

Buy এমন দিনে তারে বলা যায় Online in Bangladesh
লেখক: আফিফা পারভীন
- Author: আফিফা পারভীন
- Publisher: গ্রন্থরাজ্য
- Number Of Pages: 384
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, July 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
কোনো একটি দিন এমন হয় যে, সেই দিনটিতে সবকিছুই একটু ব্যতিক্রমী ও বেহিসেবী হয়। বহু দিনের অবরুদ্ধ মনের একান্ত আকুল চাওয়া ও সমস্ত অব্যক্ত কথা যেন এমন দিনেই নিঃসংকোচে প্রাণ খুলে প্রকাশ করা যায়। এমন দিনেই কোনো মাহেন্দ্রক্ষণে বেশুমার খুশি ও ভালোবাসা স্বর্গ থেকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ হিসেবে যেন এসে ঝরে পড়ে মানুষের জীবনে! তারপর নশ্বর জীবনকে ভরিয়ে দেয় অপার্থিব আলোর রোশনাইয়ে, সাজিয়ে দেয় পারিজাতের সুঘ্রাণে। নানা রঙের সুতোয় বোনা নকশী চাদরের মতো জীবন তখন হয়ে উঠে অনবদ্য, অমলিন ও ঝলমলে। আর সেই সুগন্ধি রঙিন চাদরের মতো অনন্য জীবনের ভাঁজে ভাঁজে থাকে শুধু বিশ্বাস, মায়া ও ভালোবাসা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

সুন্দর,,, খুবই ভালো লেগেছে❤️❤️

#অনুভূতি_কথন বই- এমন দিনে তারে বলা যায় লেখিকা- আফিফা পারভীন প্রচ্ছদ- ফাইজা ইসলাম প্রকাশনী- গ্রন্থরাজ্য গল্পটা শুরু হয় এক বৃষ্টির দিনে। দুটি পাতা একটি কুড়ির জেলা সিলেট হলেও সেই বিভাগের আরেকটি জেলা হবিগঞ্জের একটি রিসোর্ট থেকে। যেখানে বৃষ্টিপ্রেমী ক্যাপ্টেন রুমি সিদ্দিকী তার তিন ক্যাপ্টেন বন্ধুকে সাথে নিয়ে ছুটি কাটাতে আসে। কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঝগড়া বেধে যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল চৌধুরীর মেয়ে অহনা চৌধুরী বৃষ্টি'র সাথে। 🥺 বিকালে যখন বাকি বন্ধুরা বৃষ্টি দেখে খিচুড়ি খেয়ে ঘুমাতে ব্যস্ত তখন রুমি নিজেকে কোনভাবেই রুমে আবদ্ধ রাখতে পারলো না। একই রিসোর্টে ব্যবসায়িক কাজে থাকতে আসেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ইকাবাল চৌধুরী তার অতিথিবৃন্দ এবং একমাত্র মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে। বৃষ্টির মায়ের বৃষ্টি পছন্দ ছিলো বিধায় নিজের মেয়ের নাম রাখেন বৃষ্টি। আকাশ থেকে নামা বৃষ্টি দেখে তার প্রশংসায় কিছু বাক্য আওড়ানোতেই লেগে গেলো দ্বন্দ্ব এবং তারপরে সেই ভুল বোঝাবুঝি রুপ নিলো ঝগড়ায়। ঝগড়া করে মেজাজ খারাপ নিয়ে রুমে এসে নিজের প্রিয় বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে গেলো বিলিয়ার্ড খেলতে তখন ইকবাল চৌধুরীর সাথে পরিচয় হলো রুমি, জামান, আসাদ ও আশরাফ এর। জমে গেলো অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সাথে চার তরুণ ক্যাপ্টেনের খেলা। সেখান থেকে যখন ডিনারে গেলো তখন তাদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটলো। আমরা জানি না, ভালোবাসা আমাদের জীবনে কখন কিভাবে ধরা দিবে। কখনো কখনো প্রথম দেখাতেই ভালবাসা হয়ে যায় তো কখনো ভালোবাসা বুঝতে অনেকটা সময় চলে যায়। কেউ সেটা ধরতে পারে তো কারো কারো অধরাই রয়ে যায়। রুমির সাথে বৃষ্টির যে ভুল বোঝাবুঝি হলো সেটা থেকে মাফ চাওয়া পর্যন্ত বৃষ্টি জানে না তার সাথে কি হবে বা হতে যাচ্ছে। যে লোকটাকে সে এতো বকাঝকা করলো পরে তার সামনে যেতেই লজ্জা লাগবে, স্বপ্নে