

Buy শোধ Online in Bangladesh
লেখক: শিবব্রত বর্মন
- Author: শিবব্রত বর্মন
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789849981466
- Number Of Pages: 88
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দাবাড়ুর গল্প। দেশজুড়ে তখন রক্ত-অশ্রু-বারুদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। অধিকৃত দেশে চলছে শত্রু খোঁজার মরিয়া অভিযান। দুই দাবাড়ু একে অপরের বিরুদ্ধে দিতে থাকেন ঘুঁটির সূক্ষ্ম চাল। তাঁদের তিক্ত দ্বৈরথ দাবার বোর্ডের ৬৪ খোপের চৌহদ্দি ডিঙিয়ে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

📚বই নিয়ে আলোচনা পড়ে শেষ করলাম অতি চমৎকার সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এবং সেই সাথে স্ট্রাটেজিক্যাল ফিকশন ‘শোধ’ কয়েকজন সুখ্যাত পাঠকের পরামর্শ পেয়ে বইটি অন্য আরেকজন বিরাট পাঠকের কাছ থেকে কেড়ে নিয়া পড়া শুরু করে দেই। এবং দিনশেষে বলতেই হচ্ছে তারা সকলই সঠিক ছিলেন। ধন্যবাদ জানাই এজন্য তাদের সকলকেই। বইটি লিখেছেন - শিবব্রত বর্মন। এই প্রথম তার কোনো বই পড়লাম। এবং আনন্দের সাথেই জানাচ্ছি তার লেখা ভালো। বইটার গল্প নিয়ে কিছু বলি - দু’জন অসম বয়সী মানুষ। একজন ইতিহাসের অধ্যাপক, অন্যজন দেশসেরা খেলোয়াড়। পেশা তাদের যাইহোক না কেনে কিন্তু তাদের ধ্যান-জ্ঞান একই ছিলো- দাবা খেলা। তবে এখানে কিন্তু আছে একটা, তাদের একজন খেলেন নেশায় আর অন্যজন খেলেন পেশায়। তাদের মধ্যেকার পরিচয় ঘটে কোনো এক অঘটনের মাধ্যমে। সেই থেকে শুরু হয় তাদের ‘সখ্যতা’। তাদের একসাথে দেখা যেতে লাগলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এখানে সেখানে। তাদের একত্রিত হওয়া মানেই হচ্ছে দাবার কোনো না কোনো নতুন চাল দেয়া। তারা হাটঁতে চলতেও দাবার চাল চালে। কিন্তু হঠাৎ ঘটে অঘটন - পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে যায় অধ্যাপককে। তখন আসলে একই সমনামের দুটি দেশের মাঝে বিরাট এক পরিবর্তন পর্ব চালু হয়ে যায়। ১৯৭১ হলো সেই যাত্রা সাল। সেনাবাহিনীরা অধ্যাপককে একটা সময় ছেড়ে দেয়। কিন্তু মুক্ত অধ্যাপক পূর্বের সহজ সরল মানুষটি আর নেই। তিনি এখন এর ‘শোধ’ তুলতে চান। নেমে পড়েন তিনি তার প্রতিশোধ স্পৃহায় তৈরী দাবার বোর্ড এবং সেখানে থাকা গুটি গুলোর চাল দিতে। কিস্তিমাত করতে চান এই খেলার। তো, মনস্তাত্ত্বিক রহস্য এবং কৌশলগত কাহিনী পছন্দ করা পাঠকরা পড়তে শুরু করেদিন ‘শোধ’ বইটি। আশাকরছি হতাশ হতে হবে না। (AI কে আর শিক্ষিত, বলা ভালো বাংলাদেশী করতে পারলাম না। দুঃখীত ছবিতে থাকা বইয়ের নামের বিকৃতির জন্য।) ধন্যবাদ বই হোক আপনার, আর আপনি বইয়ের



