শ্বেতপদ্ম
বই কালেকশন

Buy শ্বেতপদ্ম Online in Bangladesh

লেখক: শানজানা আলম

4.67
(9 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: শানজানা আলম
  • Publisher: চলন্তিকা
  • Isbn: 978-984-97185-2-9
  • Number Of Pages: 88
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Edition, 2023
৳ 239৳ 27011% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ থেকে সাধারণ এক গৃহবধূ ইসরাত, কর্পোরেট পলিটিক্সে তার স্বামী শাহেদের চাকরিটা চলে যায়। এরপর জমা টাকা খরচ করে ঢাকায় টিকে থাকতে তাকে অনেক হিসেব করতে হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষরক্ষা হয় না। ঢাকার পাট গুছিয়ে শাহেদ গ্রামে চলে যায়। ইসরাত ওঠে বড় ভাইয়ের বাসায়। সেখানে ভাবির বিমাতাসুলভ আচরণ আর শাহেদের শীতল ব্যবহার তাকে অনিশ্চয়তার সাগরে ফেলে দেয়। ঠিক সেই সময়ে অদ্ভুতভাবে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ইসরাত প্রবেশ করে শোবিজ জগতে। অনভিজ্ঞ ইসরাত পারবে কি নিজের সম্মান আর সংসার বাঁচিয়ে মিডিয়া জগতে টিকে থাকতে? নাকি বলি হকে অচেনা কর্পোরেট ভালোবাসার নামহীন কোনো গল্পে....

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.67
(9 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
67%
4
22%
3
11%
2
0%
1
0%
Farjana Urmi
Farjana Urmi ভেরিফাইড
28 Mar 2024

"সময়কে কখনও পেছাতে নেই, আজকের সুন্দর সময়টা কাল আসবে সেই সিওরিটি আমরা কেউ-ই দিতে পারি না।" বলছিলাম পাঠকপ্রিয় লেখক শানজানা আলমের সমকালীন উপন্যাস "শ্বেতপদ্ম"র কথা। ◑বই পরিচিতি : নাম : শ্বেতপত্র লেখক : শানজানা আলম জনরা : সমকালীন উপন্যাস প্রচ্ছদ : জাহেদ রবিন প্রকাশনী : চলন্তিকা মুদ্রিত মূল্য : ২৭০৳ প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০২৩ রিভিউয়ার : ফারজানা উর্মি ◑ফ্ল্যাপ : সাধারণ এক গৃহবধূ ইসরাত, কর্পোরেট পলিটিক্সে তার স্বামী শাহেদের চাকরিটা চলে যায়। এরপর জমা টাকা খরচ করে ঢাকায় টিকে থাকতে তাকে অনেক হিসেব করতে হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষরক্ষা হয় না। ঢাকার পাট গুছিয়ে শাহেদ গ্রামে চলে যায়। ইসরাত ওঠে বড় ভাইয়ের বাসায়। সেখানে ভাবির বিমাতাসুলভ আচরণ আর শাহেদের শীতল ব্যবহার তাকে অনিশ্চিয়তার সাগরে ফেলে দেয়৷ ঠিক সেই সময়ে অদ্ভুতভাবে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ইসরাত প্রবেশ করে শোবিজ জগতে। অনভিজ্ঞ ইসরাত পারবে কি নিজের সম্মান আর সংসার বাঁচিয়ে মিডিয়া জগতে টিকে থাকতে? নাকি বলি হবে অচেনা কর্পোরেট ভালোবাসার নামহীন কোনো গল্পে..... - শারমিন জুই ◑পাঠ প্রতিক্রিয়া : টাকা ছাড়া মানুষ অচল। মানুষের