রাইফেল রোটি আওরাত
বই কালেকশন

Buy রাইফেল রোটি আওরাত Online in Bangladesh

লেখক: আনোয়ার পাশা

4.69
(41 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: আনোয়ার পাশা
  • Publisher: স্টুডেন্ট ওয়েজ
  • Isbn: 978 984 92793 4 1
  • Number Of Pages: 182
  • Language: বাংলা
৳ 269৳ 30010% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

“রাইফেল রোটি আওরাত” বইয়ের ভূমিকা: মানুষ এবং পশুর মধ্যে বড় একটা পার্থক্য হচ্ছে, পশু একমাত্র বর্তমানকেই দেখে, মানুষ দেখে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতকে এক সঙ্গে বিবচেনা করে। যখন কোন ব্যক্তি এবং সমাজ একমাত্র বর্তমানের মধ্যেই আবর্তিত হতে থাকে তখন সর্বনাশের ইশারা প্রকট হতে থাকে। বাঙালির সুদীর্ঘ ইতিহাসের বোধ করি সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় হচ্ছে তার সংগ্রামের কালগুলো। এবং এক্ষেত্রে উজ্জ্বলতম ঘটনা হচ্ছে, ১৯৭১-এ পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অসাধারণ লড়াই। এ ছিল সমগ্ৰ জাতির একতাবদ্ধ দৃঢ়প্ৰতিজ্ঞ সংগ্রাম। আমাদের পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য, আমাদের বর্তমানের গৌরব এবং আমাদের ভবিষ্যতের প্রেরণা বাঙালির এ সংগ্রামের ইতিহাস। অত্যন্ত শঙ্কিত চিত্তে লক্ষ্য করার মত ব্যাপার হচ্ছে, আমরা এটাকে যেন ভুলে যেতে বসেছি। যেসব লক্ষ্য নিয়ে আমাদের লড়াই তাকে বাস্তবে রূপায়িত করার ব্যর্থতা থেকেই এ বিস্মৃতির সূত্রপাত হচ্ছে। কিন্তু ব্যৰ্থ বর্তমান তো কোন জাতিরই চিরকালের সত্য ইতিহাস নয়, সত্য অনুভূতিও নয়। যে আবেগ এবং অনুভূতি চক্রান্তের ধূর্তচক্রে আচ্ছন্ন হচ্ছে, তাকে উজ্জীবিত করার জন্যই দরকার সংগ্রামের কালের মানুষের মহান ত্যাগ এবং নিষ্ঠাকে বারংবার স্মরণ করা। তার থেকেই আসবে কুশায়াকে দূর করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা। আমাদের চিত্তের পবিত্ৰতা রক্ষা পাবে। সেকালের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের মধ্যে বসে লেখা আমাদের সমগ্র ইতিহাসে একটি মাত্র উপন্যাসই পাওয়া যায়-এ উপন্যাসই হচ্ছে “রাইফেল রোটি আওরাত"। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস এর রচনাকাল। লেখক শহীদ আনোয়ার পাশা নিহত হলেন ১৯৭১ সালেরই ১৪ই ডিসেম্বর। স্বাধীনতা লাভের মাত্র দু'দিন আগে তিনি যে অমর কাহিনী উপন্যাসে বিধৃত করেছেন নিজেই হয়ে গেলেন তারই অঙ্গ চিরকালের জন্য। আনোয়ার পাশার উপন্যাসটি একদিক দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বসে একজনের প্রতিটি মুহুর্তের কাহিনী। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যে সৃষ্ট এ শিল্পকর্ম কতটা সত্যনিষ্ঠা লেখকের জীবনের পরিণতিই তার মহান সাক্ষ্য হয়ে থাকবে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন-জীবনে জীবন যোগ করা না হলে, কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হয় গানের পসরা। আনোয়ার পাশার উপন্যাস, তাঁর শেষ উচ্চারণঃ “নতুন মানুষ, নতুন পরিচয় এবং নতুন একটি প্রভা। সে আর কতো দূরে। বেশি দূর হতে পারে না। মাত্র এই রাতটুকু তো। মা ভৈঃ। কেটে যাবে।” তাঁর এবং আমাদের সকলের কামনা ও প্রত্যাশারই অভিব্যক্তি। শিল্পী তাঁর জীবনকে আমাদের জীবনের মধ্যে পরিব্যাপ্ত করে দিয়েছেন। ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ আনোয়ার পাশার শহীদ আত্মার আকাঙক্ষাকেই যেন আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করে চলেছে নিরন্তর এবং অম্লান। কাজী আবদুল মান্নান

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.69
(41 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
90%
4
5%
3
0%
2
5%
1
0%
880****644
880****644 ভেরিফাইড
26 Apr 2026

অন্যতম সেরা উপন্যাস 💜

Nirjor
Nirjor ভেরিফাইড
24 Dec 2025

❤️.

