

Buy কাপুরুষ Online in Bangladesh
লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Author: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 8172150652
- Number Of Pages: 95
- Language: বাংলা
- Edition: 8th Printed, 2018
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
'কাপুরুষ' বইয়ের ফ্লাপের লেখা সে যখন ছােট্ট বিশু, কত প্রশ্নই নাে বিমূঢ় করে তুলত তাকে। কেন অবিচার, কেন এত দুঃখ-কষ্ট-কান্না, কোন্ কাজ পাপ—এমন কত-কী । বড় হয়ে সে যখন বিশ্বরূপ সেন, দায়িত্ববান এক পুলিশ অফিসার, তখনও যেন ঘােচে না তার বিমূঢ়তা। থেকে-থেকেই এক চাপা ক্লান্তি, এক প্রগাঢ় বিষাদ। প্রশ্ন ও সংশয়। কেন ? অথচ বিশ্বরূপ অকুতােভয়। জীবনমৃত্যু পায়ের ভৃত্য তার । অপারেশন সুরিন্দর-এর নায়ক। সেই সুরিন্দর, যার কাছে সব সময় এ. কে. ফর্টিসেভেন-এর মতাে সফিস্টিকেটেড অস্ত্র, সেই ভয়ংকর উগ্রবাদী নেতা, সপরিবার এক সাংসদকে খুন করে যে পলাতক। তবে ? অথচ বিশ্বরূপ দীর্ঘকায়, সুপুরুষ। নিজের কাপুরুষ স্বামীর পাশে মনে মনে তাকে দাঁড় করায় বকুল, তাকায় বীর-পূজারীর চোখে। সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গিনী বন্দনার কাছে সে ‘মিস্টার সেক্স-অ্যাপিল। তা হলে ? এই সময়ের পটভূমিকায় তীব্র গতি ও অনন্যস্বাদ এক উপন্যাস ‘কাপুরুষ। এই হানাহানির সাম্প্রতিক কুরুক্ষেত্রে এক নতুন অর্জুনের গভীর, গাঢ় কাহিনী ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

ভালো

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা পড়তে বেশ লাগে। ভাষার প্রয়োগ আর চরিত্রের বিন্যাসে বেশ যত্নের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। তবে কাপুরুষ পড়ে সেই চেনা স্বাদটা ঠিক পাই নি। ধন্যবাদ।

ভগবান কত কি দেন আবার কত কি দেন না। লোকের তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। বিশু তো না চাইতেই কত কিছু পেয়েছে।আকাশ ভরা সোনার আলো, তারা, মাঠ ভরা প্রজাপতি, লাল ঘুড়ি আরও কত কি! রোজ শোনে তারা গরীব। তাতে কি? ভগবান না দিলে অত ভালো মা পেত কোথায়? কত কিছুর কথা শুধু সে ছাড়া আর কেউ জানে না। ঘাসের ডাঁটি বেয়ে ওঠা বোকা পিঁপড়ে, কচুবনে পরে থাকা আধুলি, নলিনী স্যারকে কানাওয়ালায় ধরা, হলধর ভূত, জলধর ভূতের কান্ড আরও কত কি! পৃথিবীটা ভারী আশ্চর্য জায়গা। যে লোকটাকে সবাই ভয় পায় সে নিয়ম করে এসে দাদুর কাছে এসে গোপন পাপের কথা স্বীকার করে যায়। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বিশু কত কি আবোল- তাবোল দেখে। হঠাৎ মায়ের ডাকে চমক ভাঙে। অতীতকে ভুলে থাকার সাধ্য কারো নেই। আজো বিশ্বরূপ হঠাৎ মায়ের ডাকে চমকে ওঠে। তবে এই ডাক সুদূর অতীতের। আজ তার শেকড় বলতে কিছু নেই। ছোটবেলায় কাগজের নৌকো ভাসানোর মত তার জীবনটাও ভাসতে ভাসতে এই জায়গায় থিতু হয়েছে। তবে এখন আর সেই স্বপ্নের পৃথিবীটা নেই। তার মনের আনাচ-কানাচ আজ শুধু অপরাধীর সন্ধানে ব্যস্ত থাকে। পিতাম্বর মিশ্র এককালের দাপুটে নেতা ছিলেন। এখনও তার খ্যাতি সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যায় নি। তার দূরদর্শিতার কারণে লোকে এখনও তাকে স্মরণ করে। তিনিও সাধ্যমত সাহায্য করেন। এমনই একজন সাংবাদিক অজিত। একসময় সে যখন ডুবতে বসেছিল তখন তাকে বাঁচিয়েছিলেন পিতাম্বর। আজ আরেকবার তার সাহায্য প্রয়োজন। কিন্তু কেমন যেন বদলে গেছেন তিনি। প্রথম স্ত্রী জ্যোতিষী ভজনা দেবীর সাথে বিচ্ছেদের পর বিয়ে করেন দেহাতী মেয়ে মিঠিয়াকে। আজকাল উগ্রপন্থীদের