দৈনন্দিন সকল কাজে টাকার প্রয়োজন। টাকা থাকলে মানুষ অন্যকে সম্মান করে, আর না থাকলে অবহেলা করে রাস্তায় ছুঁড়ে মারতে দুবার ভাবে না। "শ্বেতপদ্ম" মূলত ইসরাত নামক একটি নারীর সংগ্রামের গল্প, যা লেখিকা উপন্যাসে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটিতে মেয়েদের শিক্ষার একটি সুক্ষ্ম দিক তুলে ধরেছেন লেখিকা। মেয়েরা শুধু সংসার সামলাবে এমন মনোভাব আমাদের সমাজের প্রায় সকলেই পোষণ করে। স্বামী, সন্তান, সংসারের বিপদে যে মেয়েরাও পাশে দাঁড়াতে পারে এই ভাবনা খুব কম মানুষের মধ্যেই লক্ষণীয়। শাহেদের চাকরি চলে যাওয়ার পর তাদের বিপদে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। উল্টো কাছের মানুষদের থেকে শুনতে হয়েছে কটু কথা। একটা চাকরি মানুষের স্বাভাবিক জীবনটাকে কীভাবে অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে তা ইসরাত, শাহেদকে দেখলেই বুঝা যায়। বিপদে কাউকে পাশে পাওয়া না গেলেও সাফল্যে মানুষের কূটনীতি করা বন্ধ হয় না। মেয়েদের কাজকে এখনো অনেকেই ভালো চোখে দেখে না, বিশেষ করে মিডিয়ার কাজটা৷ হঠাৎ করেই আদনান ওয়াহিদ ও জিনান ফেরদৌসের আগমনে উপন্যাসটা ভিন্ন পথে মোড় নেয়। পালটে যেতে থাকে ইসরাতদের জীবন। শাহেদকে একসময় লোভী মনে হয়েছে আবার একসময় স্বার্থপর মনে হয়েছে। শাহেদের উপর আমার বিরক্তি থাকলেও তাকে পুরোপুরি দোষী বানানো যায় না। আমাদের সমাজের মানুষগুলোই এমন। প্রতিনিয়ত খোঁচা দিয়ে কথা বলে শাহেদের মনটা বিষিয়ে দিয়েছে তারা। খারাপ সময়ে বলা কিছু কটু কথা মানুষের শরীরে তীরের মতো বিঁধে। "শ্বেতপদ্ম" উপন্যাসটিতে লেখিকা আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন সুনিপুণভাবে। লেখিকা একজন নারীর চড়াই উৎরাই বাস্তবতার মিশেলে বইয়ে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। "না" বলতে পারা হয়তো অনেক কঠিন একটা কাজ৷ সবাই না বলতে পারে না। ইসরাতের সঠিক সময়ে না বলতে পারাটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে৷ এই না বলাটাই তাকে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হয়তো দিবে। ◑লেখনশৈলী : "শ্বেতপদ্ম" বইটি এক বসায় শেষ করেছি৷ বইটি আকারে ছোট হওয়ায় সময় বেশি লাগেনি। লেখিকার লেখনশৈলী যেন আমাকে চুম্বকের মতো আঁকড়ে ধরেছিল। বইটা শেষ না করা পর্যন্ত নিস্তার নেই। শানজানা আলমের লেখা ঝরঝরে, প্রাঞ্জল। সহজ, সাবলীল শব্দচয়ন, বাক্য বিন্যাস, কাহিনী উপস্থাপন বইটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ◑সম্পাদনা, বানান ও অন্যান্য : "শ্বেতপদ্ম" বইটির প্রোডাকশন দারুণ। বাইন্ডিং, প্রিন্টিংও অসাধারণ হয়েছে। বইটির প্রচ্ছদ এককথায় নজরকাঁড়া। বানান ভুলও খুব কমই নজরে এসেছে। তবে বিরামচিহ্নের ব্যবহারে একটু গড়িমসি লক্ষ্য করা যায়৷ উপন্যাসে উদ্ধৃতি চিহ্ন একদমই ব্যাবহার করা হয়নি। তারজন্য কার সংলাপ কোনটা বুঝতে একটু অসুবিধে হয়েছে। ◑রেটিং : ৪/৫

