

Buy স্মৃতিগন্ধা অখন্ড Online in Bangladesh
লেখক: সাদাত হোসাইন
- Author: সাদাত হোসাইন
- Publisher: অন্যধারা
- Isbn: 978-984-96994-6-0
- Number Of Pages: 596
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
পারু, ফরিদ ও মহিতোষ মাস্টার। জীবনের গল্পে জীবনজয়ী অনন্য সব অনুভবের চরিত্র। সেই চরিত্ররা ক্রমশই মিশে যেতে থাকে বিস্ময়কর এক চোরাবালির স্রোতে। সেখানে দেশ, ধর্ম, রাজনীতি, বিশ্বাস, অবিশ্বাস মাথা তুলে দাঁড়ায়। ভালোবাসা হয়ে যেতে থাকে পাপ। পাপ হয়ে যেতে থাকে পূণ্য। আর পূণ্য হয়ে যেতে থাকে সংশয়। সেই সংশয় জীবনকে অদ্ভুত এক দোলাচালে স্পন্দিত করতে থাকে। আর মানুষ হতে থাকে দূর আকাশের তারা। জ্বলজ্বলে কিন্তু নিঃসঙ্গ। বুকের ভেতর অনন্ত বিরহগাঁথা পুষেও প্রিয়তম মানুষের স্পর্শে ব্যাকুল হয়ে জেগে থাকে একটা জীবন। স্মৃতিগন্ধা সেই ভালোবাসায় ব্যাকুল জীবনের গল্প। গল্প মা, মাটি ও মানুষেরও। প্রিয় পাঠক, ভুবনডাঙা থেকে ভাবনার ভুবনে অনুভবের বিস্ময়কর স্পন্দন তুলে দেয়া মহাকাব্যিক এই আখ্যানে আমন্ত্রণ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

অসাধারণ একটা বই💖
#রকমারি_সাদাত_হোসাইন_বুক_রিভিউ_প্রতিযোগিতা বই :- স্মৃতিগন্ধ্যা অখণ্ড (স্মৃতিগন্ধ্যা ও ইতি স্মৃতিগন্ধ্যা) প্রকাশক :- অন্যধারা প্রকাশণী। লেখক :- সাদাত হোসাইন। মুল্যায়নে :- মোঃ জাহিদ হাসান। #স্মৃতিগন্ধ্যা বইটি লেখকের গল্পের প্রথম পার্ট। স্মৃতিগন্ধ্যা পড়ার সময় হৃদয়ের গহীনে কল্পনার এক নতুন জগৎ তৈরি হয়। লেখক গল্পের চরিত্রগুলো এমন সুনিপুণ আল্পনায় এঁকেছেন যেন গল্পের মাঝে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে নির্যাতন, নিপীড়নের যেই চিত্র লেখক তুলে ধরেছেন, স্বল্পতম হলেও সেই অংশটুকুই ইতিহাসকে সমুজ্জ্বল রাখবে 'স্মৃতিগন্ধ্যা' পঠিত প্রত্যেক পাঠকের মানসপটে। কিভাবে রাজাকার, আলবদর,আলশামস তথা পাকিস্তানি হানাদারদের দোসররা বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ভোল পাল্টে ক্ষমতার মসনদে আসীন হয়ে উপরন্তু মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার সমর্থকদেরকেই দাবিয়ে রাখার অন্যায় প্রয়াস চালিয়েছিলো তার স্পষ্ট উপস্থাপন হয়েছে লেখকের সৃষ্ট #জাহাঙ্গীর_ভুইঞা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীদের সহোযোগিতা করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে রাজাকারদের চাপে থেকেও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া এবং একইসাথে কোনভাবেই অন্যায়ের সাথে আপোষ না করার ইস্পাতকঠিন ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উত্তরপারার #আশরাফ_খাঁ চরিত্রের মধ্যে দিয়ে। যার কিছু অংশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে রুপায়ণ করা হয়েছে বইয়ের দ্বিতীয় অংশ ''ইতি-স্মৃতিগন্ধ্যায়''। যেন যুগের পর যুগ আশরাফ খাঁ'র মত লোকেরাই শান্তিকামী মানুষের বন্ধু হয়েই বিচরন করে সর্বত্র। যার ফলাফলই মহিতোষ মাষ্টারের সব হারানোর গল্পের মধ্যেও অনেকটা পাওয়া। অন্য ধর্মের মানুষ #মহিতোষ_মাস্টার। জাহাঙ্গীর ভুইঞার চাপে পরে পৈতৃক ভিটা ছেড়ে ভারতের কলকাতায় পাড়ি