

Buy ঘুণপোকা Online in Bangladesh
লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Author: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788170664321
- Number Of Pages: 83
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 1967
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"ঘুণপোকা" বইটি সম্পর্কে কিছু কথা:সেইন্ট অ্যান্ড মিলারের চাকরিটা জুন মাসে ছেড়ে দিল শ্যাম। চাকরি ছাড়ার কারণটা তেমন গুরুতর কিছু ছিল না। তার ড্রইংয়ে একটা ভুল থাকায় উপরওয়ালা হরি মজুমদার জনান্তিকে বলেছিলেন, বাস্টার্ড। মজুমদার অনেক হাবভাব, কথাবার্তা নকল করে আসছিল।মাঝে মাঝে বেয়ারা এবং দু’-একজন শিক্ষানবিশ ড্রাফটসম্যানকে সে মজুমদারের মার্কামারা গালাগালগুলো একই ভঙ্গিতে এবং সুরে উপহার দিয়েছে এবং এমনকী তার এ রকম বিশ্বাস এসে যাচ্ছিল যে,পুরনো এইসব গালাগালগুলো বহু ব্যবহারে শক্তিহীন হয়ে গেছে, এগুলোর আর তেমন জোর তেজ নেই।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
ঘুণপোকা এক ভবঘুরে ছন্নছাড়া মানুষ কে নিয়ে লেখা হয়েছে । তার প্রতিটি ঘটনা ও কর্মকাণ্ড গুলোর সম্মিলিত এক রূপ নিয়েছে বইটি । ভবঘুরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাজ গুলো কেমন হতে পারে বা হয় তাই এখানে বলা হয়েছে। তাদের চিন্তা ভাবনা গুলো কে তুলে ধরা হয়েছে। কিভাবে তাদের চিন্তা শক্তি কাজ করে। আর এখানে আছে ভালোবাসা। বইটি বেশ বড় নয় তবে এর ভাষা অনেক কঠিন। বুঝতে সময় লাগবে। কারন এর লাইনগুলো ভারী করে লেখা। বইটি শুরু ও শেষ হয়েছে অনেকটা হঠাৎ করে। তাড়াতাড়ি শেষ করার প্রবণতা ছিল। এটি সবার পড়ার জন্য নয় । এর সাহিত্য ভাব অনেক গভীর। বেশি আশা না করে পড়লে হয়তো ভালো লাগবে। বই: ঘুনপোকা লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

বই: ঘুণপোকা লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় রেটিং:৫/৫ শ্যাম চক্রবর্তী। বিক্রমপুর,বনিখাড়া গ্রামের এক কিশোর যে যৌবন উপভোগ করেছে কলকাতায় , স্বাধীনভাবে।উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শ্যাম।পড়তে শুরু করা থেকে শেষ অব্দি এই একটা চরিত্রকেই বিরক্ত লাগা,ঘেন্না পাওয়া,জিজ্ঞাসু হওয়া,মায়া হওয়া এবং শেষমেষ ভালোবাসা পেয়ে বসাতে আমি বাধ্য হয়েছি।কেন পড়তে শুরু করলাম থেকে কেন এতো দ্রুত শেষ হলো পর্যন্ত ছিলো আমার প্রশ্নের দৌড়! একজন তুমুল তুখোড়, যৌবনে ভরপুর যুবক কী করে সামান্যতর কারনে চাকরি ছেড়ে ধীরে ধীরে নেমে আসে আত্ম-সন্ধানের এক গোলকধাঁধায় , যার পৃষ্ঠে পৃষ্ঠে সে হারায় জ্ঞান,যৌক্তিকতা,নীতি কিংবা অনুশাসন,তা’ই আছে নাতীদীর্ঘ এ উপন্যাসটিতে।