

Buy ট্রেন টু পাকিস্তান Online in Bangladesh
লেখক: খুশবন্ত সিং
- Author: খুশবন্ত সিং
- Publisher: নালন্দা
- Isbn: 9789849232926
- Number Of Pages: 181
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2017
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"ট্রেন টু পাকিস্তান" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ খুশবন্ত সিং-এর ‘ট্রেন টু পাকিস্তান' ভারত বিভাগের ওপর রচিত কালজয়ী একটি উপন্যাস। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একটি দেশ। বিভাজনের ফলে উদ্ভূতকরুণ ও ভয়াবহ ঘটনাবলীকে একটি উপন্যাসে বাস্তব রূপ দেয়ার দক্ষতা দেখাতে পারেন খুব কম লেখক। ট্রেন টু পাকিস্তান পাঠককে নিয়ে যায় কাহিনির উৎসস্থল পাঞ্জাবের মানাে মাজরা গ্রামে এবং প্রতিটি চরিত্রকে পরিচিত মনে হয়। যেন ঘটনাগুলাে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের নয়, সদ্য ঘটে গেছে। একটি উপন্যাসই প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, একটি দেশ হিন্দু ভারত ও মুসলিম পাকিস্তানে বিভক্ত হওয়ার পরিণতি কত বিপর্যয়কর হতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে কিভাবে পুরাে পরিবারকে শেকড় উপড়ে ফেলে অজানা গন্তব্যে চলে যেতে হচ্ছে সহিংসতা এড়িয়ে তাদের জীবনের নিরাপত্তার আশায়। কিন্তু সেই আশা পূরণ হওয়ার আগেই তারা উন্মত্ত সহিংসতার শিকার হচ্ছে। যেন এটাই দেশ বিভাগের অনিবার্যতা। 'ট্রেন টু পাকিস্তান’ এ মুসলিম কিশােরী নূরানের শিখ প্রেমিক জুগগত সিং নিজের জীবন দিয়ে তার প্রেমিকাসহ মুসলিম শরণার্থীদের বহনকারী একটি ট্রেনকে নিরাপদে পাকিস্তানের উদ্দেশে পাঠানাে নিশ্চিত করতে পারলেও সদ্য সৃষ্ট দুটি দেশের ভিন্ন ধর্মের মানুষের স্থানান্তর প্রক্রিয়া যুগযুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানকারী মানুষগুলােকে সহসা উন্মাদ ও রক্ত পিপাসু করে তােলে। প্রায় এক কোটি মানুষকে তাদের জন্মভূমি ছেড়ে অচেনা নতুন স্থানে চলে যাওয়ার এ ঘটনাকে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই গণ স্থানান্তরের পর্যায়ে সহিংসতায় নিহত হয়েছে আনুমানিক দশ লাখ মানুষ। ধর্মীয় বিশ্বাসের এই সংকটক্ষণেও খুশবন্ত সিং প্রেমের অমরত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার সৃষ্টিতে, যেখানে হত্যা, ধ্বংস, উন্মাদনা সত্ত্বেও মানুষ বিপরীত পথ অবলম্বন করে প্রেমের মূল্য দিতে পারে আত্মােৎসর্গ করে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

#রিভিউ ▪️বই: ট্রেন টু পাকিস্তান ▫️লেখক: খুশবন্ত সিংহ/ অনুবাদক: আনোয়ার হোসেইন মন্জু ▪️প্রকাশনা: ঐতিহ্য ▫️পৃষ্টা ১৯২ ◾পাঠ-প্রতিক্রিয়া: . ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ দেশভাগ করে দিয়ে চলে যাওয়ার পর নতুন দুই দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের মানুষদের দাঙ্গার মর্মস্পর্শী কাহিনি, নৃশংস হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, লুটপাট ইত্যাদি বিষয় লেখক খুশবন্ত সিংহ- এর একটি ইতিহাস্ভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটিতে শিখ ও মুসলমান জাতির মধ্যে যুগ যুগ ধরে এক সাথে বসবাস করে আসার পরও সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতে একে অন্যের উপর ক্রদ্ধ হওয়া এবং ভালোবাসার চিত্রও তুলে এনেছেন। উপন্যাসটির দাঙ্গার কিছু বর্ণনা পড়লে তখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা ধারণা অনুদাবন করা যায়। শিখ ও পাকিস্তান জাতীর মধ্যে দাঙ্গার বিবরণ ছিল এমন, “ একটি লোক তার বেরিয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি ধরে রেখেছিল; তার চোখে প্রশ্ন, ‘ এদিকে দেখুন, আমি কি পেয়েছি!’ মহিলা ও শিশুরা এক কোনায় গাদাগাদি করে পড়ে ছিল। আতঙ্কে তাদের চোখ বিস্ফারিত, মুখ তখনো খোলা, যেন তাদের আর্তচিৎকার তখনই শব্দহীন হয়ে গেছে। তাদের অনেকের শরীরে একটি আঁচর পর্যন্ত ছিল না। কিছু দেহ জড়াজড়ি করে ছিল বগির শেষদিকে দেওয়াল ঘেঁষে, আতঙ্কের দৃষ্টিতে খোলা জানালার দিকে তাকিয়ে আছে, যে জানালা পথে ছুটে এসেছে গুলি, বর্শা ও ধারালো কোনো অস্ত্র। পায়খানাগুলো ভর্তি ছিল তরুণদের মৃতদেহে, যারা গায়ের জোর খাটিয়ে তুলনামূলক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। ” সুন্দর সিংহ- এর ঘটনা ছিল এরকম, “এক সেনাবাহিনি ট্রেনযোগে এসেছিল তার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ। যে বগি নির্ধারিত ছিল ৪০ জন যাত্রীর বসা ও ১২ জন শোয়ার জন্য, তাতে ৫০০- এর বেশি নারী-পুরুষ উঠেছিল। বগির এক কোনায় ছোট্ট পায়খানা, সেখানে পানির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সাথে তখন ছিল শুধু সূর্যতাপ ও চারপাশে ধু-ধু বালিরাশি এবং পানিশূন্য। পাশে অপেক্ষামান বর্শাধারী লোকজন। এর মধ্যে এক স্টেশনে ট্রেন আটকে রাখা হলো চারদিন। কাউকে ট্রেন থেকে নামতে দেওযা হয়নি। সুন্দর সিংহ- এর বাচ্চারা চিৎকার করে কাঁদছিল। অন্যরাও তাই করছিল। সুন্দর সিংহ তার প্রস্রাব পান করতে দিলো। প্রসাবও ক্রমে ফুরিয়ে গেল। এক পর্যায়ে সে তার রিভলবার বের করে সকলকে গুলি করল।”😢 ▪️ ঐতিহ্য প্রকাশনার বইয়ের প্রোডাকশন সম্পর্কে কিছু না বললেও বইটিতে বানানের দিক দিয়ে কিছু ভুল চোখে পড়ল। অনুবাদ সুখপাঠ্য ছিল। শৈশবে ভারতীয় মুভি ‘গাদ্দার’ দেখে ’৪৭ এর দাঙ্গা নিয়ে জানার আগ্রহ জন্মেছিল তখন হত্যাকান্ড, ট্রেনে মানুষের গাদাগাদি হয়ে দেশ ছাড়া ,শত্রুদের আক্রমন থেকে বাঁচতে আপ্রান চেষ্টা করা । সব মিলিয়ে বইটিতেও ট্রেনের কাহিনি থাকায় আমার মুভির কথাটা হঠাৎ স্মরণে এলো। দাঙ্গা নিয়ে আরও বই সাজেষ্ট করে যেতে পারেন। ▫️ছয় ফেব্রুয়ারি দু হাজার পঁচিশ।



