কালপুরুষ
বই কালেকশন

Buy কালপুরুষ Online in Bangladesh

লেখক: সমরেশ মজুমদার

4.44
(10 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: সমরেশ মজুমদার
  • Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
  • Isbn: 9788170664819
  • Number Of Pages: 431
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Edition, 1985
৳ 1000৳ 1000
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

"কালপুরুষ" ফ্ল্যাপে লিখা কথা সত্তর দশকের অগ্নিস্রাবী রাজনৈতিক পথ-পরিক্রমার শেষ পর্বে কালবেলার নায়ক অনিমেষ আশা করেছিল তার পুত্র অর্ক তার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের নিশানটি শক্ত হাতে বহর করে নিয়ে চলবে।ভ কিন্তু সমকালীন অন্তঃসারহীন কটিল রাজনীতি এবং পঙ্কিল সমাজব্যবস্থার অর্ককে করে তুলেছিল অন্ধকার অসামাজিক রাজত্বের প্রতিনিধি। কিন্তু যেহেতু তার রক্তের মধ্যে ছিল অনিমেষের সুস্থ আদর্শবাদ এবং তার মা মাধবীলতার দৃঢ়তা ও পবিত্রতার সংমিশ্রিত উপাদান, সেই হেতু তার বোধোদয় ঘটতে বিলম্ব হয়নি। এক ভিন্ন মানসিকতায় সে আহ্বান শুনেছিল চিরকালীন মানবতার।ভ একদিকে সুবিধাবাদী সমাজব্যবস্থার যূপকোষ্ঠে নিষ্পেষিত ও নিপীড়িত কিছু মানুষকে একত্র করে তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল নতুন ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। তাদের সামনে তুলে ধরেছিল আগামী পৃথিবীর সুন্দরতম এক মানচিত্র। কিন্তু ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল ও সমাজ অর্ককে অর্গলবদ্ধ করে সেই পবিত্র পৃথিবীর স্বপ্নটি ভেঙে চুরমার করতে দ্বিধা করেনি। কিন্তু অর্ক- যার অপর নাম সূর্য- তার আবির্ভাবকে কি চিরকালের মতো রুদ্ধ করে রাখা যায়? কালপুরুষ উপন্যাসের সমাপ্তিতে সে মানবতার আহ্বানের প্রতিধ্বনি স্পষ্টতর।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.44
(10 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
80%
4
20%
3
0%
2
0%
1
0%
Tanjila Worthy
Tanjila Worthy ভেরিফাইড
14 Aug 2024

তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেন এর বস্তি এলাকার একটি ছোট্ট ঘরে থাকে অনিমেষ, মাধবীলতা আর তাদের ১৫/১৬ বছর বয়সী ছেলে অর্ক। নকশাল আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য অনিমেষ পরবর্তীতে পুলিশের নির্মম অত্যাচারে পঙ্গু হয়ে চলনশক্তি হারিয়েছে। সারাদিন রাত ঘরে একটি ক্লীবের মতো বসে থাকা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। সেখানকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করে মাধবীলতা সংসারের সকল দায়িত্ব আর ঋণের বোঝা নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে। পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও অর্ক বস্তির রংবাজ ছেলেগুলোর সাথে মিশে নিজেও সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছিলো। ঘটনাচক্রে একসময় অর্ক পরিচিত হলো সমাজের উঁচু তলার কিছু মানুষের জীবনধারার সাথে। তাদের নোংরা চিন্তা ভাবনা আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি অর্কর মনে এমন গভীর দাগ কাটে যে ঘটনার তীক্ষ্ণতায় এত বড় ছেলেটির জ্বর চলে আসে। সে সংকল্প করে নিজে কখনোই এমন অসভ্য হবে না। হঠাৎ তাদের জীবনে গতানুগতিকতার বাইরে একটু ভিন্ন ধারার জল ছিটকে এলো। অনিমেষের ছোট চাচা প্রিয়তোষ মিত্র রাশিয়া থেকে দেশে এসে তাদের খোঁজ করে ঈশ্বরপুকুরের বস্তিতে এসে হাজির হলো। এর মাধ্যমে বহু বছর সকল আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা অনিমেষ তর বাবার অসুস্থতার খবর কিন্তু তাদের নিদারুণ জীবন ধারণের কথা জানতে পারলেও তার পক্ষে কিছু করা সম্ভব ছিলো না। কিছুদিন পর বাবার অসুস্থতার টেলিগ্রাম পেয়ে অনিমেষকে পরিবারসহ যেতে হলো কৈশোরের স্মৃতি জরানো জলপাইগুড়ির বাড়িতে। সেখানকার পরিবেশ আর বিভিন্ন ঘটনাগুলো অর্ককে মানসিকভাবে অনেক দায়িত্বশীল আর দৃঢ় করে তুললো। জলপাইগুড়ি থেকে ফিরে এসে ছোট ছোট কিছু ঘটনার ধারাবাহিকতায় ঈশ্বরপুকুর লেনের আমূল পরিবর্তন সাধিত হচ্ছিল অর্কর হাত ধরে। এ যেন অনিমেষদের স্বপ্নে দেখা সেই সমঅধিকারের এক টুকরো ভারতবর্ষ এই ঈশ্বরপুকুর লেন। অর্ক যেন নিজের নামকে সার্থক করে এখানে এক নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়ে চলেছে। কিন্তু এতসব দূর্নীতি আর স্বার্থপরতায় গিজগিজে দেশে কমিউনিজমের থিওরি মতে সমমর্যাদার ভারতবর্ষ লাভ কি সম্ভব হবে? এতো পরিশ্রমের পরও কি পরিনতি এর পরিনতি অনুকূল হবে? সমরেশ মজুমদারের অনিমেষ সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ বই "কালপুরুষ"। প্রথমে " উত্তরাধিকার" এবং "কালবেলা" বই দুটি পড়া থাকলে "কালপুরুষ"  বইটি পড়ে যেকোনো পাঠক যথেষ্ট তৃপ্ত হবেন।  সক্রিয় নকশাল সদস্য অনিমেষের ছেলে অর্ক, যার নামের অর্থ সূর্য, সে বেলগাছিয়ার এই বস্তি এলাকায় নিজ আদর্শ আর নীতিবোধে পরিচালিত হয়ে সমমর্যাদার এক টুকরো ভারত রচনায় উদ্যোগী হয়। বয়স সবে ১৫/১৬ হলেও অর্কর অভিজ্ঞতার খাতাটা এখনি যথেষ্ট ভারী। সমাজের সকল স্তরের মানুষের জীবনযাত্রা দেখেছে খুব কাছ থেকে। বাবা মায়ের সুস্থ মানসিকতা আর চারিত্রিক দৃঢ়তার শিক্ষায় অর্ক ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে শিখেছে। কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা অদর্শে তাড়িত হয়ে নয় বরং নিজে বিবেচনায় সার্বজনীন আদর্শ পত্তন করেছে অর্ক, যেখানে সমাজের সকলে একটি পরিবার, এক হাড়িতে খাবার খাচ্ছে সবাই। যেকোনো সমাজব্যবস্থায় একটি আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে অবলম্বন করে কাজ করা আবশ্যক নয়, বরং প্রয়োজন হলো একটি বলিষ্ঠ নেতৃত্বের, যে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করবে আর তাদের সুবিধা - অসুবিধা বিবেচনায় কাজ করবে। উপন্যাসে অর্কের চরিত্রে সে বৈশিষ্ট্য স্পষ্টত ফুটে উঠেছে। কিন্তু নোংরা রাজনীতি আর দুর্নীতির বেড়াজালে ক্লিষ্ট দেশে অর্কর এই আদর্শ কার্যকরভাবে চালিয়ে যাওয়া আদৌও কি সম্ভব?

