

Buy স্বপ্নের বৃষ্টিমহল Online in Bangladesh
লেখক: ওয়াসিকা নুযহাত
- Author: ওয়াসিকা নুযহাত
- Publisher: বইবাজার প্রকাশনী
- Isbn: 9789849698661
- Number Of Pages: 412
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
শেষ আখ্যানে কে জিতবে? প্রেম? বিবেক? পরিবার? সমাজ? নাকি বন্ধুত্ব? বন্ধুদের আলাদা জায়গা থাকে। যে জায়গাটা উচ্ছ্বাসের, আনন্দের, নির্ভরতার এবং স্বস্তির। ওরা ছয়জন এই বিশেষ স্থানের নাম দিয়েছে বৃষ্টিমহল। শুধু নাম দিয়েই ক্ষান্ত হয় নি। একটা কাচ দেয়ালের মহল বানানোর স্বপ্নও দেখে ফেলেছে।যে মহলের চারিধার থাকবে আয়না দিয়ে ঘেরা। মহলের ওপরের কাচের আচ্ছাদনে আকাশ সর্বক্ষণ তার মুখখানি দেখতে পাবে। তারপর বর্ষাকালে যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে, মহলের গায়ে গায়ে বৃষ্টি তার ইচ্ছেমতন আলপনা আঁকবে আর মহলের বাসিন্দাদের মনে হবে ছাদটা আসলে কাচের নয়, আয়নার নয়, ছাদটা আসলে বৃষ্টির! এই ছেলেমানুষি স্বপ্নের বাস্তবায়ন কখনও হবে কিনা তা ওরা জানে না, তবে এটুকু জানে যে ওদের প্রত্যেকের বুকের ভেতরে একটি করে বৃষ্টিমহল আছে। থাকবে ততদিন, যতদিন ছয়জনের এই বন্ধুত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে। ওরা চায় আজীবন এই বৃষ্টিমহলকে টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু চলার পথে যদি কখনো কোন এক প্রলয়ংকরী কালঝড় তীব্র বেগে ছুটে এসে গুঁড়িয়ে দিতে চায় বৃষ্টিমহলকে, ছিনিয়ে নিতে চায় ওদের বন্ধুত্ব, তখন কী করবে বৃষ্টিমহলের বন্ধুরা? সেই ঝড়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে কি? সমস্ত বাধা বিপত্তি পায়ে ঠেলে শক্ত করে ধরতে পারবে কি একে অন্যের হাত?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
লেখিকার writting style ভাল ছিল,,তবে রুদ্র এবং তারার কাহিনি আর লম্বা হলে ভাল হত, তারা খুব কম এ screen time পেয়েছে,,I was really excited about their story,,

#স্বপ্নের_বৃষ্টিমহল #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ স্বপ্নের বৃষ্টিমহল •লেখকঃ ওয়াসিকা নুযহাত •ধরনঃ সামাজিক, রোমান্টিক •প্রকাশনীঃ বইবাজার প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ মাহামুদুল হাসান আসিফ •মুদ্রিত মূল্যঃ ৮৫০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪১২ •প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব [বিঃদ্রঃ আমার পাঠ অনুভূতি শুধু আমারই মনের অংশ । তাতে আমার ভালো লাগা, খারাপ লাগা মিশে থাকে । কাউকে এতে প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ । এই অনুভূতিতে খানিকটা স্পয়লার থেকে যেতে পারে ।] ♦ভূমিকাঃ ইদানিং আমার মনখুলে হাসতে অনেক ইচ্ছে করে । মাঝে মাঝে মনে হয়, পৃথিবীতে যত হাসি জমিয়ে রাখা যায় ততই ভালো । যত হাসি মুহূর্ত পৃথিবীতে থাকে, তত যেন ওই হাসির জন্য ব্যয় করা সময়গুলো পৃথিবীতে সুন্দর মুহূর্ত নিয়ে আসে । মানুষ মুহূর্তের চাবিকাঠি নিয়ে ঘুরে বেড়ায় । যত মুহূর্ত মানুষের জীবনে ঘটে যায় তাই যেন তারা বর্তমানে বসে অনুভূতির খেলাঘরে বসে ভাবতে থাকে । হয়তো যে বর্তমানে এত কল্পনা, অনুভূতির মিশেলে ভেসে যাওয়া সেই বর্তমানই ভবিষ্যতে আবারো অতীতের রূপে অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে ভাবতে বাধ্য করবে । