রংমহল
বই কালেকশন

Buy রংমহল Online in Bangladesh

লেখক: আফিফা পারভীন

4.75
(25 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: আফিফা পারভীন
  • Publisher: ছাপাখানা প্রকাশনী
  • Number Of Pages: 488
  • Language: বাংলা
  • Edition: 2nd Edition, 2024
৳ 1049৳ 120013% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

নদী, হাওর ও পাহাড় বেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি প্রাচীন জনপদ সুনামগঞ্জ। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে অনন্য সুনামগঞ্জের শতবর্ষী এক জমিদার বাড়ি রংমহল। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই রংমহলে বয়ে চলেছে নিয়ম-অনিয়ম, সুখ-দুঃখ, প্রেম-অপ্রেম, হতাশা-স্বপ্নভঙ্গ, মায়া-ঘৃণা, আশা-নিরাশা ও প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তির স্রোতধারা। অনেক মানুষের হরেক রকম অনুভূতির এক বর্ণাঢ্য আখ্যান এই উপন্যাস। রংমহল — মানব জীবনের মতোই বিশাল, বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময়।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.75
(25 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
sad****com
sad****com ভেরিফাইড
01 Mar 2025

রংমহল – সম্পর্ক, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন লেখক: আফিফা পারভীন প্রকাশনা: ছাপাখানা প্রকাশনী সংক্ষিপ্ত ধারণা: "রংমহল" শুধু একটি প্রেমের উপন্যাস নয়, এটি পারিবারিক বন্ধন, আত্মপরিচয়ের সংকট এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সংঘাতের এক অনন্য উপাখ্যান। জমিদার পরিবারের গর্ব, ভালোবাসার জটিলতা এবং কিছু অপ্রত্যাশিত সত্যের উন্মোচনের মধ্য দিয়ে গল্পটি এগিয়ে চলে। গল্পের মূল চরিত্র শেহজাদ ও মধুমিতা—দুজন দু'রকম পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানুষ, যাদের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে ভালোবাসার গভীরতা, ভুল বোঝাবুঝি ও উপলব্ধির চমৎকার একটি জার্নি উঠে এসেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব বর্ণনা "রংমহল" কেবল সম্পর্কের গল্প নয়, এটি প্রকৃতির এক অসাধারণ চিত্রও তুলে ধরে। সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওর, জলাভূমি, এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওরের রূপ যেন উপন্যাসে এক আলাদা প্রাণ এনে দেয়। সেই নীল জলরাশি, আকাশের প্রতিচ্ছবি, দূরদিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত জলরেখা—সব মিলিয়ে মনে হয়েছে যেন আমি নিজেই সেই পরিবেশে হারিয়ে গেছি। কেন আমার ভালো লেগেছে? জমিদার পরিবার ও আধুনিক সময়ের সাংস্কৃতিক পার্থক্য খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শেহজাদ ও মধুমিতার সম্পর্কের জটিলতা ও পরিণতি হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। পারিবারিক রাজনীতি, হিংসা, এবং প্রতিশোধের মিশ্রণে গল্পটি একবার পড়া শুরু করলে থামানো কঠিন হয়েছে। সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা এত জীবন্ত ছিল যে মনে হয়েছে আমি নিজেই সেখানে আছি। শেষ কথা: আমি রংমহল পড়তে গিয়ে এক অসাধারণ অনুভূতির মধ্যে ছিলাম। এটি শুধু একটি গল্প নয়, বরং একটা আবেগঘন যাত্রা। ভালোবাসা, আত্মপরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক, ও সামাজিক বাস্তবতার চমৎকার মিশ্রণে গল্পটি আমার মনে দাগ কেটেছে। চরিত্রগুলো এত জীবন্ত আর সংলাপগুলো এত বাস্তবসম্মত লেগেছে যে গল্পের সাথে পুরোপুরি একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা সত্যিই কঠিন। যারা ভালোবাসা, পরিবার, আত্মপরিচয় এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যের সংমিশ্রণে লেখা উপন্যাস পড়তে চান, তাদের জন্য রংমহল নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার পছন্দ হবে! রেটিং: ⭐⭐⭐⭐⭐ (৫/৫) [আগুন ফুল না হোক আমার কাঠগোলাপ মুকুট বিলাস আর গাঁদাই সই ]

Israt Sharmin Trina
Israt Sharmin Trina ভেরিফাইড
09 Jan 2025

রংমহল • আফিফা পারভীন Among the broadswords of literary iron I wander like a foreign sailor, who does not know the streets, or their angles, and who sings because that's how it is, because if not for that what else is there? --------------Pablo Neruda. অনুভূতির পালে সত্যি হাওয়া লেগেছে, মুগ্ধ হয়ে পড়ে গেছি, ছুটে বেড়িয়েছি এক একটা শব্দে শেষ অবধি একই মুগ্ধতায়। এতো হৃদয়স্পর্শী অনুভূতিদের নিজের মাঝে দমিয়ে রাখাটা খুব অন্যায় হয়ে যাবে তাই চলুন আপনাদেরও নিমন্ত্রণ করতে এলাম মনকে আবিষ্ট করতে নিসর্গের এক চিরন্তন কথাশিল্পের মুগ্ধতায়। ◾সমারম্ভঃ গিয়েছেন কখনো সিলেটের সুনামগঞ্জে? থেকেছেন কখনো হাওরের বজরায়? বা আপনার বাড়ি কি সিলেটে আরও পরিষ্কার করে বলতে গেলে সিলেটের হাওর, জলে দাপিয়ে হয়তো বড় হয়েছেন আপনি। কিন্তু জানেন কি আজ এমন একটা বইয়ের কথা বলবো যা পড়লে আপনার প্রকৃতি দেখার দৃষ্টিটা বদলে যাবে বা বলা যায় চেনা পৃথিবী নতুন রূপে ধরা দিবে আপনার চোখে। এখন আপনি যদি সেখানে ঘুরে আসা কোন পর্যটক হন তো হয়তো ভাববেন এভাবে কেন আগে দেখলাম না? সৃষ্টিশীল লেখিকা আফিফা পারভীন কথা দিয়ে ছবি এঁকেছেন যে বইটাতে তার নাম হচ্ছে রংমহল। ◾ফ্ল্যাপঃ রংমহল হাওরের শতবর্ষী এক জমিদার বাড়ি। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে অনন্য সুনামগঞ্জে যার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জমিদার শাফায়াত আলী খান। কাগজপত্রে জমিদার না হয়েও হাওরের মানুষদের কাছে যার পরিবার জমিদার হিসেবে সমাদৃত হয় আজও। অনেক মানুষের, হরেক রকম অনুভূতির এক বর্ণাঢ্য আখ্যান এই উপন্যাস। ▪️আচ্ছা বিধাতা যে পরিবারের তালিকাভুক্ত করে পাঠান, সেখানে কি সবার হৃদয়ই ছোঁয়া যায়? নিজের সবটা বিলিয়েও কি রংমহলের মেজো জমিদার শেহজাদ পেরেছিল সবার হৃদয় জয় করতে? পাশাপাশি থেকেও হৃদয়ের কাছাকাছি ক'জনই বা যেতে পারে? জমিদার শরাফত আলী খান- হামিদা খানম কিংবা মাঈনুল হোসেন - শালিনী রেহমান ও কি পেরেছিলেন একে অপরের একান্ত কাছের মানুষটি হয়ে উঠতে? লাল লাহুর শক্ত বন্ধনের দোহাই দিয়ে একজন মায়ের হাসিমুখের মিথ্যে শঠ্তাই কি সব? নাকি সময়ের বাঁকে অসময়ে পরিচয় ঘটা রমিজ উদ্দিনের মতো কিছু না হয়েও একান্ত