aurora tahsin tondra
aurora tahsin tondra ভেরিফাইড
01 Oct 2023

বইয়ের নামঃ কালপুরুষ লেখকের নামঃ সমরেশ মজুমদার রিভিউ দাতাঃ অরোরা তাহসিন তন্দ্রা ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯.৫/১০ অর্ক, ১৫-১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। ইশ্বরপুকুর ৩ নম্বর লেনের বস্তিতে থাকে সে। কিন্তু, বস্তির ছেলে বলতে আমরা ঠিক যা বুঝাই তা কি তার বেলায় খাটে? বাবা মা উচ্চশিক্ষিত, এমএ পাস। বাবা অনিমেষ ছিলেন বিখ্যাত নকশাল। পুলিশের আঘাতে পা হারান তিনি। উপার্জন করতে তাই স্বাভাবিকভাবেই অক্ষম তিনি। মা একটি স্কুলের শিক্ষিকা হলেও স্বামীর চিকিৎসার জন্য যে পরিমাণ ধার দেনা হয়েছে তা শোধ করে কোন ভাল জায়গায় বাসা নিয়ে থাকা তার পক্ষে বেশ কস্টসাধ্য। তবুও বেশ কয়েকবার বাসা বদলানোর চেষ্টা করলেও নিয়তি তাতে সায় দেয়নি। বস্তির পরিবেশে একটা বাচ্চা মানুষ করা যে কতটা কস্টকর, তা তো সবাই জানে। এখানে প্রকাশ্যে মদ বেচাকেনা করা হয়, সিনেমার টিকিট ব্ল্যাকে বিক্রি করা হয়, বস্তিবাসী উচ্চস্বরে গালি-গালাজ করে সারাক্ষণ। এমন জঘন্য পরিবেশে থেকে অর্কও এসব শিখতে লাগলো। খুরকি, কিলা, বিলু এদের মতো বখাটে ছেলেরা হয়ে উঠলো তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। সমাজের উঁচুতলার মানুষের চরিত্রের কদর্য দিকের সাথেও তার পরিচয় হতে লাগলো নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে। সব মিলিয়ে তাকে বস্তির ছেলেই মনে হতো সবার কাছে। পড়াশুনা করতেও তার ছিল রাজ্যের অনিহা। বাবা মা হতাশ হয়ে পরছিলেন তাকে নিয়ে। কিন্তু অনিমেষ আর মাধবীলতার পবিত্র ভালবাসার ফুল যে সে। সেই অনিমেষ, যে সারাজীবন লড়াই করেছে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়। আর মাধবীলতা, তিনি তো সাক্ষাত দেবী। স্বামীর প্রতি ভালবাসা, তার জন্য নিজেকে নিংড়ে দেয়ার এমন আদর্শ এ জগতে বড়ই দুর্লভ। তাদের রক্ত বইছে যার গায়ে, সে কি করে বখে যেতে পারে? না, বখে যায়নি সে, তার মধ্যে ভাবোদয় ঘটে। হঠাৎ তাদের কোন এক কারণে জলপাইগুড়ি যেতে হয়, সেখানের সুস্থ পরিবেশে থেকে তার মধ্যে সুস্থ চিন্তা জাগ্রত হয়, সে সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে শুরু করে। আবার বস্তিতে ফিরে এসে সে বস্তিবাসীর অভাব দূর করতে, তাদের একজোট করে তাদের উদ্বুদ্ধ করে নিজের পায়ে দাড়াতে। সকলের সাথে মিলে এক অভাবনীয় বুদ্ধি বের করে সকলকে তিন বেলা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে। কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাহায্য ছাড়া একাই লেগে যায় মানুষের কল্যাণে। এসব দেখে তার বাবা মাও এগিয়ে আসেন তার সাহায্যে। কিন্তু কিছু সুবিধাবাদী মানুষের তা সহ্য হবে কেন? মিথ্যে অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু যার নাম অর্ক বা সূর্য, তাকে কি বন্দি করে রাখা সম্ভব কখনো? যতই মেঘ এসে ঢেকে দিক না কেন, সে যে আবার আলো ছড়াবেই। মোটা দাগে এটাই মূলত কালপুরুষের কাহিনি, আমার লেখনীতে যা হয়ত খুব সাধারণ কাহিনি মনে হচ্ছে। কিন্তু এই বইয়ের লেখক হলেন সমরেশ মজুমদার, সাধারণ কাহিনিকেই অসাধারণ করে তোলার জাদুকর যিনি। তাইতো বইটি শুরু করার পর এক ধাক্কায় পুরো বই শেষ না করে উঠা অসম্ভব হয়ে পরেছিল, মন্ত্রমুগ্ধের মতো একের পর এক পাতা উলটে গিয়েছি, দেখেছি আমারই বয়সী একটি ছেলে কিন্তু কতটা দৃঢ় মানসিকতা, কত তুখোড় চিন্তাশক্তি। এই বয়সের একজন কিশোরের যখন নিজেকে নিয়েই মশগুল থাকার কথা সারাক্ষণ সেখানে সে তার আশেপাশের সকলের জন্য কাজ করে গেছে এবং শতভাগ সফল হয়েছে। নয়ত তার গ্রেফতারের খবরে কি এভাবে পুরো বস্তিবাসী ছুটে আসে? সকলের মুখে একটাই দাবি- অর্কের মুক্তি চাই। এই বয়সে এরচেয়ে বড় অর্জন কি আর কিছু হতে পারে? এই বইটির আরও দুটি খন্ড আছে- কালবেলা ও উত্তরাধিকার। এটি সর্বশেষ খণ্ড, আমার সবচেয়ে পছন্দের খণ্ডও বটে। আশা করি আপনারা বইটি পরবেন এবং আপনাদেরও এটি ভালো লাগবে। কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী। ধন্যবাদ।

