

Buy সাড়ে তিন হাত ভূমি Online in Bangladesh
লেখক: ইমদাদুল হক মিলন
- Author: ইমদাদুল হক মিলন
- Publisher: অনন্যা
- Isbn: 9789849132967
- Number Of Pages: 272
- Language: বাংলা
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"সাড়ে তিন হাত ভূমি" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। বর্ষাকাল। আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে একদল মুক্তিযােদ্ধা ঢুকেছেন বাংলাদেশে। এই দলে আছেন রবি। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন শুরু হওয়ার আগে দুদিনের জন্য এসেছেন নিজেদের গ্রামে। বিকেলবেলা বাড়িতে ঢুকে দেখেন উঠোনে পড়ে আছে বাবার লাশ, বসার ঘরে মায়ের লাশ, বােনের লাশ তার ঘরে, সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর লাশ পেছন দিককার উঠোনে। এই দেখে অনুভূতিহীন হয়ে যান রবি। এক সময় উঠোনে কবর খুঁড়তে শুরু করেন। যখন যার কবর খুঁড়ছেন, ঢুকে যাচ্ছেন তার স্মৃতির। ভেতর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ একেবারেই অন্য মাত্রার উপন্যাস।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
সত্যি বইটি অসাধারন আমার প্রিয় লেখকের লেখা ।
বইয়ের নাম: সাড়ে তিন হাত ভূমি লেখক: ইমদাদুল হক মিলন ক্যাটেগরি : মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস প্রকাশক: অনন্যা মুদ্রিত মূল্য : ৳৪৫০ জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস। মুক্তিযোদ্ধা রবি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে গ্রামে আসেন পরিবারের খোঁজ নিতে। এসে দেখেন উঠানে পড়ে আছে বাবার মৃতদেহ, ঘরে মা ও বোনের লাশ। আর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর মৃতদেহ পড়ে আছে বাড়ির পেছনে। হতবিহ্বল, অসাড়, অনুভূতিহীন রবি উঠানে নিজ হাতেই খুঁড়ে চলেন প্রিয় স্বজনদের কবর। যেন খুঁড়ে চলেন স্মৃতির গহিন পরিখা। মা-বাবা, বোন, স্ত্রী; এমনকি অনাগত সন্তানের সঙ্গেও স্মৃতির ঝাঁপি পাখা মেলে। আর তা দৃশ্যমান হতে থাকে পাঠকের চোখের সামনে। উপস্থাপনার দিক থেকে উপন্যাসটি একেবারেই আলাদা।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইমদাদুল হক মিলন প্রচুর কাজ করেছেন, তাঁর উপন্যাস ‘সাড়ে তিন হাত ভূমি’ পড়লাম। আবারও তিনি জানাতে পারলেন, তিনি নিত্য-মুক্তিযুদ্ধময়। এ উপন্যাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে আমরা চমত্কার এক বর্ণনাকৌশলে দেখি। তাতে পূর্ববাংলার বর্ষাকাল, নদী, মানব-হত্যা, পাকিস্তানি-নিষ্ঠুরতা যেমন দেখি, তেমনি জল-মাটি-নদীর এই বাংলাদেশকে একেবারে অন্তর থেকে স্পর্শ করতে পারি। আমরা বার বার একাত্তরে ফিরে যাই, আমাদের যুদ্ধ, আমাদের কষ্টাকষ্টির রক্তময়তা একেবারে কাছ থেকে অনুভব করতে থাকি।