শ্যাম যার মস্তিষ্ক একজন দায়বদ্ধ খুনী,ভালোবাসা যার মুক্তির পথ। সমাজে এমন অনেক শ্যাম-ই আছে যারা শত পরিচয়ে বাঁধা থেকেও দিনশেষে সে-‘নিজে কে’-এই পরিচয়টা না পেয়ে হয়ে ওঠে উন্মাদ।বুকের ভেতর রেলগাড়ির শব্দ হয়ে যতক্ষণ ভালোবাসা না নামে,ততক্ষণ তারা কেবলই খল চরিত্র। একসময় শ্যামেরা মুক্তি খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে যায় সবুজ দিগন্তে,ধূসর বালুকণায় কিংবা নগ্ন নীল আকাশে। লেখকের প্রথম লেখা উপন্যাসই এটি।নোয়া (NOIR) সাহিত্যের বিচরণ বাংলায় কতোটুকু আমি খুব জানিনা।তবে এই বইটা তার একটা স্বার্থক উদাহরন।নোয়া ফরাসী শব্দ যার অর্থ কালো,কৃষ্ণচিত্র বা অপ্রীতিকর।আপাত দৃষ্টিতে এই ধরনের গল্পে চরিত্র হয় নীতিগত দিক দিয়ে ঘৃণ্য,অপ্রিয়,খারাপ,সন্দেহজনক,ভয়ানক কিংবা প্রশ্নবিদ্ধ। বইটা খুব গভীর লেখনীর।আমি যে খুব পন্ডিত তাই বুঝে গেছি এরকম একদমই আমি বলছি না, তবে অনেকেই হয়তো বিরূপ মন্তব্য করে থাকতে পারেন জনরা’টা না বুঝে। আমার বইটা অসম্ভব ভালো লেগেছে।গুছিয়ে লিখতে পারিনি,তবে পড়বেন আশা করি। আর মাফ করবেন 😕 .. লেখাটা বড় হচ্ছে,তবুও না জুড়ে পারলাম না কয়েকটা অদ্ভুদ সুন্দর লাইন, “তোমার সঙ্গে কথা বলার জন্যই আমি আলাদা একটা ভাষা তৈরী করবো দেখো।সেই ভাষায় থাকবেনা কোন কঠিন,রূঢ় কিংবা অশ্লীল শব্দ,তাতে থাকবেনা কোন গালাগাল।এখনো মানুষের ভাষা তেমন সুন্দর নয়।এখনো তাদের জানা বহু শব্দ রয়ে গেছে -যা রাগ ও বিদ্বেষের ,যা অবহেলা কিংবা প্রত্যাখ্যানের।আগে তুমি সেই সব শব্দ ভুলে যাও,তারপর.......”
বইটা এক ভবঘুরে ছন্নছাড়া মানুষ কে নিয়ে লেখা । তার প্রতিটি ঘটনা এবং কর্মকান্ড গুলোর একটা সম্মিলিত রুপ । ভব ঘুরে মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম গুলো কেমন হতে পারে বা হয় সেটাই বলা হয়েছে । আবার তাদের চিন্তাভাবনা গুলো কে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে তাদের চিন্তা শক্তি কাজ করে । বইটা বেশি বড় নয় । তবে আমার মনে হয় লেখক এটা জাস্ট লিখে ফেলার জন্য ই লিখেছেন । এর ভাষা অনেক কঠিন । বলা যায় বুঝতে সময় লাগবে । কারন লাইন গুলো অনেক ভারী ভারী করে লেখা ।
সহজ ভাষায় লেখা একটা বই
শ্যাম, পুরো নাম- শ্যাম চক্রবর্তী। বাবার নাম -কমলক্ষ চক্রবর্তী। মা-বাবা ছাড়াও তার এক বোন ছিলো, তার বিয়ে হয়েছিলো এর পর আর কোন খোজ সে রাখেনি। বাড়ি বিক্রমপুরে, বনিখাড়া গ্রাম।সে ছিল "সেইন্ট এন্ড মিলার" ফার্মের ছোট সাহেব।বছরের মাঝখানে জুন মাসে চাকরি টা শ্যাম ছেড়ে দিলো। কারন তেমন গুরতর না। তার ড্রইংয়ে একটা ভুল থাকায়, বড় সাহেব 'হরি মজুমদার' জানন্তিকে বলেছিলেন, "বাস্টার্ড"(জারজ সন্তান)।