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ এই বইটা পড়ার জন্য আমি নিজেকে প্রচণ্ড ভাবে সময় দিতে চেয়েছি । বারবার মনে হয়েছে, বইটা পড়তে বসার আগে যথেষ্ট সময় দরকার আমার । অনেকটা সময় নিয়ে বইটা শেষ করে বইটা রেখে দিতে চাই । বইটাকে নিয়ে আর ভাবতে চাই না । আজকে পড়ার ইচ্ছা হঠাৎ করেই কেনো যেন তৈরি হলো । ঠিক সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বইটা পড়া শুরু করেছিলাম । পড়া যখন শেষ হয়ে গেল, তখন সময়টা বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিট । এত তাড়াতাড়ি একটা বই কিভাবে শেষ হয়ে গেল তা ভাবতেই অবাক লাগছে খুব । ♦নামকরণঃ পৃথিবীতে বন্ধুত্ব শব্দের ব্যাখ্যা মানেই অদ্ভুত সুখের ফোয়ারা । সেই সুখের ফোয়ারা ছিটিয়ে যেন মনের আনন্দে একরাশ বৃষ্টি আসে । কতগুলো বন্ধু মনের মাঝে সুখ সুখ অনুভূতির এক স্বপ্নের রাজত্ব তৈরি করবে । যে রাজত্বে ভালোলাগা ভালোবাসা বৃষ্টির মতো রেশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে । যেন ভালোবাসায় ভেসে গিয়ে স্বপ্নের এক বৃষ্টিমহল তৈরি করবে । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ বন্ধুদের আলাদা জায়গা থাকে । যে জায়গাটা উচ্ছ্বাসের, আনন্দের, নির্ভরতার এবং স্বস্তির । ওরা ছয়জন এই বিশেষ স্থানের নাম দিয়েছে বৃষ্টিমহল । শুধু নাম দিয়েই ক্ষান্ত হয় নি । একটা কাচ দেয়ালের মহল বানানোর স্বপ্নও দেখে ফেলেছে । যে মহলের চারিধার থাকবে আয়না দিয়ে ঘেরা । মহলের ওপরের কাচের আচ্ছাদনে আকাশ সর্বক্ষণ তার মুখখানি দেখতে পাবে । তারপর বর্ষাকালে যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামবে, মহলের গায়ে গায়ে বৃষ্টি তার ইচ্ছেমতন আলপনা আঁকবে আর মহলের বাসিন্দাদের মনে হবে ছাদটা আসলে কাচের নয়, আয়নার নয়, ছাদটা আসলে বৃষ্টির! এই ছেলেমানুষি স্বপ্নের বাস্তবায়ন কখনও হবে কিনা তা ওরা জানে না, তবে এটুকু জানে যে ওদের প্রত্যেকের বুকের ভেতরে একটি করে বৃষ্টিমহল আছে । থাকবে ততদিন, যতদিন ছয়জনের এই বন্ধুত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে । ওরা চায় আজীবন এই বৃষ্টিমহলকে টিকিয়ে রাখতে । কিন্তু চলার পথে যদি কখনো কোন এক প্রলয়ংকরী কালঝড় তীব্র বেগে ছুটে এসে গুঁড়িয়ে দিতে চায় বৃষ্টিমহলকে, ছিনিয়ে নিতে চায় ওদের বন্ধুত্ব, তখন কী করবে বৃষ্টিমহলের বন্ধুরা? সেই ঝড়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে কি? সমস্ত বাধা