সেই হানা দিবে কোন রকম কথা বার্তা ছাড়া। সবচেয়ে ভয়ংকর সুন্দর ঘটনা হবে যখন রুমি বৃষ্টিকে সিলেটের সৌন্দর্য দেখাতে নিয়ে যাবে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে ক্যান্টমেন্ট এ বড় হওয়া বৃষ্টি যদিও সিলেটে আগে থেকেছে কিন্তু ঘুরতে যাওয়া হয়নি ছোট থাকার কারণে। তাই বাবার সাথে এসে সিলেটের সৌন্দর্য দেখার সুযোগ মিস করতে চায়নি। নিজে নিয়ে যেতে না পারলেও মেয়েকে নিরাশ করেননি ইকবাল চৌধুরী। গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলেই গেলো বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পর্যটন স্থান বিছানাকান্দি। রুমি এবং বৃষ্টির বিছানাকান্দি ভ্রমণের সাথে সাথে লেখিকা আফিফা পারভীন আপু খুব সুন্দর ভাবে বিছানাকান্দির সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন এবং সেই জায়গার মানুষের জীবন জীবিকা কিভাবে আসে, মানুষের জীবন যাত্রা কেমন সেগুলোও খুব সুক্ষ ভাবে তুলে ধরেছেন। প্রত্যেকটা বিষয় এতো সুন্দরভাবে উঠে এসেছে বইতে যে আপনার পড়তে খুব ভালো লাগবে। ঘুরতে যাওয়া এই জায়গাগুলোর বেপারে আমরা অনেক কিছুই জানি না। বিছানাকান্দি থেকে জাফলং যেতে যেতে বৃষ্টি আবারো গ্রাম বাংলার রুপ দেখলো। শহরে বড় হলেও বৃষ্টির গ্রামীণ জীবন সব সময় খুব আপন লাগে। জাফলং এ পৌছে রেস্ট হাউসে বসে তারা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলো তখনই বৃষ্টির প্রশ্নের কারণ থাকতে না পেরে রুমিকে জামানের জীবন সম্পর্কে বলতে হয়েছে। সেই কাহিনীটা ছিলো খুবই হৃদয়বিদারক। আমাদের চারপাশে আমরা যতো হাসিখুশি মানুষ দেখি সবার জীবন কিন্তু তেমন হাসিখুশি থাকে না, সেই হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকে অনেক অশ্রু। কথায় আছে যদি কোন মানুষকে তুমি জানতে চাও তাহলে তার সাথে ভ্রমণে বের হও। রুমির বেলাতে এই উক্তিটা যেন আরো বেশি প্রযোজ্য। প্রথম দেখায় বৃষ্টির সম্পর্কে তার যা ধারণা ছিলো একদিনের ভ্রমণে সেটা পুরোই পাল্টে গেলো। মা ছাড়া মেয়েটার প্রতি তার মনে আর কোন বাজে অনুভূতি রইলো না। বরং বলা যায় সেটা পাল্টেই গেলো। 😊 'এমন দিনে তারে বলা যায়' একটা সামাজিক উপন্যাস। এখানে প্রেম আছে, বিচ্ছেদ আছে। এই গল্পে আমাদের সমাজে বিভিন্ন স্তরের মানুষের গল্প উঠে এসেছে। কেউ সন্তানের জন্য হাহাকার করছে তো কেউ সংসারের হাল ধরার জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে। কেউ ভালোবাসার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে তো কেউ ভালোবাসার মানুষকে পাবে না জেনে নিরবে কেঁদেছে। গল্পে প্রতিটা চরিত্র খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গল্পটা আপনাকে ধরে রাখবে। প্রকৃতির বর্ণনায় একটা সময় আপনি হারিয়ে যাবেন। মনে হবে আপনি নিজেই যেন ভ্রমণ করছেন চরিত্রগুলোর সাথে। চরিত্রগুলো যেমন গল্পের প্রয়োজনে এসেছে তেমন তার সমাপ্তিও সুন্দরভাবে টানা হয়েছে। পার্ফেক্ট এন্ডিং যেটাকে বলে 'এমন দিনে তারে বলা যায়' তেমনই একটা গল্প। ❤️ হ্যাপি রিডিং 🫶
