

Buy ছবির দেশে কবিতার দেশে Online in Bangladesh
লেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নীললোহিত)
- Author: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নীললোহিত)
- Publisher: বিভাস
- Isbn: 9847034302707
- Number Of Pages: 288
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2012
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"ছবির দেশে কবিতার দেশে" বইটির মূল সামারীঃ লেখক যখন নবীণ কবি ছিলেন, কলকাতা থেকে তিনিই ডাক পান পল এঙ্গেলের আমন্ত্রণে ক্রিয়েটিভ রাইটিং প্রোগ্রামে যান যোগদান করার জন্য। পল এঙ্গেল ছিলেন আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক। যদিও তিনি বাংলা কবিতার প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিলেন। ছবির দেশ কবিতার দেশ বলতে ফরাসী দেশকেই বুঝানো হয়েছে। কে যেনো বলেছিলেন, প্রত্যেক শিল্পীরই দুটি দেশ থাকে একটি হলো তার মাতৃভূমি আরেকটি হলো ফ্রান্স। সেখানে পৃথিবীর সব বিখ্যাত শিল্পী ও কবিরা জন্মগ্রহন করেছেন। লেখক সেই দেশকে ছবির সাথে তুলনা করেছেন। বইটির বেশীরভাগ জুরেই যার কথা আলোচিত হয়েছে তার নাম মার্গারিট ম্যাতিউ। যার সুবাদে তিনি ফ্রান্সকে আরো সুন্দর ভাবে চিনতে পেরেছেন। তার সাথে পরিচয় হয়েছে আমেরিকায় মার্গারিট সেখানে ডক্টরেট ডিগ্রি করার জন্য যান সেকানেই তার পরিচয়। মার্গারিট ম্যাথিউ এর সাথে তার সুম্পর্ক হওয়ার পরে লেখকে ফ্রান্সে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। লেখক যান, ম্যাথিউ ফ্রান্স সম্পর্কে নানা-অজানা কাহিনি,কালচার সংস্কৃতি, আচার আচরণ, বৈশিষ্ট, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লেখক স্ব চোখে দেখতে পান এবং বিভিন্ন শহর ঘুরে বেড়ান দুজনে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

চমৎকার
ভালো বই । ধন্যবাদ
#সপ্তর্ষি_রকমারি_বুকরিভিউ_প্রতিযোগিতা নাম : মোঃ শাহরিয়ার খান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম : পাবনা জিলা স্কুল, পাবনা জেলা : পাবনা বইয়ের নাম : ছবির দেশে কবিতার দেশে বইয়ের লেখকের নাম : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বইয়ের ধরণ : ভ্রমণকাহিনী প্রকাশনী : আনন্দ প্রকাশনী বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৬৬ নিজস্ব রেটিং : ৯ / ১০ " সোনায় মোড়া একটি বৃদ্ধের সঙ্গে একটি দুঃখিত ঘড়ি রানী পরিশ্রম করছেন এক ইংরেজের সঙ্গে আর মাছধরা শান্তির জাহাজের সঙ্গে সমুদ্রের অভিভাবক ব্যঙ্গনাট্যের বীরপুরুষ, তার সঙ্গে মৃত্যুর বোকা হাঁস কফির সাপের সঙ্গে এক চশমা পরা কারখানা দড়ির খেলার শিকারীর সঙ্গে এক অবসরপ্রাপ্ত তামাকের পাইপ কালো পোশাকে সজ্জিত এক পেছন-নোংরা শিশুর সঙ্গে একটি নিকার বোকার পরা ভদ্রলোক ফাঁসিকাঠের গান লেখকের সঙ্গে একটি গায়ক পাখি বিবেক সংগ্রাহকের সঙ্গে এক সিগারেটের টুকরোর পরিচালক বাংলা দেশের একটি কচি সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে একটা ধর্মীয় মঠের বাঘ..... " — জাক প্রেভের [ শোভাযাত্রা কবিতার অংশ বিশেষ ] কতই না বিচিত্র আবিষ্কারক লেখকবৃন্দ এবং কবিগণ। ভাবনা থেকে তুলে এনে নির্মল, শুষ্ক, শুভ্র পৃষ্ঠায় তাঁরা কালি জড়িয়ে আমাদের উপভোগ্য করে দেয় তাঁদের চমৎকার, বিস্ময় ভরা সেসব আবিষ্কার। অভূতপূর্ব, ভিন্নধর্মী সেসব ভাবনার আবেশ। উপরোক্ত কবিতাংশটি এমনই প্রচন্ড জনপ্রিয় একজন ফরাসী আবিষ্কারকের ( কবির )। কবি এখানে একজন বাংলাদেশী সন্ন্যাসিনী মেয়ের কথা লিখেছেন, যার কারণে আমি কবিতাংশটি সর্বপ্রথমে উল্লেখ করতে বাধ্য হয়েছি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা " ছবির দেশে কবিতার দেশে " বইটির পটভূমি মূলত তাঁর ফরাসী দেশ কিংবা, ফ্রান্স ভ্রমণের কাহিনীর বিশ্লেষণী আত্মার এক বিস্ময়কর উদ্ভাবনের চেষ্টা। লেখক এ বইয়ে তাঁর একবার ফ্রান্স ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করেন নি, তিনি সেখানে বারংবার বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ভিন্নতা আস্বাদন করতে বহু ধরনের অজুহাতে ভ্রমণ করেছেন এবং তা বারবারই উল্লেখ করেছেন। রোমাঞ্চের বিষয় এই যে, বইয়ের নামের অন্বয়ে এবং ভ্রমণ কাহিনীর অধিকাংশে ফ্রান্সের ভূমিকায় তো জয় পেয়েছে কিন্তু, ভাগ্যচক্রে,এর সূচনা হয় লেখকের প্রথম বিদেশ যাত্রা যুক্তরাষ্ট্র গমনের মাধ্যমে। যে কোনো মানুষের প্রথম বিদেশ যাত্রার ঘটনা অবিস্মরণীয়, ( ভালো, কিংবা, খারাপ, কিংবা, উভয়ই হতে পারে ) তবে লেখকের বর্ণনার ধারা এবং তাতে আমার ভাবনার অবগাহনে মনে হয়েছে এ ঘটনা অসাধারণ। অতঃপর লেখক যুক্তরাষ্ট্রের আয়ওয়া শহরের আয়ওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ফরাসী নারী লেকচারারের ( সম্ভবত ) সঙ্গে পরিচিত হন এবং এই সূত্র ধরেই তিনি এই প্রথম ফ্রান্সে ভ্রমণের সূচনা করেন। বইটিতে যেমন ফ্রান্সের প্রকৃতি, সংস্কৃতি তথা শিল্প, সাহিত্য, খাদ্য, মানুষের নমুনা এবং আইন, নিয়ম-কানুনের পরিস্ফুরণ ঘটেছে তেমনি অপরদিকে, বর্ণিত হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এবং সমসাময়িককালে সেখানকার শিল্প ও সাহিত্যের প্রভাব, যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মানুষের আর্থিক ও সামাজিক জীবনের বর্ণনা এবং এ সকল বর্ণনার ধরনে লেখক ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন বাস্তবতার মূল আপেক্ষিক ও লৌকিক চিত্রের আবেগী এবং নির্মমতা দু’ দিকই। বিভিন্ন সাহিত্যসভায়, কবি ও পাঠক সমাগমে আড্ডার চমৎকার উপাখ্যানের চমৎকার বর্ণনাসহ বিভিন্ন ফরাসী বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিল্পী-সাহিত্যিকদের জীবন অভিযানের মজার মজার কাহিনীও বর্ণিত হয়েছে জায়গায় জায়গায় এবং রয়েছে অনেক তথ্যবহুল চমৎকার এবং হাসির ইতিহাস। লেখক তাঁর ভ্রমণের অভিযানের মাধ্যমে ফ্রান্সের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ও ঐতিহাসিক স্থাপনার অতুলনীয় বর্ণনা করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি কখনো একা ভ্রমণে যান নি, কখনো তাঁর বন্ধুরা, তো কখনো তাঁর বন্ধুদের সাথে নিজের স্ত্রী এবং বন্ধুদের স্ত্রী। কিন্তু, তাঁর ভ্রমণের সবচেয়ে নিয়মিত সাথী ছিল অসীম রায়। তাই, আড্ডার ফোয়ারা ছিল সেসব ভ্রমণে এবং খুনসুটি, হাসি, ঝগড়ার আখ্যানও সুন্দর করে, মজার সাথে বর্ণনা করেছেন। আর, ফরাসী দেশ সম্বন্ধে একটা কথা না বললেই নয়, ফ্রান্স শিল্প, সাহিত্য তথা, সংস্কৃতির কদর কত তা এ বই পড়লে ধারণা করা অসম্ভব কিছু না। লেখক শুধু যে ফ্রান্সেরই বর্ণনা করে ভরে দিয়েছেন তাও নয়, যুক্তরাষ্ট্র,ভারতসহ অন্যান্য অনেক দেশের রোমাঞ্চকর এবং বিচিত্র চিত্রও তিনি তাঁর হাতে এঁকেছেন। বইটি মোট ৩৭ টি অধ্যায়ে বিভক্ত। লেখক প্রতিটি অধ্যায়ের মস্তিষ্কেই একজন করে ফরাসী কবির আবিষ্কৃত মুকুট পরিয়ে দিয়েছেন। ৩৭ টি অধ্যায়ের ৩০তম অধ্যায়ে ছিল সর্বপ্রথমে