

Buy কত অজানারে Online in Bangladesh
লেখক: শংকর
- Author: শংকর
- Publisher: নিউ এজ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 8178190370
- Number Of Pages: 256
- Language: বাংলা
- Edition: 19th Edition, 2007
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
’সংসার পরিক্রমার পথে কত বিচিত্র সঞ্চয়ই যে দিনে দিনে পর্যাপ্ত হয়ে ওঠে তার বুঝি আর ইয়ত্তা নেই। যা একদিন অচেনা থাকে, অজানা থাকে তাকেই আবার একদিন চিনে ফেলি, জেনে ফেলি। অপরিচয়ের অবগুণ্ঠন খুলে কখন সে-ই আবার ধরা দেয় মনের কাছে। এই এমনি করেই সঞ্চয়ের পুঁজি একদিন ভারি হয়ে ওঠে, আর স্মৃতির আকাশে রং ধরে তখনই। ঘটনাচক্রে ওল্ড পােস্ট আপিস স্ট্রীটের আদলতি কর্মক্ষেত্রে আমাকেও এমনি অসংখ্য অপরিচিত চরিত্রের সাক্ষাৎ সংস্পর্শে আসতে হয়েছিল। সেদিন অচেনাকে চেনা আর অজানাকে জানাই ছিল আমার জীবিকার অপরিহার্য অঙ্গ। তারপর এতদিন পরে হঠাৎ একদিন টের পেলাম কখন যেন আমার আকাশও বর্ণাঢ্য হয়ে উঠেছে তাদের রঙে। কখন যেন নিজেরই অজ্ঞাতসারে তাদের আমি ভালোেও বেসে ফেলেছি মনে মনে। জানি, আইনের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্কটা বিশেষ মধুর নয়। অন্ততঃ সাহিত্যের কমলবনে আইনের কলরব ঠিক ভ্রমর গুঞ্জনের মতাে শােনায় না। কিন্তু এই গ্রন্থে আমি আইনকে দেখিনি। ওল্ড পােস্ট আপিস স্ট্রীটের যে মানুষদের একদিন ভালােবেসেছিলাম তাদেরই আজ অক্ষরে আবদ্ধ করার চেষ্টা করেছি মাত্র, আর কিছু নয়।'
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

আমার খুবই ভালো লেগেছে।সহজ আন্তরিক লেখা।
ভালো

এই বইটা বিখ্যাত উপন্যাস 'চৌরঙ্গী'র প্রিক্যুয়েল। প্রকৃতপক্ষে এটা একটা উপন্যাস, কেননা এখানে গল্পকথকের জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়ের শুরু থেকে শেষ অবধি বর্ণিত আছে। সেই বর্ণাঢ্য জীবনে কথক শুনেছেন ও দেখেছেন অগণিত মানুষের বিচিত্র সব গল্প। সেসব গল্পই লিপিবদ্ধ হয়েছে এই বইয়ে। তাই উপন্যাস হলেও, এখানে প্রতিটি চ্যাপ্টার একেকটি নতুন গল্প। এখানে গল্পকথক একজন টাইপিস্ট, যিনি একজন ব্যারিস্টারের হয়ে কাজ করেন। তার কাজ ছিল ব্যারিস্টারের কাছে লোকজন যেসব মামলা নিয়ে হাজির হয়- সেসবের ফ্যাক্টগুলো লিখে রাখা। লেখক শংকর বাস্তবেই সে কাজ করেছেন, তার মানে এই বইয়ের প্রতিটি গল্প সত্যি (তবে মামলা যারা করতে এসেছেন তারা ব্যারিস্টার সায়েবকে বানোয়াট গল্পও বলে থাকতে পারেন 😅) । যেহেতু গল্পকথক কোনো আইনজ্ঞ নন, তাই তিনি সবকিছু দেখেছেন নিরপেক্ষ দর্শকের দৃষ্টিতে, বইয়ে লিখেছেনও তেমন করেই। আইনের কাঠখোট্টা কোনো বিষয় নিয়ে কিছুই বলেননি, শুধুই যে গল্পগুলো তিনি জেনেছেন- তার মধ্য থেকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্পগুলো হুবুহু বলে গিয়েছেন। লেখকের লেখা বেশ ঝরঝরে, গটগট করে পড়ে যাওয়া যায়। পরিপক্ব, ভুলহীন, সোজাসাপ্টা লেখা। বর্ণনা যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই দিয়েছেন, কোথাও একরত্তি বেশি বা কম নেই। গল্পগুলোতে ডুব দেয়া যায়, আবার পরবর্তীটা পড়বার সময় আগেরটা খানিক ভুলেও যাওয়া যায়। সবমিলিয়ে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা বই।

