

Buy চাঁদের পাহাড় Online in Bangladesh
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- Author: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- Publisher: সূর্যোদয় প্রকাশন
- Isbn: 9789849589648
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2021
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
শঙ্কর একেবারে অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে। এইবার সে সবে এফ.এ. পাস দিয়ে এসে গ্রামে বসেছে। কাজের মধ্যে সকালে বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে গিয়ে আড্ডা দেওয়া, দুপুরে আহারান্তে লম্বা ঘুম, বিকেলে পালঘাটের বাঁওড়ে মাছ ধরতে যাওয়া। সারা বৈশাখ এভাবে কাটবার পরে একদিন তার মা ডেকে বললেন-শোন্ একটা কথা বলি শঙ্কর। তোর বাবার শরীর ভালো নয়। এ অবস্থায় আর তোর পড়াশুনো হবে কী করে? কে খরচ দেবে? এইবার একটা কিছু কাজের চেষ্টা দেখ। মায়ের কথাটা শঙ্করকে ভাবিয়ে তুললে। সত্যিই তার বাবার শরীর আজ ক'মাস থেকে খুব খারাপ যাচ্ছে। কলকাতার খরচ দেওয়া তাঁর পক্ষে ক্রমেই অসম্ভব হয়ে উঠছে। অথচ করবেই বা কী শঙ্কর? এখন কি তাকে কেউ চাকরি দেবে? চেনেই বা সে কাকে?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

আমার পড়া সেরা উপন্যাস। আমার মনে হয় এটি সবার জন্য অবশ্যপাঠ্য। যদিও এটি এডভেঞ্চার জনরার, তাও যেকোনো করো পড়েই ভালো লাগবে।
'চাঁদের পাহাড়' যতবারই পড়ি, একটা ঘোর লেগে আসে। চোখে জলজ্যান্ত ভেসে ওঠে সেই আকাশছোঁয়া রিখটারসভেল্ড পর্বতমালা, তার চূড়ায় জমে থাকা মেঘের টুকরা, তার প্রলয়ের মত নেমে আসা অবিরাম বর্ষণ, মাইলের পর মাইল জুড়ে আকাশ অন্ধকার করে জড়াজড়ি করে থাকা শত শত বছরের পুরনো গাছের গুঁড়ি, অর্কিডের রঙ, শৈবাল, মসের নিকষ কালো অরণ্য - বিভূতিভূষণের ভাষায় - "... শঙ্করের মনে হলো, এ যেন সৃষ্টির আদিম যুগের অরণ্যানী, পৃথিবীর উদ্ভিদজগৎ যখন কোনো একটা সুনির্দিষ্ট রূপ ও আকৃতি গ্রহণ করেনি, যে যুগে পৃথিবীর বুকে বিরাটকায় সরীসৃপের দল জগৎজোড়া বনজঙ্গলের নিবিড় অন্ধকারে ঘুরে বেড়াত - সৃষ্টির সেই অতীত প্রভাবে সে যেন কোন জাদুমন্ত্রের বলে ফিরে গিয়েছে-" বাঙালির দুর্নাম সে কালাপানি পার হতে চায়না। চিরকাল জুড়ে বাঙালি কবি সাহিত্যিক ঘরকুনো সাংসারিক। এডভেঞ্চারে যেন তার গা ভরা বিরক্তি। সেই অপবাদ পাওয়া বাংলারই ঘরের ছেলে শঙ্কর যখন ধান, ঘাস, দূর্বা ভরা মাঠ, শ্যাওলা ধরা পুকুর আর লাল মাটির মেঠো রাস্তার চিরায়ত গ্রামবাংলা ছেড়ে পাড়ি জমায় হিংস্র সিংহ, নেকড়ে, কয়োটি, হায়না ভরা দুর্গম আফ্রিকান সাভানায় - তখন পাঠক বিষ্ময়ে হতবাক হয় বৈকি। এরকম সম্পূর্ণ বিপরীত এক জগত থেকে আরেক জগতে পাঠককে টেনে আনাতেই বিভূতিভূষণের মুনশিয়ানা। বিভূতির লেখার শুরুতেই উগান্ডার রেলের ক্যাম্পে মানুষখেকো সিংহের উপদ্রব। সেখান থেকে তিনি শঙ্করকে নিয়ে ফেলেন বিষাক্ত ব্ল্যাক মাম্বার আড্ডাখানায় - এক জনবিরল রেলস্টেশনে - বইয়ের অন্যতম চরিত্র ডিয়েগো আলভারেজের আবির্ভাব যেখানটায় হয়। তারপর আরেক