অনন্ত দ্রাঘিমা (বঙ্কিম সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত)
বই কালেকশন

Buy অনন্ত দ্রাঘিমা (বঙ্কিম সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত) Online in Bangladesh

লেখক: অনিল ঘড়াই

4.67
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: অনিল ঘড়াই
  • Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
  • Isbn: 9788129509130
  • Number Of Pages: 456
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Edition, 2009
৳ 941৳ 9905% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

বই এর প্রথম ফ্লাপ হলদিপোঁতা ধাওড়া একটি অখ্যাত জনপদের নাম যার বুক ছুঁয়ে চলে গিয়েছে জগৎখালি বাঁধ আর বুড়ি গাং। নির্দিষ্ট কোনও পেশা নেই ধাওড়া পাড়ার মানুষদের। এই জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ নর-নারীই শ্রমজীবী। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তারা শোষণ আর বৈষম্যের বাঘনখে আক্রান্ত। তাদের জীবনে অভাব মাঠ-কেঁচোর মতো সহজলভ্য, শিক্ষা সেখানে তেলহীন লম্ফর পোড়া সলতে। এক অসম লড়াইয়ের উত্তাপ এই সুদীর্ঘ উপন্যাসের গতিকে করেছে বেগবান মানুষ প্রকৃতি নদী ও নারী জীবনের চলমান ছবি হয়ে ঘুরে ফিরে এসেছে নানা অভিঘাতে। দু' মুঠো ভাত কিংবা রুটির জন্য মানুষ স্বভূমি ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছে। ‘অনন্ত দ্রাঘিমা'য় অভাব দুষ্টক্ষত এবং অভিশাপ। আর সেই অভাব এবং বঞ্চনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাতাস কেঁপে উঠছে নানা সময়মুখী আন্দোলনে। শহর অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে সেই আগুন উসকে দিতে। গ্রামের ধুলোওড়া বাতাসের ভেতর থেকে তারা অপসারিত করতে চেয়েছে অসাম্যের দানবকে। রঘুনাথ এই পোড় খাওয়া সমাজের একজন। গুয়ারাম, লুলারাম, চুনারাম কিংবা ভিকনাথ তার ব্যতিক্রম নয়। মানবিক মূল্যবোধ আর বিশ্বাসের পলিমাটি দিয়ে গড়া এই ধ্রুপদী উপন্যাস সাহিত্যিক অনিল ঘড়াইয়ের নিরপেক্ষ কলমে হয়ে উঠেছে চিরকালীন আখ্যান।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.67
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
0%
4
100%
3
0%
2
0%
1
0%
Mahmudur Rahman
Mahmudur Rahman ভেরিফাইড
11 Sep 2019