Sharmin Sarwar
Sharmin Sarwar ভেরিফাইড
09 Mar 2024

বুক রিভিউঃ শ্বেতপদ্ম লেখকঃ শানজানা আলম প্রকাশকঃ চলন্তিকা প্রকাশনী প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ প্রচ্ছদঃ জাহেদ রবিন পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮৮ " শ্বেতপদ্ম" অনলাইনে পোস্ট করার সময়ে অনেক পছন্দের ছিল। কিন্তু বইটা পড়ার পর থেকে কেমন যেন জিতে যাওয়ার অনুভূতি হচ্ছে। আসলে মনের অবচেতনে প্রতিটি মেয়েই মনে হয় ইসরাত। সমাজ মেয়েদের অসহায়, অবলা দেখতে পছন্দ করে। তার দুঃখে কষ্টে হাহুতাশ করে কিন্তু সহানুভূতির হাত পাওয়া যায় খুব কম। ভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলেও বাঁকা চোখ যেন পিছু লেগে থাকে। মেয়েদের মন!!সেটা আবার কি!? দুটো খেতে পেলে আর শরীর ঢাকতে পোশাক পেলেই তার তো বর্তে যাবার কথা। নিজের তিলেতিলে গড়ে তোলা সংসারে তার আবার মতামত!! সংসারে নিজের জায়গা শক্ত করতে হলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রয়োজন। কাছের মানুষের আচরণেও পরিবর্তন আসে তখন। স্বার্থপর লোকের কথা কিছু বলার নেই। আপনজনের বেশে এরা ছড়িয়ে থাকে আশেপাশে। সময় সুযোগে উন্মোচিত হয় মুখোশ। এই উপন্যাসের আরেকটা ম্যাসেজ আমার খুব পছন্দ হয়েছে। সঠিক সময়ে শক্তভাবে 'না' বলতে জানতে হবে। একটা 'না' মানুষকে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত রাখে। তাছাড়া সবাইকে জানতে হবে নিজের সীমারেখা। খ্যাতির মোহ যেন কাউকে অন্ধ, লাগামহীন করতে না পারে। ছোট ছোট সাদামাটা সংলাপে মেদহীন ঝরঝরে লেখা।একেকটা ঘটনা যেন একেকটা দৃশ্যকাব্য। আর এটাই শানজানা আলম এর লেখার বৈশিষ্ট্য। তেমন কোন শব্দ বিভ্রাট চোখে পড়েনি।বাঁধাই ও ছাপা চমৎকার। লেখিকার মতে "শ্বেতপদ্ম পতন ও উত্থানের গল্প"। আমি আরেকটু যোগ করতে চাই, এটা মাথা উঁচু করে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যাবার গল্প।

Tithi
Tithi ভেরিফাইড
11 Mar 2024

▪️বই: "শ্বেতপদ্ম" ▪️লেখক: শানজানা আলম ▪️প্রচ্ছদ: জাহেদ রবিন ▪️প্রকাশনী: চলন্তিকা ▪️পৃষ্ঠা: ৮৮ ▪️জনরার: সমকালীন ▪️ভূমিকাঃ অনেকেই বলে ভালোবাসা থাকলে পৃথিবীর সমস্ত কঠিন মূহুর্ত জয় করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা বলে উল্টো কথা, "অর্থ হলো সুখের কারিগর, মানুষের দুয়ারে যখন অভাব আসে ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখক শানজানা আলম এর " শ্বেতপদ্ম " বইটি তেমন অর্থ এবং ভালোবাসা টানাপোড়েনের