আমার উল্লেখকৃত কবিতাংশটি এবং বাংলাদেশের কথা উল্লেখের মর্মে সেটুকু আমার নিকট স্বর্ণমুকুট স্বরূপ। এর মধ্যে ৮ম অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় কবি এবং লেখকের বিশিষ্ট বন্ধু অ্যালেন গীন্সবার্গের কবিতা এবং ৩৪তম অধ্যায়ে রয়েছে একজন উরুগুয়েতে জন্মগ্রহণকারী ফরাসী কবি ( লেখকের মতে, কিন্তু, আমি কবির জাতীয়তার বিষয়টি স্পষ্ট নয় ) জুল সুপরভই - এর কবিতা। কোনো কবির কবিতা একাধিক অধ্যায়ে ব্যবহার করেছেন লেখক। আর, সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হলো বইটিতে বেশ পরিমাণে ফরাসী ভাষার ব্যবহার এবং বিশ্লেষণের ফলে আমি অনেক পরিমাণে ফরাসী ভাষা শিখেছি এবং আশা করছি আপনাদের ইতিহাস ও ফরাসী ভাষা জ্ঞান দুটোই সমৃদ্ধ হবে এবং বৃদ্ধি পাবে। মোট কথা লেখক তাঁর আত্মজীবনীর খানিকাংশে এ বইয়ে প্রকাশ ঘটিয়েছেন এবং বইয়ের প্রথম দিকে তা স্বীকারও করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নিজের অসম্ভব নিপুণতা দ্বারা ভাষা ব্যাবহারের সূক্ষ্মতা এবং কথা প্রকাশের ধরনের যাদু দ্বারা ফুটিয়ে তুলেছেন ধূসর পর্দার অজানা ইতিহাসের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তের এক বর্ণালীপূর্ণ পৃথিবীকে। বইটি পড়ে আমি অসম্ভব মজা পেয়েছি এবং অভূতপূর্ব জ্ঞানসিদ্ধ হয়েছি । কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কয়েকটা লাইন মনে পড়ল :- " বিপুলা এই পৃথিবীর কতুটুকু জানি, দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, কত না অজানা জীব , কত না অপরিচিত তরু রয়ে গেল অগোচরে।" বইটি আসলে শেষ হওয়া উচিৎ ছিল না, যেন অনন্তকাল ধরে এই বই লেখে গেলেও এ বই শেষ হবার নাম নিত না। অসীম অপূর্ণতায় কেঁদে উঠেছে বইয়ের হৃদয় শেষ পৃষ্ঠার ছায়ায়। পৃথিবী এবং তার গায়ে মেখে থাকা জ্ঞানের রঙে সাজানো কুঠুরিগুলোর তো অন্ত নেই তবে বই কেন অস্ত যাবে ? অপূর্ণতায় কেঁদে উঠবে কেন ঢুকরে ঢুকরে ? ©Shahriar Khan Argho

cool
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'ছবির দেশে কবিতার দেশে' বইটি এই ফরাসীদেশকে কেন্দ্র করেই। কবি ও শিল্পীদের এই অমরাবতীতে লেখকের পাঁচবারের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়েই এই বই। হ্যাঁ, এটি একটি ভ্রমণ কাহিনী। তবে এটিকে যদি নিছকই একটি ভ্রমণকাহিনী বলে বিবেচনা করি তাহলে সম্ভবত পুরো বইটার উপরই অবিচার করা হবে। এটি শুধুই ভ্রমণকাহিনী নয়, বরং তার চেয়ে বেশি কিছু। আবার বলা যেতে পারে এটি তাঁর আত্মজীবনীও। কারণ তাঁর জীবনের দীর্ঘ একটা সময়ের বর্ণনা পাওয়া যায় এখানে। আবার একই সাথে কখনো মনে হয়েছে এটি একটি কবিতার বই কিংবা অনুবাদ। শেষ কয়েকটা অধ্যায়ে যেভাবে শিল্প সাহিত্যকে বিশ্লেষণ করেছেন তাতে করে এটিকে কেউ প্রবন্ধের বই বলেও দাবি করতে পারেন! অর্থাৎ এটি হচ্ছে সবকিছুর মিশেলে লেখকের অসাধারণ এক সৃষ্টি, যেটিকে কোন নির্দিষ্ট নামে হয়তো অভিহিত করা সম্ভব নয়। ভ্রমণ সাহিত্য নিয়ে সুন্দর একটি কথা বলেছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়, তিনি বলেছিলেন- “ভ্রমণ থেকেই হয় ভ্রমণ কাহিনী। কিন্তু ভ্রমণকারীদের সকলের হাত দিয়ে নয়।" ওনি যথার্থই বলেছিলেন। ইদানিং ভ্রমণ সাহিত্যের নামে এমন কিছু রচনাও দেখা যায় যেখানে শুধুই ঘোরাঘুরি, খাওয়া আর খানিকটা ইতিহাস তুলে ধরে নাম দেওয়া হয় ভ্রমণ সাহিত্য। যা সব পাঠককে তৃপ্ত করতে পারে না।