সুহৃদ হয়ে ওঠা কেউরা, নির্ভরতা আর ভরসায় এগিয়ে যাওয়ার যে পথ দেখায় সেখানেই বিশ্বাসের ভিত্তি? আবার অনাকাংখিত, দ্বিধার সম্পর্কে জড়িয়ে কে, কার বা কেন এই ছুটে চলা এ ভাবনায় বুঁদ হয়ে ঠিক কাকে খুঁজছে দিশেহারা মধুমিতা ? অনুভবে যে অজানা সুখের অনুরণন হচ্ছে সেখানে যে শুধু শেহজাদের ভালোবাসারই বিচরণ তাকি সত্যিই বুঝতে পারছেনা মধু? অভিশপ্ত রাজপুত্রের গল্পের সুখের সমাপ্তি টাকি রাজকন্যা করবে শেষ পর্যন্ত? এর উত্তর মিলবে আপনাদের রংমহলে। ◾ অনুভূতির ব্যবচ্ছেদঃ ▪️উপন্যাসের প্রতিটি পাতায় পাতায় যেসব ঘটনা বর্ণিত হয়েছে তার বেশির ভাগই খুব সাধারণ। পুরো উপন্যাসটি ছিলো সামাজিকতার মোড়কে জড়ানো। অথচ এর মাঝেই এক স্বপ্নালু বিমূর্ততা ও রোমান্টিক ভাবাবেগময় নৈসর্গিক অন্তর্জাল মূর্ত হয়ে ওঠেছে। প্রকৃতি ও জীবনের বর্ণনায় সংযোজিত হয়েছে যাপিত জীবনে টানাপোড়েন। বইটা পড়লেই এক জীবন্ত চলচ্চিত্র যেন চোখের সামনে ভেসে চলে। উপন্যাসে ছোট বড় অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে একের পর এক। একটি ঘটনার পর আরেকটি ঘটনা ঘটার মধ্যে সাহিত্যের পরিভাষায় যাকে উল্লম্ফন বলে, তার চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখতে দেখা গেছে। চরিত্রগুলো যখন পরপর সংলাপ বিনিময় করছে তখন তাদের পারিপার্শ্বিক আবহ, চোখের চাহনি, মুখের ভঙ্গিমা, আবেগের উচ্ছলতা, দুঃখের বিষণ্ণতা, ক্রোধের উন্মত্ততা কীভাবে ক্রিয়াশীল থেকেছে সে-সম্পর্কে লেখিকার বিবরণ, বিশ্লেষণ এবং বিশদ মন্তব্য, সংলাপ গুলোকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ▪️লেখিকার চমৎকার মুনশিয়ানায় স্পর্শযোগ্য নব্য ও বাস্তব এক আরশি পেয়েছি যেন। যার মাঝে তিনি আপন অভিজ্ঞতার সারাৎসারই নয়, জগতে ভেসে চলা মানবীয় প্রেম, অনন্য সহমর্মিতার আলোক দিশা বইটির পরতে পরতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ◾চরিত্র কথনঃ শেহজাদ-মধুমিতা- হামিদা খানম- শাহাদাত- জোছনা সহ আরও অসংখ্য চরিত্র এক এক করে এসে হাজির হতে থাকে কাহিনির বাঁকে বাঁকে। কোনো চরিত্র দু-একবার উঁকি দিয়েই মিলিয়ে গিয়েছে , কোনো চরিত্র কিছুটা পথ চলার পর অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। তবে কারও ভূমিকাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল না। একই সাথে প্রাসঙ্গিক এবং অনিবার্যভাবেই আরো কিছু আপাতবিচ্ছিন্ন ঘটনা সংযুক্ত হয়ে উপন্যাসের বৃত্ত- পরিধিকে বিস্তৃত করেছে। ◾শুরু থেকে শেষ অবধি টিকে থাকা মুগ্ধতারাঃ ▪️এখানকার হু হু করে বয়ে যাওয়া লিলুয়া বাতাস রক্তের মাঝে বিবাগী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগায়, বুকের মাঝে অকারণ হাহাকার তৈরি করে। দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির হাওর, স্বচ্ছ সুনীল জলের লেক আর ছোট বড় নদী যেন জালের মতো বিছিয়ে আছে সর্বত্র। সেই জোলো হাওয়ায় ও ভেজা ভেজা রোদে মিশে আছে ঘর ছাড়ার নেশা, বাউল হওয়ার টান। বলছিলাম উত্তর দিকে নীলচে-সবুজ ধোঁয়ার মতো উঁচু উঁচু পাহাড়ের রাজ্য ভারতের মেঘালয়ের কোলে অবস্থিত ভূ-প্রকৃতির দিক থেকে বৈচিত্র্যময় ও অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারী সুনামগঞ্জের কথা। যার চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের চিত্রকল্পে সুলেখিকা আফীফা পারভীন তার রংমহল উপন্যাস নির্মাণ করেছেন। যা পড়ে মনে হচ্ছিল কোন নিখাঁদ প্রকৃতিপ্রেমী তার তিমিরভেদী, স্বচ্ছ দৃষ্টিতে সবটা ইন্দ্রিয়গত করে প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের মধ্যে সেতু বন্ধন করেছেন যাকে আমরা নান্দনিকতাবাদ বা সৌন্দর্যানুরাগের প্রয়োগ বলতে পারি। অনেকটা ইতালো ক্যালভিনোর স্থাপত্যকলা চিন্তার মতো। ভাষায় ভারীত্ব এনে বা অযথা শব্দের গাঁথুনিতে সবটা মুখরা করে তোলা হয়নি। কাহিনীর প্রয়োজনে যখন যেটার প্রয়োজন হয় তখন শুধু সেটুকুই দেখিয়েছেন। লোকগাঁথার প্রাচীন ঐতিহ্যমন্ডিত কৃতীমানের জীবনযাপন এবং বাউল সম্রাট হয়ে ওঠার অভিনব যাত্রাও এখানে এসেছে চমৎকার ভাবে। ▪ করিতে পারি না কাজ সদা ভয় সদা লাজ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে – পাছে লোকে কিছু বলে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করার পরও উপন্যাসের নায়ক শেহজাদের দৃঢ় মনোবল নিয়ে লোকলজ্জা ও সমালোচনা উপেক্ষা করে গ্রহন করা পেশার কথা পড়ে মনে হচ্ছিল কামিনী রায়ের উপরোক্ত কবিতাটির যোগ্য জবাব। যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বহুমুখী কাজের বর্ণনাগুলো লেখিকার উপস্থাপনের মুন্সিয়ানায় আষাঢ়ে গল্প মনে হয়নি। শুধু তাই নয় সমাজ পরিবর্তনের জন্যও শেহজাদের অবদান গুলো মুগ্ধতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হাওরের জমিদারের সফলতার গল্পটা দৃষ্টান্ত মূলক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে সেই সব শিক্ষিত বেকারদের জন্য যারা উদ্যোক্তা হতে ভয় পায়, কাজের মধ্যে বড় ছোটর বৈষম্য টেনে আনে। ▪️সবার মাঝে আমি ফিরি একেলা। কেমন করে কাটে সারাটা বেলা! ইঁটের ’পরে ইঁট, মাঝে মানুষ-কীট; নাইকো ভালোবাসা, নাইকো খেলা। কবিগুরুর বধূ কবিতার এই লাইন গুলো বার বার মনে হচ্ছিল মধুমিতার একাকী গুমরে কাঁদা আর্তনাদ গুলো দেখে। যখন নিত্য চাহিদার সীমানা গুলো মিথ্যে কোলাহলের মোহে পরে, ত্রাসের আঙুল ধরে বট বৃক্ষের ছায়া দেয়া পরিবারের অবহেলা, অনাদর অযত্ন, হেঁয়ালিপনায় ভয়ংকরের কোলে পাঠাচ্ছে হাজারো মধুমিতাদের। উপন্যাসে হয়তো চোরাবালিতে ডুবতে যাওয়া মানুষটা মধুমিতার নাম হয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবেও কি এমনটা হচ্ছে না? ঐশির কথা ভুলে গিয়েছেন সবাই? মধু হয়তো ঐশির মতো কিছু করেনি কিন্তু রেইনড্রপ রেস্টুরেন্টের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা বা নষ্ট সময়ের কাছে নতজানু হয়ে পা হড়কানো নাম না জানা হাজারো মধুমিতারা নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে প্রতিদিন। রংমহল যেন সমাজের কাছে প্রশ্ন রেখে গেছে চোখে মায়া আর মুখে স্নেহ নিয়ে জন্ম নেয়া সন্তানদের ফেলে এগিয়ে চলা তথাকথিত সফল যে মানুষটাকে রোজ দেখছেন ভেবেছেন কখনো তার ঘরেই কি হেরে যাওয়া ধ্রুবতারার বাস কিনা? ▪ আসবার কালে কি জাত ছিলে এসে তুমি কি জাত নিলে, কি জাত হবা যাবার কালে সে কথা ভেবে বল না.. সুকর্মের মাধ্যমে