

Buy চৌরঙ্গী Online in Bangladesh
লেখক: শংকর
- Author: শংকর
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129515377
- Number Of Pages: 480
- Language: বাংলা
- Edition: 112th Edition, 2012
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
চৌরঙ্গীফরওয়ার্ড মার্চ’—বিজয়ী বিধাতার হৃদয়হীন সেনাপতি পরাজিত বন্দিকে হুকুম দিলেন। প্রাণ না চাইলেও, আঘাতে আঘাতে ক্ষতবিক্ষত মনটাকে ক্লান্ত দেহের ঠেলা-গাড়িতে চড়িয়ে আবার যাত্রা শুরু করতে হলো। Onward! Don't look back—সামনে সামনে। পিছনে তাকিও না।'আমার পিছনে এবং সামনে কেবল পথ। যেন রাত্রের অন্ধকারে ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটের অচেনা সরাইখানায় আশ্রয় পেয়েছিলাম। এখন ভোরের আলোয় পথকে আবার ঘর করেছি। হাইকোর্টের বাবুরা এসেছিলেন। চোখের জল ফেলেছিলেন। ছোকাদা বলেছিলেন, “আহা, এই বয়সে স্বামী হারালি ! একেবারে কাঁচা বয়েস।”আমি কিন্তু কাঁদিনি। একটুও কাঁদিনি। বজ্রাঘাতে আমার চোখের সব জল যেন ধোঁয়া হয়ে গিয়েছিল।ছোকাদা কাছে ডেকে বসিয়েছিলেন। শিখের দোকান থেকে চা আনিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “বুঝি ভাই, সব বুঝি। কিন্তু এই পোড়া পেটটা যে কিছুই বুঝতে চায় না। সামান্য যা হয় কিছু মুখে দে, শরীরে বল পাবি।”ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিটে সেই আমার শেষ চা-খাওয়া। ছোকাদা অবশ্য বলেছিলেন, “ভাবিস না, এই পাড়াতেই কিছু একটা জুটে যাবে। তোর মতো বাবুকে কোন সায়েবের না রাখতে ইচ্ছে হয় বল? তবে কিনা এক স্ত্রী থাকতে, অন্য কাউকে নেওয়া। সবারই তো বাবু রয়েছে।”জোর করে কথা বলা আমার স্বভাববিরুদ্ধ। কিন্তু সেদিন চুপ করে থাকতে পারিনি। জোর করেই বলেছিলাম, “ছোকাদা, আমি পারব না। চাকরি পেলেও এ-পাড়ায় আর থাকতে পারব না । ”ছোকাদা, অর্জুনদা, হারুদা সবাই সেদিন আমার দুঃখে অভিভূত হয়েছিলেন। বিষণ্ণ ছোকাদা বলেছিলেন, “আমাদের দ্বারা তো হল না। যদি কেউ পারে তো তুই পারবি। পালিয়ে যা—আমরা জানব এই সর্বনাশা গোলকধাঁধা থেকে অন্তত একজনও বেরিয়ে যেতে পেরেছে।”ওঁদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, আমিও টিফিন কৌটো সমেত কাপড়ের ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। পশ্চিম আকাশের বিষণ্ণ সূর্য সেদিন আমার চোখের সামনেই অস্ত গিয়েছিল।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

লা জবাব

অনেক ভালো লাগলো

সেরা, সেরা, সেরা!!!!! ভাল্লাগছে!!!!

