

Buy সুখলতার ঘর নেই Online in Bangladesh
লেখক: হরিশংকর জলদাস
- Author: হরিশংকর জলদাস
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789845250009
- Number Of Pages: 168
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2019
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘সুখলতার ঘর নেই’ বইয়ের ফ্ল্যাপের কথাঃ মাছেদেরও সমাজজীবন আছে। আছে মৎস্যসম্প্রদায়। তাদের আছে প্রেম-অপ্রেম, রিরংসা-ক্রোধ। প্রয়োজনে এরা লুণ্ঠন করে, রাহাজানি করে। যুদ্ধও করে। তাদের চিকিৎসক আছে। গায়ের রং আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের জার্সির মতো। পাঙাশ রতিকান্তের সঙ্গে ইলিশিনী সুখলতার গভীর প্রেম। খেপে ওঠে ঘোঁওড়া মোড়ল পঞ্চানন ওরফে পঞ্চু সরদার। কিন্তু জগাই কেন সুখলতাকে অপহরণ করল? সোমনাথ ইলিশ কন্যার লুণ্ঠনের পর কী করল? মাছেদের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠল কেন? যুদ্ধে কার জয় হলো? যার জন্য যুদ্ধ, সেই সুখলতা কি ফিরে পেল দাম্পত্যজীবনের গৃহকোণটি? মুক্তি পেয়ে কেন সুখলতা চিন্তামণির হাঁ করা জালের মুখে নিজেকে ভাসিয়ে রাখল? কেন এই আত্মহত্যা? বিনোদ সরদার কে? মৎস্যসমাজে হীরামোহন ডাক্তারের ভূমিকা কী? রতিকান্ত প্রেমিক, না স্ত্রী-হন্তারক? এসব প্রশ্নের উত্তর আছে সুখলতার ঘর নেই উপন্যাসে। এই উপন্যাসের পটভূমি বঙ্গোপসাগরের জলতল। হরিশংকর জলদাস মাছেদের মুখে কথা বসিয়ে মৎস্যজীবনের গল্প বলেছেন। এত দিন মৎস্যজীবীদের আখ্যান শুনিয়েছেন তিনি, সুখলতার ঘর নেই-এ শোনাচ্ছেন মৎস্যজীবনের বৃত্তান্ত। এ আখ্যান অনাস্বাদিতপূর্ব। অকল্পনীয়ও বটে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

হরিশংকর জলদাস সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের কথা শুনিয়েছেন তাঁর বিভিন্ন উপন্যাসে। মেথর সমাজের কথা শুনিয়েছেন "রামগোলাম" উপন্যাসে, দেহ ব্যাবসায়ীদের কথা শুনিয়েছেন "কসবি" উপন্যাসে, "জলপুত্র" "দহনকাল" উপন্যাসে শুনিয়েছেন জেলে জীবনের গল্প। এ জায়গায় এসে "সুখলতার ঘর নেই" উপন্যাস একেবারে নতুন ধাঁচের উপন্যাস আমার কাছে। এখনে তিনি তুলে ধরেছেন বঙ্গ সাগরের অন্তরের চিত্র, সেখান কার মাছ সমাজের চিত্র। মাছদের সমাজ আছে, মানুষের সমাজের মতো সে সমাজ। মানুষের মতো তাদেরও আছে প্রেম-বিরহ-রিরংসা-লাম্পট্য। তাদের সমাজে আছে আমাদের সমাজের মতো সর্দার প্রথা। সর্দারের ছেলে সর্দার হবে এমন ফ্যাসিবাদী নিয়মে তাদের জীবনও বন্দী। সে কারনেই তো ঘোঁওড়া সর্দার বিনোদের পর অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কুপুত্র পঞ্চু গায়ের