জমানোর মত হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেও, আশারাফ খাঁর মত ভালো মানুষের কারনেই বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের মত ব্যকুলতা এবং সম্ভাবনা অনুভব করতে পারেন। যেন মনে হয় আবারো ফিরে আসা হবে, এ দেখাই শেষ দেখা নয়। গল্পের মহিতোষ মাস্টার চরিত্রের রয়েছে বহুমুখী উপস্থাপন। একদিকে নির্যাতিত সংখ্যালঘু, একদিকে প্রবল যত্নবান সন্তান, যিনি তার 'মা' ছায়ারানীর বৃদ্ধ বয়সে বেচে থাকার পাহাড়সম অবলম্বন। আরেকদিকে 'অঞ্জলি রানীর' মত মায়ামুখী স্ত্রীর দায়িত্বশীল স্বামী। পরম ভালবাসায় যিনি সোনার সংসার পেতেছেন অঞ্জলীর সাথে। মহিতোষ মাস্টার চরিত্রের সবথেকে হৃদয়স্পর্ষী দিক হলো 'পিতা'। পারু ও চারু নামের দুই রাজকন্যার পিতা হয়ে গর্বিত হওয়ার বদলে যেন দুঃখ বেদনাকেই সঙ্গী করে নিয়েছিলেন তিনি। #ফরিদ নামের মুসলমান ছেলেটি তার বড় মেয়ে পারুকে বেধেছিল এক অদৃশ্য মায়ার জ্বালে। যেটি সমাজ সংসারের সাথে প্রচন্ড বিপরীত ঘটনার আলিঙ্গন। ভালবাসা যে অন্যায় কিছু নয় সেটি মহিতোষ মাস্টারও জানতেন, তাই বলে হিন্দুর ঘরে জন্ম নিয়ে মুসলমান ছেলের সাথে প্রেম? কেন? কী কারনে? এই দূবোধ্য ঘটনাটিই এলেমেলো করে দেয় মহিতোষের সংসার জীবন। শুধুমাত্র বাবা হওয়ার কারনেই মেয়ের অমার্জনীয় অপরাধ ক্ষমা করে, এক পর্যায়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালানো মেয়ে চারুকে সারাদেশে খুজেছিলেন তিনি।অবশেষে পেয়েও ছিলেন। তারপরেও দুঃসহ একটি চিঠি আর কঠিন এক বাস্তবতার চাপে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়েছিল মহিতোষ মাস্টারকে। লেখক সেই অংশটুকু তার সুনিপুণ ছন্দে সাজিয়ে শেষ করেছেন তার 'ইতি-স্মৃতিগন্ধ্যা' বইতে। মহিতোষ মাস্টারের বড় মেয়ে 'পারু', এই গল্পের মুখ্য চরিত্র। সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ যেন তাকে ঘিরেই। ডাঃ ওহাবের ভাগ্নে, গৃহ শিক্ষক, মেধাবী ছাত্র, 'ফরিদের' প্রেমে মগ্ন পারু।যেন নিজেই এই প্রেমে পরার রহস্যতা বুঝে ওঠার পূর্বেই পরিবারের সাথে দেশত্যাগের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল একপ্রকার বাধ্য হয়েই। কিন্তু ভালবাসার প্রবল আকর্ষন, হৃদয়ের গহীনে লুকানো অনুভব পারুকে ফরিদের হাত ধরে পালাতে উদ্ধুদ্ধ করে। যেন ফরিদই তার সবটুকু খুশীর প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু পরিবারের সবাইকে ছেড়ে ফরিদের সাথে পালানোর বিষয়টি তার জীবনে নিয়ে আসে দূর্বিষহ যন্ত্রণার আধার। প্রতিটি দিন নতুন নতুন চ্যলেঞ্জ মোকাবিলা করেও যেন নিশ্চিত সুখের দেখা মেলেনি পারুদের জীবনে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক পর্যায়ে সে ফরিদকেও হারিয়ে ফেলে। তার জীবনে অমানিশার তীব্রতা নেমে আসে দ্বীগুণ হয়ে।কর্দমাক্ত পথে অনেকের সাথে দেখা হয়েছে, সসহোযোগিতাও পেয়েছে অনেকের, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি।তারপরেও সে ফরিদকে ভুলে যায়নি। 'ইতি-স্মৃতিগন্ধ্যা' পাঠ করলে দেখা যাবে হঠাৎ এক অজানা ঝড়ে ফরিদকে হারিয়ে কী এক অমানিশার অন্ধকারে ঢেকে যায় তার জীবনের সবটুকু আলো। তারপরেও তার গর্ভে বেড়ে উঠতে থাকা ফরিদের শেষ অবলম্বনটুকু অর্থাৎ তার সন্তানকে নিয়েই বেচে থাকার স্বপ্ন দেখে পারু।