

Buy সায়ানাইড ফুল Online in Bangladesh
লেখক: মাহবুব ময়ূখ রিশাদ
- Author: মাহবুব ময়ূখ রিশাদ
- Publisher: অন্যপ্রকাশ
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

মাহবুব ময়ূখ রিশাদ- এর "সায়ানাইড ফুল" পড়া হলো। সমসাময়িক লেখকদের বই সম্পর্কে লিখতে গিয়ে আমি কখনো স্পয়লার দিই না, এক্ষেত্রেও চেষ্টা করব না দিতে। এটি এমন এক উপন্যাস, যাকে যে কেউ যে কোনো ভাবে দেখতে পারে। কারো কাছে সায়েন্স ফিকশন মনে হতে পারে, কেউ আবার একে আধ্যাত্মিক জার্ণি বলেও ধরে নিতে পারে। অগণিত প্রতীকে ভরা এই উপন্যাসে নানান ধরনের চরিত্র এসে মিশেছে, এক জগত দ্রবীভূত হয়েছে ভিন্ন জগতে। কিছু জায়গায় লেখক নিজেই প্যারালাল জগৎ শব্দটা উল্লেখ করেছেন, সুতরাং হিন্টস আছে যে এই উপন্যাস ফ্রিদা'র (প্রোটাগনিস্ট) আত্মিক ভ্রমণের কথা বলে। মৃত্যুর প্রেক্ষিতে জীবনকে দেখা, বেঁচে থাকার কারণ অনুসন্ধান করা, এবং প্রশ্ন তোলা: মৃত্যু না জীবন, কোনটা আসলে বেছে নেয়া উচিত? জীবনের চেয়ে মৃত্যু ভালো? নাকি মৃত্যুর চেয়ে জীবন? বেঁচে থাকলেই বা কি, মরে গেলেই বা কি? জাদুবাস্তবতায় ভরপুর এই আখ্যানে এক চরিত্রকে ঘিরে অসংখ্য চরিত্র আবার সব চরিত্র মিলে এক চরিত্র। যাদের সাথেই ফ্রিদার দেখা হয়, সে মানুষ হোক বা বন্য পশুপাখি, তারা সবাই ফ্রিদারই নানান অল্টার ইগো বলে ধরে নেয়ার সুযোগ আছে। জীবন অনির্দেশ্য, এক জীবনেই আছে বহু জীবন আর এই এক জন্মেই হয় বহুজন্ম। পুনর্জন্ম পরকালীন কিছু না, যা হয় এখানেই। মৃত্যুর জানালা দিয়ে জীবনকে না দেখলে যেমন জীবনকে জানা হয় না, সত্যিকার অর্থে সব সীমাবদ্ধতার উর্ধ্বে উঠে জীবনকে দেখতে না শিখলে সফল মৃত্যুও মেলে না। ফ্রিদা কখনো ঘুরে আসে মাতৃগর্ভে, অনুভব করে এক ধরনের নিরাপত্তা; কখনো মুখোমুখি হয় মৃত্যু নামক জীবনের একমাত্র অনিবার্য গন্তব্যের, যেখানে সূচালো কাঁচের বৃষ্টি হয় যখন তখন। তার জীবনে গতানুগতিক প্রেম আসে, আসে স্বর্গীয় প্রেমও। কোনো প্রেমই তাকে স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভব দেয় না একমাত্র একটি ছাড়া আর সেই একটি প্রেম বলে দেয় এই ভালোবাসা অন্তর্নিহিতভাবে নিজের প্রতি। নার্সিসিজম নয়, নিজেকে চিনে, নিজেকে ক্ষমা করে নিজেকে ভালোবাসতে পারার মধ্যেই আছে মৃত্যুর সার্থকতা। লেখক নিজেও এক ধরনের চরিত্র হয়ে উপস্থিত হয়েছেন। রিশাদ নামক একজন চিকিৎসক, যিনি ফ্রিদার দাদা রহমিনের পরিচিত সেই অনন্তকাল ধরে। এরা দুজনেই দৈবিক কোনো অস্তিত্ব, যারা মানুষকে, বিশেষ করে ফ্রিদাকে পুনর্জন্ম বা জীবনের জৈবিক চক্র থেকে মুক্ত করতে চান। মানুষের মুক্তি না হলে হয়ত দেবদূতেরও মুক্তি হয় না। ফ্রিদার আত্মঅন্বেষণ অভিযাত্রা আমাকে বাউল দর্শনের চুরাশি লক্ষ যোনির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। মাহবুব ময়ূখ রিশাদ- এর লেখা বেশ টানটান, সহজ, অলংকারহীন এবং সুখপাঠ্য। তবু কোথাও কোথাও মনে হয়েছে ন্যারেটিভটা সামান্য ঝুলে গেছে। সেই সাথে, কিছু কিছু জায়গায় অন্তত কিছু অলংকার দরকার ছিল বলে মনে হয়েছে। যারাই বাংলাদেশের নানান কোণে এবং মানুষের আত্মিক জগতের গভীরে ঢুঁ মারতে চান, মাহবুব ময়ূখ রিশাদ-এর বই পড়লে তারা হতাশ হবেন না।






















