

Buy দ্য ফরটি রুলস অফ লাভ Online in Bangladesh
লেখক: Elif Shafak
- Author: এলিফ শাফাক
- Publisher: রোদেলা প্রকাশনী
- Isbn: 9789849238041
- Number Of Pages: 400
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"দ্য ফরটি রুলস অফ লাভ" বইয়ের ফ্ল্যাপের অংশ থেকে:তুরস্কের জনপ্রিয় লেখিকা এলিফ শাফাক এই বইতে লিখেছেন আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ আলাদা দুই সময়ের কাহিনি। একটি গল্প সমসাময়িক । অন্যদিকে আরেকটি গল্পের পটভূমি রচিত হয়েছে ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে, যখন বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক রুমি তার আত্মিক পথপ্রদর্শক, রহস্যময় দরবেশ শামস তাবরিজির দেখা পেলেন । লেখিকার সাবলীল লেখনীতে দুই সময়ের দুই গল্পে মিলেমিশে রচিত হয়েছে ভালােবাসার এক চিরন্তন উপাখ্যান। এলা রুবিনস্টাইনের বয়স চল্লিশ । স্বামী সন্তান সবই আছে, কিন্তু ভালােবাসা নেই। আর তাই দাম্পত্যজীবনে সুখ নেই তার । একঘেয়েমী থেকে বাঁচতে এক লিটারেরি এজেন্টের অধীনে পাঠক হিসেবে কাজ নিল সে। প্রথম যে পাণ্ডুলিপি তার হাতে এল তার নাম মধুর অবিশ্বাস, লেখকের নাম আজিজ জাহারা । প্রথমে বেশ অনীহার সাথে বইটা পড়তে শুরু করলেও ধীরে ধীরে সে ডুবে যেতে লাগল কাহিনিতে । জানতে পারল, কিভাবে রুমির জীবন বদলে গিয়েছিল ভবঘুরে দরবেশ শামস তাবরিজির স্পর্শে। পরিচিত হলাে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ভালােবাসার অদৃশ্য নিয়মের সাথে, যার কাছে সব ধর্ম, সব মানুষ একই সমান। এক সময় এলা আবিষ্কার করল, রুমির এবং তার নিজের জীবনের গল্পে কোনাে পার্থক্য নেই। রুমির জীবনে যেমন শামস এসেছিল; তেমনি তার জীবনে এসেছে জাহারা, তাকে মুক্তি দিতে…
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
Value for money but price is bit high in here
Very good quality and delivery was also fast



'' ভালোবাসা কি কেবল একটি অনুভূতি, নাকি এটি আত্মার মুক্তির পথ?'' "The Forty Rules of Love" (ভালোবাসার চল্লিশটি নিয়ম) হলো তুর্কী লেখিকা এলিফ শাফাকের, শাহেদ জামান (অনুবাদক) লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়; বরং এটি সুফিবাদ, আধ্যাত্মিকতা, আত্ম-উপলব্ধি এবং ভালোবাসার গভীর তাৎপর্য নিয়ে লেখা একটি দার্শনিক উপাখ্যান। বইটিতে প্রধানত দুটি সমান্তরাল কাহিনি রয়েছে—একটি বর্তমান সময়ের, যেখানে এলা রুবিনস্টেইনের জীবনচক্র পরিবর্তিত হয়, এবং অন্যটি ত্রয়োদশ শতাব্দীর, যেখানে রুমি ও শামস তাবরিজের আধ্যাত্মিক বন্ধুত্ব ফুটে ওঠে। 🟢কাহানি সংক্ষেপ: একদিকে, এলা রুবিনস্টেইন একজন মধ্যবয়সী আমেরিকান গৃহিণী, যিনি তার বিবাহিত জীবনে একঘেয়েমি অনুভব করেন। তার স্বামী ও সন্তান থাকলেও তিনি নিজের জীবনে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করেন। একদিন, তিনি "Sweet Blasphemy" (মিষ্টি নাস্তিকতা) নামে একটি পান্ডুলিপি পড়তে শুরু করেন, যা ১৩শ শতাব্দীর বিখ্যাত সুফি কবি জালাল উদ্দিন রুমি এবং তার আত্মার পথপ্রদর্শক শামস তাবরিজের গল্প নিয়ে লেখা। এলা বইটি পড়তে পড়তে এক নতুন জগতে প্রবেশ করেন এবং বইটির লেখক আজিজ জাহারাকে ইমেইল পাঠান। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথোপকথন বাড়তে থাকে, এবং এলার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। আজিজ তাকে শেখায় যে ভালোবাসা, আত্ম-উপলব্ধি, এবং জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের অন্তরকে মুক্ত করতে হবে।