

Buy তেইল্যা চোরা Online in Bangladesh
লেখক: ওবায়েদ হক
- Author: ওবায়েদ হক
- Publisher: ৫২ (বায়ান্ন)
- Isbn: 9789849445524
- Number Of Pages: 118
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2020
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"তেইল্যা চোরা" বইয়ের ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ ফজর আলীকে ঘুম পাড়াতে পারছে না। মেঝেতে উপুড় হয়ে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে আছে সে। তার বুক ফেটে কান্না আসছে। প্রফেসর ফজরের পিঠে হাত রাখলাে। জিজ্ঞেস করলাে, “কী হয়েছে। ফজর?” ফজর কুর্তার আস্তিন দিয়ে চোখ মুছে বলল, “স্যার আমি এইখানে থাকলে মইরা যামু।” “এইখানের খাওয়া-দাওয়া, পরিশ্রম সব একসময়। তােমার শরীর মানিয়ে নিবে।” “না স্যার, খাওনের কষ্ট সহ্য করতে পারুম, আমগাে জীবনে এর চেয়ে বেশি কষ্ট পাইয়া আইছি।” “তাহলে কী হয়েছে?” “আমার পােলাডার চেহারা ভুইল্যা গেছি স্যার, মনে করতে পারি না। আমি আমার মজিদের চেহারা মনে করতে পারি না।” “আমি জানি তােমার কেমন লাগছে। প্রিয়জনদের চেহারা বেশিদিন মনে রাখা যায় না, মন ভুলিয়ে দেয়, যাতে চোখ বারবার তাদের দেখে সেজন্যই। তারা প্রিয়জন “স্যার আমি এইখান থেইক্যা পলাইয়া যামু।” । “সবাই আমাকে পাগল বলে, কিন্তু তুমি এখন। পাগলের মতাে কথা বলছাে। তেরােটা বুলেটের। কথা মনে আছে?” “মরণের ভয় নাই, এইখানে প্রত্যেকদিন মরি।”
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

ওবায়েদ হক রচিত 'তেইল্যা চোরা' একটি অসামান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা সমাজের তথাকথিত নিচু শ্রেণী ও চোর হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও রূপান্তর তুলে ধরে। ফজর আলী নামের এক পেশাদার চোরের জীবনের গল্প, তার আত্মোপলব্ধি এবং যুদ্ধের অস্থির সময়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামের এক অনন্য দলিল এই বইটি।বইয়ের মূল বৈশিষ্ট্য ও রিভিউ:ভিন্ন দৃষ্টিকোণ: প্রথাগত মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারকেন্দ্রিক কাহিনীর বাইরে, সমাজের অপাঙক্তেয় ও নিচু শ্রেণীর মানুষের জবানবন্দিতে যুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠেছে।চরিত্রের গভীরতা: ফজর আলী, আমেনা, পাগলা প্রফেসর—প্রতিটি চরিত্রই জীবন্ত। চোর হয়েও ফজর আলীর ভেতরের মানুষটি, বিশেষ করে তার ছেলের চেহারা ভুলে যাওয়ার যাতনা পাঠককে আবেগাপ্লুত করে।ধূসর চরিত্রায়ণ: লেখক চরিত্রগুলোকে শুধু সাদা বা কালো (ভালো বা খারাপ) হিসেবে দেখাননি, বরং তাদের লোভ, লালসা, দুর্বলতা ও দেশপ্রেমের মিশ্রণ দেখিয়েছেন।ভাষা ও প্রেক্ষাপট: গ্রাম্য ভাষার সাবলীল ব্যবহার এবং গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, ধর্মান্ধতার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।মূলভাব: অপরাধী কি জন্মগত, নাকি সমাজ তাদের অপরাধী বানায়—এই প্রশ্নটিই উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু।সামগ্রিকভাবে, 'তেইল্যা চোরা' একটি গভীর, বাস্তবমুখী ও আবেগঘন উপন্যাসের স্বাদ দেয়, যা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
চমৎকার একটি বই।আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় থাকবে।লেখকের লেখা অসাধারণ।

ভালো বই। একটা চোরের জীবন কেমন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গ্রাম বাংলার সিচুয়েশন কেমন ছিলো তা জানা যাবে বইটা পড়লে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপন্যাস কিংবা ছোটগল্পের শেষ নেই। 'তেইল্যা চোরা' উপন্যাস টি সেই তালিকার আর একটি নতুন সংযোজন। 'তেইল্যা চোরা' উপন্যাসটি তে মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপন্যাসটি তে যেমন একজন চোর আর তার পরিবারের দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধ ফুটে উঠেছে, একই সাথে কিছু ভঙ্গহৃদয় মানুষের জীবনের ছবিও প্রকাশ পেয়েছে। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রকেই অনেক সুন্দর ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এবং উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধান চরিত্র (ফজর আলী)-কে যেমন প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তেমনি ভাবে অন্যান্য চরিত্রগুলোকেও উপন্যাসে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পাগলা প্রফেসর, সুজন মাস্টার, নসু মাঝি, রোশনী, হুরমতি চরিত্রগুলোর চিত্রায়ন অনেক অল্প হলেও উপন্যাসে তাদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। পাকিস্তানিরা কখনো মুসলমান হত্যা করবে না বলা ইউসুফ মুন্সীর উপস্থিতিও ছিল অনেক প্রবল। উপন্যাসটি নিয়ে অভিযোগ করার মত তেমন কিছুই নেই। তবে জেলখানায় পাগলা প্রফেসরের শেষ পরিণতি কি হয় সেটা জানতে পারলে ভালো লাগতো। একই সাথে উপন্যাসের শেষ দিকে ফজর আলীর সাথে তার স্ত্রী (আমেনা) ও পুত্রের (মজিদ) দৃশ্যায়নটা আরেকটু বড় হলে ভালো লাগতো। বইয়ের সাথে থাকুন, বইয়ের সাথে বাঁচুন।
অসাধারণ লিখেছেন ওবায়েদ হক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে চিরাচরিত গল্প বা ঘটনাবলীর উর্ধ্বে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালকে যে ভিন্ন মাত্রায় উপস্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।






















