

Buy কাছের মানুষ Online in Bangladesh
লেখক: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- Author: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788172155414
- Number Of Pages: 648
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 1998
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"কাছের মানুষ" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: নিজের প্রয়ােজনের কথা ভেবে, নিজের সুখ-সমৃদ্ধি-চাহিদার কথা মাথায় রেখে দলবদ্ধ হয়েছে মানুষ। গড়েছে সমাজ, নির্মাণ করেছে পরিবার, অসংখ্য ধরা-অধরা সম্পর্কের সুতােয় জড়িয়ে নিয়েছে নিজেকে। চিরকাল মানুষ বিশ্বাস করতে চেয়েছে সে পরিবারের মধ্যে, দলের মধ্যে, সমাজের মধ্যে বেঁচে থাকতে চায়, সঙ্গীহীন জীবন যেন বৃথা। অথচ কী আশ্চর্য, প্রতিটি মানুষই কিন্তু মূলত একা। একাই আজীবন। জীবনের প্রতিটি স্তরে তার ভিন্ন ভিন্ন নামের সহযাত্রী জোটে বটে, কিন্তু তাতে হৃদয়ের নির্জনতা ঘােচে না। এই উপন্যাস সেই নির্জনতারই অনুসন্ধান।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

এ বছর লক ডাউনের প্রথম পড়া এই বইটা শুধু আকারেই বড় নয়। কাহিনী বিন্যাসেও লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য নিপুনভাবে প্রত্যেক টা চরিত্র কে সাজিয়েছেন। জয়মোহন, আদিত্, কন্দর্প, তিতির, বাপ্পা, ইন্দ্রাণী, শুভাশিস, ছন্দা, টোটো সহ আরো কত চরিত্র এসে উপন্যাসের পাতায় পাতায় মিলিত হয়েছে। মনে হয়েছে এ বুঝি ওর কাছের মানুষ। কিন্তু না, দিন শেষে আসলে সবাই একা।
বিশাল পরিসরের উপন্যাস 'কাছের মানুষ'। সুচিত্রা ভট্টাচার্য এমনভাবে গল্প বলে গেছেন যে আপনি বইয়ের ভেতর হারিয়ে যাবেন। ইন্দ্রাণী, তিতির সবাইকেই মনে হবে খুব কাছের মানুষ। আর হয়তো গল্পটা শুধু ইন্দ্রাণী, তিতির এর ই না, এমন গল্প হয়তো অনেকের। কাছের মানুষ কতোটা কাছের সেটাই দেখবেন এই উপন্যাসে। মানুষের এক জীবন কেটে যায় কাছের মানুষ খুঁজতে খুঁজতে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কাছের মানুষ কি কেউ আসলেই হয়?
জয়মোহনের তিন ছেলে _ আদিত্য, সুদীপ এবং কন্দর্প এবং মেয়ে জয়শ্রী। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তিন ছেলে, দুই ছেলের বউ, তিন নাতি নাতনি নিয়ে ঢাকুরিয়ায় নিজেদের পুরনো বাড়িতে জয়মোহনের বসবাস। তার স্ত্রী শোভনা গত হয়েছেন কয়েক বছর আগে। ছোট দুই ছেলের চেয়ে আদিত্যের প্রতি শোভনার দুর্বলতা ছিল বেশি, এর কারণ ছোটবেলায় আদিত্যের কঠিন অসুখ হয়েছিল। আদিত্য এবং ইন্দ্রাণীর দুই ছেলেমেয়ে - তিতির এবং বাপ্পা। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে তিতিরের বাবার প্রতি মমতা বেশি এবং ইন্দ্রাণী বেশি ভালোবাসেন ছেলে বাপ্পাকে। ইন্দ্রাণীর জীবন সংগ্রামের জীবন বলা যায়। স্কুলের চাকরি ছাড়াও তিনি আদিত্যের প্রেস দেখাশোনা করেন যে প্রেস নিয়ে আদিত্যের একসময় অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই বিষয়ে আগ্রহ হারিয়েছে অনেকদিন। আদিত্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায় হাত দিয়েছেন, কিন্তু কোনোটাতেই সফল হতে পারেননি। এ নিয়ে তার স্ত্রী ইন্দ্রাণী এবং বাবা জয়মোহন তার প্রতি অসন্তুষ্ট। ডাক্তার শুভাশিস, ইন্দ্রাণীর বিয়ের আগে থেকে বন্ধু। তারা কি শুধুই বন্ধু ছিলেন? আর এখন কি শুধুই বন্ধু? বাপ্পাও ভাবে শুভাশিস সবসময় তাদের সাহায্য করেছে। তিতির, বাপ্পা, ইন্দ্রাণী, আদিত্য সকলের জন্যই তার সমান উদ্বেগ। কিন্তু কেন?? শুভাসিসের স্ত্রী ছন্দা এবং একমাত্র সন্তান টোটো। টোটো এবং তিতির দুজনই মাধ্যমিক দিয়েছে। রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় টোটো খুব ভালো করেছে, সন্ধ্যায় শুভাশিসের টোটো এবং ছন্দাকে নিয়ে বাহিরে খেতে যাওয়ার কথা। কিন্তু শুভাশিস কেন সেই প্ল্যান রেখে ছুটে গেলো তিতিরের রেজাল্ট জানতে? তিতির দেখতে সম্পূর্ণ ইন্দ্রাণীর মতোই হয়েছে৷ অথচ এই তিতিরকে কিনা তিনি ভ্রূণ অবস্থাতেই হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কেনো???! আদিত্য, সুদীপ, এবং কন্দর্প, তিন ভাইয়ের মধ্যে সুদীপকেই সফল বলা চলে। আদিত্যের কোনো পরিকল্পনাই টেকেনা, অন্যদিকে কন্দর্পের ঝোঁক অভিনয়ের দিকে। সুদীপ এবং কন্দর্প আলাদা আলাদাভাবে তাদের বাড়িটা ভেঙে ফ্ল্যাট বানানোর চিন্তা করে, আদিত্যকে বলে, কিন্তু আদিত্যের তাতে সম্মতি থাকেনা। জয়মোহনও কিছুতেই রাজি না বাড়ি ভাঙতে। সুদীপ বা কন্দর্প কেউই বাড়ি ভাঙার ব্যাপারে ইন্দ্রাণীর সাথে আলোচনা করেনা, কিন্তু ইন্দ্রাণীই সেটা নিয়ে আগ্রহ দেখায় এবং জয়মোহনকেও বলে। জয়মোহন খুব বেশি ভালোবাসেন ইন্দ্রাণীকে। তার কথা কি ফেলতে পারেন? ইন্দ্রাণী কেন বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট তৈরিতে আগ্রহ দেখালেন?? বাপ্পা জাহাজে চাকরির সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু চাকরি পাকাপোক্ত হবার আগে যে ট্রেনিং তার জন্য প্রয়োজন ৪০ হাজার টাকা। টাকাটা সুদীপ বা শুভাশিস বা আদিত্যের বোনের জামাই শংকরের কাছ থেকে খুব সহজেই নিতে পারতেন। কিন্তু ইন্দ্রাণী তা নিবেননা। সেজন্যই শ্বশুর জয়মোহনের আবেগের বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট বানানোর কথা বলেন তিনিও। বাপ্পার কাছে কলকাতা ভালো লাগেনা। কলকাতায় কিভাবে মানুষ বসবাস করে সেটা সে চিন্তা করতে পারেনা। একবার তার মনে ক্ষণিকের জন্য খুনের চিন্তাও এসেছিল। কাকে খুন করবে সে? ডাক্তার শুভাসিসকে? নাকি আদিত্য রায়কে? এই কলকাতা ছেড়ে তার চলে যেতে ইচ্ছে করে বলেই সে জাহাজে চাকরি নিয়েছে। কিন্তু কমাস জাহাজে