নিয়েও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ভাবতেও পারছেন না কি আগুন নিয়ে খেলছেন তিনি। বিশ্বরূপ আজকাল নিজেকে চিনতে পারে না। আত্মাটা যেন কারো কাছে বিকিয়ে গেছে। ট্রেনের অবিরাম ছুটে চলার পরও তার জীবন যেন স্থির হয়ে আছে। চারদিকে এত প্রাণের স্পন্দন এত কোলাহলেও তার ভেতর চাঞ্চল্য আসে না। সুখী দম্পতির ছবির মত সংসার ফেলে আসা জীবনের ক্ষণিক সুখের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিষণ্ন চোখের বিশ্বরূপকে বেশ লাগে বকুলের। শ্যামলের কেমন যেন হিংসে হয়। ছকে বাঁধা জীবন তার। চাইলেই সে তো আর বিষণ্ন চোখের দূধর্ষ চরিত্রতে বদলাতে পারবে না। উগ্রপন্থী সুরিন্দরকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম সে। সমাজের উঁচুতলার সাথে তার ভালো যোগাযোগ। তার সব সময়ের বিশস্ত সঙ্গী সুন্দরী। জনপ্রিয় এক নেতাকে সপরিবারে খুন করে আত্মগোপন করে আছে। শত চেষ্টা করেও পুলিশ তার নাগাল পাচ্ছে না। কিন্তু বিশ্বরূপ এর শেষ দেখতে চায়। একমাত্র সেই পারবে তাকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে। এত দিনের পরিচয় কি ভোলা যায়? হয় মরবে না হয় মারবে। #পাঠ_প্রতিক্রিয়া শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা পড়তে বেশ লাগে। ভাষার প্রয়োগ আর চরিত্রের বিন্যাসে বেশ যত্নের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। তবে কাপুরুষ পড়ে সেই চেনা স্বাদটা ঠিক পাই নি। যদিও এটি রহস্য উপন্যাস কিন্তু সে তুলনায় এখানে টানটান ভাবটা নেই। রহস্যের তুলনায় ব্যক্তিগত জীবনের নানাদিক, সংঘাত আর অভিযোগই উঠে এসেছে বেশি। বিশুর চরিত্রটি ভালো লাগার মতই। তার ছোটবেলার বর্ণনা বেশ আকর্ষণীয়। চারপাশের চরিত্র আর কল্পনারা লেখকের লেখনীতে বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। ছোট্ট একটা স্বপ্নের মায়ায় মন কেমন করে। যেখানে কোন জটিলতা বা কুটিলতা নেই। চিরচেনা শৈশবের স্বাদ পাওয়া যায় পড়তে গিয়ে। কিন্তু ছোটবেলার সাথে বড়বেলার তেমন কোন যোগসূত্র দেখানো হয় নি। এখানে একটু খটকা থেকে যায়। পুলিশের সহজাত বৈশিষ্ট্যও তার মধ্যে অনুপস্থিত। এমন উদাস ভাব সিরিয়াস চরিত্রের সাথে ঠিক মেলে না। যাদের সবসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় তাদের মধ্যে এত ভাবালুতা কাজ করলে সেটা বাস্তবসম্মত মনে হয় না। শ্যামলের চরিত্রটিকে গল্পের প্রয়োজনে নিয়ে আসা হলেও ঠিক সার্থক চরিত্র মনে হয় নি। পিতাম্বর আর ভজনা দেবীর ব্যক্তিগত জীবনের সংঘাত এবং পরিণতি কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে মিস শর্মার সাথে উগ্রপন্থীদের যোগাযোগের বিষয়টা ঘোলাটে মনে হয়েছে। উগ্রবাদ নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষের আকাশ-কুসুম চিন্তা-ভাবনা, সাধারণ মানুষের আতঙ্ক, সমাজ বদলে ফেলার হুজুগ আর আইন-শৃংখলা বাহিনীর অসহায়ত্ব প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে। চলমান জীবনের নানা অসংগতি, সার্থপরতা, ভীরুতা নৈতিক অবক্ষয় আর হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের গল্প কাপুরুষ।
