Buy বিষাদ পেরিয়ে Online in Bangladesh
লেখক: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- Author: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9789350403310
- Number Of Pages: 175
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2015
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"বিষাদ পেরিয়ে" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: অনুব্রত সত্তর পার করেছেন এক বছর হল। স্ত্রী করবী আর-কয়েক বছর পরেই সত্তর ছোঁবেন। দুই ছেলে রাজা ও ছােটু যথাক্রমে সিডনি ও বেঙ্গালুরুতে নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত। সল্টলেক নিবাসী অনুব্রতকরবীর নিঃসঙ্গ জীবনে উপস্থিত হয় দু’টি মেয়ে। পেয়িংগেস্ট হিসেবে তাদের বাড়ি আসে রূপসা ও সম্পূর্ণা। বহরমপুরের শিক্ষক নেতা পরিমল সেনের মেয়ে রূপসা রিসার্চ করছে সিপাই বিদ্রোহ ও তৎকালীন সংবাদপত্র বিষয়ে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন-বিরােধী একটি গ্রুপের সঙ্গে সে জড়িত। গুসকরার সম্পূর্ণা কেমিস্ট্রি নিয়ে এম এসসি-তে ভর্তি হয়েছে। মামাতাে দাদার ব্ল্যাকমেইলের শিকার সে। বয়স্ক দম্পতির বর্তমান শূন্যতাকে কতটা ভরিয়ে দেয় এই দুটি জীবন? নতুন প্রজন্মের স্পর্শে কিছু কি বদলায় অনুব্রত করবীও? সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘বিষাদ পেরিয়ে’ উপন্যাসে মানুষের বিপন্নতার পাশে এসে দাড়ায় মানুষেরই সাহস, শুভবােধ এবং অতলান্ত মায়া।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

এক দম্পতির নিষঙ্গ জীবনটা কিভাবে আচমকাই সুন্দর হয়ে উঠলো দুটি মেয়ের আগমনে। সত্যি বেশ সুন্দর গল্পটা।
বাড়িতে পেয়িং গেস্ট রাখার ব্যাপারে মোটেও সায় ছিলনা অনুব্রত মৈত্রের, কিন্ত স্ত্রীর জেদের কাছে তার আপত্তি টিকলো না। অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার অনুব্রত মৈত্রের মোটা অঙ্কের পেনশনের টাকা তাদের দুই বুড়োবুড়ির জন্য যথেষ্ঠ, তাই পেয়িং গেস্ট রাখাটা তার কাছে অর্থহীন। অনুব্রত-করবীর দুই ছেলের কেউই এখানে থাকেনা। বড় ছেলে রাজর্ষি সিডনীতে সেটেলড, আর ছোটজন ব্যাঙ্গালুরে। সল্টলেকের বাড়িটাতে মাঝেমধ্যে তাদের আগমন ঘটে অতিথির মত। তাই হয়তো এক অভিমানী মা তাঁর সন্তানদের অনুপস্থিতিকে ভুলতে চান পেয়িং গেস্টের মাধ্যমে। অনেক যাচাই বাছাইয়ের পর রূপসা আর সম্পূর্ণাকে পেয়িং গেস্ট হিসেবে নির্বাচন করলেন করবী মৈত্র। এক সকালে তারা তাদের পুরোনো আবাস ছেড়ে উঠে এল অনুব্রত-করবীর সল্টলেকের বাড়িতে। রূপসা বহরমপুরের মেয়ে, রিসার্চ করছে ‘সিপাহী বিদ্রোহ এবং ততকালীন সংবাদপত্র’ এর উপর। পাশাপাশি নবদিশা স্টাডি সারকেলের সক্রিয় কর্মী। এই সংঘঠনের কাজ হল রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের প্রতিবাদ করা, যা মোটেও সহজসাধ্য নয়। কিন্তু রথীন নামের এক বন্ধুর আত্মহত্যাই রূপসাকে টেনে এনেছে এই বিপদসঙ্কুল পথে। সম্পূর্ণার বাড়ি বর্ধমান জেলায়। প্রচন্ড মেধাবী এই মেয়ে কেমিস্ট্রিতে এম. এস. সি. করছে, তার বর্তমান জগতটা পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে অতীতের কিছু দুর্গন্ধময় বাতাস এসে ঘোলাটে করে দিচ্ছে তার বর্তমানের আবহাওয়া। শান্ত স্বভাবের এই মেয়েটি কি আবার ফিরে যেতে পারবে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়? পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ এক বৃদ্ধ দম্পতি আর তাদের জীবনে আসা দুই পেয়িং গেস্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসটি। এখানে ফুটে উঠেছে সন্তানের জন্য নিঃসঙ্গ পিতামাতার মনের গভীরের হাহাকার, যা তারা সবার থেকে লুকিয়ে রাখতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যান নিজের কাছেই। বৃদ্ধ পিতামাতার অনুভূতিসমৃদ্ধ এ উপন্যাসটি আমার কাছে ভাল লেগেছে।