Rakibul Hasan Sanjer
Rakibul Hasan Sanjer ভেরিফাইড
30 Sep 2022

" কালপুরুষ || সমরেশ মজুমদার " সমরেশ মজুমদারের অনন্য সৃষ্টি ‘কালপুরুষ’ উপন্যাস। ‘উত্তরাধিকার’ ও ‘কালবেলা’ উপন্যাসের ধারাবাহিকতায় লেখা হলেও এর প্রেক্ষাপট একদম ভিন্ন। অনিমেষ ও মাধবীলতার ছেলে অর্কের জীবনবোধের কাহিনী ও স্বতন্ত্র আদর্শ বহন করে কালপুরুষ।

Patwary Shazib
Patwary Shazib ভেরিফাইড
08 Nov 2021

কালপুরুষঃ-গল্পের শুরু এক বস্তিতে। যেখানে ঠিক আগের দিনকার মত"দিন যায় রাত আসে"।সকালে উঠলে শোনা যায় পাড়ার বখাটে ছোড়ারা সমানে খিস্তি করে যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যে যার ধান্ধায় বেরিয়ে পড়ছে, ছিনেমার টিকিট ব্লাক করছে,মাস্তানি করে বেড়াচ্ছে মাঝে মধ্যে বড় দাউ পেলে মের দিচ্ছে। এসব তিন নম্বর ইশ্বরপুকুর লেনের বস্তি বাসীর কাছে পরিচিত দৃশ্য। এসব নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই। শুধু মাত্র মাধবীলতার পরিবার ছাড়া।এত বছর এখানে থাকার পরেও মাধবীলতা বস্তিবাসীর এসব ব্যাবহার ঠিক সহ্য করতে পারেনি। মাধবীলতা অনিমেষ এবং ছেলে অর্ককে নিয়ে এখানে বাস করে।অনিমেষ মিত্র অর্কের বাবা। যে নকশাল আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের কাছে পা দুটো হারান। গল্পে লেখক মাধবীলতা চরিত্রেটিকে অসীম মমতাময়ী এক চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সংসারে যার Sacrifice উল্লেখ করা মত। অনিমেষর অক্ষমতার কারনে পুরো সংসারের চাকা যার একাই ঘোরাতে হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই তাদের একমাত্র ছেলে অর্ককে মানুষ করা। কিন্তু পাঠক এখানে বুঝতে পারবেন একটা কিশোরের উপর পরিবেশের প্রভাব কতটা প্রকট।"কয়লার খনিতে কাজ করলে কালি লাগবে আর আতর ফ্যাকটরিতে কাজ করলে শরীর থেকে সুবাস ছাড়বে "এটা যেন লেখক চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। মাধবীলতার ইচ্ছে ছিলো তাদের ছেলে পড়ালেখা করবে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরন করবে।কিন্তু একটা সময় পর তার বুঝতে বাকি রইলো না!এখানে থেকে তা সম্ভব না।তাদের ছেলে অর্ক, বস্তির অন্য দশটা ছেলের মতোই বেড়ে উঠছে খিস্তিখেউড় করে যাচ্ছে, বাবা-মায়ের মুখে মুখে তর্ক করছে। যেটা অনিমেষ এবং মাধবীলতা তাদের কেউ, শৈশবে কল্পনাই করতে পারত না।