এই চিঠিপত্রের মাধ্যমে এলা উপলব্ধি করেন যে তিনি তার জীবনে পরিবর্তন চান। অবশেষে, তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন—তার পুরনো জীবন ছেড়ে নতুন এক জীবনের পথে পা বাড়ান। অন্যদিকে, ১৩শ শতাব্দীতে পারস্যের বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত জালাল উদ্দিন রুমি একজন প্রচলিত ধর্মীয় গুরু ছিলেন, যিনি বই পড়ানো ও ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন। তার জীবন একঘেয়েমি ও গোঁড়ামিতে আবদ্ধ ছিল। কিন্তু একদিন, রহস্যময় সুফি দরবেশ শামস তাবরিজ তার জীবনে প্রবেশ করেন। শামস তাবরিজের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃত ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতার শক্তি সম্পর্কে রুমিকে শিক্ষা দেওয়া। তিনি রুমিকে বলেন, ঈশ্বরের ভালোবাসা কেবল বাহ্যিক উপাসনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা আত্মার গভীরে অনুভব করতে হয়। তাদের বন্ধুত্ব ও আধ্যাত্মিক যাত্রা রুমির জীবনে এক বিপ্লব ঘটায়—তিনি শুধু একজন ধর্মীয় নেতা নন, বরং একজন মহান সুফি কবিতে রূপান্তরিত হন। তবে, সমাজের রক্ষণশীল অংশ এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারেনি। শামসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নিহত হন। শামসের মৃত্যুতে রুমি গভীর বেদনায় পড়ে যান, কিন্তু এই শোক থেকেই তিনি সৃষ্টি করেন তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ "মাসনাভি", যা আজও সুফিবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। 🟢মূল ভাবনাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ- ১. ভালোবাসার আধ্যাত্মিকতা (The Spirituality of Love) উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু হলো "ভালোবাসা"। তবে এটি শুধুমাত্র রোমান্টিক ভালোবাসা নয়, বরং ঈশ্বরের প্রতি, নিজের প্রতি, এবং সমগ্র সৃষ্টির প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসার একটি গভীর রূপ। শামস তাবরিজের শিক্ষা অনুসারে, ভালোবাসা কেবল দুটি ব্যক্তির মধ্যকার সম্পর্ক নয়, বরং এটি আত্মার শুদ্ধি ও আত্ম-উন্নতির পথ।ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক: শামস বলেন, "যদি তুমি সত্যিকারের ভালোবাসতে চাও, তবে ঈশ্বরকে আগে ভালোবাসতে শেখো।" ২. আত্ম-উপলব্ধি ও পরিবর্তন (Self-Discovery and Transformation) এলা রুবিনস্টেইন চরিত্রের মাধ্যমে লেখিকা দেখিয়েছেন, কীভাবে একজন মানুষ তার জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে পারে। প্রথমদিকে, এলা ছিলেন একজন গৃহিণী, যিনি তার বিবাহিত জীবনে অসুখী এবং জীবনে নতুন কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন।Sweet Blasphemy (শামস-রুমি সম্পর্ক নিয়ে লেখা বইটি) পড়ার পর, তিনি উপলব্ধি করেন যে, জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য ও অর্থ খুঁজে পেতে হলে আমাদের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।আত্ম-উপলব্ধির একটি প্রধান শর্ত হলো নিজেকে চেনা ও গ্রহণ করা।শামসের শিক্ষা অনুযায়ী, যদি আমরা নিজেকে জানার চেষ্টা না করি, তবে আমরা কখনো সত্যিকারের সুখী হতে পারব না।এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই এলা তার একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে জীবনকে দেখার চেষ্টা করেন। ৩. সুফিবাদ ও ইসলামের আধ্যাত্মিক দিক (Sufism and Islamic Mysticism) উপন্যাসটি সুফিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে ইসলামের আধ্যাত্মিক রূপ দেখানো হয়েছে। সুফিবাদে বিশ্বাস করা হয় যে, ধর্মীয় নিয়ম-কানুনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মার পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর সাথে আত্মিক সংযোগ স্থাপন। সুফিবাদের একটি মূলনীতি: তাসাউফ বা আধ্যাত্মিক অনুশীলন: নিজেকে পবিত্র করা ও মনের ভেতরকার অহংকার ধ্বংস করা। ৪. জীবনের অর্থ ও আত্মার মুক্তি (The Meaning of Life and Liberation of the Soul) বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জীবনের প্রকৃত অর্থের অনুসন্ধান। রুমি প্রথমদিকে একজন সাধারণ ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন, যিনি কেবল ধর্মীয় বই পড়াতেন। কিন্তু শামসের সাথে দেখা হওয়ার পর, তিনি উপলব্ধি করেন যে, জীবনের অর্থ কেবল বই পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি অনুভব করার এবং নিজের ভেতরে খুঁজে পাওয়ার বিষয়। শামসের শিক্ষাগুলোর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, '' আমাদের উচিত বাহ্যিক নিয়মের চেয়ে আধ্যাত্মিক মুক্তির দিকে মনোযোগ দেওয়া। '' '' আত্মার মুক্তি আসে যখন আমরা অহংকার, ভয় ও দ্বিধা পরিত্যাগ করি।'' '' ভালোবাসা ও উপলব্ধিই আমাদের প্রকৃত মুক্তির পথ দেখাতে পারে।'' '' রুমি যখন তার ঐতিহ্যগত ধর্মীয় অনুশীলন থেকে সুফিবাদের গভীর প্রেম ও দর্শনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন, তখন তিনি সত্যিকারের আধ্যাত্মিক মুক্তি খুঁজে পান। '' ৫. সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিশ্বাসের সীমা অতিক্রম করা (Crossing Cultural and Religious Boundaries) এলিফ শাফাক উপন্যাসে দেখিয়েছেন, কিভাবে ভালোবাসা ও আধ্যাত্মিকতা মানুষের মধ্যে তৈরি করা কৃত্রিম সীমারেখা ভেঙে দেয়। '' শামস ছিলেন একজন দার্শনিক এবং বিদ্রোহী সুফি, যিনি প্রচলিত ধর্মীয় ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে গিয়ে ঈশ্বরের প্রকৃত সত্য খোঁজার পক্ষে ছিলেন।'' '' এলা একজন পশ্চিমা নারী, যিনি রুমির আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশ করে তার নিজের জীবন সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি লাভ করেন।'' '' রুমি তার সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস ভেঙে শামসের শিক্ষাকে গ্রহণ করেন, যা সমাজের রক্ষণশীল অংশের বিরোধিতার কারণ হয়। '' 🟢 পাঠপ্রতিক্রিয়া: এলিফ শাফাকের The Forty Rules of Love কেবল একটি উপন্যাস নয়, এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক যাত্রা, যা পাঠককে আত্ম-উপলব্ধির নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়। গল্পটি একাধারে প্রাচীন সুফিবাদ ও আধুনিক জীবনের মধ্যে এক গভীর সংযোগ স্থাপন করে। শামস তাবরিজ ও জালাল উদ্দিন রুমির সম্পর্কের মাধ্যমে ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ ও আধ্যাত্মিকতার শক্তি প্রকাশ করা হয়েছে। অপরদিকে, এলা রুবিনস্টেইনের গল্প আমাদের শেখায় যে জীবনকে নতুন করে বুঝতে এবং পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে সাহস প্রয়োজন। উপন্যাসটি বিশেষভাবে মুগ্ধ করে তার গভীর দার্শনিক চিন্তাভাবনার জন্য। শামসের চল্লিশটি নিয়ম কেবল চরিত্রদের জীবনে পরিবর্তন আনে না, বরং পাঠকের মনেও এক অন্তর্দৃষ্টি সৃষ্টি করে। তবে, কিছু পাঠকের কাছে এলার চরিত্র পরিবর্তন কিছুটা দ্রুত মনে হতে