যদি এর রিভিউ দেই তাহলে রিভিউতে কেবল বইয়ের হাড়ই দেখা যাবে হৃদয় না তাই হৃদয় স্পর্শ করতে হলে বইটি পড়ার কোন বিকল্প নেই।

বইঃ কত অজানারে লেখকঃ শংকর (আদালতপড়ার গল্প) সংসার পরিক্রমার পথে কত অচেনাকে চেনা যায়, কত অজানাকে জানা যায়। এভাবে একদিন সঞ্চয়ের পুজি ভারি হয়ে ওঠে আর সৃতি আকাশে রং ধরে তখনই। সেই রংয়ের খেলা থেকে গল্পের লেখক 'শংকর' এক বইটি লিখেছেন। বইটি কোন রম্য গল্প কিংবা স্যাটায়ারে পরিপূর্ন নয় বরং মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা। 'শংকর' কলকাতা হাইকোর্টে এক ব্যারিষ্টারের বাবু হিসেবে কাজ করতেন। একদিন সে চেম্বার কি জিনিস সেটাই জানতো না , আজ কোর্টের ঘর-দোর, থম তার নখদর্পনে। আদালতপাড়ায় এসে সে মহাকালে জীবনের বৈচিত্রতা দেখেছে। তাদের মধ্যে থেকে যাদের জীবন গল্প তার হৃদয়ে অন্যরকম দোলা জাগিয়েছে তাদের কয়েকজনের গল্প দিয়ে বইটি তিনি সাজিয়েছেন। রানী মীরা, ব্যারিষ্টার বোস, শ্রীমতী সুনন্দা, মিস ট্রাইটন, হেলেন গ্রুবার্ট ও নিকোলাস ড্রসলার গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র। স্যার হেনরী লং, বিখ্যার ব্যারিষ্টার। তার চেম্বারে বেয়ারার কাজ করত চৌদ্দ বছরের এক ছেলে। নাম উইলমট ডানিয়েল রেম্পিনি। বেয়ারা থেকে একসময় তিনি মস্তবড় ব্যারিস্টার হয়েছিলেন ব্যারিস্টার বোস, ছাত্রজীবনে চঞ্চল ও পড়াশুনায় তুখোড় ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেড়া কাপড় ও জুতা পড়ে ঘুরতে হয়েছে। টাকার জন্য হাত পাততে হয়েছে তার বন্ধুর কাছে। ডক্টর মিত্র, একবুক আশা নিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন শুধু বিয়ে করে সংসার পাতবেন তাই। কিন্তু তাকে জীবনের বাকি সময় একা কাটাতে হয়েছে। নিকোলাস ড্রসলার, স্ত্রী সন্তানের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাজ করতর আসেন ভারতে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হারিয়ে সর্বস্ব হয়ে কয়েক বছর জেল খেটে বিতারিত হয়েছিলন সিকিউরিটি পুলিশের হাতে। পাবলিক প্রসিকিউটর , জগদিশবাবুর সাহেব। আসামীর যম। কোন কেস তার কোর্টে উঠলে আসামীকে তিনি শাস্তি দিয়েই ছাড়েন । কিন্তু আদালতপড়ার এসব নির্মমতার বাইরে ও প্রসিকিউটর সাহেবের মনে একটা আবেগের জায়গা ছিল। যখনই কোন আসামী তার জন্য মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হন তিনি কয়েকদিন কারো সাথে কথা বলেন না, ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করেন না, রাতে ঘুমান না। হয়ত একটা জীবনের জন্য তিনি এভাবে নিজেকে শাস্তি দেন। এরকম আরো অনেক জীবন গল্প রয়েছে এই বইটিতে। সব গুলোতেই রয়েছে বাস্তবতার নির্মমতা এ পরিহাষ। বইটি পড়লে আপনার সময় নষ্ট হবেনা এ আশ্বাস আমি দিতে পারি। বিশেষ করে আইনের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই পড়া উচিত। আমরা আজকাল মোটিভেশনখোর জাতিতে পরিনত হয়েছি। হয়ত সেইভাবেই বইটা আপনাদের চলার পথ পরিবর্তন করে দিতে পারে। সুতরাং আমি বলব সময় তো অনেক নষ্ট করেছে না হয় বইটার জন্য আর কয়েকটা ঘন্টা সময় দিলেন। ধন্যবাদ।























