

Buy গৃহদাহ Online in Bangladesh
লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Author: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129513559
- Number Of Pages: 199
- Language: বাংলা
- Edition: Reprint, 2018
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
মহিমের পরম বন্ধু ছিল সুরেশ। একসঙ্গে এফ. এ. পাস করার পর সুরেশ গিয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তি হইল; কিন্তু মহিম তাহার পুরাতন সিটি কলেজেই টিকিয়া রহিল। সুরেশ অভিমান-ক্ষুণ্ণকণ্ঠে কহিল, মহিম, আমি বার বার বলছি, বি. এ., এম. এ. পাস করে কোন লাভ হবে না। এখনও সময় আছে, তোমারও মেডিকেল কলেজেই ভর্তি হওয়া উচিত। মহিম সহাস্যে কহিল, হওয়া ত উচিত, কিন্তু খরচের কথাটাও ত ভাবা উচিত। খরচ এমনই কি বেশী যে, তুমি দিতে পার না? তা ছাড়া তোমার স্কলারশিপও আছে। মহিম হাসিমুখে চুপ করিয়া রহিল। সুরেশ অধীর হইয়া কহিল, না না-হাসি নয় মহিম, আর দেরি করলে চলবে না, তোমাকে এরই মধ্যে এ্যাডমিশান নিতে হবে, তা বলে দিচ্ছি। খরচপত্রের কথা পরে বিবেচনা করা যাবে। মহিম কহিল, আচ্ছা। সুরেশ বলিল, দেখ মহিম, কোন্টা যে তোমার সত্যকারের আচ্ছা, আর কোন্টা নয়-তা আজ পর্যন্ত আমি বুঝে উঠতে পারলুম না। কিন্তু পথের মধ্যে তোমাকে সত্য করিয়ে নিতে পারলুম না, কারণ, আমার কলেজের দেরি হচ্ছে। কিন্তু কাল-পরশুর মধ্যে এর যা-হোক একটা কিনারা না করে আমি ছাড়ব না। কাল সকালে বাসায় থেক, আমি যাব। বলিয়া সুরেশ তাহার কলেজের পথে দ্রুতপদে প্রস্থান করিল।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
মানবমন যে অস্থির, একে স্থির রাখা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রায় দুরূহ- এই বইয়ের কাহিনি তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এ উপন্যাসের অন্যতম দ্বিধাবিভক্ত চরিত্র অচলা- বলা চলে সে-ই সবচে বেশি দ্বিধান্বিত। তার মন পেন্ডুলামের কাটার মত একেক সময় একেকজনের দিকে ঝুঁকে গেছে। যাকে ভালোবেসেছে, তার সাথে সংসার করতে তার মনে দ্বিধা জেগেছে, আবার ভালো না বেসেও কারো সাথে সে সময় কাটিয়েছে। অন্যদিকে সুরেশ; তাকে এই আখ্যানের খলচরিত্র বলব নাকি ভালো এটা একদমই আপেক্ষিক। অচলাকে সোজা বাংলায় ভোগ করার জন্য সে তার প্রিয় বন্ধু মহিমকে পীড়িত অবস্থায় ট্রেনে ফেলে রেখে পালিয়েছে অচলাকে নিয়ে। আবার যখন তার বিবেকবোধ জাগ্রত হয়েছে তখন অচলার ভার তার কাছে সহ্য হয়নি। অচলাকে অকপটে সে বলেছে," তখন ভাবতুম কী করে তোমায় পাবো;এখন অহর্নিশ চিন্তা করি, কী উপায়ে তোমাকে মুক্তি দেব। তোমার ভার যেন আমি আর বইতে পারিনে।" বস্তুত সুরেশ যখন বুঝতে পারে যে অচলা তার দেহের অনেক কাছে থেকেও অনেক দূরে তখন অচলার বোঝা তার কাছে অসহ্য বলে মনে হয়। মহিম এ উপন্যাসের সবচাইতে নিষ্ক্রিয় চরিত্র। তার নিস্পৃহ আচরণ অনেক সময় বিরক্তিই জাগায়। আবার একটু গভীরভাবে ভাবতে গেলে সে এমনই স্বল্পভাষী, যে কোনো কথা না বলেই অনেক কথা বলতে সক্ষম। উপন্যাসের বাকি চরিত্রগুলোও স্ব-মহিমায় প্রোজ্জ্বল। কেদারবাবু ঋণের দায়ে জর্জরিত, ক্ষনসময়ের জন্য বিবেকবোধ হারানো এক পিতা; মৃণাল আবহমান বাংলার ধর্মপরায়ণা, সতী নারীর প্রতিনিধি। এই উপন্যাসে তার ব্যাপ্তি কমসময়ের জন্যে হলেও পাঠক তার চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে মাথা নোয়াতে বাধ্য।

Kam-protijogita niye dui bhalo bondhu-r bondhutto theke kromosh poroshporer shotru te porinoto howa diye novel shuru. Ar shesh o hoyese khub chomotkarvave.