অবশ্য মজুমদার শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে গালাগাল দেয়। তা ছাড়া এত কাল শ্যাম, হরিমজুমদার এর অনেক হাব ভাব, কথাবার্তা নকল করে আসছিলো। মাঝে মাঝে বেয়াড়া এবং দুয়েক জন শিক্ষানিবিশ ড্রাফট ম্যান কে, মজুমদারের মার্কামারা গালাগাল গুলো একই ভঙ্গিতে একই সুরে উপহার দিয়ে আসছিলো। এমনকি তার বিশ্বাস আসছিলো যে, পুরনো এসব গালাগাল তেমন একটা কাজে দেয় না। তাই খুব তারাতারি নতুন কিছু গালাগাল আবিস্কার হওয়া চাই। যে দিন মজুমদার তাকে বাস্টার্ড বলে অবিহিত করলো,সে দিন থেকে শ্যাম একটু অন্য মনস্ক। 'টাই' এর নট নাড়াছাড়া করলো,বাথরুমের আয়নায় নিজেকে দেখল অনেক্ষন,সন্ধ্যে বেলায় গুম মেরে থাকলো। কিন্তু কিছুতেই তার মন ভালো হল না। নিজেকে অনেক বুঝালো, এসব গালাগাল কিছুই না। মজুমদার অর্থ ভেবে গাল দেয় না। শুধু মাত্র শব্দ ব্যবহার করে রাগ প্রকাশ করে মাত্র।সে নিজেও তো কতজন কে গালাগাল করেছে, লোক কে সে যা দিয়েছে তা ফেরত পেতে তার এত অনীহা কেন..? তাছাড়া সে চাকরি ছাড়ার কথা ভাবতে পারেনা কেন না, তার চাকরির অবস্থান ভালো। কিছুদিনের মধ্যে সোনার ডিম পারবে।ইতিমধ্যে বাজার ঘুরে ফ্রিজিডেয়ার ও রেডিয়োগ্রাম এবং পুরনো ছোট মটর গাড়ির দাম জানার চেষ্টা করেছে।বড়লোকের নিরিবিলি পাড়ায় দুই বা তিন ঘরের একটা ফ্ল্যাটের সন্ধানও করেছিলো। তবুও সে খুব অসহায় বোধ করলো।ক্লান্তি বাড়তে থাকলো।শিস দিয়ে হাটা, রবিবারে শ্যাম্পু করা, ছুটির দিন বিকালে ঘুমানো এসব আর তেমন জমল না। অবশেষে ভয়ংকর অবসাদে এক গ্রীষ্মের মধ্যরাতে, টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে সে তার ইস্তফা পত্রটি লিখে ফেলল। সেই সাথে চিঠি লিখল তার মাকেও। সে রাতে তার বেশ ভালো ঘুম হলো। দিন পাল্টে গেল শ্যাম এর। শৌখিন জিনিস এর মধ্যে তার ঘরে ছিলো, ভাড়া করা একটা ওয়াডরোব আর একটা বুক কেস। একদিন রুপশ্রী ফার্নিচারের লোক এসে ঠেলাগাড়ি করে উঠিয়ে নিয়ে গেল। কাপড়ের স্তুপ আর বই এর ছড়াছড়ি আসবাব হীন ঘর টাকে শ্যাম এর চোখে বেশ বড় লাগল। সুখ অনুভব করলো সে। ভারমুক্ত হলো। যে লোকটি টেরিলিন, ট্রপিকেল বা স্লিকের শার্ট-প্যান্ট এমনকি বিদেশী টাই ছাড়া বাইরে বের হওয়ার চিন্তা করতে পারতো না, সে লোকটাই সুটকেস আর ট্রাংকের তলা থেকে পুরনো সুতি ঢোলাঢোলা কয়েকটা শার্ট-প্যান্ট খুজে বের করলো। সে গুলো পড়ে নিজেই অবাক হলো বটে, তবে তাই পড়ে চাকরি খুজতে বের হলো। চাকরি খোজতে গিয়ে বুঝতে পারলো খোজা সহজ হলেও পাওয়া টা বেশ কষ্ট সাধ্য। তাছাড়া হরি মজুদার এর চাকরি টা সে ছেড়ে দিল কেন তাও একটা ইস্যু হয়ে দাড়াল। কেন না এসব ফার্মে নালী ঘায়ের মতো ছড়িয়ে আছে মজুমদার এর খ্যাতি । চাকরি যাওয়ার পর থেকে , পাইস হোটেলে