জোরে মাছের সর্দার হয়েছে। ক্ষমতার মোহে সে অন্ধ হয়েছে, জোর জবরদস্তি চালিয়েছে নিরীহ মাছদের উপর। সে সমাজে আলাদা জাতের মাছের আলাদা সর্দার আছে। যেমন, ঘোঁওড়া মাছের সর্দার পঞ্চু, ইলিশের সর্দার সোমনাথ, পাঙাসের সর্দার সতু মন্ডল, লইট্যার সর্দার ধনঞ্জয়, কাঁকড়ার সর্দার ভীম, বইল্যার সর্দার নিত্যানন্দ, পিরানহার সর্দার রাহু। তবে সর্দারের বড় সর্দার তিমিরাজ সুধর্মা। তার উপাধি মহারাজ। মহারাজ সুধর্মা। উনার সিদ্ধান্তই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত। মাছের সমাজেও ডাক্তার আছেন। মাছে মাছে মারামারি হয়, রক্তারক্তি হয় তারই চিকিৎসা করেন মাছ ডাক্তার হীরামোহন। তাঁর ওস্তাদ হলেন পাঙাস বৃহস্পতি, বৃহস্পতির ওস্তাদ ছিলেন পাঙাস সিন্ধুচরণ। তাদের প্রেমও আমাদের প্রেমের মতো, জাতে জাতে প্রেম হলে ভালো, না হলে নানান সমস্যা। যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল পাঙাস রতিকান্ত ও ইলিশ কন্যা সুখলতার প্রেম। শুধু কী জাতের সমস্যা! সুখলতা সুন্দরী বলে তার উপর নজর পরে পঞ্চু সর্দারের কুপুত্র ঘোঁওড়া জগাইয়ের। রতিকান্ত ও সুখলতার বিয়ের পর জগাই তার দলবল নিয়ে সুখলতাকে হরণও করে। সে হরণ নিয়ে যুদ্ধ বাঁধে মাছদের সমাজে। ভালো মাছেরা পক্ষ নেয় ইলিশ সর্দার সোমনাথ তথা রতিকান্তের দলে আর খারাপ মাছেরা পক্ষ নেয় পঞ্চু সর্দার তথা জগাইয়ের দলে। লেখক সাগর তলে রচনা করেছেন ইতিহাসের আরেক কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ। আবারও ধর্ম ও অধর্মের মধ্যে সে যুদ্ধ। তেরো দিন ঘোর যুদ্ধের পর রতিকান্ত তথা ধর্মের জয় হয় আবারও। পঞ্চু, জগাইরা পরাজিত হয়ে মারা যায় সাগর তলের কুরুক্ষেত্র ময়দানে। স্বাধীন হয় সুখলতা। কিন্তু হায়! নারী জাতির স্বাধীনতা কি এতো সহজ! রাম-রাবনের যুদ্ধের পর সীতা কি সত্যিই স্বাধীন হয়েছিল? হয় নি! কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধের পর দ্রৌপদী কি তাঁর সম্ভ্রম ফিরে পেয়েছিল? পায় নি! রাম, পাণ্ডবগণ যুগে যুগে সীতা দ্রৌপদীদের সন্দেহ করে আসছে। কালের পরিক্রমায় রতিকান্ত পুরুষও সুখলতা নারীকে তাই করেছে। আর সীতার মতো সুখলতাও বেছে নিয়েছে আত্ম বিসর্জনের পথ...
I love this book

পাঙাশ রতিকান্তের সঙ্গে ইলিশিনী সুখলতার গভীর প্রেম। খেপে ওঠে ঘোঁওড়া মোড়ল পঞ্চানন ওরফে পঞ্চু সরদার। কিন্তু জগাই কেন সুখলতাকে অপহরণ করল? সোমনাথ ইলিশ কন্যার লুণ্ঠনের পর কী করল? মাছেদের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠল কেন? যুদ্ধে কার জয় হলো? যার জন্য যুদ্ধ, সেই সুখলতা কি ফিরে পেল দাম্পত্যজীবনের গৃহকোণটি?