বিপত্তি পায়ে ঠেলে শক্ত করে ধরতে পারবে কি একে অন্যের হাত? ♦প্রচ্ছদঃ প্রচ্ছদটা বেশ সুন্দর লেগেছে আমার । উপন্যাসের নামের সাথে প্রচ্ছদটা কিভাবে যেন মানিয়ে যায় খুব । তার সাথে আকাশের একটা ধাঁচ প্রচ্ছদে মিশে আছে বলে বেশ লাগে দেখতে প্রচ্ছদটা । যেহেতু এটা একটা সিরিজের একটা উপন্যাস । এই সিরিজের প্রতিটি বইয়ের প্রচ্ছদ একইরকম ভাবে এক সাথে সংযুক্ত হওয়ায় দেখতে বেশ লাগে । খুব সুন্দর ভাবে তার সাথে সংযুক্ত হওয়া যায় । প্রচ্ছদশিল্পীকে শুভকামনা রইলো । ♦চরিত্র টুকিটাকি ও বর্ণনাঃ এই উপন্যাসে অনেকগুলো চরিত্র আছে । তাদের নিয়ে বর্ণনা করার খুব ইচ্ছে আমার । বিশেষ করে গত বছর থেকে আজকে পড়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করেছি এই বইটা পড়ার শেষে এই অনুভূতি প্রকাশের জন্য । আমি সারাটা মুহূর্ত অপেক্ষা করেছি কখন আমি চরিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ করবো ভেবে । •আকাশঃ আকাশ এর বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব আমার বেশ প্রিয় । ওর বন্ধুদের প্রতি অনুভূতি কিংবা পরিবারকে একটা সময়ে পাশে পাওয়ার জন্য যে আকর্ষণ তা বেশ লাগে আমার কাছে । বিশেষ করে ঝুমকি এর প্রতি তার অদ্ভুত টান বেশ ভালো লাগা এনে দেয় । এই চরিত্রটির উপস্থিতি যদিও এই উপন্যাসে কম ছিল তবুও যতটুকু ছিল তা ভালো লাগা এনে দিয়েছে । •বিভাঃ বিভা যেন তার নামের মতোই অদ্ভুত মিষ্টি । নাচতে জানা মেয়েটা বন্ধু সম্পর্কগুলোকে সহসা না পাওয়ায় যখনই কাছে এসে অনুভব করতে পারে তখন তা যেন জড়িয়ে ধরার মতো করে অনুভব করে । বিভা চরিত্রটির উপস্থিতিও খানিকটা কম ছিল । •হৃদিঃ হৃদি নিজের পরিবারকে আলগোছে জড়িয়ে ধরে রাখার মতো মেয়ে । বন্ধুত্ব, এবং নিজ পরিবার দুইটা সম্পর্কই একই সাথে সাজিয়ে রাখার মতো অদ্ভুত গুণ আছে তার । হৃদি এর উপস্থিতি উপন্যাসটিতে যথোপযুক্ত ভাবে আছে বলে তার উপস্থিতি বেশ লাগে । •রুদ্রঃ রুদ্র যেন তার নামের মতোই অগোছালো, এলোমেলো স্বভাবের জীবন যেভাবে বয়ে নিতে চায় সেরকম ভাবে চলাফেরা করা একজন । তার এলোমেলো স্বভাব দিয়ে বন্ধুমহলকে মাতিয়ে রাখতে চেষ্টা করে সে । তার উপস্থিতি অসাধারণ ছিল । এই উপন্যাসে তার উপস্থিতি আমাকে বেশ মুগ্ধতা দিয়েছে । ভালো লাগার মতো একটি চরিত্র । •তারাঃ জীবনের পরিস্থিতির চাপে পড়ে উদাসীন, গম্ভীর স্বভাবের মেয়েটির জীবনে অদ্ভুতভাবে নিঃসঙ্গতার এক মায়ার ছাপ পড়ে । এই ছাপে মেয়েটির নিঃসঙ্গ জীবন দেখলে অদ্ভুত থেকেও প্রতি পরতে পরতে যেন মায়া বাড়ে । শান্ত, চশমা পরা মেয়েটির জীবনজুড়ে কষ্টের রেশ । মেয়েটির উপস্থিতি উপন্যাসে বেশ লাগে । •রোমেলাঃ স্বার্থান্বেষী স্বভাবের নিজের সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী কাজ করা একজন নারী রোমেলা । তার জীবন জুড়ে প্রতিটি পরিস্থিতি অনুযায়ী সুযোগের অপেক্ষায় থাকা স্বভাব । প্রকৃতি তাকে আসলে কে বুঝিয়ে দেয় কে