Shahriar Nabil
Shahriar Nabil ভেরিফাইড
28 Mar 2025

"মৃত্যু যেখানে নৈমিত্তিক, সেখানে জীবন কি শুধুই শোকের? না, সেখানে জন্ম নেয় এক প্রতিশোধের আগুন। বাঙালি মাথা তুলে দাঁড়ায়। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই গড়ে ওঠে প্রতিরোধের প্রস্তুতি।" বাংলা সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধ এক বিশাল অধ্যায়, যা শুধু ঐতিহাসিক ঘটনাবলির বর্ণনা নয়, বরং সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও মানবিক অনুভূতির সম্মিলন। এই ধারায় আনোয়ার পাশার কালজয়ী উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ রচনা করেন মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে বসেই। ২৫ মার্চের কালরাত্রির নারকীয়তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করে, সেই বিভীষিকার মধ্যে জীবনবাঁচানোর লড়াই করে তিনি ভাগ্যক্রমে টিকে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে, সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতাকেই তিনি শিল্পের রূপ দিয়েছেন। এটি শুধু আনোয়ার পাশার সাহিত্যিক প্রতিভার পরিচায়ক নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে রচিত প্রথম উপন্যাস, যা যুদ্ধ চলাকালেই লেখা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত উপন্যাসের সংখ্যা হাতে গোনা যায়, বরং বলা যায়—একমাত্র ‘রাইফেল রোটি আওরাত’-ই সেই বিরল সাহিত্যকীর্তি। এর পেছনে একটি সহজ কিন্তু গভীর কারণ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ছিল অস্তিত্বের লড়াই। একদিকে হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ, অন্যদিকে মুক্তিকামী জনতার বেঁচে থাকার সংগ্রাম। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে সাহিত্য সৃষ্টির সুযোগ ও পরিবেশ ছিল প্রায় অনুপস্থিত। তখন মানুষ লড়েছে, বেঁচে থাকার জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য। অনেকে গোপনে দিনলিপি লিখেছেন, ছোটখাটো নোট রেখেছেন, কিন্তু সেই সময়ে বসে পূর্ণাঙ্গ একটি উপন্যাস রচনার দুঃসাহস দেখিয়েছেন একমাত্র আনোয়ার পাশা। এটাই ‘রাইফেল রোটি আওরাত’-এর সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য—এটি শুধু মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস নয়, বরং যুদ্ধের মাঝেই রচিত এক অনবদ্য সাহিত্যসৃষ্টি, যেখানে বাস্তবতা ও শিল্পের সম্মিলন ঘটেছে অপরিসীম দক্ষতায়। উপন্যাসের মূল চরিত্র সুদীপ্ত শাহীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। স্ত্রী আমিনা এবং তিন সন্তান নিয়ে থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স কোয়ার্টারের ২৩ নম্বর বিল্ডিংয়ে। একান্তই স্বাভাবিক একটি জীবন—শিক্ষকতা, পরিবার, আর স্বপ্ন বুনে চলা প্রিয় ছাত্রদের নিয়ে। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রি তছনছ করে দেয় সেই স্বাভাবিকতা। সেই রাতে ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর। নির্বিচারে হত্যা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের। ২৩ নম্বর বিল্ডিংও রক্ষা পায়নি সেই নৃশংসতা থেকে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিবারসহ নিহত হন বিল্ডিংয়ের বাসিন্দারা। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে বেঁচে যান সুদীপ্ত শাহীন এবং তার পরিবার। চারপাশে লাশের স্তূপ, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। সুদীপ্ত শাহীন যেন জীবিত থেকেও মৃত। সহকর্মীরা সবাই শহীদ হয়েছেন, প্রাণ দিতে হয়েছে নিরীহ ছাত্রদের—তাঁদের রক্ষা করতে না পারার বেদনা আর অপরাধবোধে ক্ষতবিক্ষত তিনি। মনের গহীনে কেবল একটাই প্রশ্ন—"কেন আমি বেঁচে গেলাম?" উপন্যাসের সময়কাল খুবই সংক্ষিপ্ত—২৫ মার্চ, ১৯৭১ থেকে এপ্রিলের প্রথম দিক পর্যন্ত। কিন্তু এই ছোট্ট সময়ের ভেতরেই ধরা পড়েছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা। কালরাত্রির গণহত্যা, পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতার চাক্ষুষ বিবরণ, ১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে শুরু করে ১৯৭১ পর্যন্ত শোষণের ধারাবাহিক চিত্র, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, অধ্যাপক শামসুজ্জোহার আত্মত্যাগ, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের বজ্রকণ্ঠ, ইয়াহিয়ার প্রতারণা আর আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ—এসবই উঠে এসেছে উপন্যাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক খ্যাতনামা অধ্যাপক—ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক ড. ফজলুর রহমান, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান—তাঁরা কেউই রেহাই পাননি। বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন সপরিবারে। নিঃসন্দেহে এটি ইতিহাসের এক ভয়াবহতম গণহত্যা। লেখক নিজে এসব নির্মমতা প্রত্যক্ষ করেছেন, তাই তাঁর বর্ণনায় মিশে আছে নিখাদ বাস্তবতার রক্তরাঙা ছাপ। পৃথিবীর কোনো সুস্থ মনের মানুষ এই হত্যাযজ্ঞের বিবরণ শুনলে শিউরে না, উঠে পারে না। কেঁদে উঠবে যেকোনো মন। শুধু কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক? কোলের বাচ্চা, বৃদ্ধ, নারী,শিশু কেউই রেহাই পায়নি হানাদারদের কবল থেকে। রক্ষা পাইনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলের শিক্ষার্থীরা। কামানের গোলা এবং মর্টারের গুলি দিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সেই হলগুলো। রাইফেলের গুলিতে ঝাঁঝরা করা হয়েছে নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্রদের বুক। ছাত্রীদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে সম্মানহানী করা হয়েছে। যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের হত্যা করা হয়েছে নির্মমভাবে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা মধুদাও রেহাই পায়নি, তাঁকেও হত্যা করা হয়েছে। সুদীপ্তের বন্ধু ফিরোজ, ছাত্রাবস্থায় পড়াশোনা এবং কাব্যচর্চায় মগ্ন থাকলেও পরবর্তীতে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি বুঝতে পারেন, বাঙালীর মুক্তির জন্য শুধুমাত্র পড়াশোনা করলেই হবে না, প্রয়োজন প্রতিবাদ। রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্ষমতায় পৌঁছানোই হতে পারে সেই মুক্তির পথ, তবেই না দীর্ঘ তেইশ বছরের বৈষম্য ও বাঙালীর দৈন্য দূর হবে। কিন্তু ইয়াহিয়া তো সে সুযোগ দিলো না। সাধারণ নির্বাচন তো দেবেই না, আর যখন দিলো, বাংলার জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করলো। কিন্তু বাঙালী কি ক্ষমতায় যেতে পারে? তারা তো প্রজার জাতি, শোষিত হওয়ার জন্যই তাদের জন্ম। তাই তো ইয়াহিয়া সাধারণ অধিবেশন বন্ধ করে দিলো এবং আলোচনার নামে দেশে আসলো। হঠাৎ এক রাতে পাকিস্তানে পালিয়ে চলে গেলো এবং তার সেনাবাহিনীকে ছেড়ে দিয়ে গেলো। এই সেনাবাহিনী বোঝে শুধু তিনটি জিনিস। রাইফেল, রোটি আর আওরাত! সারাদিন রাইফেল নিয়ে মানুষ মারো। মানুষ? সে হতে পারে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। কেবল যুবতী অর্থাৎ আওরাত পেলেই তাকে ধরে নিয়ে যায়। ক্ষুধা লাগলেই রোটি পেটে চালান করে। আর রাতভর আওরাত নিয়ে ফুর্তি! "রাইফেল রোটি আওরাত" উপন্যাসের নামকরণ মূলত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই বর্বর মানসিকতাকেই তুলে ধরার