মানুষ গৌরব ও মর্যদার আসনে আসীন হতে পারে। রংমহলে কখনো জোছনা, কখনো আনন্দী, কখনো বাদল আবার কখনওবা... টুইস্টে ঘেরা কারও পরিচয় বার বার মনে করাচ্ছিল জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো। ◾প্রচ্ছদ, সম্পাদনা ও অন্যান্যঃ ▪️প্রোডাকশন কোয়ালিটি খুব ভালো ছিল। এতো বড় বই হাতে নিয়ে পড়তে কোন অসুবিধা হয়নি। কিছু বানানের ভুল পড়ার গতি কমিয়ে দিচ্ছিল বার বার। যেমন আয়োজনের - আছোজন হয়ে যাওয়া বা জানালার - জানালো হওয়া। এবং পুরো বইয়ে আয়োজন শব্দটা প্রতিবারই আছোজন হয়ে এসেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে এসবের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে। ▪️প্রচ্ছদ হচ্ছে একটি লেখার অন্তর্গত ভাষা। কথায় আছে, A picture is worth than a thousand words. প্রচ্ছদের সঙ্গে বইয়ের একটি আত্মিক সম্পর্ক থাকে। সেই দৃষ্টিকোন থেকে বলতে গেলে রংমহল উপন্যাসের প্রচ্ছদটি এসকল দাবি নির্বাহ করতে সক্ষম হয়েছে পরিপূর্ণ ভাবে। মূল উপন্যাস পড়ার পরই এই নয়নাভিরাম মহলের রহস্য ভেদ করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সাথে যা গল্পে উল্লেখিত বর্ণনার সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে। ঠিক যেন লেখিকার বর্ণনাকৃত এক বাস্তবিক দৃশ্যপটের সাথে তার পাঠকদের বাস্তবিক দর্শন ঘটিয়ে গল্পের নিগূঢ়ে পৌছুতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছে প্রচ্ছটি। ◾পরিশেষে বলবো, লেখিকার রচনাশৈলীর অনবদ্যতা ভালো লাগার একটি আবেশ নিবিড়ভাবে ছুঁয়ে যাবে পাঠকের ইন্দ্রিয়কে। এই আবেশ নিয়েই পাঠক অগ্রসর হতে থাকবেন উপন্যাসের কাহিনি ও গতিপথের সহযাত্রী হয়ে। নি:সন্দেহে বই প্রেমীদের জন্য দারুণ উপভোগ্য হবে রংমহলের যাত্রা। ............................................................................ ▪️এক নজরে বইটি— বইয়ের নাম: রংমহল লেখিকাঃ আফিফা পারভীন জনরাঃ সমকালীন উপন্যাস প্রকাশনীঃ ছাপাখানা প্রকাশনী ব্যাক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫ _______________________________________________

Review Upload 1
Review Upload 2
smriti mondal
smriti mondal ভেরিফাইড
01 Jan 2025

#রংমহল_নিয়ে_অনুভূতি #আফিফা_পারভীন গল্পটি শুরু হয় রংমহলের বর্ণনা ও সিলেটের দুইজন বিখ্যাত মানুষ ও প্রকৃতির রূপের বর্ণনা দিয়ে। এখানে সুনামগঞ্জের প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের বিশ্লেষণ যেমন ছিল তেমনি ছিল সুনামগঞ্জের হাওর,দিরাই ও বিভিন্ন লেকের সৌন্দর্য সম্পর্কে। এই বইটির মাধ্যমে সুনামগঞ্জের সৌন্দর্য আমি, আমার ঘরে বসে উপভোগ করেছি। বইটি পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে, এইতো আমি দিরাই ঘুরছি, নীলাদ্রি লেকের সৌন্দর্য অনুভব করছি।