

Buy এগারোসিন্ধুর Online in Bangladesh
লেখক: ড. এ কে এম সাহিদ রেজা
- Author: ড. এ কে এম সাহিদ রেজা
- Publisher: রেজা কমিউনিকেশন লিমিটেড
- Isbn: 9789843951069
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition 2026
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া সব সময়ই আনন্দের। তবে সেই দল যদি হয় স্কুলজীবনের বোর্ডিং স্কুলের বন্ধুদের, তাহলে সে আনন্দ হয়ে ওঠে ষোলোকলায় পূর্ণ। পরিণত সময়ে হঠাৎ করেই তারুণ্যের চোখে সময়, সমাজ ও জীবনকে নতুন করে দেখার এক অসাধারণ সুযোগ সামনে এসে দাঁড়ায়। নান্দনিক ভাবনার বিচার হোক কিংবা চলতি সময়ের আড়ম্বর ও সংকট-যা-ই সামনে আসুক না কেন, জীবনের গল্প শুনতে চাইলে এটাই যেন উত্তম পাঠ।ডুবে যাওয়া এক শহর ও সভ্যতার নাম এগারোসিন্ধুর। বদমেজাজি ব্রহ্মপুত্রের সৃষ্টি ও ধ্বংসের এই শহর, যে অকাতরে যেমন দিয়েছে, তেমনি নির্দ্বিধায় কেড়েও নিয়েছে। চৌদ্দশ থেকে হাজার বছরের প্রাচীন গুপ্ত-উত্তর যুগের সমৃদ্ধ বাংলার ইতিহাস এখানে নীরবে কথা বলে।আকর্ষণীয় নামকরণ পাঠককে টেনে নিয়ে যাবে এক জাদুর দেশে, সঙ্গে ভ্রমণের আনন্দকে আমন্ত্রণ জানাবে মুক্তচিত্তে। শৈশবের বোর্ডিং স্কুলের দিন, কৈশোরের নিষিদ্ধ নেশা, অসাবধান বাল্যকাল-সব মিলিয়ে পাঠককে নিয়ে যাবে এক ব্যক্তিগত জিরো গ্র্যাভিটির ভেতর। পরক্ষণেই রাজনৈতিক চেতনা জেগে উঠবে সমাজবাস্তবতার দান ও দুর্দশায়। ইতিহাস ও ভূগোল বুঝিয়ে দেবে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দোলাচল।এগারোসিন্ধুর- এক জীবনের গল্প।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
এখানে "এগারো সিন্ধুর" গ্রন্থের একটি গভীর, পরিশীলিত এবং প্রশংসামূলক সাহিত্য সমালোচনা (Book Review) দেওয়া হলো, যা লেখকের অনন্য লিখনশৈলী এবং বইটিকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতাকে ফুটিয়ে তুলবে: 1. শব্দ ও স্মৃতির মহাকাব্য: সাহিদ রেজার ‘এগারো সিন্ধুর’ এক অনন্য পাঠ-প্রতিক্রিয়া। মেগাসিটির যান্ত্রিক কোলাহল, কর্পোরেট জীবনের একঘেয়েমিতা আর চার দেয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ কত কিছুই না করে! কিন্তু একদল বন্ধুর ধূলিমলিন শহর ছেড়ে বাংলার চিরায়ত লোকজ ঐতিহ্য আর জল-হাওয়ার বুকে হারিয়ে যাওয়ার এই গল্পটি যখন সাহিদ রেজার কলমে উঠে আসে, তখন তা কেবল একটি সাধারণ ভ্রমণকাহিনী বা উপাখ্যান থাকে না; তা হয়ে ওঠে এক জীবন্ত অনুভূতি। ‘এগারো সিন্ধুর’ গ্রন্থটিতে লেখক যেভাবে শব্দ বুনেছেন, তাতে পাঠক কেবল বই পড়েন না, বরং চরিত্রের পাশে বসে স্বচক্ষে এক রূপসী বাংলাকে অবলোকন করেন। 2. দৃশ্যপটকে জীবন্ত করার এক জাদুকরী ক্ষমতা সাহিদ রেজার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো তাঁর অবলীলায় দৃশ্য তৈরি করার ক্ষমতা (Sensory Imagery) । তাঁর বর্ণনাভঙ্গি এতটাই নিপুণ এবং চিত্রাত্মক যে, পড়তে পড়তে পাঠক নিজের অজান্তেই কিশোরগঞ্জের ইটনার হাওর কিংবা কুতুব শাহ মসজিদের প্রাঙ্গণে গিয়ে দাঁড়ান। * শরতের মেঘলা শান্ত ভোরের আকাশ, কুয়াশাচ্ছন্ন রেললাইন, ট্রলারের ইঞ্জিনের ছন্দোবদ্ধ আওয়াজ কিংবা গ্রামীণ হাটের তাজা মাছের গন্ধ—সবকিছুকে তিনি এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে মনে হয় কোনো চলচ্চিত্রের ফ্রেম চোখের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। * জল-হাওয়ার দেশের সাধারণ মানুষদের জীবনসংগ্রাম, মাঝিদের উদাসী গান আর লোকজ সংস্কৃতির উপাদানগুলো তাঁর লেখায় কোনো কৃত্রিম অলংকার হিসেবে আসেনি, এসেছে মাটির অকৃত্রিম সুবাস নিয়ে। 