ঝটকায় সোজা অরণ্যসংকুল রোডেশিয়ায়। এর পর থেকে বই শুধু তেড়েফুঁড়ে এগিয়েছে। পাঠকদের জন্য এ যেন রোলার কোস্টার। নরমাংসলোলুপ রিখটারসভেল্ড পর্বত, চির অন্ধকার নিবিড় সবুজ রহস্যময় বনানী, আকাশে আগুন ধরানো অগ্ন্যুৎপাত, মরণফাঁদ রৌরব নরক হীরার গুহা, তলোয়ারের মত ধারালো এলিফ্যান্ট ঘাস আর সে ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে সিংহের অতর্কিত আক্রমণের সম্ভাবনা, রাতে অর্ধমৃত মানুষের মাংসের লোভে আগুন ঘিরে বসে থাকা কয়োটি নেকড়ে হায়েনার দল, কুন্ডলি পাকানো অজগরের ঠান্ডা শরীর, ত্রিশ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা আত্তিলিওর কঙ্কাল - কি নেই এই অভিযানে! বিভূতিভূষণ আফ্রিকার হিংস্রতা আনতে কোনো কসুর করেননি। ভয়, শিহরণ আর রোমাঞ্চের যত মালমশলা দরকার সব ঢেলেছেন অকাতরে। তাঁর সৃষ্টি শঙ্কর - যে শঙ্কর সিংহের বুকে গুলি ছুঁড়েছে, পয়সন আইভির বিষ বাতাসে হয়েছে মোহাবিষ্ট, গুহায় পথ হারিয়ে জুতোর শুকতলা খেয়েও আশা ছাড়েনি, মাথার ওপর শকুন আর ঘাড়ের কাছে নেকড়েকে সমানে ঠেকিয়ে গেছে, রাতভর বৃষ্টিতে মরা আগলেছে - পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছে কালাহারি - সে শঙ্কর যেনো তার নামের সাথে মিল রেখেই স্বয়ং মহাকাল মহাদেবের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েই সব প্রতিকূলতা জয় করে এসেছে। এহেন এডভেঞ্চারাস চরিত্র বাংলা সাহিত্যে বিরল। বইয়ের মূল আকর্ষণ বুনিপ। এক আফ্রিকান লিজেন্ড। হীরাখনির পাহারাদার। যার হাতে ঘটেছে কর্টার আর আলভারেজের নৃশংস মৃত্যু। জীববিজ্ঞানী ফিটজগেরাল্ডের মতে এই বুনিপ এক দুর্লভ এনথ্রোপয়েড এপ হলেও, সে যে আদতে কী তা কখনোই খোলাসা করেননি বিভূতিভূষণ। এখানেই তাঁর ক্যারিশমা। কাশির মত গা ছমছমে আওয়াজ, তিন আঙুলের অদ্ভুত ছাপ আর ভারী পায়ে লঘুছন্দে হাঁটাচলার শব্দে বুনিপ নিজেকে চিনিয়েছে, চিনিয়েছে জিম কর্টার আর আলভারেজের ঘাড়ে গলায় তার নৃশংসতা দিয়ে, চিনিয়েছে আদিবাসীদের ভয় আর গত্তির শিহরণ জাগানো চিঠির লেখা দিয়ে - কিন্তু কখনো নিজেকে পূর্ণমাত্রায় ধরা দেয়নি। এই আলোছায়ার খেলা, অধরা রহস্যের কারণেই তাই বুনিপ 'চাঁদের পাহাড়' এর সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ। তার কাছে সবাই ম্লান - যেকারণে সিংহকেও পাত্তা না দেয়া আলভারেজ এই বুনিপের সাড়া পেলেই কেঁপে উঠত। বইটাকে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লিখে যেতে পারব তবুও এতটুকু ক্লান্ত হবোনা। বিভূতিভূষণের প্রকৃতির বর্ণনা বিশ্লেষণ করতে করতেই হয়তো পার হয়ে যাবে রাত। তাই এখানেই জোরপূর্বক ইতি। রেটিং ৫ এ ৫। এটা কোনো বই নয়, এটা একটা আবেগ, স্বপ্ন, রোমাঞ্চেভরা সত্যিকারের রূপকথা। শেষ করবো বইয়েরই দুটো লাইন দিয়ে। "...মানুষের আয়ু মানুষের জীবনের ভুল মাপকাঠি। দশ বছরের জীবন উপভোগ করেছে সে এই দেড় বছরে... " সত্যিই যেন তাই। জীবনের সার্থকতা রক্তের দুলুনিতে, ঘামের স্রোতে, বারুদের ধ্বনিতে। সময়ের বাঁধনে বাঁধবার নয় জীবন, একদমই নয়।























