

Buy জীবন আমার বোন Online in Bangladesh
লেখক: মাহমুদুল হক
- Author: মাহমুদুল হক
- Publisher: সাহিত্য প্রকাশ
- Isbn: 9847012400197
- Number Of Pages: 158
- Language: বাংলা
- Edition: 6th Print, 2012
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"জীবন আমার বোন" বইয়ের ভূমিকার অংশ থেকে নেয়া:খুব বেশি নয় তার রচনার পরিমাণ, কিন্তু মাহমুদুল হক যখনই লেখেন, লেখেন স্মরণীয়ভাবে, বারবার পড়তে হয় তার প্রতিটি বই, অসামান্য ভাষাশিল্পী তিনি। কখনাে রাজহাসের গতির সুষমা ছড়ানাে তাঁর বাক্যবিন্যাসে, আবার কখনাে কথ্য বুলিতে। বেজে ওঠে চিলের তীক্ষ চিঙ্কার। জীবনের চোখে। তিনি তাকান প্রেমিকের মতাে, কিন্তু সেই দৃষ্টি মামুলি আবেগে বিহ্বল নয়; বুদ্ধিতে দীপ্র, গভীরতায় অতল। জীবনের উপরিস্তরেই তাঁর দৃষ্টি সীমাবদ্ধ নয়, তার দৃষ্টি যায় আরাে অনেক গভীরে-যেখানে আদিম লতাগুল্মে আচ্ছাদিত এক জটিল জগৎ, যা মানুষের অস্তিত্বকে নাড়া দেয়। আমূল, আলাে-অন্ধকারে সম্পূর্ণ নগ্ন করে দেয় ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
একদম পিঠাপিঠিভাবে মাহমুদুল হক দুটো বিখ্যাত উপন্যাস “জীবন আমার বোন” ও “কালো বরফ” শেষ করলাম। দুটোই খুবই ছোট সাইজের উপন্যাস। সাইজের দিক থেকে নয়, এর গুণমান বিবেচনায় উপন্যাস দুটি অত্যন্ত পাঠকপ্রিয়। দুটো উপন্যাসই ইতিহাসকে বন্দি করে; কিংবা বলতে পারি ইতিহাসকে সাক্ষি রেখে লেখা। ইতিহাসকে পুঁজি করে যে কোনো লেখা এতদিন পাঠক সমাদৃত হয়ে আসছে। বিখ্যাত যত উপন্যাস বাঙলা সাহিত্যে নিবেদিত তার অধিকাংশই ইতিহাসকেন্দ্রিক। মাহমুদুল হকের এই দুটো উপন্যাসের মধ্যে “কালো বরফ”ই সবচেয়ে বেশি পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছে। যদিও কালো বরফের চেয়ে “জীবন আমার বোন” উপন্যাসটির মাঝে ইতিহাসের বর্ণনা অতীবগুরুত্ব পেয়েছে। কালো বরফ রচিত হয়েছে দেশ ভাগের সময়কে ধারণ করে, দ্বিজাতি তত্বের বিভীষিকাময় অনুভূতিকে চারণ করে, চরিত্রগুলোকে দোদুল্যমানতায় পর্যবসিত করে। অন্যদিকে জীবন আমার বোন রচিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব প্রস্তুতি হতে গণহত্যার শুরুর সময়টা বিবর্ধিত হয়েছে এই উপন্যাসে। লেখক জীবন আমার বোন উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ করেন সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালে একটি সাময়িকীর ঈদ সংখ্যায়, পরবর্তীতে তা ১৯৭৬ সালে পুস্তাকারে প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে কালো বরফ প্রকাশ পেয়েছে ১৯৭৭ সালে। অর্থাৎ জীবন আমার বোন উপন্যাসটি লেখক সমসময়কে সদ্য পর্যবেক্ষণ করেই লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু কালো বরফ লিখেছিলেন দেশ ভাগের দীর্ঘ সময় বাদে। ততদিনে ঘটনাটি শুধু অতীত নয়, বাঙলার ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইনসিডেন্স বলা যায়, যা প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে যুক্ত করেছে। দুটো সময়ে রচিত বর্তমান ও অতীতের সময়ে রচিত হওয়ায় গ্রন্থগুলোর মাঝে সিরিয়াস পাঠক আবশ্যিকভাবে কিছু পার্থক্য দেখতে পাবেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার এই পার্থক্যভিত্তিক দৃষ্টিকোণ “কালো বরফের” চেয়ে “জীবন আমার বোন” উপন্যাসকেই সবচেয়ে সফল বলে বিবেচনা করে। অতীতে গিয়ে স্মৃতিকে বিশ্বাস করে লেখার কারণে পার্থক্যের যুক্তিটা আমার যথেষ্ট নড়বড়ে কারণ আমরা জানি হাসান আজিজুল হক “আগুন পাখি”তে তা স্বচ্ছ কাচের মতো পাঠককে দেখিয়ে দিয়েছেন, কতটা সফলভাবে ইতিহাস কেন্দ্রিক একটি উপন্যাস স্মৃতিতে আঁকা চিত্রে নির্ভর করে গঠন করা যায়! যাক এতো তুলনার পর উপন্যাসের গল্পভিত্তিক অনেককিছুই উহ্য রয়ে গেল। এর বিশদ বিবরণ একটি নিবন্ধ ডিজার্ভ করে, আমি এই ডিজার্ভিং কাজটি শীঘ্রই করব। তবে যা না বললেই নয়, তার মাঝে “জীবন আমার বোন” উপন্যাসে খোকা চরিত্রের উদাসীন জীবন আর একমাত্র বেঁচে থাকা বোনকে নিয়ে চক্রাকারে ঘুরতে থাকা দিন। আর “কালো বরফে” এক বিপ্লব প্রত্যাশী লেখক বিবেচিত চাকুরিজীবী আবদুল খালেক ও তাকে আবৃত করে রাখা সংসার, দেশ, রাজনীতি, পরিস্থিতি ও আপেক্ষিক বিপর্যয়ের মুক্তি। সকল অনুভূতির কেন্দ্রে পুঞ্জীভূত অতীত যে বর্তমানকে বিভ্রান্ত করে রাখে তার প্রতিবিম্ব কালো বরফ। মাহমুদুল হকের ব্যবহৃত সকল ভাষ্য, বাক্য-বর্ণ-ব্যকরণ যেভাবে উপন্যাসগুলো গড়েছে তার পৌনঃপুনিকতা গঠন-বর্ণন-পরিমাপে বেশ আঁটসাঁট হয়ে আসার মতো। তার উপস্থাপন ও গল্প গঠনের শিল্প যে প্রবল বেগে পাঠকের হৃদয় কেড়ে উজানে ভাসিয়ে নিয়ে যায়! শুরু থেকে সমাপ্তিতেও বিছিয়ে রাখে কৌতুহলের সূক্ষ্ম জাল। বহুমুখী ভাষার ব্যবহার ও নিজস্ব লেখনরীতি তাকে এত সকল বাঙালি সাহিত্যিকের মাঝে একটি অত্যুদীপ্ত তারকার ন্যায় ধ্রুব করে রেখেছে, মর্যাদায় স্থান দিয়েছে, সবচেয়ে বড় যে অর্জন একজন লেখক আহ্বান করে- অসংখ্য পাঠক পেয়েছে। -হাবিবুর রহমান মুন্না



দারুণ

#জীবন_আমার_বোন #লেখকঃ #মাহমুদুল_হক #প্রকাশনীঃ #জাতীয়_সাহিত্য_প্রকাশনী আমার পড়া শ্রেষ্ঠ একটি বই। এই বইটা নিয়ে আমার প্রথম কথা হচ্ছে বইটি কেন পড়বেন? সবকিছুর পেছনে কারন থাকে। এই যে বইটি কেন পড়বেন? তাঁর কারনও আমার কাছে আছে। বই এর প্রতিটি লাইন আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে। একদম উপমার ছড়াছড়ি বলতে পারেন। পড়তে পড়তে মাঝে মাঝেই আমার মনে হয়েছে যেনো আমি কবিতা পড়ছি। দারুন দারুন সব উপমা দিয়ে বইটির লিখাগুলি সাজানো হয়েছে। বলতে গেলে অতি সাধারন একটি ছেলে #খোকা। তাঁকে নিয়েই গল্প এগিয়ে যায়। গল্পটি যে প্রেক্ষাপটে তা আমারও পছন্দ ছিলো না বা এই টাইপ পছন্দ করতাম না। কিন্তু পড়ার পর আমার ধারনা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হলো। এই প্রেক্ষাপটে এত সহজ আর সাধারন ভাবে যে এরকম একটা লিখা লেখা যায় তা এই বই পড়ে জানতে পারলাম। যেই প্রেক্ষাপটে লিখা হয়েছে সেই সময় আর সেই সময়কার ছোট-বড় গল্প, প্রতিদিনের ছোট ছোট গল্প সুন্দর আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছেন লেখক। বাংলা কথা সাহিত্যে এই বই একটি অন্যতম সংযোজন। #মাহমুদুল_হকের অন্যরকম সৃষ্টি এই বই। শিল্পসফল উপন্যাস বললেও ভুল হবে না বৈকি। #শেষ_কিছু_কথাঃ বই এর কিছু কিছু অংশ আমার চিন্তা-ভাবনাই পরিবর্তন করে দিয়েছে। আমি সবসময় আমার নিজের প্রতিটা কাজ নিয়ে সংশয়ে থাকি। এই ঠিক হলো না ভুল। কিন্তু এই বই পড়ার পর নিজের অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় আমি থমকে গিয়েছি। এমন এমন বিষয় যার বর্ণনা অন্যরকম হতে পারতো কিন্তু লেখক তাঁর লিখার মাধ্যমে তাঁকে এমন রুপ দিয়েছেন যা যে কেউ পড়লে অবাক হতে বাধ্য। বেশি কিছু লিখলাম না কারন আর একটু লিখলেই গল্পটা অনেকেই এখনি ধরে ফেলে গদ বাধা নিয়মের মধ্যে ফেলে দিতেন। কিন্তু এটা কোনো গদ বাধা গতানুগতিক লেখা নয়। এখানে মাত্র আমি একটি পাতার কিছু অংশ তুলে ধরছি যা পড়ে আমার নিজের প্রতি নিজের আত্মবিশ্বাস আরো বেড়েছে। ‘’নিজের সম্পর্কে মনের ভেতর কোনো গ্লানি পুষে রাখতে নেই। নিজেকে, নিজের চিন্তা-ভাবনাকে, নিজের অভিরুচিকে কারা বোকার মতো ছোট করে দেখতে অভ্যস্ত তা জানো? যারা নিজের অগোচরে নিজের ধংস চায়’’ এরকম আরো অনেক লেখাই লেখক তাঁর এই বইতে লিখেছেন। তো আর দেরি না করে পড়ে ফেলুন বইটি। যাদের কাছে বইটি আছে কিন্তু পড়ছেন না আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত পড়ে ফেলুন বইটি।