তারা এই পরিবেশ থেকে বাইরে ভালো পরিবেশে যেতে চাইলেও নিয়তি তাতে সায় দিচ্ছিলো না।এভাবেই চলতে থাকলো অর্ক এবং ইশ্বরপুকর লেনের বস্তি বাসীর জীবন। হঠাৎ একদিন অনিমেষদের জলপাইগুড়ির বাড়ি থেকে ডাক আসলো। তাদের সেখানে যেতে বলা হল।অনিমেষের অমত থাকা সত্ত্বেও মাধবীলতা এবং অর্কের আগ্রহের কারনে তারা এক রাতের ট্রেনে জলপাইগুড়ি উপস্থিত। এখানে আসার পর শুধু যে মাধবীলতা এবং অনিমেষ বুঝলো তাই না।অর্ক নিজেও তার ভিতরে পরিবর্তন লক্ষ করলো। সে বুঝতে পারছে তার বন্ধুদের ওসব গালিগালাজ মাস্তানী আসলে ভালো কিছু নয়।একটা সুস্থ পরিবেশ পেয়ে তার চিন্তা ভাবনা গুলোও সুস্থ হতে শুরু করলো। ঠিক সময় এক রাতে এই জলপাইগুড়ির বাড়িতেই লেখক গল্পের ট্রাজেডি ডেকে আনলেন। গভীর রাতে অর্কের ঘুম ভাংলে সে শোনে তার বাবা -মায়ের ঘরে কথা শোনা যাচ্ছে। দরজার কাছে দাড়াতেই সে কথা গুলো আরো স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল। এই কথা গুলোর ভেতরে একটা শব্দ শুনে সে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং সে বুঝতে পারছে মুহূর্তেই তার শরীরে জ্বলুনি শুরু হয়ে গেছে। "বাস্টার্ড " বাস্টার্ড মানে কী? তার মানে তার বাবা-মার কখনো বিয়েই হয়নি?এই পৃথিবীতে তার কোনো মূল্যবোধ নেই! সে শুধুমাত্র দুটো মানুষের চরম উন্মাদনার ফসল।এই চিন্তা অর্কের চিন্তা জগৎ কে কিছুক্ষণের মধ্যে এলোমেলো করে ফেললো। এবং এক রাতেই অর্ক বুঝলো সে এখন আর সেই আগের অর্ক নেই।হঠাৎ করেই সে যেন অনেক বড় হয়ে গেছে। সে যেন এখন অনেক দায়িত্ব জানে। এবং অনিমেষ মাধবীলতার বিচ্ছেদ ঘটে গেল। এর পরে যে গল্পটুকু আছে সেটা শুনে মনে হবে গল্পকথক বুঝি টলি-পাড়ার কোনো ছিনেমার গল্প বলে যাচ্ছেন। তবে এখানে একটা কথা বলে রাখি।যারা লেখক হতে চাচ্ছেন বা গল্প বানাতে চাচ্ছেন তারা একটু লক্ষ্য করলেই এখান থেকে গল্প তৈরির কিছু ক্রিয়াকৌশল ধরতে পারবেন। বুঝতে পারবেন কেন পাঠক বিনা ক্লান্তিতে একটার পর একটা পাতা ওল্টায়। আর হ্যা,অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে অর্কের জীবনে কি কখনো প্রেম এসেছিলো,, উত্তর হ্যা না দুটোই। আর মাধবীলতা এবং অনিমেষ কী কখনো এক হতে পেরেছে? এর উত্তর বইটা পড়লে জানতে পারবেন।

