

Buy অর্ধেক আকাশ Online in Bangladesh
লেখক: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- Author: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9789350400708
- Number Of Pages: 168
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2012
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
পারমিতা কলেজে পড়ায়। রাজর্ষি ওরফে রাজা উচ্চপদের চাকরি নিয়ে দিবারাত্র ব্যস্ত। যথা সম্ভব মানিয়ে-গুছিয়ে কলেজ আর সংসার দুটোই চালাই পারমিতা। একই সঙ্গে অশুস্থ বাবার চিকিৎসার দেখভাল ও করতে হয় তাকে। বড় দায়িত্ব পেয়ে রাজা বেঙ্গালুরু চলে গেলে পারমিতার জীবনে এক অদ্ভুত সংকট দেখা দেয়। দু’-একবার অল্প সময়ের জন্য রাজা এসেছে কলকাতায়, পারমিতা ও গিয়েছে বেঙ্গালুরু, কিন্তু তাতে চাপা অশান্তি দূর হয়নি। সকলেই যেন চায়, পারমিতা অধ্যাপনার চাকরি ছেড়ে চলে যাক রাজার বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে। কী করবে পারমিতা? নিজের জীবনে তার কোন অধিকার নেই? স্বামীর অনুগমন করাই কি আজও স্ত্রী-র একমাত্র কর্তব্য? সুচিত্রা ভট্রাচার্যের ‘অর্ধেক আকাশ’ উপন্যাসে আছে এক অভিমানী নারীর ভালবাসার শাস্তি নিয়ে বেঁচে থাকার মর্মস্পর্শী কাহিনী।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
so so
গল্পটা পারমিতার। এক কলেজ দিদিমণি সে। রসায়ন তার বিষয়। এটাই তার একমাত্র পরিচয় হতে পারত, যদি সে কোন পুরুষ হতো। কিন্তু না, যেহেতু সে নারী, তাই তার ওপর আরও অসংখ্য পরিচয় বহনের দায়ভার। কখনো সে কারো স্ত্রী, কখনো কারো মা, কখনো কারো মেয়ে, কখনো কারো পুত্রবধূ আবার কখনো কারো বউদি। প্রতিটি পরিচয়েই তাকে সমান ক্রিয়াশীল হতে হবে, সমান প্রতিক্রিয়াশীল হতে হবে। নাহলে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ব্যক্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ডুবে যেতে চাইবে তার নারীত্বের নাও। তাই সবদিকের সকল স্রোত সামলে তাকে একাই নাও বাইতে হবে। তীরে পৌঁছানোর অসম্ভব লড়াই লড়ে যেতে হবে। কিন্তু তবু দিনশেষে তার একার বলে কিছু থাকবে না। সবক্ষেত্রেই তার পরিচয়ের সাথে জড়িত থাকবে অন্য কারো 'সম্বন্ধ পদ'। তাই তার স্বামীর যখন কলকাতার বাইরে পোস্টিং হবে, তার ওপরও চাপ আসবে নিজের ক্যারিয়ার জলাঞ্জলি দিয়ে স্বামীর সাথে বিদেশ বিভূইয়ে পাড়ি জমানোর। কিন্তু সে তা চায় না। তবু পারিপার্শ্বিক বিষম চাপ সামলাতে গিয়ে তার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তথাকথিত নারীত্বের কাছে কি মাথানত করবে পারমিতার ব্যক্তিত্ব ? শেষ পর্যন্ত স্বামীর অনুগমনই কি হবে পারমিতাদের শেষ পরিণতি? মাথার ওপরের আকাশটা কি কখনোই পুরোপুরি নিজের হবে না? ইচ্ছা হোক বা না হোক, আকাশটার অর্ধেক দখলদারিত্ব অন্য কেউ নিয়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পড়তে হবে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের 'অর্ধেক আকাশ'। সূচিত্রা ভট্টাচার্যের কলমে এ এক প্রচন্ড রকমের নারীবাদী লেখা। কিংবা কে জানে, তিনি যা লিখেছেন সেটাই হয়ত ন্যায্য, সেটাই হয়ত হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমাদের সমাজ সংস্কার আমাদের মূল্যবোধে যে কঠিন প্রাচীনবোধের দেয়াল গড়ে দিয়েছে, তা টপকে লেখিকার প্রকৃত বার্তা আমাদের অনেকেরই মর্মমূলে পৌঁছায় না। তাই 'অর্ধেক আকাশ'কে সুশীল সমাজ সত্যিকারের জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাসের তকমা দিতে চায় না, হয়তবা ভয়ই পায়। তাই নারীর জীবনের যে অর্ধেকটা নিজের, সেটুকুও তথাকথিত ফেমিনিজমের কালো অন্ধকারে ঢেকে যায়। যেই নারীর মনের প্রতিনিধিত্ব করতে সুচিত্রা ভট্টাচার্যের এই লেখা, সেই নারীদেরই একটা অংশ প্রত্যাখ্যান করে বসে এই উপন্যাসকে। তারপরও নিরপেক্ষ, সংস্কারহীন মনের জন্য এক অতি উপাদেয় খোরাক 'অর্ধেক আকাশ'। কে জানে, এই উপন্যাস পড়ার পর হয়ত পাঠকের মনে কর্মজীবী নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও পারে। কিন্তু সেটা না হোক, অন্তত পাঠককে যদি বিষয়টা নিয়ে ভাবাতে পারে, পাঠককে নারীবাদী না করে কিছুটা হলেও মানবতাবাদী করে তুলতে পারে, তবেই সার্থক হবে এ উপন্যাস রচনা। সবমিলিয়ে 'অর্ধেক আকাশ' তথাকথিত সাহিত্যিক মাস্টারপিস না হলেও এ হল সেই শ্রেণির উপন্যাস যা পাঠককে ভাবায়, পাঠকের মনোজগতকে তোলপাড় করে দেয়। তাই নির্দ্বিধায় সচেতন শিক্ষিত পাঠকসমাজ এই উপন্যাসের পাতা ওল্টাতে পারেন। কিন্তু কথা একটাই, এই উপন্যাসের সর্বাঙ্গীন রস আস্বাদন করতে হলে শুধু দুই চোখ থাকলেই হবে না, মনের চোখটাকেও খুলে দেয়া চাই।