বইয়ের নাম: এমন দিনে তারে বলা যায় লেখক:আফিফা পারভিন “এমন দিনে তারে বলা যায় ”গল্পটি মুলত ক্যাপ্টেন রুমি সিদ্দিকী এবং অহনা চৌধুরি বৃষ্টি এদের ভালোবাসার । ক্যাপ্টেন রুমি এবং তার তিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু—ক্যাপ্টেন জামান, আসাদ ও আসরাফের বন্ধুত্বের গল্প,তাদের জীবন সাথি, পেশাদারিত্বের চাপেও বন্ধুত্বের সুন্দর সমীকরন, ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন গল্পকে আরও মানবিক করে তোলে। ক্যাপ্টেন রুমি শুধুমাত্র এক জন সাহসী সৈনিকই নন বরং একজন দায়িত্বশীল পরিবারপ্রেমী মানুষ। বন্ধুমহলে রোমিও নামে পরিচিত সব সময় মেয়েদের থেকে দূরত্ব বাজায় রাখা রুমি কখন কিভাবে বৃষ্টির প্রেমে পড়ে গেলো এবং সেই সময়ে তার জীবনে যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে হৃদয়ের লড়াই। বৃষ্টিপ্রেমি রুমির সাথে এক বর্ষনমুখর দিনে দেখা হয় বৃষ্টির। তারপর বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার করে দুজন দুজনের ভালো থাকার সাথী হয়ে যায়। অহনা চৌধুরি বৃষ্টি হাসিখুশি, বোকা,অল্পতেই রেগে গিয়ে বোকা বোকা কাজ করা,আবেগপ্রবণ, ভালো মনের একটা মেয়ে। রুমির প্রতি ভালোবাসা অতুলনীয়। রুমি ইউনিটে চলে যাওয়ার সময় তার অনুভুতিটা আমি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি। আমার হাসবেন্ড একজন সৈনিক সেই সময়ে বৃষ্টির মধ্যে আমি নিজেকে অনুভব করতে পারছিলাম। আসলে আপুর লিখা ম্যাজিক এর মতো কাজ করে। এতো সুন্দর বর্ণনা। গল্পের প্রতিটি চরিত্র এতো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে প্রতিটি চরিত্র আপনাকে এতো মুগ্ধ করবে যে ঘোরের মাঝে পড়ে যাবেন। রুশা সিদ্দিকী,ইকবাল চৌধুরি,রেহনুমা আন্টি, শ্রাবণী, রুনি, বিশেষ করে রুমির তিন বন্ধু জামান, আসাদ, আসরাফ এই চরিত্র গুলোর প্রেমে পড়ে গিয়েছি। আপুর বর্ণনা সহজ ও মনোমুগ্ধকর। আর্মি লাইফের কঠিন বাস্তবতার পাশাপাশি বন্ধুত্বের হাসি-কান্না সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। মিশনের উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলো যেমন হৃদয় কাঁপায়, তেমনি চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত সংকটও আমাকে আবেগপ্রবণ করে তুলছিল। তাদের বন্ধুত্বের মুহূর্তগুলো হৃদয়ছোঁয়। গল্পে প্রেম, বন্ধুত্ব, পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের কথা এমন ভাবে প্রকাশ পেয়েছে সত্যিই অতুলনীয় । আর্মি ক্যাম্পের বাইরে সৈনিকদেরও একটি জীবন আছে, যেখানে অনুভূতি, সম্পর্ক, এবং বন্ধন কাজ করে সুন্দর ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। গল্পটি পড়তে গিয়ে কখনও হেসেছি, কখনও চোখ ভিজে উঠেছে। --- যারা আর্মি ভিত্তিক গল্প পড়তে পছন্দ করে এবং সেই সাথে বন্ধুত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখতে চায়, তাদের জন্য এই গল্পটি আদর্শ। এটি মানুষের আবেগ, সম্পর্ক এবং দায়িত্বের কথা বলে। [ অগোছালো এলোমেলো একটা অনুভূতি প্রকাশ। জানি না এটা রিভিউ এর মধ্যে পড়ে কিনা। ]