জন্য। উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র শিল্পী আমান। পঁচিশ মার্চ রাতে তিনি হারান তার সন্তানদের এবং স্ত্রীকে, যারা পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে যায়। একদিন, অসমাপ্ত ছবি আঁকার জন্য যখন তিনি বাসায় ফিরছিলেন, তখন পাকিস্তানি সেনাদের তাণ্ডব শুরু হয়। পরদিন এসে তিনি দেখতে পান তার দু'সন্তানের রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। এই শোক সহ্য করতে না পেরে তিনি উন্মাদ হয়ে যান। নীলক্ষেত মোড়ে তার দেখা হয় সুদীপ্তের সঙ্গে, তখন তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, "হাম গোলি করেগা, গোলি খায়েগা।" অর্থাৎ, "আমার ছেলে-মেয়েকে গুলি করেছ, আমিও তোমাদের গুলি করব।" এরপর মিলিটারি সদস্যরা গুলি ছুঁড়লে, সুদীপ্তের প্রাণও যেতে পারতো। কিন্তু শিল্পী আমান নিজে ধাক্কা দিয়ে তাকে সরিয়ে দেন, হয়তো নিজের পুত্র-কন্যাকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা হলেও মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন। বিনিময়ে, তিনি গুলি খেয়ে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে যান। শিল্পী আমনের মতো চরিত্র মুনীর চৌধুরী রচিত "কবর" নাটকের মুর্দা ফকির, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের "চিলেকোঠার সেপাই" এর আনোয়ার এবং হুমায়ুন আহমেদের "জোছনা ও জননীর গল্প" এর গৌরাঙ্গের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। এই চরিত্রগুলো সবাই যেন শিল্পী আমনের প্রতিভূ। তাদের কাহিনী ভিন্ন হলেও পরিণতি এক। নিজের প্রিয় মানুষজনদের হারিয়ে শোকের মধ্যে ডুবে গিয়ে তারা উন্মাদ হয়ে যান, কিন্তু সেই উন্মাদনায় তাদের প্রতিবাদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শোকের গভীরে সেই প্রতিবাদ প্রগাঢ় এবং প্রকট হয়ে ওঠে, যা সুস্থ অবস্থায় কখনো ছিল না। এছাড়া রাইফেল, রোটি, আওরাত এ চিরাচরিত ‘মীরজাফর’ শ্রেণীর কুম্ভকর্ণের দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। এই শ্রেণীর মানুষ যারা বাঙালির পরিচয়ে থেকেও বাংলার প্রতি বিশ্বাসহীন, নিজের সুবিধা অনুযায়ী রঙ বদলায়। যেমন, ভুট্টো সাহেব ক্ষমতায় থাকলে পাকিস্তান জিন্দাবাদ, বাংলা ভাষা মালাউনদের ভাষা। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে রবীন্দ্রনাথ পড়ে সবার সামনে। এই শ্রেণীর একটি চরিত্র হচ্ছে ড. খালেক, যিনি রাজনীতি করেন এবং বুঝেন, এই ধরনের মানুষই বাংলার সবচেয়ে বড় শত্রু। তারা দেশকে অধঃপাতে নিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে, ফিরোজের দুঃসম্পর্কের চাচা গাজী সাহেবের চরিত্রও উল্লেখযোগ্য। ভুট্টো সরকারের সময় জামায়াতে ইসলাম থেকে শুরু করে, পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকেছিলেন। ২৫ মার্চের পরে, ফিরোজ এবং তার পরিবারের সদস্যরা গাজী সাহেবের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে পাক সেনা তাদের সামনে এসে কিছু পুলিশ সদস্যকে ধরিয়ে দেয়, যারা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বিদ্রোহ করেছিল। ফিরোজের জন্য গাজী সাহেবের কাছে নতুন নির্দেশ আসে—ফিরোজকে আটক করা হবে, কারণ সে আওয়ামী লীগের বড় নেতা। সে যদি পাকিস্তানের কৃতকর্ম নিয়ে কিছু বলে, তাহলে দেশবাসী কিছুটা আশ্বস্ত হবে। কিন্তু ফিরোজের আদর্শ এত সস্তা নয়, তাই তিনি ঘৃণা আর প্রতিশোধের আগুন নিয়ে ফিরলেন। সেই আগুনের উত্তাপ কিছুটা সুদীপ্তের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বুকে লেগেছে। ⭕ভাষাশৈলী: আনোয়ার পাশার ভাষাশৈলী অত্যন্ত সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী। তাঁর বর্ণনা এতটাই জীবন্ত যে পাঠকের