#রকমারি_রিভিউ_প্রতিযোগ_এপ্রিল . বইয়ের নাম : সুখলতার ঘর নেই লেখক : হরিশংকর জলদাস প্রকাশনী : প্রথমা, প্রকাশকাল: বইমেলা ২০১৯ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬৭, মূল্য: ৩২০(মুদ্রিত) . ভালোবেসে গৃহহীন হওয়া মানুষ নেহায়েতই কম নয়। কেউ প্রেমে মরে, কেউ প্রেমেই মারে। মানুষ পর্যন্ত তো ঠিক ছিলো। এক ইলিশ কন্যার প্রেমগাঁথা, যা তাকেই শেষ পর্যন্ত চিন্তামণি জেলের জালের গাঁথুনি পর্যন্ত নিয়ে যেতে উদ্ধত হয় সেরকম একটা গল্প বললে কেমন হয়? . এই উপন্যাসের পটভূমি বঙ্গোপসাগরের জলতল। মানুষের মত সেখানেও আছে মাছে মাছে তথাকথিত জাতপাত, গ্রামভেদ। আছে নিয়মকানুন। জলধির সরদার বিনোদের ছায়াতলে বেশ কেটে যাচ্ছিলো সবার। বাঁধ সাধে এক আকস্মিকভাবে তার মৃত্যুর পরে পুত্র পঞ্চাননের সরদার হওয়ায়! হীরামোহন ডাক্তারের বিশ্বাস এই মৃত্যুর সঙ্গে সংযোগ আছে বেশ কিছুদিন আগে বিনোদ সরকারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দূর্ঘটনার। যেটা নিয়ে তার সঙ্গে গভীর আলাপে গিয়েছে হীরামোহন ডাক্তার। হীরামোহন ডাক্তারের মৎসসমাজে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, শেষ পর্যন্ত চরিত্রটি বেশ প্রখর ছিলো। . বড় মাছ যেমনে ছোট মাছকে গিলে ফেলে, আর ওই যুগটাকে বলা হয় মাৎসন্যায়ের যুগ; পঞ্চাননের রাজত্ব তখন সেভাবে চালাচ্ছিল। তার দুই পুত্রের মধ্যে বড় পুত্র জগাই তার মতই গোঁয়ার, নারীলোভী। সেই জগাই মন দিয়ে বসে ইলিশ কন্যা সুখলতাকে। কিন্তু সে জাতে ঘ্যাঁওড়া। সুখলতা যার নামে নিজেকে সমর্পণ করছে সে রতিকান্ত, পাঙ্গাস যুবক। আপাত দৃষ্টিতে একে ত্রিভুজ প্রেম হিসেবে অঙ্কিত করা হলেও ব্যপারটি মোটেও তা নয়! . সুখলতার বাবা সোমনাথকে বিনোদ সরকারের সময় থেকেই অন্য মাছেরা বেশ মান্যগণ্য করতো। কিন্তু পঞ্চানন সেসবের ধার না ধেরে বিজাতে ছেলের প্রস্তাব দিয়ে আসে। হীরামোহন ডাক্তার সেসময় ব্যপারটা সামলে নেয়। শুধু সেসময়ই নয়, একপ্রকার তার উদ্দ্যোগেই বিজাতে বিয়েটা হয়ে যায় সুখলতার। একটা সুন্দর স্বপ্নের সংসার হয়ে যায় সুখলতা আর রতিকান্তের। . ব্যপারটা হয়তো এখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু বঙ্গোপসাগরের নিচে তখন চলছিলো ষড়যন্ত্রের ঘনঘটা! একটা বিশাল ষড়যন্ত্র গ্রাস করতে চলছিলো সুখলতার স্বপ্নের ঘরকে মিইয়ে দিতে। যেই ষড়যন্ত্রের প্রতিফলনে রক্তরঞ্জিত হয়ে উঠে বঙ্গোপসাগরের পানি! কিন্তু কি ছিলো তা? যার কারণে এত ভালোবাসার রতিকান্তর অবজ্ঞা সুখলতার সম্ভ্রমকে এত আঘাত করে যে সে চিন্তামনি জেলের পেতে রাখা জালে নিজেকে ধরা দেবার অপেক্ষা করে! যেই চিন্তামনির জাল থেকে একবার নিজের