শোধ উপন্যাসটা আমি সর্বপ্রথম পড়ি "প্রথম আলো ঈদসংখ্যা ২০২৪" এ। সেখানের সবগুলো উপন্যাসের মধ্যে এটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের ছিল। এছাড়াও এই উপন্যাসের ছোট একটা পার্ট ছোট গল্প আকারে শিবব্রত বর্মনের ছোট গল্প সংকলন বানিয়ালুলু অথবা সুরাইয়াতে পড়েছিলাম, ঠিক মনে নেই। এরপরে ঈদসংখ্যায় পুরো উপন্যাসটা পড়ে চমকে যাই, সেই ছোট গল্পের অরিজিনাল কাহিনি আসলে এত বড় আর এত চমৎকার!!! প্লট: প্লটটা যদি আমি আমার মত করে বলি, কাহিনি শুরু দাবা নিয়ে। মূল চরিত্র আফসান চৌধুরী এবং ফিরোজ আহসান বেগ। একজন দাবা খেলেন শুধু আনন্দের জন্য, তো অপরজন খেলেন শুধু জেতার জন্য। সব খেলার মত দাবা খেলায়ও হার- জিত থাকে, কিন্তু আমাদের এই চরিত্র ফিরোজ আহসানের কাছে জয় একটা নেশার মত। সে পরাজয় সহ্য করতে পারেন না। দেশে বিদেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সে জয়ী হয়েই ফিরে আসেন। তাই সে হারার পরেও বারবার আফসান চৌধুরীর কাছে দাবা খেলতে যান একবার জয়ের মুখ দেখার জন্য। এদিকে আফসান চৌধুরীর কথা হচ্ছে, প্রতিযোগিতার জন্য যে খেলা তাতে নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ থাকে না। তাই তিনি কখনো প্রতিযোগিতায় খেলতে যান না। ফিরোজ আহসান নাছোড়বান্দা, সে বারবার আফসান চৌধুরীর সাথে প্রতিযোগিতার জন্য খেলবে এবং জিততেই হবে এমন মনোভাব। খেলতে খেলতে একসময় তাদের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব থেকে খুব ভালো একটা সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। আফসান চৌধুরী তাকে মনে মনে দাবা খেলা শেখান। এ এক অদ্ভুত সুন্দর ব্যপার। এমনকি আফসান চৌধুরী ক্লাসের মাঝেও চিরকুট আদান-প্রদানের মাধ্যমে মনে মনে ফিরোজ আহসানের সাথে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ওহ বলতে ভুলেই গিয়েছি, আফসান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সম্পর্ক যতই ভালো হোক, এই দাবার জয়ের নেশাই ফিরোজের মধ্যে প্রতিহিংসার মনোভাব তৈরি করে এবং শুধুমাত্র জয়ের জন্যই ফিরোজ কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে তা জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি। এই দুইজন ছাড়াও আরো কিছু চরিত্র উপন্যাসে বেশ ভালো ভূমিকা রেখেছে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা হাবিবুল্লাহ, ফিরোজের প্রেমিকা রওশন, ফিরোজের মা এবং অন্যতম রহস্যময় চরিত্র ফিরোজের বাবা। পাঠ প্রতিক্রিয়া : গত বছর আমার পড়া অনেক বইয়ের মধ্যে অন্যতম পছন্দের উপন্যাস শিবব্রত বর্মন এর শোধ উপন্যাস। এটা পড়তে নিয়ে শেষ না করে উঠতে পারছিলাম না। টানটান উত্তেজনা। এক বসায় গোগ্রাসে গিলেছি এটি। যদিও এই উপন্যাসকে লেখক সমকালীন উপন্যাস বলেছেন,কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে থ্রিলারের জনরায় হয়ত ফেলা যায় বা কাছাকাছি। আমার মত দাবা না বোঝা মানুষের কাছে যেহেতু এত ভালো লেগেছে, যারা বোঝে তাদের কাছে আরো বেশি ভালো লাগবে। অবশ্য এই উপন্যাস পড়ার জন্য দাবা বোঝার খুব একটা প্রয়োজন নেই। উপন্যাসের প্রথম লাইনই একজন পাঠকের মনোযোগ কাড়ার জন্য যথেষ্ট, "দাবা এক হিংস্র খেলা। যে বোঝে সে জানে"। লেখকের এই এক কথাতেই পুরো উপন্যাসের প্লট লুকিয়ে আছে। এই দাবা থেকে শেষ পর্যন্ত প্লট টুইস্ট আসলে যেদিকে গিয়েছে সেটা অবিশ্বাস্য। এছাড়াও আফসান চৌধুরী এবং ফিরোজ আহসান বেগের মধ্যকার সম্পর্ক, ফিরোজের মানসিক দ্বন্দ্ব লেখক এখানে খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। ফিরোজের সাথে তার রহস্যময় বাবার কথোপকথনের মাধ্যমে ফিরোজের মানসিক অবস্থা তুলে ধরা বেশ প্রশংসনীয়। পরিস্থিতির চাপে পড়ে একজন সহজ সরল মানুষ কিভাবে অস্বাভাবিকভাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে পারে তা দেখা গিয়েছে আফসান চৌধুরীর মাধ্যমে। এই উপন্যাস হাইলি রেকোমেন্ডেড। না পড়লে বিশাল মিস।
ডিফরেন্ট ন্যারেটিভে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলার ভঙ্গিটা ভালো লেগেছে। স্টোরিটেলিংয়ে থ্রিল এবং নিস্পৃহতার একটা ব্যালান্স ছিল, সুখপাঠ্য






