good
Good

ভাগ! শব্দটা খুবই কষ্টের। সেটা যদি হয় দেশভাগ, তাহলে সে কষ্টটা পরিনত হয় বাঁধভাঙা কষ্টে। সেক্ষেত্রে শুধু মাটিটাই ভাগ হয়না, ভাগ হয় হৃদয়। হাজার বছর ধরে তিলতিল করে গড়ে উঠা কৃষ্টি- সংস্কৃতি, প্রেম-ভালোবাসা কেমন করে যেন তর্জনীর ঠুনকো একটি টুকাতেই ভেঙে পরে তরতর করে। হাজার বছরের মেলবন্ধন হঠাৎ করেই যেন পরিনত হয় চিরশত্রুতায়। হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা হঠাৎ করেই আর্তচিৎকারে বলে উঠে, তুমি হিন্দু! তুমি মুসলিম! তুমি শিখ! তুমি জৈন! হায়! এইকি ছিল তবে ভারতবর্ষের কপালে! এইকি ছিল তবে দুইশত বছরের সংগ্রামের পরিনাম! ৪৭এর গ্রীষ্মকালে যখন দেশভাগের ঘোষণা এলো তখন এককোটি মানুষ-মুসলিম, হিন্দু ও শিখরা লিপ্ত হলো সাম্প্রদায়িক যুদ্ধে। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই নিহত হলো দশলাখ মানুষ। প্রায় এককোটি মানুষ তাদের জন্মস্থান ছেড়ে অচেনা নতুন জায়গায় গিয়ে জীবন শুরু করতে হয়েছিল, যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসন হিসেবে চিহ্নিত। খুশবন্ত সিং এর ট্রেন টু পাকিস্তান উপন্যাসটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস। যে উপন্যাসের উপজীব্য ৪৭এর দেশ ভাগ। পাঞ্জাব সীমান্তের শিখ প্রধান গ্রাম মানো মাজরাতেও ভর করে ভাগের কালো ছায়া। গ্রামে শিখ ও মুসলিমদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মেলবন্ধন হঠাৎ করেই নষ্ট হতে থাকে দেশভাগকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তান থেকে ট্রেন ভর্তি হিন্দু ও শিখদের লাশ আসতে শুরু করে মানো মাজরা রেল স্টেশন হয়ে। তা দেখে আতংকিত হয় মানো মাজরা সাধারণ মানুষ। পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটরা দামাচাপা দিয়ে সেই লাশগুলোকে পুড়িয়ে ফেলে, পরিখা তৈরি করে মাটি চাপা দেয়। বানের জলে ভেসে আসে হাজার মানুষের লাশ। একটা সময় মুসলিমদেরও বাধ্য করা হয় পাকিস্তান চলে যেতে তাদের জন্মভূমি মানো মাজরা থেকে। এতসব বিভৎস রকমের ঘটনার মধ্যেও লেখন শিখ তরুণ জুগগত সিং ও মুসলিম তরুণী নূরানের প্রেমকে জায়গা দিয়েছেন সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে। হ্যাপি রিডিং...

অনুবাদটা খুব আকর্ষণীয় মনে হয়নি। অনেক জায়গায় পড়তে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। কিছু অংশ অস্পষ্ট রয়ে গেছে।