#এমন_দিনে_তারে_বলা_যায় "বৃষ্টি আমার ভীষণ প্রিয়। ঝুমঝুম বৃষ্টিতে ভেজা কিংবা বৃষ্টি ভেজা দিনে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা আর সাথে আমার প্রিয় একটা বই নিয়ে জানালার পাশে বসা- আহা!জীবন কত সুন্দর।" জনপ্রিয় লেখক আফিফা পারভীনের প্রথম উপন্যাস ছিলো "এসো নীপবনে" যার পরিমার্জিত ও বর্ধিত রূপ "এমন দিনে তারে বলা যায়"। এটি একটি হৃদয়ছোঁয়া ও গভীরভাবে বাস্তবমুখী উপন্যাস যা পাঠককে জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও আবেগের জগতে নিয়ে যায়। বইটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে চারজন আর্মি অফিসার রুমি, জামান, আশরাফ এবং আসাদের বন্ধুত্ব, তাদের ব্যক্তিগত জীবন, এবং পেশাগত দায়িত্বের ওপর। এই উপন্যাসে যুদ্ধ, ভালোবাসা, ত্যাগ, এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের চিত্র অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ★কাহিনীর মূলধারা : ক্যাপ্টেন রুমি একজন দায়িত্বশীল কিন্তু সংসার জীবনের প্রতি সংশয়ী মানুষ। তার জীবনে একটি বড় মোড় আসে যখন সে পরিচিত হয় বৃষ্টি নামের মেয়েটির সাথে। বৃষ্টি একাধারে শান্ত ও রাগী, এবং মা হারানোর বেদনায় বড় হওয়া মেয়েটি জীবনে স্থিতি খুঁজতে থাকে। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ ঝগড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এ সম্পর্ক রূপ নেয় ভালোবাসায়। রুমি এবং বৃষ্টির সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি পাঠকদের মনে এক নতুন আবেগের জন্ম দেয়। "কি হয়েছে সঠিক জানি না। তবে এটুকু বুঝতে পারছি, কিছু একটা হয়েছে। আমার অনিচ্ছায়, অজান্তেই খুব বড় ধরনের রদবদল হয়ে গেছে কোথাও। " ( রুমি, পম: ১৫৩) অপরদিকে, জামান তার ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে এক ধরণের শূন্যতায় দিন কাটায়। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জামানের জীবনে কি ভালোবাসা আর ফিরে আসবে শ্রাবণধারার মতো ? আসাদ তার পরিবারের দায়িত্ব পালনে নিজের স্বপ্নগুলোকে বিসর্জন দেয়। আর আশরাফ তার ভালোবাসার মানুষ জাফরিনকে বিয়ে করলেও, সংসার জীবনে তার যে সংগ্রাম সেটাও সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। "ভালোবাসা কখনো নিঃস্বার্থ হয় না। বরং ভালোবাসার মতো স্বার্থপর ব্যাপার আর একটিও নেই। ভালোবাসা সবসময় নিজ স্বার্থে স্বার্থপর হয়। " ( জামান, পৃ: ২০৪) ★বইটির গভীর দিক : বইটির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে ঢাকায় ঘটে যাওয়া একটি জঙ্গি হামলা। এই অংশটিতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ত্যাগ ও তাদের জীবনের অনিশ্চয়তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন অভিজ্ঞ হাতে। লেখকের সুকৌশলী লেখায় রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা পাঠককে ভাবিত ও আতঙ্কিত করে রাখবে। "সব সময় চলে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়। কোন কোন চলে যাওয়া এমন হয় যে, যাওয়ার পরেও সবটুকু জুড়ে থেকে যায়। " ( বৃষ্টি, পৃ: ৩২) ★আমাদের শহীদ পরিবার : এই উপন্যাস আমাদের শহীদ পরিবারের বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয়। দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া সেনাদের পেছনে থেকে যায় তাদের পরিবারের গভীর শূন্যতা। অনেক সময় এই পরিবারগুলোর সংগ্রাম এবং তাদের মনের বেদনা সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। শহীদ সেনাদের সন্তানদের জীবনে বাবা হারানোর শূন্যতা অমার্জনীয়। কিন্তু তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে, তাদের জীবনে নতুন স্বপ্ন এবং স্থিতি আনতে আমাদের দেশকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। "একটি বুলেট মানুষের স্বপ্ন, সুখ, শান্তি কেড়ে নিয়ে জীবনকে কেমন বিবর্ণ করে দেয়, এটা যারা ভুক্তভোগী শুধু তারাই জানেন। ( পৃ:৩৫০) । ★পাঠকপ্রতিক্রিয়া: উপন্যাসটি পড়ার পর মনে হয়েছে, এটি শুধু একটি বই নয়, বরং জীবনের গভীরতম আবেগ আর কঠিন বাস্তবতার চিত্রায়ন। কাহিনীর প্রতিটি অধ্যায় আমাকে ভেতর থেকে নাড়া দিয়েছে। সবার আগে বলি, রুমি আর বৃষ্টির সম্পর্কের জটিলতা এবং আবেগের ওঠানামা আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে। ঝগড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়—এই রূপান্তর ছিল বাস্তব আর মুগ্ধকর। বৃষ্টির রাগ, রুমির দ্বিধা—সবকিছু এতটা জীবন্ত লেগেছে যে, মনে হয়েছে আমি যেন চরিত্রগুলোর পাশেই দাঁড়িয়ে আছি। জামান, আসাদ, আর আশরাফের গল্পগুলোও আমাকে ভীষণভাবে ছুঁয়ে গেছে। বিশেষ করে জামানের হারানোর বেদনা আর আসাদের ত্যাগের দিকগুলো হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। শহীদ একজন বীর যোদ্ধার গল্প তো মনে গভীর দাগ কেটেছে। এই অংশটুকু পড়ে আমার চোখ ভিজে উঠেছিল। আফিফা পারভীন অত্যন্ত সাবলীলভাবে গল্পটি লিখেছেন। লেখার ধরণ এমন যে, মনে হয় চরিত্রগুলো পাঠকের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে। চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, তাদের অনুভূতির জটিলতা এবং কঠিন বাস্তবতাগুলো পাঠকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে। বইটিতে দেশের সেনাদের জীবন, তাদের সংগ্রাম, এবং শহীদ পরিবারগুলোর বাস্তবতার প্রতি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে এই বাস্তবতার কথা ভেবে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছি। লেখিকার ভাষার সাবলীলতা আর গল্প বলার কৌশল এতটাই প্রাঞ্জল যে, বইটি শেষ না করে রাখা অসম্ভব। প্রত্যেকটি চরিত্রের অনুভূতি যেন আমার নিজের অনুভূতিতে মিশে গেছে। এই উপন্যাসটি আমাকে জীবন, ত্যাগ, এবং ভালোবাসার নতুন অর্থ বুঝিয়েছে। এটি এমন একটি বই, যা একবার পড়লে পাঠক শুধু কাহিনী নয়, চরিত্রগুলোর জীবনের অংশ হয়ে যায়। আমি এই বইটি সবাইকে পড়ার পরামর্শ দেব, বিশেষ করে যারা জীবনের গভীর অর্থ খুঁজতে চান। লেখকের ভাষায় _ "এমন দিনে কোন মহেন্দ্র ক্ষণে বেশুমার খুশি ও ভালোবাসা স্বর্গ থেকে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ হিসেবে যেন এসে ঝরে পড়ে মানুষের জীবনে!তারপর নশ্বর জীবনকে ভরিয়ে দেয় অপার্থিব আলোর রোশনাইয়ে, সাজিয়ে দেয় পারিজাতের সুঘ্রানে।
বইটি অনেক সুন্দর এন্ড wallpepar টা josss
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
বইটা আসবে কবে?
প্রিয় গ্রাহক, প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 10 Sep 2024 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে। আপনি প্রি-অর্ডার করে রাখলে এ্যাড টু কার্ড হওয়ার পর বইটি পাবেন। ধন্যবাদ।
বইটা আসবে কবে?
প্রিয় গ্রাহক, প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 10 Sep 2024 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে। আপনি প্রি-অর্ডার করে রাখলে এ্যাড টু কার্ড হওয়ার পর বইটি পাবেন। ধন্যবাদ।






















