

Buy হিরে ও ভিখারিনি সুন্দরী রমণী কিস্সা Online in Bangladesh
লেখক: আফসার আমেদ
- Author: আফসার আমেদ
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129512703
- Number Of Pages: 128
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Edition, 2011
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
#রকমারি_রিভিউ_প্রতিযোগ_জুলাই সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়ালিজম এখন পৃথিবী জুড়েই জনপ্রিয়। আমাদের দেশ বা পাশের দেশের সাহিত্যেও ম্যাজিক রিয়ালিজম জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু সাধারণত যে জটিল বাক্য সন্নিবেশ করে এ ধরনের আবহ সৃষ্টি করা হয়, তা না করে আরও সহজে কাজটা করা সম্ভব তা নিজের অনেক লেখায় প্রমাণ করেছেন আফসার আমেদ। সেই সঙ্গে তার ‘কিসসা’ এই লেখাগুলোকে নিয়ে গেছে অন্য মাত্রায়। এ আখ্যানের মূল চরিত্র সাহিল, সফল ব্যবসায়ী। পরিশ্রম করে সে নিজেকে সফল করে তুলেছে। ম্যানেজার নিশারের সঙ্গে মোটর সাইকেলে বাড়ি ফিরতে ফিরতে একদিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সাহিল। সে রাতে তার জায়গা হয় এক বুড়ির বাড়িতে। কিন্তু অচেতন সাহিলের মনে হয় কোন সুন্দরী রমণী তাকে চুমু খেয়েছিল। সাহিলের বাড়িতে তার স্ত্রী এবং শ্যালিকা থাকে। সাহিলের সন্তান আছে। যে এলাকায় সে বসবাস করে তার একটা ইতিহাস আছে। একবার ফকির আন্দোলনের এক ফকির এসে পড়েছিলেন এই এলাকায়। ক্লান্ত ফকির সাহেব নামাজ আদায় করেছিলেন মসজিদে। তারপর থেকে গিয়েছিলেন এখানেই। মরে যাওয়ার আগে কিছু নিয়ম করে দিয়েছিলেন ঐ জায়গার মানুষের জন্য। তার মধ্যে একটি হলো দ্বিতীয় বিয়ে না করা। আরেক নারী রিজি। থাকে সে বৃদ্ধা নানীর সঙ্গে। রিজি ভিখারিনী। তবে যে সে ভিখারিনী নয়। তার পূর্বপুরুষ ছিল ভিখারি। তারা নানা রকম জবরজং পোশাক পরে নানা এলাকা ঘুরে বেড়াতো। নানা খেলা দেখাতো। তারপর ভিখারির মতো হাত পেতে নিতো, যে যা দেয়। কোন দাবি ছিল না তাদের। এক সময় ঘোড়ায় চড়ে বের হতো তারা। রিজি এখনও তার বংশের ধারা রক্ষা করে চলে। নোংরা পোশাক পড়ে সুন্দরী রিজি ভিক্ষায় বার হয়। তার ইচ্ছে সেও একদিন ঘোড়া নিয়ে বের হবে। সে দিনের অপেক্ষায় সে আছে। কিন্তু সাহিলের মতো সুপুরুষ লোকটিকে সে তিনটি চুম্বন করেছে, যখন সে বড় মানুষটি তার নানীর কুটিরে ছিল। এখন রিজি যানে মানুষটি তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কিন্তু রিজি ধরা দেবে না। সে বরং ভিক্ষা করে বেড়াবে। আর তার কাছে থাকা হীরেটা জিম্মা রাখবে রাখাল বালকের কাছে। যদিও খুঁজতে খুঁজতে একদিন সাহিল রিজির কাছে পৌঁছেই যায়। কিন্তু ময়লা পোশাকের রিজি তার অচেনা। আফসার আমেদের বর্ণনায় রিজি আর সাহিলের মাঝে চলতে থাকা এ রহস্য আরও ঘনীভূত হয়ে ওঠে। তাদের দুজনের মনে দুই রকম স্রোত চলে। রিজি যখন তার সিদ্ধান্তে অটল যে সে পরিচয় দেবে না, সাহিল কখনও কখনও বুঝি ঘোরের মাঝে চলে যায়। সেই সুন্দরী রমণী ভেবে কখনও স্ত্রীকে দেখে, কখনও শ্যালিকার ঘরে চলে যায়। সাহিলের পৃথুলা স্ত্রী ভাবে সাহিলের নতুন নারী প্রয়োজন। তাই নিজের বোনের সঙ্গে সাহিলের বিয়ে দিতে চায়। আফসার আমেদ এ গল্পে নারী পুরুষের টানাপড়েন যতটা না এনেছেন তারচেয়ে এনেছেন মানুষের রহস্যময় আচরনের কথা। কেন রিজি চুমু খেলো সাহিলকে? সাহিল কেন ছুটে যায় শ্যালিকার ঘরে? সুন্দরী হয়েও রিজির কেন জীর্ণ পোশাক? আর সে হীরার রহস্যই বা কি? এতোসব প্রশ্ন নিয়ে গল্প এগিয়ে চলে। আফসার আমেদ আমাদের নিয়ে যান নিসর্গে। কখনও মানসিক দ্বন্দ্বে। সেখান থেকে নারী পুরুষের সম্পর্কের নানা রহস্য, ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে ইতিহাস আর কিসসা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় এ গল্পে।