মনে হবে, যেন তিনি সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আছেন। উপন্যাসে অনেক জায়গায় দীর্ঘ সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রদের ভাবনা, হতাশা ও প্রতিবাদ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উপন্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর রূপক ও প্রতীক ব্যবহারের দক্ষতা। বিশেষ করে, শিল্পী আমানের আত্মাহুতি, ফিরোজের দৃঢ় মনোবল, ও সুদীপ্ত শাহীনের অপরাধবোধের মাধ্যমে লেখক মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক ও মানসিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। ⭕পাঠ প্রতিক্রিয়া: আনোয়ার পাশার "রাইফেল রোটি আওরাত" এক অনবদ্য সৃষ্টি, যা মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে সাহিত্যের মাধ্যমে। এটি শুধু একটি উপন্যাস নয়, বরং একটি ইতিহাসের প্রতিবিম্ব, যা ২৫ মার্চ কালরাত্রির ভয়াবহতা, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের কথাই নয়, বরং মানবিক দুঃখ-দুর্দশার গভীর অনুভূতিরও এক নিখুঁত ছবি। উপন্যাসটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হল এর সময়োপযোগী প্রেক্ষাপট। আনোয়ার পাশা নিজেই এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, এবং সেই দুঃস্বপ্নময় মুহূর্তগুলোকে সার্থকভাবে সাহিত্যের রূপ দিয়েছেন। যেখানে তার চিত্রায়িত চরিত্রগুলো শুধু কল্পনার অংশ নয়, বাস্তবের অনেক অজানা বা ভুলে যাওয়া সত্যকে পুনরায় জীবন্ত করে তোলে। বিশেষ করে, সুদীপ্ত শাহীন, শিল্পী আমন, এবং ফিরোজের মতো চরিত্রগুলি মানবিক দুর্বলতা, শোক এবং প্রতিশোধের তীব্রতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। লেখকের ভাষা এবং গল্পের গঠন, দুইই অত্যন্ত প্রভাবশালী। ২৫ মার্চের রাতের ভয়াবহতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছাত্রদের উপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম আক্রমণ এবং সেই আক্রমণের ফলে মানুষের জীবনে যে অন্ধকার নেমে আসে, তা অত্যন্ত জীবন্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসের প্রতিটি পৃষ্ঠা যেন ইতিহাসের একেকটি দুর্বিষহ মুহূর্তের সাক্ষী। বিশেষত, "রাইফেল রোটি আওরাত" নামকরণটি অত্যন্ত গভীর অর্থ বহন করে। এটি কেবল পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর আচরণেরই প্রতিফলন নয়, বরং যুদ্ধের মর্মন্তুদ বাস্তবতার প্রতি এক শাণিত শ্লেষ। রাইফেল, রোটি এবং আওরাতের মধ্য দিয়ে লেখক মানুষের জীবন, তার শারীরিক নিরাপত্তা, এবং নারীর মর্যাদা সম্পর্কে একটি তীব্র রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। তবে, এটি কেবল একটি যুদ্ধের গল্প নয়, বরং এটি একাধিক স্তরের আধ্যাত্মিকতা, দুঃখ, হতাশা এবং আত্মবিশ্বাসের আলোচনাও। সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে "রাইফেল, রোটি, আওরাত" এক অসাধারণ সাহিত্যিক অভিযাত্রা, যা পাঠককে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার গভীরে প্রবেশ করতে সহায়তা করে। সবশেষে, এটি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি, যেটি না শুধুমাত্র আনোয়ার পাশার সাহসী লেখনীকেই সম্মান জানায়, বরং মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সাহিত্যের মাধ্যমে ইতিহাসের সত্যকে চিরকাল ধারণ করা যায়, এবং তা আমাদের জন্য অতীতের ভুল থেকে শিখতে ও ভবিষ্যতের জন্য সংগ্রাম করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। ⭕ বই : রাইফেল রোটি আওরাত ⭕ লেখক : আনোয়ার পাশা ⭕ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা ⭕ পৃষ্ঠা : ১৮২ ⭕ প্রকাশনী : স্টুডেন্ট ওয়েজ © শাহরিয়ার নাবিল