নিজের সন্তান(মেয়ে) দুনিয়াতে আসার পর তার উপলব্ধি হয়, ফরিদের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়াতে তার বাবা-মায়ের কতটা কষ্ট পেতে হয়েছিল। বাবা,মা এবং সন্তানের প্রতি ভালবাসা এবং একইসাথে প্রেমিকের প্রতি প্রেমময় অনুভবে ডুবে থাকা প্রেমিকা সবগুলোই 'পারু' চরিত্র দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্পের #ফরিদ চরিত্রটি আরেক ব্যতিক্রমী চরিত্র। মা-বাবাকে হারিয়ে মামা-মামির সঙ্গে বসবাস ফরিদের। পড়াশোনায় ভালো ফরিদ প্রেমে পরে পারু নামক মায়াবতী মেয়েটির। কথা আর কবিতার জাদুভরা শব্দগুচ্ছে আটকে ফেলে পারুকে। এদিকে ফরিদের মামি স্বপ্ন দেখেছেন তাদের একমাত্র মেয়ে আছমাকে তুলে দিবেন ফরিদের হাতে। ফরিদের সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়ে সারাজীবন তাদের সাথেই রেখে দিবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। স্ত্রী নুরুন্নাহারের এমন ভাবনায় মনে মনে সম্মতিও ছিলো ফরিদের মামা ডাঃ ওহাবের। কিন্তু পারুকে ভালবেসে পালিয়ে যাওয়ায় মামা,মামি এবং আছমার সেই স্বপ্ন ভঙ্গ করেন ফরিদ।কিন্তু সেই জীবন তার জন্য সুখের না হয়ে নামিয়ে আনে ভয়ংকর বিপদ। এক পর্যায়ে যদিও পারুকে হারিয়ে মামার বাড়িতে ফিরে আসেন ফরিদ।পারু বেচে নেই ধরে নিয়েই কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারানো ফরিদের সাথে মেয়ে আছমার বিয়ে দেন আছমার বাবা-মা৷ ধীরে ধীরে আছমার প্রতি ফরিদের মায়া মমতাও বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু সেই সুখের মসৃণতার ছাপ বেশিদিন স্থায়িত্ব পায়নি তাদের জীবনে। হঠাৎ একদিন গভীর রজনীতে কোন এক আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারায় সন্তান সম্ভবা আছমা।অতঃপর জীবনের নানা সমীকরণ প্রকৃতির নিয়মে সিদ্ধ হয়ে কয়েক বছর পরে কন্যাসহ পারুর সাথে মহিতোষ মাস্টারের ভুবনডাঙার সেই বাড়িতেই সাক্ষাৎ হয় ফরিদের। যেই ভুবনডাঙার মহিতোষ মাষ্টারের বাড়িটিই তাদের জীবনের গতিপথ পাল্টে দিয়েছিল, সেখানেই প্রায় এক দশক পরে ভাগ্যক্রমে দেখা হয় তাদের। শান বাধানো ঘাট, আর চমৎকার সৌন্দর্য মন্ডিত ভুননডাঙার এই বাড়িটির রয়েছে নানান রহস্যময় গল্প। এই যে ফরিদ আর পারুর গল্পের শুরু সেটিও এই বাড়িতে। ফরিদের মামাতো বোন অতঃপর স্ত্রী আছমার মৃত্যুর সাথেও জড়িয়ে ছিলো এই বাড়িটি। মহিতোষ মাস্টারের দেশি ত্যাগে বাধ্য হওয়ার কারনটাও ছিলো এই বাড়ি৷ একটি বাড়ি আর কতগুলো অনুভূতি এসব নিয়েই গল্পটি সাজানো হয়েছে অনুভূতির বেড়াজালে।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
boi e koto page ase??
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫৯৬। ধন্যবাদ।
Is this a hardcover?
Dear customer, Yes, this book is hardcover. Thanks for your question.
Boi ti kamon
প্রিয় গ্রাহক, বইটি ভালো। বিশেষ করে যদি আপনি সমকালীন উপন্যাস এর ভক্ত হন।
boi e koto page ase??
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫৯৬। ধন্যবাদ।






