গল্প। ▪️প্রচ্ছদঃ কিছু প্রচ্ছদ দেখলে বইটি সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে করে, ঠিক তেমনই একটা প্রচ্ছদ হলো "শ্বেতপদ্ম " বইয়ের। প্রচ্ছদের নারী অবয়টিকে দেখলে মনে হয় কত রহস্যে ঘেরা, এই নারী অবয়টিকে দেখলে মনের ভিতর বিভিন্ন রকম প্রশ্ন জাগ্রত হবে, প্রতিটি পৃষ্ঠা উল্টাতে ইচ্ছা হবে। ▪️নামকরণঃ প্রথম দিকে বইটির নাম আমাকে কিছুটা বিভ্রান্ত করেছে, কিন্তু একটা বইয়ের নামকরণের জন্য লেখককে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হয়৷ এই বইয়ের ক্ষেত্রে লেখক কাজটি অনেক নিপুণ ভাবে করেছেন। আমি যখন বইটি পড়া শেষ করলাম বইয়ের নামকরণটি যথাযথ মনে হয়েছে। ▪️কাহিনী সংক্ষেপেঃ এই শহর চলে টাকার উপরে, আপনার টাকা নাই চারপাশ অন্ধকার। অর্থ না থাকলে জীবন বড় তুচ্ছ , মানুষ বদলে যায় পরিস্থিতি বদলে যায়। সুখের সংসারে হঠাৎ করে অন্ধকার চলে আসলে, আলোর পথ খুঁজে পাওয়া বড় কঠিন। স্বামী সন্তান নিয়ে দিব্য সুখে থাকা ইসারতের সংসারে হঠাৎ করেই ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। তার স্বামী সাহেদ গ্রামে চলে যায় কিন্তু ইসরাত যেতে পারেনা, মেয়েকে নিয়ে ভাইয়ের বাসায় উঠে। বড় ভাই বোনের মুখের দিকে চেয়ে বোনকে থাকতে দেয়। তার ভাবী তাহেরা ইসরাত এবং ইসরাতের মেয়ে তিন্নিকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেনা। কি এমন ঘটনা ঘটে ছিলো? হঠাৎ করেই তাদের সংসার জীবনে বিরতি নিয়ে আসে। ইসরাত এবং সাহেদের এই দূরত্ব কি তাদের জীবনের সমীকরণ চেঞ্জ করে দিবে, নাকি ইসরাত এবং তিন্নির জীবন সাহেদকে ছাড়া আরও কঠিন হবে। ▪️পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ এই বইয়ের গল্প যেনো আমাদের আশেপাশের গল্প, তবে লেখক তার লেখনি দিয়ে লেখাটাকে অনেক চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন। সাধারণ একজন গৃহিণী ইসরাতের গল্পকে পাঠকের কাছে তুমূল জনপ্রিয় করে তুলেছেন। বইটি ছোট হলেও দারুণ উপভোগ্য ছিলো। কিছু ছোট বই পড়তে গেলে মাঝে মাঝে অনেক বিরক্ত লাগে কিন্তু এই বইটি পড়তে গিয়ে আমার একটুও বিরক্ত লাগেনি। এই বইটির সাথে আমার চমৎকার মূহুর্ত কেটেছে। ইসরাতের অন্ধকার জীবনে কিঞ্চিত আলো নিয়ে হাজির হয় আদনান ওয়াহিদ। ছোট্ট একটা বিজ্ঞাপনে কাজ পায়, এরপর আরও বেশকিছু কাজ করে মোটামুটি টাকা পায়। তারপর ইসরাতের নতুন পথচলা শুরু হয় ফিফটি টু এন্টারটেইনমেন্টের সাথে। এখান থেকেই ইসরাতের নব পথ চলা শুরু হয়, এই পথ চলা খুব একটা সহজ হয়না। তার এই সাধারণের মধ্যে অসাধারণ লুকটাই পরিচয় করিয়ে দেয় সানশাইন গ্রুপের এমডি জিনান ফেরদৌসের সাথে। অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝে নিজের কাজের কথা জানিয়ে