পারে, এবং অনেকে হয়তো শামসের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রযোজ্য কিনা তা নিয়ে সংশয় অনুভব করতে পারেন। তবুও, এটি এমন একটি উপন্যাস, যা বারবার পড়ার মতো—প্রত্যেকবার নতুন এক উপলব্ধি এনে দেয়। এলিফ শাফাকের "The Forty Rules of Love" বইয়ে শামস তাবরিজের ভালোবাসার চল্লিশটি নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে, যা আধ্যাত্মিকতা, আত্ম-উপলব্ধি ও ঈশ্বরের প্রেমের ওপর ভিত্তি করে গঠিত। এর মধ্যে কিছু জনপ্রিয় নিয়ম নিচে দেওয়া হলো— ১. "আমরা যা কিছু ভালোবাসি, তাই হয়ে উঠি।" ২. "ভালোবাসা কোনো শর্ত মানে না। এটি সীমাহীন এবং স্বাধীন।" ৩. "তোমার হৃদয় যা ভালোবাসে, সেটিই তোমাকে তোমার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।" ৪. "একটি সত্যের সন্ধানে বের হলে, পুরো বিশ্ব তোমার পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।" ৫. "অন্যকে বিচার করো না, কারণ তুমি তাদের জীবনের গল্প জানো না।" ৬. "ধর্ম কেবলমাত্র নিয়ম-কানুন নয়; এটি ভালোবাসার গভীরতা দিয়ে মাপা হয়।" ৭. "জীবনের প্রতিটি ঘটনা একটি উদ্দেশ্য নিয়ে ঘটে।" ৮. "নিজের অহংকারকে ধ্বংস করো, তাহলেই তুমি সত্যের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।" ৯. "এই পৃথিবী একটি আয়নার মতো—যা কিছু তুমি করো, তা তোমার কাছে ফিরে আসবে।" ১০. "ভালোবাসার শক্তি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি।" সর্বোপরি, The Forty Rules of Love এমন একটি সাহিত্যকর্ম, যা ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ, আত্ম-উন্নয়ন, ও আধ্যাত্মিকতার পথ অনুসন্ধানে সহায়তা করে। এটি শুধু হৃদয়কে স্পর্শ করে না, বরং আত্মাকেও আলোড়িত করে, আমাদের ভাবায়— ভালোবাসা কি কেবল আকাঙ্ক্ষা, নাকি এটি এক পরম সত্যের সন্ধান বিঃ দ্রঃ - সুফিবাদ পড়তে ও জানতে যারা পছন্দ করেন এটা তাদের জন্য সুপাঠ্য, ইসলামিক দৃষ্টিতে কেউ বিচার করতে যাবেন না

আমি যা বই পড়ছি সব থেকে এই বইটা বেস্ট লাগছে।আর যাদের সুফিবাদ সম্পর্কে জানতে চাই তারা এটা পড়তে পারে।

”পৃথিবীতে যত বড় বড় সংঘাত, তার বেশীরভাগেরই উৎপত্তি হয়েছে ভাষাগত সমস্যা এবং সামান্য ভুল বুঝাবুঝি থেকে। কারও মুখের কথায় কখনো আস্থা রাখা উচিত নয়, যেহেতু খুব কম মানুষই কথা দিয়ে কথা রাখবার মত দৃঢ় চিত্তের অধিকারী হয়। যারা তা নয়, তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার কষ্টের ভেতর দিয়ে যাবার ক্ষমতা রাখে না। ভালবাসার বৃত্তের মাঝে যখন তুমি পা রাখবে, তখন ভাষা বলে যে বস্তুকে আমরা জানি, তা মূল্যহীন ও অদরকারী হয়ে পড়বে। যাকে কথায় প্রকাশ করা যায় না, নিরবতার মাঝ দিয়েই তাকে সবচাইতে ভালো করে বোঝা যায়। অথচ আফসোস, নিরবতার ভাষা বোঝার ক্ষমতাও সকলের থাকে না।” - ’দ্য ফরটি রুলস অব লাভ’ বই থেকে উদ্বৃত। কিছুদিন আগে ফেসবুক থেকে বিদায় নিয়ে বইয়ের প্রেমে ডুব দেবার চেষ্টা করেছিলাম, সে সময় এই বইটি পড়ে শেষ করেছি। মজার ব্যাপার হলো, যে-ই আমাকে দেখেছে এই বইটি পড়তে, নাম দেখে ভেবেছে এটা বুঝি নারী-পুরুষের প্রচলিত প্রেমের উপাখ্যান। কিন্তু সত্যিটা হল, বইটি সুফিজম নিয়ে লেখা। এর আদ্যোপান্ত সুফি দর্শন দিয়ে মোড়ানো। মুসলিম বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় এবং সবচাইতে আধ্যাত্নিক কবি মাওলানা রুমি প্রায় মাঝ বয়স পর্যন্তও কবিতা এবং সুফিবাদ মোটেও পছন্দ করতেন না, এই তথ্য হয়তো অনেকেই জানেন না। এরপরে হঠাৎ করেই একদিন নাটকীয়ভাবে