খুব সাধারণ করে কিছু লেখা তার জন্য স্বভাববিরুদ্ধ।তিনি চাইলেই পারেন প্রাণশক্তি বিবর্জিত নির্জীব লেখাকে অসামান্যতাই ভরে দিতে।তিনি মাহমুদুল হক।আর তারই এক অনন্য সৃষ্টি "জীবন আমার বোন" বইটি।শক্তিশালী একটি চরিত্রকে ঘিরে গড়ে উঠা এই গল্পে ভাষার কাজ ঈর্ষণীয়।অসাধারণ একটি মুক্তিযুদ্ধের গল্প,যেখানে গল্পের মূল চরিত্র 'খোকা' আবর্তিত হয় নিজের সাথে নিজের অস্তিত্বের গভীর অতল যুদ্ধের মধ্যদিয়ে,সাথে সমান্তরাল ভাবে লেখক আঁকতে থাকেন গোটা দেশের মধ্যে দুরারোগ্য ব্যাধির মত জন্মাতে থাকা যুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র। খোকার ব্যক্তিগত যুদ্ধটির বিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই লেখক দেশের যুদ্ধের জটিলতার যাবতীয় খন্ড খন্ড চিত্র তুলে ধরেছেন স্পষ্ট প্রচ্ছন্নতায়।এখানেই লেখকের সার্থকতা।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া #জীবন_আমার_বোন শেষ করলাম মাহমুদুল হকের আরেকটি মাস্টারপিস 'জীবন আমার বোন'। লেখকের একেকটি বই শেষ করি আর বই পড়ার আনন্দের সাথে সঙ্গী হয় কিছুটা কষ্টও। কষ্টটা এই যে আস্তে আস্তে মাহমুদুল হকের সবগুলো উপন্যাস পড়া শেষ হয়ে যাচ্ছে! আর মাত্র তিনটি বাকি। অবশ্য কষ্ট কিছুটা লাঘব হয় যখন মনে হয়, তাঁর সবগুলো উপন্যাসই তো একাধিকবার পড়ার যোগ্য। আমি অবশ্যই এগুলো বারবার পড়বো। আমাকে পড়তেই হবে কারণ আমার পাঠক সত্ত্বাকে মাহমুদুল হকের মতো অন্য কেউ নাড়া দিতে পারেনি। যাই হোক, 'জীবন আমার বোন' নিয়ে কিছু বলি। গল্পটা সেই সময়ের যখন সবাই বুঝতে পারছে বিরাট কিছু একটা হতে যাচ্ছে সামনে, যুদ্ধ লেগে যাবে লেগে যাবে গুঞ্জন চারদিকে, মানুষের স্বাভাবিক জীবনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা, শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামে পালাচ্ছে। কারো কাছে যুদ্ধই একমাত্র মুক্তির পথ, আবার কেউ ভাবে কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থের জন্য জনসাধারণকে লেলিয়ে দিচ্ছে। গল্পের প্রধান চরিত্র খোকা সব দেখতে চায় সবার চেয়ে আলাদাভাবে, নির্ভিকার থেকে সবকিছু পাশকাটিয়ে যেতে চায়। এবং তা পারে কি-না সেটা বুঝা যাবে বইটি শেষ করলে। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস বলতে আমরা যা বুঝি 'জীবন আমার বোন' তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে শেষের চার পৃষ্টায় যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং করুণতা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে৷ এতো অল্প কথায় এটা সম্ভব করতে হলে অসম্ভব কলমের জোর লাগে, সেটা মাহমুদুল হকের যে কতটা বেশি আছে তা যারা তাঁর লেখা পড়েছেন তারাই বুঝবেন। ব্যক্তিগত রেটিং: ৫/৫
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
পৃষ্ঠা কত এই বই এর !....
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৫৮। ধন্যবাদ।
পৃষ্ঠা কত এই বই এর !....
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৫৮। ধন্যবাদ।