থেকেই তার খুব কলকাতার কথা মনে হয়। মায়ের জন্য মন কেমন করে। তিতিরকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করে। এমনকি বাবা আদিত্যের কথাও যে তার মনে হয়! বন্ধু বিষ্ণপ্রিয়াকে চিঠি লিখে যদিও সে চিঠি আর পাঠায়না। ইন্দ্রাণীরা দুই ভাইবোন। ইন্দ্রাণী এবং তনুময়। তনুময় কি কারণে যেন ইন্দ্রাণীর উপরই রাগ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। কি সেই কারণ? আর শুধু কি ইন্দ্রাণীর উপর রাগ করেই? নাকি আরো কোনো কারণ ছিল? তার বাবা মা উমা ধীরাজ তনুময়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতেই বুড়ো হয়ে গেলেন। তাদের দায়িত্ব নিয়েছে ইন্দ্রাণী। তনুময় কি ফিরবে? স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলে টোটোকে নিয়ে শুভাশিস কলকাতায় থাকেন। তার বাবা মা থাকেন মাধবপুরে। শুভাশিস যখন খুব ছোট তখন এক দুর্ঘটনায় তার মা মনোরমা মানসিক ভারসাম্য হারান। কে তার কে হয় কিছুই তিনি বুঝতে পারেননা। অসুস্থ স্ত্রীকে পাশে নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিলেন শুভাসিসের বাবা শিবসুন্দর, তিনিও ডাক্তার। সেখানে তাদের দেখাশোনা করে তুফান এবং তুফানের স্ত্রী অলকা। তুফানকে শিবসুন্দর ছোট থেকে বড় করেছেন ছেলের মতো আদর ভালোবাসা দিয়েই। তুফানও বড্ড ভালোবাসে শিবসুন্দরকে। আদিত্য, নেশা করা যার নেশা। স্ত্রী এবং মেয়েকে কথা দিয়েও সে নেশা করে বাড়ি ফেরে। না সে পেরেছে বাবা মায়ের দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করতে, না স্ত্রীর যোগ্য স্বামী হতে পেরেছে, না পেরেছে সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে। তবুও মেয়ে তিতির তাকে অসম্ভব ভালোবাসে। এই ভালোবাসাও থাকবেতো!? মাধ্যমিকের পর তিতির এবং টোটো একই স্কুলে ভর্তি হয়, যদিও বিভাগ আলাদা৷ শুভাশিস, তিতিরের ডাক্তার আংকেল তিতিরকে খুব ভালোবাসেন, তিতিরও তাকে পছন্দ করে। সেই সুত্রে তিতির টোটোর সাথেও কথা বলতে চায়, কিন্তু টোটো কেন এড়িয়ে চলে? টোটোর মতে যার মায়ের কারণে তাদের পরিবারে অশান্তি, তাকেতো অপমানই করবে সে!! টোটো যে মা ছন্দাকে খুব বেশি ভালোবাসে! তবুও তিতিরের ম্লান মুখ দেখেও টোটোর খারাপও লাগে! একদিন গাড়িতে করে বাড়িতেও নিয়ে যায়। আবার পৌঁছে দিতে গিয়ে যখন দেখলো তিতিরদের বাড়ির সামনে তার বাবা শুভাসিসের গাড়ি, তখন তিতিরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে দিতে কি বললো! কন্দর্প, অভিনয় জগতে ভালোই নাম কুড়িয়েছে, অশোক মুস্তাফির কল্যাণে, আরেক উল্লেখযোগ্য চরিত্র। আদিত্যদের বাড়িটাও অশোক মুস্তাফিই ভেঙে ফ্ল্যাট বানাচ্ছে। মধুমিতা, কন্দর্পের বন্ধুর বিধবা স্ত্রী। অনেক সময়ই কন্দর্প তার অনেক সাহায্য করেছে। তারা কি ভালোবাসে একে অপরকে? #পাঠ_প্রতিক্রিয়া