দুইবেলা খেতো শ্যাম। সেখানে মিত্র এর সাথে পরিচয়। বয়স চল্লিশ গড়িয়েছে কিন্তু সংসারী নয়। কেন না বাচ্চা বয়েসে প্রেমিকা কে কথা দিয়েছিলেন, সে এক ট্রাজেডী বলা যায়। একদিন ভীড়ের মধ্যে চৌরাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে সিগেরেট খেতে খেতে বলে উঠল, "আমি শেষ হয়ে গেছি।" বলেই চমকে উঠে এদিক ওদিক হাটা শুরু করলো। তবুও সেদিন থেকে অবক্ষয় শুরু... একদিন জিরাফের মতো গলা লম্বা করে, হাতের চকচকে ব্লেড টা বসিয়ে চাপ দিল। সুরু রক্তের রেখা তার বুকের কাপড় ভিজিয়ে দিলো। দুটো শখ ছিলো তার, প্রতিদিন এক দাড়ি কামানো। আর এক টেলিফোন করা । চাকরি ছাড়ার পর সে চার মাসে টেলিফোন করল মাত্র দুইটা। আর দাড়ি, প্রথমে কাটা হলেও এখন তা আর হয় না। ভাঙা চিবুক যা একসময় বেশ আকর্ষনীয় ছিলো তা দাড়ির কোলেলে হারিয়ে গেছে। ইতু একটা মেয়ে ছিলো, যার সাথে পরিচয় দক্ষিন কলকাতার এক রেস্টুরেন্ট এ। শেষ পর্যন্ত তার সাথে মেশা টা ঠিক প্রেম নয়, কিন্তু বিয়েতে একটা রফা হতে পারতো। এমনি করে সময় পেরুতে থাকে, এক সময় কার তরুন, উজ্জ্বল প্রানদ্বীপ্ত শ্যাম আর কিছুতেই প্রান পায় না। সময় কাটে না বলে বাসে উঠে এক টার্মিনাল থেকে অন্য টার্মিনালে যায় বেশ সময় কাটে। এমনি ভাবে একদিন দেখা হয় মানুমামার সাথে, যে কাজ করে এক সিনেমা হলে। শ্যাম কে তিনি চিনতেই পারেন নি। তার আলুতালু দাড়ি, সুতি ফতুয়া প্যান্ট, এন্ডি কটনের চাদর। খুব অবাক হয়ে জানতে চায়, শ্যাম ভালো আছে কিনা। এভাবে নিষ্প্রান হয় শ্যাম। ভিতরের সব কিছু উবে যেতে থাকে। একদিন দেখাহয় মিনুর সাথে যে ছিল একসময় গোপন কথার সাথী। কিন্তু এই মিনু আর তার মিনুর সাথে অনেক ফাড়াক। দেখাহয় মাধু এর সাথে, যে একসময় করুন ভাবে চাকরি খোজার জন্য বলতো। তার মায়ের ক্যান্সার ছিল। কিন্তু মাধুকে দেখে খুব সুখী মনে হল।তার সাথে বিবাহিত বৌ। দেখা হলো অরুন এর সাথে। অরুন হেসে জানাল, তার বস ও শ্যাম এর বস এর মত জাদরেল ছিলো। তাই বস এর মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে।কিন্তু আফসোস মেয়েটা কালো তার একটা সুন্দর বৌ এর শখ ছিলো খুব। অরুন এর সাথে গিয়েই একদিন লীলার সাথে দেখা হলো।লীলা চক্রবর্তী। তাকে দেখার সময় লীলা কাগজ কলম আর টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলো।তাকে দেখে শ্যামের বুকে রেলস্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের শব্দ হয়। শ্যাম চমকে ভয় পায়...
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
Is the size of the book standard or small?
Standard Size.
Is the size of the book standard or small?
Standard Size.