Tara
Tara ভেরিফাইড
04 Oct 2024

বই: রা ইফে ল, রোটি, আওরাত লেখক: আনোয়ার পাশা এক. মুক্তিযু দ্ধের নাম শুনলেই মাথায় প্রথমে কি আসে? আমার মাথায় কি আসে জানেন? রাইফেল, রুটি আর নারী। কোথাও মিল খুঁজে পাচ্ছেন? এদিক ওদিক না খুঁজে বইয়ের নামের দিকে তাকালেই পাবেন। নারীর কথা কেন বললাম? পুরুষেরা কি ফেলনা? পশ্চিম পাকিস্তানীদের কাছে খেলনা ছিল নারী। তারা নিজেদের মতো তাদের নিয়ে বিনোদন নিতে। তাদের হাতে শোভা পেত ম দের গেলাস কিংবা রুটি। কাঁধে থাকত রা ইফে ল। এই রাই ফে ল ই আবার ব্যবহৃত হতো নারীদের যৌ না ঙ্গে র উপর অত্যাচার চালাতে। কি হলো? শুনতে বিচ্ছিরি লাগছে? এগুলো কোনো রূপকথার গল্প না। এখানে কোনো রা ক্ষস নেই। নেই কোনো প্রাসাদ। এখানে একদা ছিল পশ্চিম পাকিস্তান আর এক ছিল পূর্ব পাকিস্তান। দুই পাকিস্তান ভাগ হয়েছিল ঠিকই কিন্তু শোষণটুকু ভাগ করা হয়নি। সেই শোষণের ইতিহাসে কালো দাগ ছিল ২৫ শে মার্চ। এই রাত হার মানাবে রূপকথাকেও। ইতিহাস কোনো রূপকথার গল্প না। ইতিহাস জীবন্ত মানুষ। যার মাঝে সমাধি পেতে থাকে খন্ড খন্ড স্মৃতি। দুই. 'রাই ফে ল, রোটি, আওরাত' সবচেয়ে বেশি পরিচিত মূক্তিযু দ্ধের প্রথম উপন্যাস হিসেবে। আমি যখন এর নাম শুনি তখষ হয়ত স্কুলে ছিলাম। বাংলা ব্ইয়ের কোনো এক কুইজে এসেছিল প্রথম মুক্তিযো দ্ধা ভিত্তিক উপন্যাস কোনটি? সেই থেকে নামটা মাথায় ছিল। ইচ্ছে ছিল একসময় পড়ার। কিন্তু পড়ার পর মনে হয়েছে এটা কি আদৌ উপন্যাস? নাকি উপন্যাসের আড়ালে পঁচিশে মার্চের উপর লেখা একটা জীবন্ত দলিল? তবে এই মাঝারি সাইজের বইটি শেষ করতে আমার সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছিল। কেন? প্রথমত লেখনীর কারণে। এতে বর্ণিত ঘটনাগুলো এতোটাই নির্মম যে পড়তে গিয়ে কয়েকবার গা গুলিয়ে এসেছে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। ধরুন আপনি যে বাসায় থাকেন সে বাসায় একটিমাত্র জানালা। আর আপনি যখন জানালা দিয়ে তাকাবেন তখন দেখবেন লাশের স্তূপ। সেই স্তূপের মানুষগুলো একদিন আগেও আপনার মতোই শ্বাস নিচ্ছিল। অথচ আজ তাদের শরীরের গন্ধে আপনি বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছেন না। আজকের এই চিরচেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,টিএসসি, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট,শাহাবাগ যেখানে আপনি প্রিয়জনের হাত ধরে হাঁটছেন সেই একই স্থানে ছিল শুধু লা শ আর লা শ। রাস্তার কুকুরেরাও সেখানে ছিল না। চারদিকে র ক্তের মাখামাখি। আর আজ তার দাগ মুগে গেছে। সময় পাল্টেছে, অতীত ইতিহাস হয়েছে কিন্তু ঘটনার নির্মমতা সেভাবেই রয়ে গেছে। ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে পছন্দ করে। তিন. পুরো গল্পের শুরু আর শেষের ঘটনা মাত্র পাঁচদিনকে ঘিরে।