ইন্দ্রাণী, তিতির, আদিত্য, বাপ্পা, শুভাশিস, ছন্দা, টোটো, শিবসুন্দর, মনোরমা, তুফান, অলকা, সুদীপ, রুনা, এটম, কন্দর্প, মধুমিতা, উমা, ধীরাজ, তনুময় সবাই সবার কাছের৷ কিন্তু আসলেই কি তারা কাছের মানুষ? কখনো কখনো খুব কাছাকাছি পাশাপাশি অবস্থান করেও আমরা একে অপরের খুব দূরেই থেকে যাই৷। বিশাল পরিসরের উপন্যাস 'কাছের মানুষ'। সুচিত্রা ভট্টাচার্য এমনভাবে গল্প বলে গেছেন যে আপনি বইয়ের ভেতর হারিয়ে যাবেন। ইন্দ্রাণী, তিতির সবাইকেই মনে হবে খুব কাছের মানুষ। আর হয়তো গল্পটা শুধু ইন্দ্রাণী, তিতির এর ই না, এমন গল্প হয়তো অনেকের। কাছের মানুষ কতোটা কাছের সেটাই দেখবেন এই উপন্যাসে। মানুষের এক জীবন কেটে যায় কাছের মানুষ খুঁজতে খুঁজতে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কাছের মানুষ কি কেউ আসলেই হয়? এক ঝাঁক চরিত্রের সমাহার ঘটেছে 'কাছের মানুষ' এ। আদিত্য, তিতির বা ইন্দ্রাণী নয়, আমার কাছে শুভাশিস চরিত্রটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। শেষটা পড়ে ধাক্কা খাওয়ার মতো ব্যাপার ঘটবে। কিন্তু ওই যে কাছের মানুষেরাও বোঝেনা! বেশ কিছুদিন ধরে বইটা পড়বো পড়বো করেও ধরা হচ্ছিলনা সাইজে বড় বলে। দুএকবার ধরেও রেখে দিয়েছি। তারপর কদিনে ৩০০ পেইজের মতো পড়লাম টুকটাক ব্যস্ততার মধ্যে। ৩০০ পেইজের পর থেকে টানা পড়েছি বলা যায়। কেমন লেগেছে? সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখার সাথে আমার পরিচয় হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। এক ছোট বোন সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ছোটগল্পের বই উপহার দিয়েছিল৷ ছোট গল্পগুলো মোটামুটি লেগেছে। এই বইয়ের অনেক প্রশংসা শুনেছিলাম। এই বইটাও আরেক ছোট বোন দিয়েছে। যা শুনেছিলাম ভুল শুনিনি। এক কথায় বলতে গেলে পড়ে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। তাঁর অন্য বইগুলোও পড়তে হবে।

জয়মোহনের তিন ছেলে _ আদিত্য, সুদীপ এবং কন্দর্প এবং মেয়ে জয়শ্রী। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তিন ছেলে, দুই ছেলের বউ, তিন নাতি নাতনি নিয়ে ঢাকুরিয়ায় নিজেদের পুরনো বাড়িতে জয়মোহনের বসবাস। তার স্ত্রী শোভনা গত হয়েছেন কয়েক বছর আগে। ছোট দুই ছেলের চেয়ে আদিত্যের প্রতি শোভনার দুর্বলতা ছিল বেশি, এর কারণ ছোটবেলায় আদিত্যের কঠিন অসুখ হয়েছিল। আদিত্য এবং ইন্দ্রাণীর দুই ছেলেমেয়ে - তিতির এবং বাপ্পা। দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে তিতিরের বাবার প্রতি মমতা বেশি এবং ইন্দ্রাণী বেশি ভালোবাসেন ছেলে বাপ্পাকে। ইন্দ্রাণীর জীবন সংগ্রামের জীবন বলা যায়। স্কুলের চাকরি ছাড়াও তিনি আদিত্যের প্রেস দেখাশোনা করেন যে প্রেস নিয়ে আদিত্যের একসময় অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই বিষয়ে আগ্রহ হারিয়েছে অনেকদিন। আদিত্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায় হাত দিয়েছেন, কিন্তু কোনোটাতেই সফল হতে পারেননি। এ নিয়ে তার স্ত্রী ইন্দ্রাণী এবং বাবা জয়মোহন তার প্রতি অসন্তুষ্ট। ডাক্তার শুভাশিস, ইন্দ্রাণীর বিয়ের আগে থেকে বন্ধু। তারা কি শুধুই বন্ধু ছিলেন? আর এখন কি শুধুই বন্ধু? বাপ্পাও ভাবে শুভাশিস সবসময় তাদের সাহায্য করেছে। তিতির, বাপ্পা, ইন্দ্রাণী, আদিত্য সকলের জন্যই তার সমান উদ্বেগ। কিন্তু কেন?? শুভাসিসের স্ত্রী ছন্দা এবং একমাত্র সন্তান টোটো। টোটো এবং তিতির দুজনই মাধ্যমিক দিয়েছে। রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় টোটো খুব ভালো করেছে, সন্ধ্যায় শুভাশিসের টোটো এবং ছন্দাকে নিয়ে বাহিরে খেতে যাওয়ার কথা। কিন্তু শুভাশিস কেন সেই প্ল্যান রেখে ছুটে গেলো তিতিরের রেজাল্ট জানতে? তিতির দেখতে সম্পূর্ণ ইন্দ্রাণীর মতোই হয়েছে৷ অথচ এই তিতিরকে কিনা তিনি ভ্রূণ অবস্থাতেই হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কেনো???! আদিত্য, সুদীপ, এবং কন্দর্প, তিন ভাইয়ের মধ্যে সুদীপকেই সফল বলা চলে। আদিত্যের কোনো পরিকল্পনাই টেকেনা, অন্যদিকে কন্দর্পের ঝোঁক অভিনয়ের দিকে। সুদীপ এবং কন্দর্প আলাদা আলাদাভাবে তাদের বাড়িটা ভেঙে ফ্ল্যাট বানানোর চিন্তা করে, আদিত্যকে বলে, কিন্তু আদিত্যের তাতে সম্মতি থাকেনা। জয়মোহনও কিছুতেই রাজি না বাড়ি ভাঙতে। সুদীপ বা কন্দর্প কেউই বাড়ি ভাঙার ব্যাপারে ইন্দ্রাণীর সাথে আলোচনা করেনা, কিন্তু ইন্দ্রাণীই সেটা নিয়ে আগ্রহ দেখায় এবং জয়মোহনকেও বলে। জয়মোহন খুব বেশি ভালোবাসেন ইন্দ্রাণীকে। তার কথা কি ফেলতে পারেন? ইন্দ্রাণী কেন বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট তৈরিতে আগ্রহ দেখালেন?? বাপ্পা জাহাজে চাকরির সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু চাকরি পাকাপোক্ত হবার আগে যে ট্রেনিং তার জন্য প্রয়োজন ৪০ হাজার টাকা। টাকাটা সুদীপ বা শুভাশিস বা আদিত্যের বোনের জামাই শংকরের কাছ থেকে খুব সহজেই নিতে পারতেন। কিন্তু ইন্দ্রাণী তা নিবেননা। সেজন্যই শ্বশুর জয়মোহনের আবেগের বাড়ি ভেঙে ফ্ল্যাট বানানোর কথা বলেন তিনিও। বাপ্পার কাছে কলকাতা ভালো লাগেনা। কলকাতায় কিভাবে মানুষ বসবাস করে সেটা সে চিন্তা করতে পারেনা। একবার তার মনে ক্ষণিকের জন্য খুনের চিন্তাও এসেছিল। কাকে খুন করবে সে? ডাক্তার শুভাসিসকে? নাকি আদিত্য রায়কে? এই কলকাতা ছেড়ে তার চলে যেতে ইচ্ছে করে বলেই সে জাহাজে চাকরি নিয়েছে। কিন্তু কমাস জাহাজে থেকেই তার খুব কলকাতার কথা মনে হয়। মায়ের জন্য মন কেমন করে। তিতিরকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করে। এমনকি বাবা আদিত্যের কথাও যে তার মনে হয়! বন্ধু