এক মুক্তিযোদ্ধা আগরতলার মেলাঘর ট্রেনিং ক্যাম্পে ১২ সপ্তাহের ট্রেনিং শেষ করে তার বাড়ি ফেরে। এও তো যুদ্ধেরই অংশ। দেশকে শত্রুমুক্ত করার প্রক্রিয়ার ভিতরই সে থাকে। এভাবেই এই উপন্যাসের একটা পর্ব শেষ হয়। এর ভিতর দিয়ে ঘটনা বলে যাওয়ার চমত্কার মুন্সিয়ানা আছে। আমরা এভাবেই যুদ্ধের সমস্ত প্রেক্ষাপটও একে একে পাঠ করতে থাকি। কীভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, কীভাবে তা জালের মতোই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল, তারই সহজ, সুন্দর, প্রাঞ্জল বর্ণনা এখানে আছে। ঔপন্যাসিক আমাদের গ্রাম-বাংলাকে একেবারে জল-মাটি-হাওয়া-রস-কষ দিয়ে বর্ণনা করে গেছেন। আমাদের তখনকার গ্রাম, গ্রামের মানুষজন, তাদের জীবন, লৌকিক আচরণ খুবই মায়াময় হয়ে আমাদের সামনে ধরা দেয়। আমরা যেন সবই দেখি, তার ভিতরকার নিষ্ঠুরতা, সময়ের জান্তবতা একে একে অনুভব করতে পারি।উপন্যাস শেষ হয় রবি কর্তৃক তার আত্মীয়-পরিজনের কবর দেয়ার ভিতর দিয়ে। এ এক জীবন্ত কাজ, জলজ্যান্ত স্মৃতি। কিন্তু উপন্যাস যে শেষ হয় নাই, তা এর অন্তর্গত তাগিদেই বোঝা যায়। কবর দিয়েই আমাদের মহান যুদ্ধ শেষ হতে পারে না। তাই রবি যেন কিছু ইশারা আমাদের জন্য রাখে। সাড়ে তিন হাত কবরের ভিতর দিয়ে দেশের রক্তাক্ত অবস্থা যেমন তাতে বোঝানো হলো, থরো থরো কম্পনের দেশ আমাদের সামনে ভেসে উঠল, তেমনি যুদ্ধের আরেক রূপের জন্য আমাদের তৈরিও রাখা হলো। সেখানে রবি হয়তো মারা যাবে, হয়তো দেশের জন্য তাকে জীবনই দিতে হবে, অথবা ক্রমাগত যুদ্ধও তাকে করা লাগতে পারে। হয়তো তার যুদ্ধ হওয়ার পরও শেষ হবে না। যুদ্ধ তো আসলে শেষও হয় না। এটা যে মুক্তির জন্য যুদ্ধ। আমরা প্রবল তৃষ্ণা নিয়ে উপন্যাসটির পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করতে পারি।

"বকুল, বকুল রে, আমার বোন, আমার হৃদয়জুড়ে থাকা বোনটি, এই বাড়িতে ঢুকে যে দৃশ্য আমি দেখেছি, এ রকম দৃশ্য দেখে কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব না তার মাথা ঠিক রাখা। বাবার লাশ পড়ে আছে উঠানে। মায়ের লাশ পড়ে আছে বসার ঘরে। বোনের ছিন্নভিন্ন লাশ তার ঘরে। স্ত্রীর লাশ ভেতর দিককার উঠানে। বেয়োনেট চার্জ করে লণ্ডভণ্ড করা হয়েছে তার গর্ভের সন্তান। এই দৃশ্য কেমন করে সহ্য করে মানুষ! কেমন করে তাকিয়ে দেখে! আমি দেখেছি। আমি সেই মানুষ, আমি দেখেছি। দেখার পরের অনুভূতি তোকে আমি বলতে পারব না। এই অনুভূতির কোনো ব্যাখ্যা নেই। এই অনুভূতি প্রকাশের কোনো ভাষা নেই। এ রকম দৃশ্য যে দেখে, শুধু সে-ই জানে তার অনুভূতি কেমন। মনের অবস্থা কেমন! এ রকম দৃশ্য দেখে কেমন করে বেঁচে থাকে সে! কেন অজ্ঞান হয়ে পড়ে না! কেন হার্টফেল করে মারা যায় না! না, আমি অজ্ঞান হইনি। আমি হার্টফেল করে মরে যাইনি। আমি বেঁচে আছি। আমি তোদের জন্য বেঁচে আছি। আমি বেঁচে আছি দেশের সাত কোটি মা বাবা ভাই বোন স্ত্রী আর সন্তানের জন্য! দেশের বেঁচে থাকা মানুষগুলোর জন্য আমি বেঁচে আছি। যোদ্ধার বেঁচে থাকতে হয়! দেশের স্বাধীনতার জন্য বেঁচে থাকতে হয়। মুক্তির জন্য বেঁচে থাকতে হয়........।"






