২৫ শে মার্চ টু ২৯ শে মার্চ। পাঁচদিনের ঘটনায় এতো এতো কিছু বর্ণনা করা হয়েছে যে তা পাচদিন নয়, বরং পাঁচ বছরের মতো লাগছিল। শুরুতেই গল্পকথক আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন সুদীপ্ত শাহিনের সাথে। পেশায় একজন অধ্যাপক। ২৫শে মার্চের আগে পর্যন্ত তার বাসভবন ছিল নীলক্ষেত এলাকায়। এরপর? এরপর নিয়ে প্রাণ আর‌পরিবার নিয়ে ছুটে বেরিয়েছেন এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি। মাথার উপর ছাদ নেই এমন একটা জীবন ভাবা যায়? প্রাণ বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছে কমিউনিস্টদের নিকট। তৎকালীন ঢাকার অবস্থা তুলে ধরেছেন। ইয়াহিয়া আর টিক্কার নির্দেশে চালানো গণহ ত্যা র সেই রাত; লাখ লাখ নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষ। তারা কি জানত এই ঘুম থেকে তারা আর কখনো জাগতে পারবে না? বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ সে রাতে মা রা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালেক, গোবিন্দচন্দ্র, গুহঠাকুর, মনিরুজ্জামান এর কি দোষ ছিল বলুন তো? একেকজন শিক্ষককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় শুধু মেধাশূন্য করতে? এরপরেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীদের ধারণা ছিল এটি কোনো অন্যায় নয়; এটি হলো জিহাদ। নির্দোষ মানুষদের প্রাণহরণ জিহাদের অংশ হিসেবে মনে করার মতো লোকগুলো শুধুই ধর্মকে ব্যবহার করেছিল অপর অংশের লোকগুলোকে দমিয়ে ফেলতে। চার. অতীত নিয়ে জানতে গিয়ে একটা প্রশ্ন সবসময় আমার মাথায় ঘুরঘুর করত। সেটা ছিল একটি দেশের দুটো ভাগ অথচ এক ভাগ অন্য ভাগের উপর শাসন চালায়, হ ত্যাযজ্ঞ চালায় কিন্তু কিভাবে? এই ব্ইতে উঠে এসেছে তার ছোট্ট একটি কারণ। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর থেকেই মুসলীম লীগ পশ্চিম পাকিস্তানকে অর্থনীতির দিক দিয়ে ফুলিয়ে তুলতে শুরু করে। এর কারণ হিসেবে লেখক বুঝাতে চেয়েছেন মুসলিমদের নামাযের কেবলা পশ্চিমকে। পাকিস্তানের মুসলীমলীগ বিশ্বাস করত পশ্চিম দিক হলো শুভ। এটিকে বানানো হয় অর্থনীতির পৃরাণকেন্দ্র। বেশিরভাগ সময়ই পূর্ব পাকিস্তান তাই পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে ছিল খেলনার মতো। তাদের দাম নেই বললেই চলে। পশ্চিম ছিল সবদিকে এগিয়ে। তাদের মাথাব্যথা ও ছিল না পূর্বকে নিয়ে। কিন্তু কে জানত এই শান্ত দেখা নদী একদিন বিষাদের রূপ নিতে চলেছিল? সেই বিষাদের রূপ আঁকা হয়েছিল র ক্ত দিয়ে। বুকের তাজা র ক্ত। পাক সেনাদের হারাতে উঠেপরে লেগেছিল সব শ্রেনী পেশার মানুষ। গল্পে দেখানো হয়েছে নারীদের কিভাবে ভোগের পন্যের মতো চিরে চিরে শেষ করেছিল সেইসব সেনারা। আরেকদিকে দেখিয়েছেন পলিকে। নাজিম সাহেবের কাছ থেকে মাইন নিয়ে আপন বুকে বেঁধে সেনা ট্রাকের নিচে গিয়ে আত্মহুতি দিয়েছিল সেই সাহসী নারী। সেই নারী যাদের তারা অবলা ভাবত। পাঁচ. শুধুই কি গণহ ত্যা আর আত্মত্যাগের গল্প? শুধু কি অবরুদ্ধ শহরে ছুটতে থাকা মানুষগুলোর গল্প? নাকি লাশের স্তূপের...! এখানে শুধু এসব নেই। এসবের বাইরেও অনেক কিছুই ছিল। একাত্তর চলাকালীন সময়ে বাঙালির মধ্যেও ভাগ হয়ে যাওয়া দুই শ্রেনীর গল্প আছে। একদল যারা গিরগিটির মতো রঙ পাল্টে ফেলত। তাদের কাজ ছিল পশ্চিমাদের জয়গান গাওয়া। তাদের ই একজন দালাল মালেক। তেল দিয়ে ঘুরে বেড়ানো লোকটির শেষ পরিণতি অবশ্য অতি শোভ ছিল না। যাদের তিনি আপন ভাবতেন তারাই তার পরিবারকে শোষণ করেছে। প্রমাণ করেছে বাঙালি তাদের কেউ না। বাঙালি হলো