

Buy বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন Online in Bangladesh
লেখক: মুহম্মদ আবদুল হাই
- Author: মুহম্মদ আবদুল হাই
- Publisher: স্টুডেন্ট ওয়েজ
- Isbn: 9789844066584
- Number Of Pages: 127
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd revised edition, 2015
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন" বইটির ভূমিকাঃ বইটি গত শতকের মাঝামাঝিতে রচিত। মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত এ বইটি অর্ধশতাব্দী পূর্বে ভ্রমণ কাহিনী হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ১৯৫০ সালের দিকে বহির্বিশ্বের ছবি বা কাহিনী বাংলাভাষায় খুব কমই বই হিসেবে মানুষের হাতে, এসেছে। মিলেনিয়াম যুগের সাথে সে যুগের আকাশ পাতাল পার্থক্য। আজ অর্থ থাকলেই পুরো বিশ্ব ঘুরে দেখা যায়। ঘরে বসেও বিশ্বকে জানা যাচ্ছে। সে সময় এত সহজভাবে তা সম্ভব ছিল না। বিলেত, আমেরিকা, জাপান ইত্যাদি বহির্বিশ্বে যেতে হলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে মানুষকে। উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য অনেক চেষ্টা করে বিদেশে যেতে হতো। আমার পিতা মুহম্মদ আবদুল হাই উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন এবং তাঁর অধ্যবসায় ও মেধার জোরে ডিষ্টিংশনসহ উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করে তৎকালীন বাংলাভাষায় ধ্বনিবিজ্ঞানকে রাজ-আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এ ভাবে জ্ঞান মার্গের এক নতুন দিগন্ত আবিষ্কারের দ্বার স্বচেষ্টায় উন্মোচন করেছিলেন তিনি। ধ্বনিবিদ মুহম্মদ আবদুল হাই তাঁর দীর্ঘ প্রবাস জীবনকে যেমন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে অনুধাবন করেছিলেন, তেমনি তৎকালীন বৃটিশ সভ্যতাকেও উপলব্ধি করেছিলেন নিগূঢ় তাৎপর্যে। লন্ডনের প্রকৃতি, মাটির রূপরসগন্ধ, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও দৈনন্দিন জীবনের মাঝে লুকিয়ে থাকা বহমান সভ্যতা, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা বিষয়কে তিনি লেখনীর মাধ্যমে ছবির মত ফুটিয়ে তুলেছেন এই গ্রন্থে। আগেই বলেছি বইটি অর্ধশতাব্দী পূর্বে রচিত। কতখানি স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি ও গতিশীল মনের অধিকার জন্মালে এবং মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে সংবেদনশীল হলে এমন লেখা সম্ভব হয়, গ্রন্থটি তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইংল্যান্ডে লেখকের অবস্থানকালে সেখানকার সামাজিক রীতিনীতি ও জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পার্থিব দৃষ্টিভঙ্গিটি তিনি লক্ষ্য করেছেন একজন সমাজ বিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে। স্বদেশানুরাগ ও স্বদেশের হিত চিন্তা তাঁর মধ্যে ছিল বলেই তৎকালীন বাংলাদেশের সাথে (সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তান) তুলনা করে উন্নত বিশ্ব থেকে পিছিয়ে থাকা আমাদের দেশ ও জাতির দুর্বলতাকে তুলে ধরেছেন লেখক। মনে হয় উন্নত সভ্যতার আলো আমাদের দেশে তথা সমাজে এসে প্রবেশ করুক তাই তিনি চেয়েছিলেন। বইটিতে একত্রিশটি পরিচ্ছেদ আছে। তৎকালীন সময়ের লন্ডনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ভাষায় লিখে গেছেন লেখক। বইটি দীর্ঘদিন পর পুনঃ মুদ্রণের উদ্দেশ্য হল লেখকের এমন একটি চমৎকার প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা ভ্রমণকাহিনী বর্তমান প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়া ও সেই সাথে অর্ধশতাব্দী পূর্বের ইংরেজ সমাজের চিত্র, এবং ইতিহাসের সাথে এখনকার পাঠকদের পরিচয় ব্যাপক ও গভীর করতে সাহায্য করা। আজকের নতুন প্রজন্ম এ গ্রন্থখানি পাঠ করে লন্ডন তথা বিলেত ও বিলেতবাসী ইংরেজদের তৎকালীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট সুন্দর ও আনন্দময় ধারণা গ্রহণ করে নিজেদের চিত্ত ও চিন্তার সমৃদ্ধি ঘটাতে সক্ষম হবে এ প্রত্যাশা রাখি। হাসিন জাহান নীপবন শিশু বিদ্যালয় দক্ষিণ ক্যাম্পাস, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ নভেম্বর ২০০১
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বিলেত বা ইংল্যান্ড ভ্রমণ নিয়ে আমাদের সাহিত্যে অনেক বই আছে, কিন্তু মুহম্মদ আব্দুল হাই-এর এই বইটা একেবারেই আলাদা। ১৯৫০-এর দশকের বিলেতকে তিনি যেভাবে একজন বাঙালির চোখে তুলে ধরেছেন, তা মুগ্ধ হওয়ার মতো। শুধুমাত্র ভ্রমণকাহিনী নয়, বরং এতে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোও চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। লেখকের বর্ণনাভঙ্গি এতই প্রাণবন্ত যে পড়তে পড়তে মনে হয় যেন তার সাথেই লন্ডনের রাস্তায় হাঁটছি। যারা ধ্রুপদী ভ্রমণকাহিনী বা পুরনো দিনের ইউরোপের গল্প পছন্দ করেন, তাদের সংগ্রহে এই বইটি থাকা জরুরি। ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব ভালো লেগেছে, আপনারাও পড়ে দেখতে পারেন।