Maisha Samiha
Maisha Samiha ভেরিফাইড
28 Dec 2020

নীলক্ষেতে পুরনো বইয়ের লট থেকে কম দামে ছেড়ে দিচ্ছিল। ৬০ টাকায় কিনেছিলাম বইটা বছর দেড়েক আগে। অবশেষে পড়তে শুরু করলাম। অর্ধেক এগিয়েই জানলাম এটা সমরেশ মজুমদারের অনিমেষ সিরিজের বই। তাও আবার একলাফে তিন নম্বরটা! ভাবলাম কি আর করা, পড়েই ফেলি। এটা তো জীবন নয়, যে শেষটা আগে জেনে ফেললে বাঁচার আনন্দ হারিয়ে যাবে। অবশেষে শেষ করলাম। লেখকের সাতকাহন ও গর্ভধারিণী পড়েছি আগে। তাঁর লেখা বোধ হয় এমনই। বয়স কম ছিল বলে কি আগে এতোটা বুঝতে পারিনি? অথচ এই বইটা পড়ে তাঁর লেখনীর ধাঁচে মুগ্ধ হয়ে গেছি। মনে হচ্ছিলো, ঠিক এমনটাই হয় জীবনে। চরিত্রগুলো আফসোস করে, রেগে ওঠে, মনে মনে ভাবে, জেদ করে। কিছু কথা বলে ফেলে ভুলে, তারপরে অনুতাপে মরে যায়। মানুষের চিন্তাগুলোকে এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা যায়? পনেরো বছরের একটা ছেলে কত কিছু নতুন করে শিখছে, জীবনের দর্শনগুলো আবিষ্কার করে আস্তে আস্তে বড়দের মত চিন্তা করতে শুরু করেছে। এতো সুন্দর করে কিভাবে লেখা যায় এসব? ইশ! কাহিনী অনেক বিশদ। খুব পরিপাটি করে সাজানো। নকশাল আন্দোলন নিয়ে কিছুটা ধারণা হল। সোজা কোথায়, ভালো লেগেছে খুউব :)

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

প্রশ্ন

এটা কি ইন্ডিয়ান প্রিন্ট?

উত্তর

ধন্যবাদ , জী অবশ্যই ইন্ডিয়ান প্রিন্ট । এবং সরাসরি ইন্ডিয়া থেকে ইম্পোর্ট করে আনা হয়েছে ।

প্রশ্ন

কোন প্রকাশনী?

উত্তর

প্রিয় গ্রাহক, বইটি আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত) থেকে প্রকাশিত।

প্রশ্ন

বইটি কোন এডিশনের

উত্তর

প্রিয় গ্রাহক, প্রথম সংস্করণ ১৯৮৫ সালের বই পাওয়া যাবে, ধন্যবাদ।

প্রশ্ন

এটা কি ইন্ডিয়ান প্রিন্ট?

উত্তর

ধন্যবাদ , জী অবশ্যই ইন্ডিয়ান প্রিন্ট । এবং সরাসরি ইন্ডিয়া থেকে ইম্পোর্ট করে আনা হয়েছে ।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)