দেয় সাহেদকে। সাহেদ দ্বিমুখী হয়েও রাজি হয়ে যায় এবং ঢাকায় চলে আসে। তাদের সংসার জীবন আবার চলতে শুরু করে। ইসরাতের এই পথচলায় সাহেদের সমথর্ন থাকলেও, একটা সময় গিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করে। তার এই সাফল্য সাহেদ অন্যভাবে ভাবতে শুরু করে । তাদের সম্পর্ক দাঁড়ায় তখন বিশ্বাস অবিশ্বাসে। এখন ইসরাতের জীবন কোন দিকে মোড় নিবে , ইসরাতই বা কতদূর যেতে পারবে। তবে ইসরাতের এই পথচলায় আমাদেরকে একটা শিক্ষা দেয়, জীবনে যে-কোনো পরিস্থিতি আসুক না কেনো পড়াশোনাকে সবার উপরে রাখতে হয়। একমাত্র বিপদের সঙ্গী আপনার পুঁথি গত বিদ্যাই হবে। "শ্বেতপদ্ম" বইটি মেয়েদের জন্য শিক্ষনীয় । ▪️চরিত্র বিশ্লেষণঃ একটা উপন্যাস আপনার মনে তখনই রাজত্ব করবে যখন চরিত্র গুলোকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। ▫️ইসরাতঃ একজন নারীর পথচলা খুব কঠিন হয়, সমাজে বিভিন্ন রকম প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এই সমস্ত প্রশ্নকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ইসরাত সফল হয়েছে। সে তার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। কারো কথাকে গায়ে লাগতে দেয়নি, সেসব কথাকে এড়িয়ে গেছে। ▫️সাহেদঃ এই চরিত্রটিকে শুধু পুরুষ মানুষই মনে হয়েছে, জীবনসঙ্গী হিসাবে তার পারফরমেন্স শূন্য। আমাদের আশেপাশে এমন অকৃতজ্ঞ সাহেদ বহু আছে। ▫️আদনান ওয়াহিদঃ আমার মনে প্রশ্ন জেগে ছিলো এটা হয়তো ইসরাতের জীবনে দ্বিতীয় বসন্ত হয়ে আসবে। কিন্তু লেখক অনেক দক্ষতার সাথে, অনেক সুন্দর করে কাটিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যান। আদনান ওয়াহিদের মত ব্যক্তিত্ববান মানুষের হাত ধরে গৃহবধূ ইসরাত খুঁজে পেলো তার ভবিষ্যৎ। আদনানকে চমৎকার লেগেছে। বেশকিছু জায়গায় আদনান চরিত্র আমাকে মুগ্ধ করেছে। ▫️জিনান ফেরদৌসঃ জিনান ফেরদৌস চরিত্রটি অনেক আকর্ষণীয় ছিল। তার কার্যকলাপ আমাকে বেশ বিভ্রান্তে ফেলেছে, আমি বেশ চিন্তিত ছিলাম ইসরাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ইসরাতের কাছে তার প্রত্যাশা কি, ইসরাতের সামনের পথচলা সহজ হবে তো। এই সমস্ত প্রশ্ন গল্পকে অনেক বেশী আকর্ষিত করেছে। ▪️উপসাংহারঃ শানজানা আলমের "শ্বেতপদ্ম " বইটি চমৎকার ভাবে উপভোগ করেছি। তার সহজ সাবলীল ভাষায় বর্ণনা আমাকে বেশী আকর্ষিত করেছে। শানজানা আলমের পরবর্তী বইয়ের জন্য শুভকামনা। রেটিং: ৪/৫

জামান
জামান ভেরিফাইড
17 Jul 2023

কোনো লেখাতেই বিষয়বস্তুর তেমন কোনো বৈচিত্র্য নাই। সেই একই পুরনো মদ নানারকম বোতলে ভরে বিক্রি। লেখিকার আর কোনো বই পড়ার আগ্রহ পাচ্ছি না।

টি এ অনন্যা
টি এ অনন্যা ভেরিফাইড
30 Apr 2023