বিষ্ণপ্রিয়াকে চিঠি লিখে যদিও সে চিঠি আর পাঠায়না। ইন্দ্রাণীরা দুই ভাইবোন। ইন্দ্রাণী এবং তনুময়। তনুময় কি কারণে যেন ইন্দ্রাণীর উপরই রাগ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। কি সেই কারণ? আর শুধু কি ইন্দ্রাণীর উপর রাগ করেই? নাকি আরো কোনো কারণ ছিল? তার বাবা মা উমা ধীরাজ তনুময়ের জন্য অপেক্ষা করতে করতেই বুড়ো হয়ে গেলেন। তাদের দায়িত্ব নিয়েছে ইন্দ্রাণী। তনুময় কি ফিরবে? স্ত্রী এবং একমাত্র ছেলে টোটোকে নিয়ে শুভাশিস কলকাতায় থাকেন। তার বাবা মা থাকেন মাধবপুরে। শুভাশিস যখন খুব ছোট তখন এক দুর্ঘটনায় তার মা মনোরমা মানসিক ভারসাম্য হারান। কে তার কে হয় কিছুই তিনি বুঝতে পারেননা। অসুস্থ স্ত্রীকে পাশে নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিলেন শুভাসিসের বাবা শিবসুন্দর, তিনিও ডাক্তার। সেখানে তাদের দেখাশোনা করে তুফান এবং তুফানের স্ত্রী অলকা। তুফানকে শিবসুন্দর ছোট থেকে বড় করেছেন ছেলের মতো আদর ভালোবাসা দিয়েই। তুফানও বড্ড ভালোবাসে শিবসুন্দরকে। আদিত্য, নেশা করা যার নেশা। স্ত্রী এবং মেয়েকে কথা দিয়েও সে নেশা করে বাড়ি ফেরে। না সে পেরেছে বাবা মায়ের দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালন করতে, না স্ত্রীর যোগ্য স্বামী হতে পেরেছে, না পেরেছে সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে। তবুও মেয়ে তিতির তাকে অসম্ভব ভালোবাসে। এই ভালোবাসাও থাকবেতো!? মাধ্যমিকের পর তিতির এবং টোটো একই স্কুলে ভর্তি হয়, যদিও বিভাগ আলাদা৷ শুভাশিস, তিতিরের ডাক্তার আংকেল তিতিরকে খুব ভালোবাসেন, তিতিরও তাকে পছন্দ করে। সেই সুত্রে তিতির টোটোর সাথেও কথা বলতে চায়, কিন্তু টোটো কেন এড়িয়ে চলে? টোটোর মতে যার মায়ের কারণে তাদের পরিবারে অশান্তি, তাকেতো অপমানই করবে সে!! টোটো যে মা ছন্দাকে খুব বেশি ভালোবাসে! তবুও তিতিরের ম্লান মুখ দেখেও টোটোর খারাপও লাগে! একদিন গাড়িতে করে বাড়িতেও নিয়ে যায়। আবার পৌঁছে দিতে গিয়ে যখন দেখলো তিতিরদের বাড়ির সামনে তার বাবা শুভাসিসের গাড়ি, তখন তিতিরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে দিতে কি বললো! কন্দর্প, অভিনয় জগতে ভালোই নাম কুড়িয়েছে, অশোক মুস্তাফির কল্যাণে, আরেক উল্লেখযোগ্য চরিত্র। আদিত্যদের বাড়িটাও অশোক মুস্তাফিই ভেঙে ফ্ল্যাট বানাচ্ছে। মধুমিতা, কন্দর্পের বন্ধুর বিধবা স্ত্রী। অনেক সময়ই কন্দর্প তার অনেক সাহায্য করেছে। তারা কি ভালোবাসে একে অপরকে? #পাঠ_প্রতিক্রিয়া ইন্দ্রাণী, তিতির, আদিত্য, বাপ্পা, শুভাশিস, ছন্দা, টোটো, শিবসুন্দর, মনোরমা, তুফান, অলকা, সুদীপ, রুনা, এটম, কন্দর্প, মধুমিতা, উমা, ধীরাজ, তনুময় সবাই সবার কাছের৷ কিন্তু আসলেই কি তারা কাছের মানুষ? কখনো কখনো খুব কাছাকাছি পাশাপাশি অবস্থান করেও