জানে । তার চরিত্রটির উপস্থিতিও অনেকখানি কম ছিল । •রাশেদঃ গুরুগম্ভীর স্বভাবের প্রতিটি পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ করা, নিজের আবেগকে সামলাতে পারা মানুষটিকে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কাতারে ফেলা হয় । কিন্তু একজন মানুষ আসলে তার চরিত্রের দিক অনুসারে কিভাবে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের হয় তা বুঝতে পারা বাকি আছে । হয়তো পরিস্থিতি, নিজ কর্মগুণ, নিজের পরিবেশের প্রতি মানানসই ব্যবহার কারো ব্যক্তিত্বকে অসাধারণ করে গড়ে তুলে । কিন্তু রাশেদ নামক এই চরিত্রটিকে আমার কোনো অংশেই সেরকম মনে হয় না । আমার মাঝে তার জন্য বিরক্তির উদ্রেক জড়িয়ে যায় । এই বিরক্তিকর মুহূর্ত আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখুক সারাজীবন । •অমৃতাঃ অমৃতা চরিত্রের বিশ্লেষণ আমি আগে কখনও করিনি । কেনো জানি না, ইচ্ছেও করেনি । আমার বারবার মনে হয়েছে এই চরিত্রটিকে আমি অনুভব না করতে গিয়েই যেভাবে ভেসে যাচ্ছি না জানি ভাবলে কেমন লাগে । পৃথিবীতে কিছু মেয়ে থাকে, যাদের চলাফেরা, কথা বলার ধরন, অসামান্য জ্ঞানবোধ, দারুণ আত্মসম্মান তাদেরকে অসাধারণ করে তুলে । হয়তো তাদের জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতি অসাধারণ করে তোলার চেষ্টায় প্রকৃতি থেকেও প্রচ্ছন্নতার ছাপ ফেলে । কিন্তু একটা পরিস্থিতি তাদেরকে মুঠোভরে ফিরিয়ে দেয় । অমৃতা অসাধারণ একটি চরিত্র হতে পারতো । হয়তো তার কিছু পরিস্থিতি তাকে বিরক্তিকর চরিত্রে পরিণত করেছে । বন্ধুত্বকে পছন্দ করার অনুভবে থেকেও কিছু মুহূর্ত বিরক্তিকর লেগেছে । তার চরিত্রের উপস্থিতি যথাযথ ছিল । ♦প্রিয় চরিত্রঃ যে চরিত্রটি এই উপন্যাসে আমার সবথেকে প্রিয় চরিত্র, সেই চরিত্রটি নিয়ে আমি এখনও কিছু লিখিনি । আমার বারবার মনে হচ্ছিল, এই চরিত্রটি অনুভব করতে গেলে তার কষ্টের মুহূর্তগুলোর সাক্ষী হওয়াটাও অনুভব করতে হয় । সামি আমার প্রিয় চরিত্র । যার দুরন্ত স্বভাবের মুহূর্তগুলো তাকে একটা সময় পরে কষ্টকর অনুভূতি দিয়ে গিয়েছে । নিজ পরিবার, বন্ধুমহল সবকিছুকে ছাড়িয়ে তার উদাসীন স্বভাবের বৈরাগ্যময় অনুভূতি তার মিশেলে দারুণ এক কষ্ট অনুভূতিতে আচ্ছন্ন করে নিঃসঙ্গতা ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে । এই নিঃসঙ্গ স্বভাব, কিংবা তার শেষের উপন্যাসে প্রতিটি পরিস্থিতি অনুযায়ী চলা তাকে অসাধারণ একটি চরিত্র হিসেবে উপলব্ধি করিয়েছে আমাকে । বেশ লেগেছে আমার । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √পটভূমি এবং আবহঃ উপন্যাস বিশ্লেষণঃ এই বইটি প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত পড়ে আমার বারবার মনে হয়েছে উপন্যাসের কাহিনী বর্ণনা যেভাবে সাজানো হয়েছে তা অসাধারণ । কারণ এই গুণটা না থাকলে এত তাড়াতাড়ি উপন্যাসের মাঝে মজে গিয়ে বইটা পড়া শেষ হয়ে যেতো না । সাথে এই বইটার পটভূমি যেভাবে গড়ে তোলা হয়েছে তার সাথে থাকার জন্য আবহের সংযোগ অসাধারণ ছিল । এই উপন্যাসে সবথেকে যা সেরা, তা হলো আবহ । ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি যেভাবে আবহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়ে সংযোগ ছড়িয়েছে প্রতিটি পরতে পরতে তা বেশ লেগেছে আমার । তাছাড়া উপন্যাসের প্রকৃতিগত যে বিষয়গুলো তা পড়তে দারুণ ভাবে ভালো লেগেছে । সামাজিক টানাপোড়েন, বন্ধুত্বের কষ্ট সব মিলিয়ে এই উপন্যাসের পটভূমি বেশ । সিরিজ বিশ্লেষণঃ বৃষ্টিমহল সিরিজ হিসেবে বলবো, বৃষ্টিমহল সিরিজের প্রথম বইটা পড়ে তার আবহ কিংবা বন্ধুমহলের যে ছাপ তা আমার পড়ে বেশ লেগেছিল । এমনকি বইটা আমার এখনও প্রিয় । বন্ধু এবং তা নিয়ে যে স্বপ্নযাত্রা তার নতুন এক ভালোলাগা নিয়ে থাকা বইটা আমার বেশ ভালো লেগেছিল । সিরিজের পরের দুইটা বই পড়ে বন্ধুমহলের বিভিন্ন সম্পর্কের টানাপোড়েন তা ঘিরে থাকা আবহ উপন্যাসে বেশ ছিল । তবে কিছু কিছু জায়গায় উপন্যাসের আবহ আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিচ্ছিল । আমাকে বারবার বিরক্তিতে ভাসিয়ে দিচ্ছিল । তবে সিরিজের বইটির আবহ অসাধারণ ছিল । এবং তা ঘিরে থাকা পটভূমিও বেশ । অবশেষে সিরিজটা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় ভালো লাগছে । √চরিত্র গঠনঃ উপন্যাস বিশ্লেষণঃ এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র গঠন সূক্ষ্ম ভাবে খেয়াল করার সুবাদে মনে হলো উপন্যাসের পটভূমিতে ঘটনাপ্রবাহ কিংবা জীবনধারার যে ছাপ, তাতে চরিত্রগুলোর গঠন যখন যা চাহিদা করছে সেই হিসেবে পূরণ করার মতো করেই প্রতিটি চরিত্র এগিয়েছে । আকাশ চরিত্রটির গঠন খানিকটা কম থাকলেও শেষের দিকে মনে হয়েছে, রুদ্র চরিত্রটির গঠন আরেকটু তার আরেকটু উপস্থিতি থাকতে পারতো শেষের দিকে । অন্যান্য চরিত্রের গঠনও যথাযথ ভাবে এসেছে । সিরিজ বিশ্লেষণঃ বৃষ্টিমহল সিরিজের প্রথম বইটিতে যখন বন্ধুমহলের একেকটি চরিত্রের বর্ণনা কিংবা তাদের বিশ্লেষণ আমি বারবার পড়ছিলাম, আমি তাদের গঠন কিংবা উপস্থিতিতে মুগ্ধ হচ্ছিলাম । কিন্তু সময় গড়িয়েছে । সেই সময় যেতে যেতে সিরিজের বই সংখ্যা চারটি হয়েছে । সিরিজের পরের বই দুইটিতে চরিত্র গঠন এবং তাদের উপস্থিতি পটভূমি অনুসারে যথার্থ ছিল । পরিপূর্ণতার এক ছাপ ছিল । আমি দিন দিন রাশেদ এবং অমৃতা নামক দুইটা বিরক্তিকর এবং সহ্য না করা চরিত্র দুইটির সাথে জড়িয়ে যাচ্ছিলাম । শেষের উপন্যাসে তাদের চরিত্র গঠন কিংবা উপস্থিতি একসাথে কম থাকায় আমি বারবার নিশ্চিন্তে মুগ্ধ হয়েছি । আমার বারবার মনে হয়েছে তারা না থাকলে আমি নিশ্চিন্তে বইটি শেষ করে ফেলবো ভালো লাগা নিয়ে । প্রতিটি চরিত্র আসলে দারুণ ব্যক্তিত্ববান হয় কিভাবে তা আসলে নির্ভর করে তাকে ঘিরে রাখা প্রতিটি পরিস্থিতি, পরিবেশ এবং আচ্ছন্নতার মুহূর্তগুলোতে দারুণ স্বভাব । এরকম করেই বৃষ্টিমহল এর প্রতিটি চরিত্র অসাধারণ হয়ে উঠুক । প্রতিটি চরিত্র ভালো থাকুক । নিজের দোষকে ছাপিয়ে গিয়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল বুঝে এগিয়ে যাক । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসটির যখন চারভাগের একভাগ আমার পড়া শেষ, অর্থাৎ ১০৩ পৃষ্ঠা । আমি তখন অবাক হয়ে গেলাম । আমি মূলত অবাক হয়ে গিয়েছি এই কারণে যে এত তাড়াতাড়ি বইটা কিভাবে পড়া হয়ে গেল । এত তাড়াতাড়ি উপন্যাসটি এগিয়ে যাচ্ছে আমার পড়ার মাধ্যমে । তারপরে আরো যত পড়া এগিয়েছে, আমি তত বুঝতে পেরেছি এই বইটির আবহ এবং তার কাহিনী বর্ণনা করার যে ধাঁচ তা আসলেই অসাধারণ নাহলে এত তাড়াতাড়ি পড়া হয়ে যেতে পারতো না । এই দারুণভাবে সংযোগ স্থাপন করার যে প্রবল আকর্ষণ তা আমাকে পাঠক হিসেবে দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে । আমি ভালোলাগা নিয়ে উপন্যাসটি পড়েছি । তাছাড়া রুদ্র এবং তারা এর বিভিন্ন কথোপকথন আমার বেশ প্রিয় লেগেছে আমার বইটিতে । বইটিতে কিছু আত্ম-উপলব্ধি, কিংবা নিজের একা থাকার মুহূর্তে নিজের একাকী নিঃসঙ্গ মুহূর্তের আবেশ আমার প্রিয় অংশ হয়ে থাকবে এই বইটির । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে বইবাজার প্রকাশনী এর অনেকগুলো বই আমার পড়া হয়ে গেল । তাদের কিছু কিছু বই আমার খুবই প্রিয় । আজকে লিখতে গিয়ে মনে পড়লো অক্টোবর রেইন এর কথা । যাহোক এই প্রিয় প্রকাশনী তাদের আরো সুন্দর সুন্দর বই আনুক । এই বইটিতে প্রচ্ছদটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । বেশ সুন্দর লাগে প্রচ্ছদটি ধরে দেখতে । তাছাড়া বইয়ের বাঁধাই এবং জলছাপে ফুটিয়ে তোলার ধরনও বেশ ভালো । বইটিতে তেমন একটা টাইপিং মিস্টেক নেই । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক ওয়াসিকা নুযহাত এর এটি ১১তম বই । এবং আমার সংগ্রহের হিসেবেও ১১তম হলেও বই পড়া হিসেবে এটি ৯ম বই । দুইটি এখনও পড়া হয়নি । তার প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে মনে পড়লো, একটি বইয়ের কথা । আমি তখনও তার লেখার সাথে সেভাবে পরিচিত না হওয়ার সুবাদে আমি তার বই কেনার ইচ্ছা কখনও করিনি । আমাকে বেশ কয়েকজন একটা বই বারবার কিনতে উদ্বুদ্ধ করছিল । তারা বলেছিল, বইটা কিনেন । ভালো লাগবেই । দোনোমনা করে সেই বই আমি কিনতে বাধ্য হয়েছিলাম । এবং সেই বইটি আমি যখন পড়লাম, আমি বোধহয় ভেসে যাচ্ছিলাম আবেগে । আমার বারবার মনে হচ্ছিল এত ভালো লাগতে হবে কেনো! ভালো লাগলেও এত ভালোলাগার আবেগে আমি ভেসে যাবো কেনো! সেই বইটি অক্টোবর রেইন । আমার অনেক অনেক ভালোলাগার, ভালোবাসার, বিভিন্ন আনন্দের রেশ থাকা বইটি । এই বইটি নিয়ে আমার ভালোবাসা মিশে আছে । যাহোক এরকম আরো একটা বই আসলো তার, আকারে বড় বলে বইটি কিনতে পারছি না । একজন খুবই জোর করে বইটি কিনতে বললো । সেই বইটা কেনার পরে আমি যখন পড়লাম আমার মনে হলো এই বইটি