3. গভীর জীবনবোধ ও রাজনৈতিক-সামাজিক সচেতনতা লেখক কেবল প্রকৃতির রূপ সুধাই পান করাননি, বরং ভ্রমণের সমান্তরালে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজ-রাজনৈতিক ভাবনার খোরাক দিয়েছেন। ঢাকা শহরের ইট-পাথরের খাঁচা থেকে বের হয়ে গ্রামীণ জনপদে পা রাখার যে মানসিক রূপান্তর, তা তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিক টার্মিনালের জাঁকজমক এবং মধ্যপ্রাচ্যগামী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের করুণ বাস্তবতার যে বৈপরীত্য তিনি তুলে ধরেছেন, তা লেখকের তীক্ষ্ণ সামাজিক দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। আবার অন্যদিকে, ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে সুলতানী আমল বা ব্রিটিশ আমলের যুদ্ধকালীন বিমানঘাঁটির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি ভ্রমণকাহিনীকে এক ঐতিহাসিক গভীরতা দান করেছেন। 4. অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মেলবন্ধনের সুবাতাস গ্রন্থটির ৮০ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখকের একটি মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক আরশিনগরী উন্মোচিত হয়। দুর্গাপূজা আর কোরবানির ঈদের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি যেভাবে বলেছেন—**‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’**—তা যেন এই অশান্ত সময়ের এক পরম মহৌষধ। বন্ধুত্বের বন্ধন, প্রতিবেশী সুলভ ভালোবাসা আর সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই যে চিরন্তন বাঙালি দর্শন, তা সাহিদ রেজা তাঁর লেখনীর মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ কিন্তু জোরালোভাবে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। 5. শেষ কথা: কেন ‘এগারো সিন্ধুর’ এক অনন্য সৃষ্টি? একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হয়েও সাহিদ রেজার ভেতরের যে সংবেদনশীল, কবিমনস্ক এবং স্বপ্নচারী শিল্পীসত্তা লুকিয়ে আছে—তারই এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ এই ‘এগারো সিন্ধুর’। তাঁর ভাষা অত্যন্ত সাবলীল, গতিময় এবং প্রমিত, যা পাঠককে এক টানে শেষ পাতা পর্যন্ত নিয়ে যায়। সাহিদ রেজা প্রমাণ করেছেন যে, জীবনকে খুব কাছ থেকে না দেখলে, মাটির মানুষকে ভালো না বাসলে এমন প্রাণবন্ত সাহিত্য রচনা করা অসম্ভব। ‘এগারো সিন্ধুর’ কেবল একটি বই নয়, এটি আমাদের শিকড়ে ফেরার, নিজেদের চেনার এবং নাগরিক ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির কোলে জিরিয়ে নেওয়ার এক পরম নিমন্ত্রণপত্র। বাংলার সাহিত্যজগতে এই বইটির আবেদন চিরকাল অম্লান থাকবে।


