তাঁর সাথে পরিচয় হয় রহস্যময় এক ভবঘুরে দরবেশ ”শামস তাবরীযি”’র সাথে। যে দরবেশ ছিলেন অতীন্দ্রিয় ও প্রচন্ড আধ্যাত্নিক সব ক্ষমতার অধিকারী। শাসসের সাথে দেখা হবার পর থেকেই রুমি আমূল বদলে যেতে শুরু করেন। যে মানুষটা কবিতা পছন্দ করতেন না, সেই মানুষটা হয়ে পড়েন পৃথিবী বিখ্যাত কবি। (৪০ বছর বয়সে পৌছেঁ প্রিয় মানুষটাকে আজীবনের জন্য হারানোর একবুক হাহাকার নিয়ে রুমি একের পর এক কবিতা লিখতে শুরু করেন, যে কবিতাগুলোই তাঁকে পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। অথচ খ্যাতিকে পুরোপুরি জলাঞ্জলি দিয়েই সে কবিতা লিখতে বসেছিলো। খ্যাতিকে সে কোনদিনও বিন্দুমাত্রও তোয়াক্কা করেননি।) যে মানুষটা সুফিবাদ মারাত্নক অপছন্দ করতেন, সেই মানুষটাই নিজেই হয়ে উঠেন সুফিবাদের মূর্ত প্রতিক। এই আমূল বদলটা ঠিক কিভাবে হয়, সেটাই এই বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য। শামসের ইউনিকনেস হল, দরবেশ বলতে আমরা যেমন সর্বসংহা, সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করা, চুপচাপ থাকা, নিরীহ-গোবেচারা সত্তাকে বুঝি, উনি তেমন ছিলেন না। তিনি বরং উল্টাটা ছিলেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে শামস বের হয়ে যান বাসা থেকে, জন্ম থেকেই তিনি আধ্যাত্নিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুরুষ ছিলেন। এরপরের ৪০ টা বছর ধরে পৃথিবীর পথে পথে ঘুরে সে তার নিজস্ব ৪০ টা ফিলোসফি তৈরী করেন। সেগুলোই বইয়ের পরতে পরতে ব্যাখা করা হয়েছে বিভিন্ন ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায়। এছাড়াও অসংখ্য কোটেশন দিয়ে এটি ভর্তি, ভাবছি প্রতিদিনই কোন না কোন পছন্দের কোটেশন ওয়ালে পাবলিশ করবো। এই বইয়ের আরেকটি দিক হচ্ছে, এটি আধুনিক সময়ের একটি দম্পত্তির ঘটনাও সমান্তরাল ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার সাথে বইয়ের তার্কিশ লেখিকা “এলিফ শাফাক” রুমি-শামসের প্রেমের যোগসূত্র দেখিয়েছেন। বইটি প্রকাশ হয়েছে ২০০৯ সালে। যদিও আমি শামস-রুমির গল্পে এতটাই আচ্ছন্ন ছিলাম যে হুটহাট যে এলা-জাহারার গল্পটা চলে আসতো, তখন খবই বিরক্ত লাগতো, মনে হয় পড়ায় যেন একটা অনাকাংখিত ছেদ পড়লো। তবু সব মিলিয়ে এতটাই ভাল লেগেছিল যে ৪০০ পাতার এই বইটি বলতে গেলে এক বসায় শেষ করে ফেলেছি, আমার কাছে মনে হচ্ছিলো আমি একটা দুর্দান্ত সিনেমা দেখছি যেন...দৃশ্যগুলো এতটাই জীবন্ত ছিল যে চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছিলাম সিনেমার মত করে... কিছু কিছু জাগায় হু হু করে কেঁদেছি...কারণ মনে হচ্ছিলো কথাগুলো আর কাউকে না, আমাকে বলা হচ্ছিলো, আমার নাম সম্বোধন করে, আমার কানের কাছে ফিসফিস করে... so much customized...So much personal ছিলো সে কথাগুলো...!! ”আমি তোমাকে কামনা করি খাদ্য ও পানীয়ের চাইতেও বেশী। আমার কায়া, আমার ইন্দ্রিয়, আমার আত্না তোমার স্বাদ পেতে ক্ষুধার্ত থাকে তোমার উপস্থিতি আমি আমার আত্নার ভেতর অনুভব করি যদিও তুমি আরো অনেকের, তবু আমি অপেক্ষা করি নিভৃতে, নিরব অথচ প্রবল অনুরাগে যদি তোমার ইশারার দেখা পাই, কিংবা যদি তোমার নজরের একটুখানি পাওয়া যায়...” - রুমি। কোনিয়া।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
এটা কি হার্ডকাভার?
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি হার্ডকভার। ধন্যবাদ।
এটা কি হার্ডকাভার?
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি হার্ডকভার। ধন্যবাদ।





