আমরা একে অপরের খুব দূরেই থেকে যাই৷। বিশাল পরিসরের উপন্যাস 'কাছের মানুষ'। সুচিত্রা ভট্টাচার্য এমনভাবে গল্প বলে গেছেন যে আপনি বইয়ের ভেতর হারিয়ে যাবেন। ইন্দ্রাণী, তিতির সবাইকেই মনে হবে খুব কাছের মানুষ। আর হয়তো গল্পটা শুধু ইন্দ্রাণী, তিতির এর ই না, এমন গল্প হয়তো অনেকের। কাছের মানুষ কতোটা কাছের সেটাই দেখবেন এই উপন্যাসে। মানুষের এক জীবন কেটে যায় কাছের মানুষ খুঁজতে খুঁজতে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কাছের মানুষ কি কেউ আসলেই হয়? এক ঝাঁক চরিত্রের সমাহার ঘটেছে 'কাছের মানুষ' এ। আদিত্য, তিতির বা ইন্দ্রাণী নয়, আমার কাছে শুভাশিস চরিত্রটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। শেষটা পড়ে ধাক্কা খাওয়ার মতো ব্যাপার ঘটবে। কিন্তু ওই যে কাছের মানুষেরাও বোঝেনা! বেশ কিছুদিন ধরে বইটা পড়বো পড়বো করেও ধরা হচ্ছিলনা সাইজে বড় বলে। দুএকবার ধরেও রেখে দিয়েছি। তারপর কদিনে ৩০০ পেইজের মতো পড়লাম টুকটাক ব্যস্ততার মধ্যে। ৩০০ পেইজের পর থেকে টানা পড়েছি বলা যায়। কেমন লেগেছে? সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখার সাথে আমার পরিচয় হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। এক ছোট বোন সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ছোটগল্পের বই উপহার দিয়েছিল৷ ছোট গল্পগুলো মোটামুটি লেগেছে। এই বইয়ের অনেক প্রশংসা শুনেছিলাম। এই বইটাও আরেক ছোট বোন দিয়েছে। যা শুনেছিলাম ভুল শুনিনি। এক কথায় বলতে গেলে পড়ে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। তাঁর অন্য বইগুলোও পড়তে হবে। #হ্যাপি_রিডিং

বিশাল পরিসরের উপন্যাস 'কাছের মানুষ'। সুচিত্রা ভট্টাচার্য এমনভাবে গল্প বলে গেছেন যে আপনি বইয়ের ভেতর হারিয়ে যাবেন। ইন্দ্রাণী, তিতির সবাইকেই মনে হবে খুব কাছের মানুষ। আর হয়তো গল্পটা শুধু ইন্দ্রাণী, তিতির এর ই না, এমন গল্প হয়তো অনেকের। কাছের মানুষ কতোটা কাছের সেটাই দেখবেন এই উপন্যাসে। মানুষের এক জীবন কেটে যায় কাছের মানুষ খুঁজতে খুঁজতে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কাছের মানুষ কি কেউ আসলেই হয়? এক ঝাঁক চরিত্রের সমাহার ঘটেছে 'কাছের মানুষ' এ। আদিত্য, তিতির বা ইন্দ্রাণী নয়, আমার কাছে শুভাশিস চরিত্রটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। শেষটা পড়ে ধাক্কা খাওয়ার মতো ব্যাপার ঘটবে। কিন্তু ওই যে কাছের মানুষেরাও বোঝেনা!
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
বইটি কত সালের প্রিন্টেড?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি ১৯৯৮ সালের সংস্করণ।
বইটি কত সালের প্রিন্টেড?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি ১৯৯৮ সালের সংস্করণ।