রিভিউ ২ বইঃকাপুরুষ লেখকঃশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় কাপুরুষ, সুপুরুষ এবং এদুয়ের মাঝে বসবাসকারী মানুষের জীবন চিত্রই ফুটে উঠেছে এ উপন্যাসে। কাপুরুষ বলতে দুর্বল চিত্তের পুরুষকে বোঝানো হয়ে থাকে।যার অক্ষমতা তাকে ছোট করে রাখে,গুটিয়ে রাখে নিজের তৈরি খোলসে।সে নিজেও যেমন অস্বস্তিতে ভোগে, ঠিক তেমনি একঘেয়েমিতে ফেলে দেয় তার পাশে থাকা মানুষটিকে।সে কারনেই হয়তো পাশে থাকা মানুষটিও একসময় কোনো সুপুরুষ কে পাশে পাবার স্বপ্নে ভেলা ভাসিয়ে দেয়।কিন্তু সুপুরুষের স্বপ্নের গল্পটি শুধুমাত্র তাদের কল্পনাতে রয়ে যায়।কেননা একসময় সে নিজেই বুঝতে পারে সুপুরুষ দুর থেকে ভালো লাগে।পাশে থেকে নয়। অন্যসব থ্রিলারের থেকে এটি প্রায় ভিন্নধর্মী। লেখক সুনিপুণ হাতে একই সাথে কিশোরকাল,দৈনন্দ িন জীবনের চলতে থাকা ঘটনা,রোমাঞ্চকর পরিবেশের মাধ্যমে অসাধারণ থ্রিলার রচনা করেছেন।উপন্যাসের চরিত্রে বাড়তি রূপরস নেই বললেই চলে।জীবনধারার সাধারণ চিত্রই ফুটে উঠেছে উপন্যাসের পেক্ষাপটে।প্রয়ো জনের ধারাবাহিকতায় চলতে থাকা তিনটি বগিকে লেখক তুলে এনে জুড়িয়ে দিয়েছেন একটি ট্রেনে। যে ট্রেন নিজে জানেনা তার গন্তব্য কোথায়। .......................................................................... একেকজন সুপুরুষ একেকভাবে তাদের পৌরষত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন।তাহলে পীতাম্বর মিশ্র কি ২৪ বছরের দেহাতি মেয়েকে বিয়ের মাধ্যমে সেটি দিলেন।এ বিষয়টি অজিতকে যতটা না বিচলিত করলো,তার থেকে বেশি দোটানায় ফেলে দিল মিশ্রজী'র হাতে উগ্রপন্থীদের "একে থারটি সেভেন"।অজিত তার কাছে এসেছিল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাটি চালু রাখার বিষয়ে পরামর্শ করতে।মিশ্রজীর বদৌলতে আজ এখানে সে চাকুরী পেয়েছে।কিন্তু সে যে পরিস্থিতি দেখতে পেল,সে বড় ভাবনার বিষয়।এই ভাবনা কিছুদিনের মধ্যে অন্য দিকে মোড় নিল,ফের যখন সে এ বাড়িতে পা রাখে।গেটে তালা,চাকরদের চাপা উদ্বেগ, মিশ্রজীর মতো বলবান মানুষটিরো চুপসে থাকা।মুখে এক কথা,চোখ বলছে অন্য।এর কারণ কি?বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অপরিচিত পুরুষটি নয়তো।তাহলে কি ভয়ংকর কিছু ঘটতে যাচ্ছে এ বাড়িতে? শ্যামল তার ছোট পরিবার নিয়ে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরছে।ট্রেন লেটের চিন্তায় সে অস্থির।বউয়ের কাছে তার চরিত্রটি কাপুরুয়ের পরিচয়ই বহন করে। তাদের কামরায় উঠেছে আরো একজন ।বিশ্বরূপ সেন ওরফে বিশু।বিশুর নিঃসঙ্গতা, মলিন মুখ,গম্ভীরতা শ্যামলের স্ত্রী বকুলকে কিছুটা নাড়া দেয়।বিশু কি আসলে একা,নাকি এর পেছনে একটি অতীত রয়ে গেছে,যা তখনো অজানা। শ্যামল এবং তার স্ত্রী'র কাছে বিশু নরম মানুষ হলেও। সে এমনটা নয়।পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে সে কাজ করে।সেখান থেকেই এক ভয়াবহ দায়িত্ব নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা।উগ্রপন্থীদের লিডার সুরিন্দরকে মারার ভার তার উপর।সেই সুরিন্দর, যার কাছে মিশ্রজী পরাজিত। যার দলের মাত্র দুটি সদস্যের কাছে পুরো কলকাতা দমে গিয়েছিল। তাকে মারতে যাচ্ছে পারবে কি? না,সে নিজেও জানেনা।সে চলছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।যেখানে টিকতে গেলে হয় মারো,নয় মরো'র লড়াই। এ সময়ের মাঝেও বিশু ফিরে যায় পুরোনো শৈশবে। তার ছোট গ্রাম জগদীশপুরে।যেখানে দাদু ছিল,রুকুদি ছিল,আর ছিল তার ছেলেবেলা। এরমাঝেও বিশু স্বপ্ন দেখে একটি ছোট পিঁপড়ে ধীরেধীরে ধানের ডগা বেয়ে উঠছে, আবার নামছে। ................................................ কাপুরুষ আমার পড়া 'শীষেন্দু মুখোপাধ্যায়' এর ৩য় থ্রিলার উপন্যাস। এর আগে তার 'বিকেলের মৃত্যু' ও 'কালো বেড়াল সাদা বেড়াল' পড়েছিলাম। এটি অন্য দুটির মতো অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ নাহলেও কোনো অংশে খারাপ লাগেনি।
In a word - Amazing!!!