বাঙ্গালী পাঠক সমাজে শংকর এই নামটি শুনলে প্রথমেই যে বইটির কথা মাথায় আসে তা হলো চৌরঙ্গী । বাঙ্গালী পাঠ্য সমাজে আমরা প্রায়শই প্রশ্ন করে থাকি আপনি শংকরের চৌরঙ্গী পড়েছেন? কিনবা ও বাপু তুমি এখনো উত্তম কুমার অভিনীত চৌরঙ্গী মুভি দেখো নি? তাই ঘটা না করেই আজকের আলোচ্য বিষয় হিসাবে রাখলাম শংকরের চৌরঙ্গী । ১৯৩৩ সালের ৭ ই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন লেখক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, ডাকনাম শংকর এবং এই নামেই সাহিত্য রচনা করে এসেছেন৷ শংকরের ব্যাক্তিজীবন নানান ঘটনা বহুল, কর্মজীবনের শুরুটা করেন টিউশনি চাকুরী তারপর নানান কাজকর্মের বেড়াজালে সাহিত্য জগতে। ১৯৬২ সালে শংকর রচনা করেন চৌরঙ্গী উপন্যাস টি৷ ধারণা করা হয় এই উপন্যাসটি তার ব্যক্তিজীবনের লাইফ ইন্সপায়ার হয়ে লেখা । চৌরঙ্গী উপন্যাসটি একটি হোটেলকে কেন্দ্র করে৷ কোলকাতার বিখ্যাত শাজাহান হোটেল, যেখানে রাজা প্রজা গনক বেশ্যা ধর্মগুরু গায়ক উকিল ব্যারিস্টার সহ নানান শ্রেণীর আগমন। গল্পের শুরুয়াতটা হয়েছে শংকর নামক এক যুবক যে বিট্রিশ ভারতের লাস্ট কেরানীর চাকুরীটি হারিয়ে পথে বসে, আর তারপর একান্তেই পেটের দায়েই শাজাহান হোটেলে রিসিপশনের চাকুরী নেয়া আর এখন থেকেই শংকরের নতুন জীবনে পা দেয়া আর মেলতে শুরু করে উপন্যাসের পাতা। এই উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের গল্প। শংকর যখন শাজাহান হোটেল এ চাকুরী পায় এবং এর পর থেকে সে প্রতিনিয়ত দেখছে নানান রকমের মানুষের আগমন আর পৃথিবীর বিচিত্রিতা। মানুষের জীবন কত বিচিত্র তা লেখক এই উপন্যাসে এনেছেন। পৃথিবীতে কত শ্রেনীর মানুষ আছে তাদের সাথে শংকরের পরিচয় হয় এই হোটেলে। কত মানুষ পেটের দায়ে কত কিছু করে আর কত মানুষ টাকা কিভাবে উরায়৷ কত মেয়ে বাধ্য হয়ে হোটেলে বারগার্ল হয় বারে গান গায় অথবা বেশ্যাবৃত্তি করে আবার কত মানুষ স্বেচ্ছায় কত কিছু করে। কত মামুষ ঘরছারা আবার কত মানুষের সংসারে নানান যন্ত্রণা। এ যেন সব কিছুর একটি মিশ্র কম্বিনেশনে তৈরি শংকরের চৌরঙ্গী ।। এটি চরিত্র কেন্দ্রিক উপন্যাস বলা যায়, মূল নায়ক শংকর ছারাও হোটেল ম্যানেজার মার্কোপোলো স্যাটাবোস রোজি নামে নানা ছোটবড় বিচিত্র সব চরিত্র । ধীরে ধীরে একেক চরিত্রের আগমন আর একেক চরিত্রের একেক গল্প, এই গল্পের মাঝে পাঠক কখনো হাসবে আবার কখনো ভাববে। বাঙ্গালী পাঠকদের কাছে শংকরের চৌরঙ্গী একটি আবেগের নাম এর কারন হিসাবে বলব এই বইটির প্লট ও প্রেক্ষাপট৷ ১৯৬২ সালে এটি রচনা করা হয়। এর প্রেক্ষাপট ৫০-৬০ এর দশক যখন বিট্রিশ রা সদ্য ভারতবর্ষ ত্যাগ করেছে এখনো বাঙ্গালীয়ানার ভিতরে বিট্রিশদের বীজ করে গেছে সেই সময়কার মানুষ সামাজিক পরিবেশ আর মানুষের বিচিত্রিতা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। ততকালীন সময়ে কলকাতার পরিবেশ আর এই বাংলার পরিবেশ এর একটা মেল, ইংরেজি হাল ফ্যাশনে চলা আমাদের সমাজ,ইত্যাদি এই উপন্যাসে লক্ষ্য করা যায়। আরেকটি বিষয় যে এটি কেন পাঠ্য বা কোন শ্রেণির পাঠকের এই উপন্যাস টি পড়ে বেশি ভালো লাগবে? আমি বলব একদম কিশোর পাঠকদের এই উপন্যাসটি পড়া উচিত৷ সে বুঝতে পারবে সে ফিল করতে পারবে আমাদের চারপাশের নানান শ্রেণীর মানুষ আর তাদের বিচিত্রিতা । কেননা এটিকে উপন্যাস বলা ভুল হবে, জীবনবোধ মানুষ পরিবেশ ইত্যাদি শেখার একটি মূল দলিল হিসেবে গণ্য হবে এই উপন্যাসটি৷ এবার আসি বইয়ের বাইরের কথা, শংকরের চৌরঙ্গী উপন্যাস অবলম্বনে উত্তম কুমার অভিনীত চলচিত্র নির্মিত হয়েছে ১৯৬৮ সালে। সেই চলচ্চিত্র বেশ ব্যপক সারা ফেলেছে। তারপর ২০১৯ সালের দিকে সৃজিত মুখার্জি করেছেন শাজাহান রিজেন্সি সৃজিত তৈরি করেছেন ১৮ সালের আধুনিকতার প্রেক্ষাপটে পটে। ১৯৬৮ সালের চৌরঙ্গী বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছিলো৷ আমার ব্যাক্তিগত ভাবে চৌরঙ্গী আসলে কেমন লেগেছে বলতে গেলে আমার রেটিং হবে চার দশমিক শূন্য পাঁচ। বেশ ভালো উপভোগ্য এবং শেখনীয় একটি বই এর তালিকায় শংকরের চৌরঙ্গী । আমি হলফ করে বলতে পারি আজকের তরুণ পাঠকদের মাঝে যদি সাহিত্য পড়ার ধৈর্য টা হয় তাহলেই চৌরঙ্গী সত্যি বেশ ভালো লাগবে৷ এই বইটি বেশ কয়েকটি প্রকাশনী মুদ্রণ করেছে দেখলাম, বাংলাদেশের ইউপিএল, কলকাতা আনন্দ দেজ আরো কয়েকটি, তাছারা এটি বাংলার পাশাপাশি হিন্দি তে ট্রান্সলেট হয়েছে এবং ইংরেজিতেও ট্রান্সলেট হয়েছে। কথা আর বাড়াবো না লেখালেখির অভ্যাস টা আর আগের মতো নেই বই পড়ি কিন্তু আর লেখিনা তেমন, পাঠকদের বলবো পড়বেন লিখবেন বিশেষ করে শংকরের এই ধ্রুপদী উপন্যাস চৌরঙ্গী পড়ার বেশ চেষ্টা করেন আশা করি ভালো লাগবে৷। বইয়ের নাম : চৌরঙ্গী লেখক :শংকর। জনরা : চিরায়ত উপন্যাস প্রথম প্রকাশকাল : ১৯৬২। প্রকাশনা : ইউপিএল বাংলাদেশ, দেজ পাবলিকেশন ভারত, আনন্দ পাবলিকেশন ভারত ।
Very Nice Book