বই: শ্বেতপদ্ম লেখক: শানজানা আলম প্রকাশনী: চলন্তিকা প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৩ মুদ্রিত মূল্য: ২৮০৳ "অর্থ না থাকলে ভালোবাসাও জানালা দিয়ে পালায়।" এমন কথাকে আমরা তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলি, "ভালোবাসার মানুষের সাথে শূন্য আকাশতলে বৃক্ষের নিচেও ভালো বাসা হয়, হয় সুখের সংসার। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এমনটা হয়? কার জয় হয় ভালোবাসা না-কি অর্থ? বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় লেখক শানজানা আলম এর "শ্বেতপদ্ম" বইটি তেমনই ভালোবাসা ও অর্থের টানাপোড়েনের এক গল্প। প্রচ্ছদ ও নামকরণ: প্রথম দেখায় শ্বেতপদ্ম বইয়ের প্রচ্ছদ আপনাকে মোহিত করবে। মনের অজান্তেই পাঠককে নিয়ে যাবে ভাবনার গভীরে। মনে হবে একজন নারী অবয়ব যেন রহস্যে ঘেরা। নারীটি বিষাদগ্রস্ত না-কি কোনো ভাবনায় বিভোর। কী আছে এই নারীর মাঝে? সে ভাবনা থেকেই হয়তো পাঠক আপন মনে বইয়ের কভার উল্টে পড়তে শুরু করবেন বইটি। একটি বইয়ের নামকরণে নান্দনিকতা লেখকের বিচক্ষণতার বহিঃপ্রকাশ। এই বইয়ের ক্ষেত্রে লেখক সূক্ষ্মভাবেই সে কাজটি করেছেন। প্রথমদিকে আপনার মনে হতেই পারে কেন লেখক কেন বইটির এমন নামকরণ করলেন। সুকৌশলী পাঠক বই পড়ার পরিক্রমায় ঠিক তার কারণ খুঁজে পাবে। বই কথন: "এই শহরটা চলে টাকার ওপর, এটাই সত্য। এখানে টাকা থাকলে চারপাশ ঝলমলে হয়। টাকা না থাকলে নিকষ কালো মেঘে ঢাকা থাকে মাথার উপরের আকাশ।" স্বামী, সন্তান নিয়ে দিব্যি বহাল তবিয়তে চলা ইসরাতের ভালোবাসায় মোড়া সংসারে হঠাতই নেমে আসে নিকষ কালো অন্ধকার, মাথার উপরের আকাশটা ঢেকে আসে কালো মেঘে। সাংসারিক জীবনের সাময়িক বিরতি নিয়ে তার স্বামী শাহেদ চলে যায় গ্রামের বাড়ি আর সে চলে যায় ভাইয়ের ছোটো সংসারে। কিন্তু কী এমন ঘটেছে তাদের জীবনে, যার কারণে এই বিরতি? ইসরাতের ভাই ইকবাল বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে বাড়িতে আশ্রয় দিলেও ভাবি তাহেরা বেগম ছিলেন বিরুপ ভাবাপন্ন। শাহেদ ও ইসরাত দু'জন কি দুরত্বে থেকে ভালো থাকবে? বিশেষ করে ইসরাত ও তার মেয়ে তিন্নি? ইসরাতের মেঘে ঢাকা আকাশে কিঞ্চিৎ সূর্যের আলো হয়ে উঁকি দেয় আদনান ওয়াহিদ। ইসরাত পেয়ে যায় একটা বিজ্ঞাপনের সুযোগ। এরপর একে একে বেশ কয়েকটা কাজ করে মোটামুটি ভালো কিছু টাকা-ই আসে তার হাতে। প্রাণ ফিরে পায় সে। নতুন পথে কাজ শুরু হয় তার ফিফটি টু এন্টারটেইনমেন্ট এর সাথে।। ভাই-ভাবি ও শাহেদ কিংবা শাহেদের পরিবার কাউকে না জানিয়েই শুরু হয় তার নব পথচলা। কে এই জিনান ফেরদৌস যে সাধারণ একজন মেয়েকে এত বড়ো কোম্পানির জন্য মডেল করতে চান? কী তার উদ্দেশ্য? তার সাধারণের মাঝে অসাধারণ লুকটাই