রতিকান্তকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে সে সক্ষম হয়েছিলো ভালোবাসার জোড়ে, আজ সেখানেই সে ধরা দিতে চায়! . #পাঠ_প্রতিক্রিয়া: হরিশংকর জলদাসের বই প্রথম পড়ি দুমাস আগেই সম্ভবত। মনেহয় কত দেরী করে ফেললাম! তার লেখায় কিছুতো আছে যা অগ্রাহ্য করা যায়না। তাই এবার বইমেলা থেকে তার এই বইটি কিনে ফেলি! বাসায় এসে উল্টেপাল্টে দেখে যখন বুঝতে পারি বইটির মুখ্য চরিত্রগুলো মাছ, খুব আশাহত হই। তাচ্ছিল্য করি। মনেহয় টাকাগুলো জলে ফেলে আসলাম! কিন্তু বইটা যতই পড়ি, টের পাই এর ভিতরে আছে কঠিন জীবনবোধ। তখন মাছগুলোকে মনে হচ্ছিলো রূপকঅর্থে! লেখকের সমুদ্রের সঙ্গে আছে সুক্ষ সংযোগ। সেই সংযোগকে কত সুন্দরভাবেই না তিনি উপস্থাপন করেছেন। তিনি আগে লিখেছেন সমুদ্রের জেলেদের জীবন কাহিনি। এবার লিখলেন মাছেদের নিয়ে। এরকম উপন্যাসের প্লট আগে হয়তো কখনই হয়নি! যেকোনো গল্পের প্লট যত স্ট্রং হয়, সেটা উপস্থাপন করার প্রক্রিয়াও তত উন্নত হতে হয়। সেই প্লটের আসল সৌন্দর্য ফুটে উঠে লেখকের শব্দশৈলীর উপর। হরিশংকর জলদাসের এই বইটি নিঃসন্দেহে শব্দচয়ন এবং বাচনভঙ্গি নিয়ে নিরাশ করেনি। লেখকরা যুগ যুগ ধরেই তাদের গল্প উপন্যাসে রূপক চরিত্র নিয়ে এসেছে। কখনো ধর্মীয়, কখনো মানবীয় বাধাগুলো কিংবা পাঠককে আরেকটু আকর্ষিত করতে এই উপায়গুলোর জুড়ি মেলা ভার। এই বইটি তেমনি আমদের সমাজেরই একটি রূপক চিত্র। এখানে মৎস্য সম্প্রদায়কে হাইলাইট করে লেখা হলেও এর প্রতিটি আখ্যান যে আমাদের সমাজেরই কোন উপাখ্যান জানান দেয় তা এই বই পড়ার পর সব পাঠকই কমবেশি বুঝবে। কিছু কিছু উপাখ্যান আমরা মানুষের ক্ষেত্রে হলে যতটা গ্রহণ করি অকপটে তারচেয়ে বেশি খোঁড়া যুক্তি দেখাই। এখন ধরা যাক বইটি লেখক কোন প্রাণীর জবানবন্দিতে না করে যদি মানুষের জবানবন্দিতে দিতো, সেটা পাঠকমনকে ছুঁয়ে যেত বটে তবে হয়তো উদ্বেলিত করতে পারত না! ভেতরের সত্ত্বাটাকে নাড়াতে পারত না ওভাবে। বইটির শুরু অত্যন্ত সাবলীলভাবে সুখলতা আর রতিকান্তের প্রেমময় নাটকীয়তা দিয়ে শুরু হলেও শেষটা তা হয়নি। কি ভাবছেন, স্পয়লার দিয়ে ফেলেছি? ব্যপারটা কিন্তু তা নয়। এই বইয়ের সঙ্গে একাত্ব হয়ে এর ভেতরকার রস আস্বাদন করতে সম্পূর্ণ বইটি পড়া প্রয়োজন। এরপরই কেবল তথাকথিত সমাজব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হয়ে এর মর্মান্তিক পরিণতি অনুভব করা সম্ভব। নির্দ্বিধায় বইটি মনে রেশ রেখে যাবার মত! আজ কাকতালীয়ভাবেই যখন দুপুরে ইলিশ দিয়ে ভাত খাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিলো চিন্তামনির মত জেলের ধরা এমনই কোন সুখহীন সুখলতাকেই কি............!






