আরেক জাত। কিন্তু বাঙালির সেই স্বভাব। লাথি খেলেও গোলামির দাস। মালেকের জীবন ধ্বংস হলেও তার ভাই তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার বদলে দাসত্বকেই প্রাধান্য দিয়ে চলেছিল। পুরো গল্পটা সুদীপ্তের চোখেই লেখক বলে যাননি বরং দেখিয়ে গেছেন। মনে হয়েছে টাইম মেশিনে করে ফিরে গেছি সেদিনের সময়ে। আমার সামনেই সুদীপ্ত। সে ছুটছে আমি তার পিছু পিছু ছুটছি। চারিদিকের বাতাস যেন ভারি হয়ে আসছিল। সুদীপ্ত নাম নিয়ে হয়ত অনেকের মনে হয়ত দ্বিধা কাজ করতে পারে। তৎকালীন পাকিস্তানেও নামের জন্য কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি তাকে। পাকিস্তানের অধিকাংশ মুসলিমরা তখন নাম নিয়ে ব্যস্ত। কারণ চারিদিকে বা রু দে র গন্ধ। আ গু ন লাগানোর কাজটা করতে তাদের ভালোই লাগত। মানুষের একটা বাজে স্বভাব যাকে বলে। ছয়. সুদীপ্তের সাথে এই দীর্ঘ যাত্রা শেষে আমার কি মনে হয়েছে জানেন? আনোয়ার পাশাই এই গল্পে সুদীপ্ত শাহিন। আরেক কথায় বললে দুজন একই আত্মা অথচ ভিন্ন অস্তিত্ব। তিনি শুধু রূপ বদলে উপন্যাসে নিজেকে কাল্পনিক চরিত্রের আড়ালে রেখে গেছেন। তার কলমে লিপিবদ্ধ করে গেছেন সেসময়ের বিধ্বস্ত পরিবেশকে। লেখক লেখার মাঝে আশার আলোও জাগিয়ে গিয়েছিলেন। যেখানে বার্তা হিসেবে লুকানো ছিল আওয়ামী লীগ আর কমিউনিস্ট পার্টি মিলে মুক্তিবাহিনী গঠনের। হয়ত এভাবেই কেটে যাবে আরেকটি অন্ধকার রাত। এরপর আসবে নতুন দিন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ৭১' সালের এপ্রিল থেকে জুনমাসে লেখা একটি উপন্যাসে লেখক স্বাধীন দেশের ভবিষ্যৎ লিখে রেখেছিলেন। তবে আফসোস! লেখক সেই নতুন দিনের সাক্ষী হয়ে যেতে পারেননি। দেশ স্বাধীনের মাত্র দু'দিন আগে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে লেখক নিজেই হয়ে যান ইতিহাসের অংশ। সুদীপ্ত এর মতো পালিয়ে বেড়াতে তিনি আর পারেননি। নতুন দিন এসেছে কিন্তু লেখকের চোখ তা দেখতে পারেনি। তবে হয়ত তিনি ভবিষ্যত দেখেছিলেন। দেখেছিলেন বলেই তো লিখে রেখে গেছেন এক অমর আশার আলো। সেই আলোতেই বেঁচে আছে হাজারো সুদীপ্ত। পার্সোনাল রেটিং: ৪/৫

Joy Biswas
Joy Biswas ভেরিফাইড
26 May 2024

আমার মতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা শ্রেষ্ঠ উপন্যাস এইটা. কিন্তু হতাশার কথা হল, লেখক নিজেই স্বাধীন বাংলাদেশ দেখতে পারেননি. ৭১ এর এপ্রিল থেকে জুন এর মধ্যে নিজের নোট বুক এ লিখেছিলেন তিনি এই উপন্যাস, শেষ করেছিলেন একটি স্বাধীন দেশের গল্প বলে কিন্তু উনি কিভাবে জানতেন যে দেশ স্বাধীন হবে একদিন?

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

প্রশ্ন

বইটি স্টকে আসবে কবে?

উত্তর

দুঃখিত, এটি নির্ভর করে প্রকাশনী কর্তৃক রিপ্রিন্ট করার মাধ্যমে তাই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কবে পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন

বইটি স্টকে আসবে কবে?

উত্তর

দুঃখিত, এটি নির্ভর করে প্রকাশনী কর্তৃক রিপ্রিন্ট করার মাধ্যমে তাই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কবে পাওয়া যাবে।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)