পরিচয় করিয়ে দেয় সানশাইন গ্রুপের এমডি জিনান ফেরদৌসের সাথে। তার সাথে কাজ করা নিয়ে সিদ্ধান্তের দোলাচালে দুলতে দুলতে শাহেদকে জানায়। অন্তর ও বাহিরের দ্বিমতকে একদিকে রেখে সে-ও স্ত্রীকে কাজের অনুমতি দিয়ে ফিরে আসে ঢাকায়। শুরু হয় আবার পরিমার্জিত সংসার। রাতারাতি ইসরাতের উন্নতি ঘরে-বাইরে সকলের চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়ায়। শাহেদের সাথে শুরু হয় তার ভালোবাসা ও সন্দেহের শীতল দ্বন্দ। কে জিতবে এই দ্বন্দে? ভালোবাসা না-কি সন্দেহ? কী হবে ইসরাত ও শাহেদের সম্পর্কের পরিণতি? ইসরাত কি পারবে তার বেয়ে চলা সিঁড়ির শেষ ধাপটিতে পৌঁছাতে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: এই বইয়ের গল্পটা খুব পরিচিত মনে হয়, ঠিক যেন আমাদের আশেপাশের মানুষের গল্প। কিন্তু লেখক শানজানা আলম তার লেখনী দ্বারা সাধারণ পটভূমির এক সাধারণ গৃহিণী ইসরাতের গল্পটা পাঠক উপভোগ্য করে তুলেছেন। যদিও বইটা আকারে ছোটো, অল্প সময়েই পড়া যায় কিন্তু কখনও কখনও ছোটো বই পড়তেও বিরক্তি লাগে। অথচ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এই বইটা পড়তে পাঠক একদমই বিরক্ত হবে না। তার মূখ্য কারণ হিসেবে আমার মনে হয় পাঠক ধরে রাখার মতো কিছু একটা ছিল। শুরু থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত একই ফ্লো ছিল। একজন নারীর পক্ষে বন্ধুর পথকে মসৃণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া অতটা সহজ হতে দেয় না আমাদের সমাজ। এ বিষয়ে সাফল্য অর্জন করতে দৃঢ়চেতা হতে হয়। ইসরাত সে জায়গায় সফল। সে তার নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। আশেপাশের কথার তীরকে না নিজের শরীরে বিঁধতে দিয়েছে আর না সে প্রতিহত করার বৃথা চেষ্টা করেছে; বরং সেসবকে এড়িয়ে গিয়েছে। গল্পের শুরুতে আদনান ওয়াহিদের সাথে ইসরাতের পরিচয়ের সূত্রটা মনে হয় যেন ভবিষ্যৎ নিব্বা-নিব্বি প্রেমের ইঙ্গিত। কিন্তু লেখক সুকৌশলে কী সুন্দর করে তা কাটিয়ে অন্যদিকে নিয়ে গেলেন। একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আদনান ওয়াহিদের হাত ধরে গৃহবধূ ইসরাত খুঁজে পেল তার ভবিষ্যতের হাল। তবে তার ইসরাতকে নিয়ে বিচক্ষণ চিন্তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। ইসরাত প্রধান চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও আদনান ওয়াহিদ চরিত্রটা আমায় বেশি মুগ্ধ করে। শাহেদকে কখনও কখনও মনে হয়েছে সে কেবলই একজন পুরুষ মানুষ, মানুষ হয়ে ওঠা হয়নি তার। তার মতিভ্রম ব্যথিত করে আমায়। মানুষ ধাক্কা না খেলে ঘুরে দাঁড়ায় না সহজে। ইসরাতের ভাবি তাহেরা এজন্য ধন্যবাদ প্রাপ্য। তার