সময় বদলে যায়। কখনও সে সময় বদলায় দ্রুত, কখনও ধীরে ধীরে। সময়ের সাথে বদলে যায় মানুষ। বদলে যায় একটা অঞ্চল। সে রকম এক বদলের গল্প নিয়েই এ উপন্যাস। হলদিপোঁতা ধাওড়ার ছেলে রঘুনাথ রাজোয়ার। বাপ গুয়ারাম গেছে ক্ষেতের কাজে অন্য গ্রামে। মা দুর্গামনি আর দাদা চুনারামকে নিয়ে এখন তার সংসার। বাপহীন সংসারে ভাত আসে তো সালুন আসে না। তাই দুপুরে পাতে একটু স্বাদ আনতে পুকুর থেকে শাপলা তোলে দাদা আর নাতি। সেসব নিয়ে ফেরার সময় পুকুরের মালিক নীলাক্ষ তাদের অপমান করে। ষোল বছরের রঘুনাথ জানে তারা গরীব। কিন্তু তারচেয়ে বড় কথা তারা ছোট জাত। গরীব আর জাত মিলে তারা পড়ে আছে এক কোণায়। নীলাক্ষর মতো বাবুরা তাদের দাবিয়ে রাখে, অপমান করে। অথচ কেন যেন মনে হয় হাওয়া ঘুরে যাচ্ছে। কেননা নীলাক্ষর মায়ের পেটের ভাই কপোতাক্ষ গ্রামে গ্রামে ঘুরে নিপীড়িত মানুষের কথা বলে। প্রতিবাদ করে ভূস্বামীদের অত্যাচারের। এমনকি নীলাক্ষর নিজের ছেলে রুদ্রাক্ষ বাবাকে মনে করে তার শত্রু। সময়টা বদলে যাচ্ছিলো। সেই সঙ্গে সামনে আসছিল আরেকটা প্রজন্ম। সে প্রজন্মে আছে কপোতাক্ষর ছেলে সুর্যাক্ষ, নীলাক্ষর ছেলে রুদ্রাক্ষ, মন্দিরের পুরোহিত দেবোত্তরের মেয়ে দ্বীপি, হাসপাতালের জমাদার অবনীর ছেলে শুভ। বিদ্যুৎ এসে পৌঁছয়নি এমন একটা এলাকায় মন্দিরের পুরোহিত দেবোত্তর তার সামান্য রোজগারের পরও মেয়েকে পড়ায়। সাদা মনের অবনী জানে সময় সময় মানুষ তাঁকে অবহেলা করে কিন্তু সে চায় না শুভর এমন অবস্থা হোক। একটা গ্রাম্য অঞ্চল আর সেখানকার মানুষদের নিয়ে লেখা অনিল ঘড়াইয়ের উপন্যাস ‘অনন্ত দ্রাঘিমা’। এ উপন্যাস কেবল সময় বদলের কথা বলা উপন্যাস না। অনেকদিন ধরে চলে আসা মানুষের স্বাভাবিক জীবনের গল্প যেখানে লুলারাম আর গুয়ারাম আপন চাচাতো ভাই হয়েও লুলারাম চোর কিন্তু গুয়ারাম তার নীতিতে অটল। গুয়ারামের বাবা চুনারাম আর বউ দুর্গামণির সাহসে ভর করে গুয়ারাম নীতির পথে থাকতে পেরেছিল। গ্রাম্য মানুষের যাপিত জীবন, বিশ্বাস, প্রেম আর কামনার মাঝে আমাদের নিয়ে যান অনিল ঘড়াই। আমরা দেখতে পাই ভিকনাথের স্ত্রী ঝারি সুন্দরী কিন্তু তার সন্তান হয় না। ভিকনাথকে লুকিয়ে ঝারি তাই লুলারামের কাছে শরীর দেয় ঘাসের বিছানায়। লুলা তাঁকে ভালোই বাসে। সে ভালোবাসায় বঞ্চিতা লুলার স্ত্রী ঢিলি পাগল হয়ে যায়। জীবিকার টানে ভিন গ্রামে এসে খেজুরের গাছ কাটে যে গাছি, ঘরে ফিরে সে স্ত্রীর পাশে আবিষ্কার করে অন্য পুরুষকে। তবু সে নারী মোহিনী মায়ায় তার পুরুষকে টেনে নেয় উচ্ছিষ্ট শরীরে। বিশ্বাস করায় পরপুরুষ ছিল মুহূর্তের ভুল। কিন্তু সে নারী একদিন কোলের সন্তান ফেলে উড়ে যায়। একটা গ্রামে অনেকগুলো মানুষের বাস। সে মানুষগুলোর বহু গল্প ডালপালা মেলে। ডালপালা মেলা সে গাছের ছবি এঁকেছেন অনিল ঘড়াই। সত্তরের দশকে রাঢ়ের পাশের হলদিপোঁতার মানুষেরাও এক কম্পনে আন্দোলিত হয়েছিলেন। সম অধিকার, ছোট বড়র ভেদ মুছে দেওয়ার চিন্তা তাদের মাঝেও এসেছিল। কপোতাক্ষর সঙ্গে যোগ দিয়েছিল বিদুর রাজোয়ার, ধর্ষিতা লাবনীকে যখন নিজের পরিবারও ত্যাগ করেছিল তখন মেয়েটিকে নিজের ঘরে আশ্রয় দিয়েছিল ‘ছোট জাতের’ বিদুর। কিন্তু আদতে বদল কি হয়? নীলাক্ষর লোকের মার আর লাথি খেয়ে অসুখে ভোগে গুয়ারাম। রঘু ততদিনে ক্ষোভে দুঃখে চোরের খাতায় নাম লিখিয়েছে। শুভ বুঝতে শিখেছে কিছু মানুষ বাইরে দরদ দেখালেও ভেতর থেকে বহুদিনের সঙ্কীর্ণতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি এখনও। ওদিকে সরকারের উদ্যমে রুদ্রাক্ষদের আন্দোলন ভেস্তে গেছে। অসুস্থ কপোতাক্ষ ঘরবন্দী। যেন যা ছিল, তা-ই থাকবে। কিন্তু তবু কিছু আশার বানী থাকে। তাই চুরি করতে গিয়ে রঘু যখন ধরা পড়ে, উন্মত্ত জনতার মাঝে রঘুর শরীর আঁকড়ে তাকে বাঁচাতে ছুটে যায় সুর্যাক্ষ। বঙ্কিম পুরস্কারে ভূষিত অনিল ঘড়াইয়ের এ উপন্যাস হতে পারত তারাশঙ্করের ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’ কিংবা মানিকের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’-র মতো ক্লাসিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠে না। কেননা এ বইয়ের চরিত্ররা গ্রামীণ, প্রান্তিক হলেও তারা অনেকটাই আধুনিক। লেখকের লেখনীর কারনেও তাদের মাঝে কিছু আধুনিকতা ঢুকে যায়। ভাষার প্রয়োগ আর সংলাপে আরও কিছু গভীরতা থাকলে সাহিত্যিক দৃষ্টিকে এ উপন্যাসকে ক্লাসিকের মর্যাদা দেওয়া যেত নিঃসন্দেহে। তবু লেখক যে গল্প বলতে চেয়েছেন তাও ফেলনা নয়। বাস্তবের মাটির কাছে থেকে সে বাস্তবকে তুলে এনে দেখিয়েছেন তিনি। বলতে চেয়েছেন মানুষের কথা। তাদের চাওয়া পাওয়ার পাশাপাশি অনাগত সময়ের জন্য, সে সময়ের মানুষদের জন্য রেখে গেছেন বেশ কিছু বার্তা। সে বার্তা কেবল অনিল ঘড়াই নন, ধারণ করে সমাজের অনেক সুর্যাক্ষ, রুদ্রাক্ষ কিংবা গুয়ারাম চুনারামের মতো মানুষ। তাদের কল্যাণেই অশুভকে জয় করে মানুষের শুভবোধ বেঁচে থাকে আরও কিছুদিন।

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)