বুক হালকা ভারী হয়ে গেল। লালসাহেব কোথায় যেন মিলিয়ে গেলেন ধোঁয়াটে পাহাড়ের কুয়াশায়। আমার মনে হলো এই গল্প আমারও হতে পারত। আমি যদি একদিন ছেড়ে আসি শহরের হইচই, আর ডুবে যাই এক কোয়েলের ডাকে, এক যশোয়ন্তের বন্ধুত্বে, এক মারিয়ানার চোখে… রেটিংঃ-৪.৫/৫
কতটা সুন্দর তার লেখনী। কতটা সুন্দর কাহিনী। আমার লিখে বোঝানোর ভাষা নাই।

অসাধারণ
পড়ার পর মনে হলো কাহিনীটা কি আরো বড় হতে পারতো না... মনে একটা স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে গেছে....

কিছু বই শেষ হয়ে গেলেও মনের মধ্যে তার রেশ রয়ে যায় বহুক্ষণ। আর কিছু বইতো মনের মধ্যেই জায়গা করে নেয় চিরকালের জন্যে। এটিও তেমন একটি বই। শুধু পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল, আমি কি এই জীবন চেয়েছিলাম! আমিতো এমনই এক বন্য জীবন চেয়েছিলাম। এই আধুনিক সময়ে না জন্মে যদি সেই বিশ বা ত্রিশের দশকে জন্মাতাম!