আমি আগে কেনো কিনলাম না! আমার বারবার অনুভূতিতে ভালো লাগা বাড়ছিল । আমার পাঠক জীবনে খুব কম বই আমার মনের একটা কোনায় যে বিশেষ অবস্থান, সেখানে জায়গা পায় । এই জায়গা যেন পাঠক হিসেবে অসাধারণ নামে রূপ নেয় । হৃদয়াক্ষী নামে থাকা সেই বইটা আমার কাছে বিশেষ হয়ে সেই অসাধারণ জায়গাটায় ঠাঁই পেল । এই দুইটা ভালোলাগা এবং বিশেষ নামক এক অসাধারণ ভালোবাসা নিয়ে পাঠক হিসেবে আমার কাছে সারাজীবন প্রিয় হয়ে থেকে যাবে । তার আরেকটি বই, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি মনস্তাত্ত্বিক আবহ হিসেবে খুব প্রিয় । সেই হিসেবে বৃষ্টিমহল সিরিজের প্রথম বইটিতে আবেগে ভালোলাগায় ভেসে গিয়েও, একটা সময় বারবার মনে হয়েছে যত এই সিরিজটি এগিয়েছে, আদৌ কি এটা অক্টোবর রেইন, হৃদয়াক্ষী কিংবা খাঁচার ভিতর অচিন পাখি যে লেখক লিখেছে তারই লেখা! আমি তাও অবাক হয়েছি । বারবার অবাক হয়েছি । হয়তো প্রতিটি পটভূমি যেভাবে চাহিদা করে, সেভাবেই গল্প এবং জীবনধারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া একজন লেখকের সবথেকে বড় গুণ । এবং তিনি সেভাবেই সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন বলে এই সিরিজের দুইটা চরিত্র আমার মতো সাধারণ পাঠকের কারো কারো অপ্রিয়, কিংবা বিরক্তিকর লেগেছে । এই বিরক্তিকর বা খারাপ লাগা তো তখন আসে যখন কোনো পাঠক পটভূমিতে দারুণভাবে মিশে যায় । আদতে এটা একজন লেখকের কাছে অবশ্যই দারুণ ভাবে পাওয়া । হয়তো লেখক জীবনের সফল পাওয়া । তার এই উপন্যাসে তিনি যেভাবে আবহ সৃষ্টি করেছেন তা অসাধারণ । আমি এই কথাটি এই জন্যই বারবার লিখলাম, কারণ আসলেই আমার আবহটি বারবার প্রিয় লেগেছে । তিনি আরো সুন্দর সুন্দর উপন্যাস তৈরি করেন । তার পাঠকদেরকে দারুণ সব মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করে দেন ভালোলাগার সমস্ত আবহ নিয়ে । ভালোলাগায় উপন্যাসের পটভূমিতে ভেসে গিয়ে তার পাঠকরা অনুভূতিতে মিশে যাক সেই কামনায় রইলাম । তার লেখক জীবন সুন্দর হোক, শুভকামনা রইলো । আরো অসংখ্য সুন্দর সুন্দর উপন্যাস আসুক তার । ♦রেটিংঃ ৪.৪/৫ ♦উপসংহারঃ উপসংহার লিখতে গিয়ে মনে হলো, এই পৃথিবীতে মায়া আসলে খুবই কঠিন জিনিস । তার থেকেও কঠিন যখন কেউ মায়ায় জড়িয়ে আচ্ছন্ন হয়ে যায় । আমার জীবনে এমন এমন কিছু ভালোলাগা আছে যা শুধু মায়া দিয়েই ঘেরা আচ্ছন্নতা নিয়ে চলে আসে । হয়তো মায়া ভালোলাগা কিংবা ভালোবাসা থেকেও জোরালোভাবে অনুভব করায় । আমার পাঠক জীবনে আরো মায়া দিয়ে ঘিরে রাখা উপন্যাসগুলো রেশ বাড়াক । মনে ভালোলাগা মিশে থাক ।

বন্ধুত্ব নিয়ে লেখা খুব প্রিয় একটি উপন্যাস। অনেক প্রতীক্ষার পর শেষ ভাগটুকু পেয়ে যেমন ভালো লেগেছে, তেমনি পড়া শেষ করার পর মন খারাপ হয়েছে এই ভেবে যে প্রিয় চরিত্রগুলোর গল্পটা শেষ হয়ে গেল। শেষটুকু মন ভালো করে দেয়ার মত না হলেও বাস্তবসম্মত ছিল।






