বইখানা ন্যারেটিভ কম, বরং ডেসক্রিপটিভ স্টাইলেই বেশি লেখা। সুনীলের ছবির দেশে কবিতার দেশে'তে প্যারিসকে আমরা পেয়েছিলাম গল্পের মতো। আবদুল হাই বিলেত বাসের গল্পের চেয়ে বিলেতের বর্ণনা দিয়েছেন বেশি। ইংল্যান্ডের আবহাওয়া, অধিবাসীদের আচার আচরণ এটিকেটস, শিক্ষাব্যবস্থা, উৎসব, খাবারদাবার, পার্ক, চিড়িয়াখানা-- ইত্যাদি সকল কিছুর একটা সারসংক্ষেপিত চিত্র পাওয়া যায় এই বইয়ে। আজকের ইন্টারনেটের যুগে সবকিছুই অনেক সহজে জানতে পারি আমরা। কিন্তু সেই ৫০/৬০ এর দশকে বিলেতকে জানার অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস ছিলো এই বই। যেখানে লেখক একদিকে ইংল্যান্ডকে বর্ণনা করেছেন, অন্যদিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাথে ইংল্যান্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তুলনামূলক পার্থক্য তুলে ধরেছেন। সময়ের পরিক্রমায় কিছু তুলনা এখন অসারও মনে হতে পারে বৈকি! পুরো বইয়ে আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে ইংল্যান্ডের কবি সাহিত্যিকদের বাসস্থানের বর্ণনাটুকু। শেক্সপীয়ার, বার্ণার্ড শ, কীটস, বাইরনদের বাড়িগুলোকে এমনভাবে মিউজিয়াম করে রাখা হয়েছে এবং বইয়ে তার বর্ণনা এ্যাতো গুছিয়ে দেয়া হয়েছে যে, মনে হচ্ছিলো আমি বুঝি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি সব। জীবনে কখনো সুযোগ হলে আমি এই বাড়ি কাম মিউজিয়ামগুলোতে একটাবার উঁকি দিয়ে আসতে চাই! যুগের বিচারে মাস্ট রিড হয়তো নয়, তবে বিলেত সম্পর্কে একটা সারসংক্ষেপ পাবার জন্য বইটা মন্দ হবে না।



প্রখ্যাত ধ্বনিবিজ্ঞানী মুহাম্মদ আবদুল হাই সাহেবের 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' অসাধারণ একটা ভ্রমনকাহিনী।
অসাধারণ লেখনী। আমার পড়া সেরা বইগুলোর মধ্যে একটি৷ লেখকের লেখনীশৈলীর তারিফ করতেই হয়। বইটি প্রায় ৭৫ বছর আগে লেখা হলেও বইয়ের ভাষা এখনো জীবন্ত, প্রাঞ্জল। ইংল্যান্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক কিছুই বাদ দেননি বরং সমাজ, ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে ব্যক্তিপর্যায়ের আলোচনাও স্থান পেয়েছে। ইংল্যান্ড নিয়ে লেখকের বর্ণনা অত্যুক্তি কী না তা আলোচনার বাইরে রাখলে বইটি থেকে শিক্ষা নেয়ার মত অনেককিছুই আছে।
এই বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে যারা পঞ্চাশ এর দশকের ব্রিটেন সম্পর্কে জানতে চান। তাছাড়া ব্রিটিশ জাতি সম্পর্কে ও অনেক কিছু জানতে পারবেন। বইটি নিছক তথ্য কোষ নয়। এতে সাহিত্য গুনও বিদ্যমান। সুখপাঠ্য।