ধাক্কায় ইসরাত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সহোদর ইকবালের কার্য অকৃতজ্ঞতার পরিচায়ক। জিনান ফেরদৌস চরিত্রটা বেশ আকর্ষণীয় ছিল। তার কার্যকলাপ পাঠককে ভ্রমে ফেলেছিল ইসরাতের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে। সত্যি বলতে কী প্রত্যাশা তার ইসরাতের কাছে, আর ইসরাতই বা কতদূর যাবে তার পরিণতিও গল্পের আকর্ষণ বর্ধিত করে। ইসরাত যখন বিপদে পড়ে তখন তার মাধ্যমে লেখক যে মেসেজটা পাঠককে দিয়েছেন তা আমার মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারার সাথে হুবুহু মিলে গেছে। একটা মেয়ে যখন পড়াশোনা করে তখন সমাজের কিছু মানুষ নাক ছিটকিয়ে বলে, "এত পড়াশোনা করে কী লাভ? সে তো ওই হেসেলে ডেগ মাস্টারি-ই করবে।" কিন্তু ডেগ মাস্টারি করবে বলে পড়াশোনা না করে, নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে স্বামীর উপার্জনের উপর নির্ভর করে থাকা নারী যখন বিপদে পড়ে তখন তাকে সাহায্য থাক দূর কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দেওয়ার মানুষ পাওয়া দুষ্কর। অথচ একজন নারী যখন নিজ দক্ষতায় সাফল্যের পথে উঠতে থাকে তখন তাকে নিয়ে কাঁদা ছিটানোর মানুষ অভাব নেই। এই ব্যাপারটা চিন্তা করলে তরুণ নারীদের জন্য একটা বার্তাবাহক বই "শ্বেতপদ্ম"। ব্যক্তিগত অভিমত: গল্পের চরিত্রায়নে লেখক বেশ ভালো দক্ষতা দেখিয়েছেন। স্বল্প পরিসরে রচিত বইটিতে প্রায় প্রতিটি চরিত্রকে তাদের নিজ গুণে পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এতে অতিরঞ্জিত বা বাড়াবাড়ি কিছু আনেননি কিন্তু আমার পাঠক মনে তিন্নিকে নিয়ে একটা স্পেস পরিলক্ষিত হয়। এই চরিত্রটি আরেকটু মনোযোগ আকর্ষণ করার মতো হতে পার‍ত হয়তো। গল্পের সম্পাদনার ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি যেমন: কিছু বানান ভুল ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহারে সচেতনতা থাকলে আরও ভালো লাগত। বিশেষ করে বিস্ময় সূচকের অপব্যবহার মনে হয়েছে অনেক জায়গায়। আরেকটা ব্যাপার হলো সংলাপের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়নি। ফলে পরপর সংলাপ দুজনের বুঝাচ্ছে। কিন্তু কোথাও দেখা গেছে একজনের সংলাপ পরপর দুই লাইনে। এতে একটু বিভ্রান্তি লাগে। আশা করি লেখক পরবর্তী মুদ্রণে এগুলো লক্ষ্য রাখবেন। গল্পের পটভূমি, বর্ণনা, চরিত্রায়ন সব মিলিয়ে বেশ চমৎকার একটা বই শানজানা আলম এর "শ্বেতপদ্ম"। প্রিয় কথা: "যে কিছুই চায় না তার জন্য অনেক কিছু তৈরি হয়ে যায়। এটা হয়তো অদৃশ্য কারো মাস্টারপ্ল্যান। " "সময়কে কখনও পেছাতে নেই, আজকের সুন্দর সময়টা কাল আসবে সেই সিওরিটি আমরা কেউ-ই দিতে পারি না।" রেটিং: ৪/৫

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)