আপু বইতে এতো কিছু এতো সুন্দর করে বর্ণনা করেছে তা আমার পক্ষে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। লেখিকার লেখায় আমি একবার ঘোরে ডুবেছি তো আবার তার লেখন শক্তিতে মুগ্ধ হয়েছি। গল্পটি ছিল একজন জমিদারিবিহীন জমিদার ও শহুরে আরাম আয়েশে বড় হওয়া একজন রাজ্যবিহীন রাজকন্যার সম্পর্কে। এছাড়া আরও অনেক চরিত্র ছিলো, যা আমাকে এক মূহুর্তে অবাক করেছে তো পর মূহুর্তেই ভাবনায় বিভোর করেছে। লেখিকা, তার লেখার মাধ্যমে প্রত্যেকটা চরিত্র এতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে, যা আমার মনের গভীরে দাগ কেটেছে। লেখিকার লেখাতে নেই কোনো অশ্লীলতা, যা আমাকে তার লেখাতে আকর্ষণ করেছে। শেহজাদ - এই সেই জমিদারিবিহীন জমিদার, যে একজন দায়িত্ববান ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ। যিনি একটি সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করেও পেশা হিসেবে জেলে পেশাকে বেছে নেন। তিনি চাইলেই পারতেন কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করতে ও আরাম আয়েশে জীবন যাপন করতে। কিন্তু তিনি তার পরিবার ও পরিজনের জন্য নিজের স্বপ্নকে বির্সজন দিয়েছে। রংমহল ও সুনামগঞ্জের সবার চোখে সম্মানের ও শ্রদ্ধার পাত্র হলেন শেহজাদ। যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যাই। মায়ের কাছে আদরের শেহজাদা, ছোট ভাই বোনের কাছে সম্মানের ভাইজান। মধুমিতা - রাজ্যবিহীন একজন রাজকন্যা। যিনি শহুরে জীবনযাপনে অভ্যস্ত। ইতালির একটি বড় র‍্যাম্প সো তে যার র‍্যাম্প ওয়াক করার কথা, ভাগ্যের ফেরে একরাতের ঘটনায় তাকেঁ নিয়ে দাঁড় করাই রংমহলের সামনে।শহুরে আধুনিকতায় বড় হওয়া একজন মানুষ হিসেবে মধুমিতার জীবনে অপার পরিবর্তন ঘটে রংমহল ও শেহজাদের সংস্পর্শে এসে। প্রথমে রংমহলে থাকতে না চাওয়া মেয়েটি সময়ের ব্যবধানে নিষ্প্রাণ রংমহলের প্রাণ ফিরিয়ে আনে এবং নিজে হয়ে ওঠে রংমহলের প্রাণকেন্দ্র। যে ধীরে ধীরে মাম্মির হানি থেকে হয়ে ওঠে জমিদার বাড়ির যোগ্য গিন্নি ও জমিদার সাহেবের আগুন ফুল। হামিদা খানম- রংমহলের জমিদার গিন্নি। যিনি শক্ত হাতে রংমহলের সবকিছু দেখাশুনা করেছেন। নারী মানেই যে সবসময় নরম তা কিন্তু নয়, প্রয়োজনে তারা শক্তও হতে পারে তিনি তাই দেখিয়েছেন ।তিনি একজন নারী হয়েও রংমহল ও ব্যবসা সবকিছু পরিচালনা করেছেন। জোছনা - জোছনা নামটি শুনলেই সবার আগে 'বেদের মেয়ে জোছনা আমায় ' গানটি মাথায় আসে তাই না। এই জোছনাও কিন্তু বেদের মেয়ে ছিল। বেদের মেয়ে হলেও তার আত্মাসম্মান ও বিবেক বুদ্ধি ছিলো প্রখর। রংমহলের সব চরিত্রের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র হলো জোছনা। জোছনার অংশ টুকু আমি খুব আনন্দ নিয়ে উপভোগ করেছি। শাহাদাত - রংমহলের ছোট্ট জমিদার। টিকটিক করা ও ঘুরে বেড়ানো ছিল যার কাজ। জোছনার সংস্পর্শে যে হয়ে ওঠে একজন দায়িত্ববান পুরুষ ও প্রিয় ভাইজানের সহযোগী। কল্লোল - আমার প্রিয় চরিত্রের মধ্যে একজন কল্লোল। রংমহল বইতে যার স্থায়িত্ব ছিল সবচেয়ে কম কিন্তু চরিত্রের গভীরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি ছিলেন শেহজাদের বিপরীত। যিনি তার স্বপ্নের জন্য পরিবার ও পরিজন ত্যাগ করেছেন। রজিম উদ্দিন - তিনি হলেন একজন আর্দশ মানুষ। মনের মধ্যে কারো জন্য সূক্ষ্ম অনুভুতি নিয়েও যে পৃথিবীতে সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকা যায়, তিনি সেটাই প্রমাণ করেছেন। রামিসা - এই মেয়েটার জন্য আমার এক আকাশ সমান কষ্ট লাগে। মেয়েরা সবসময় শুধু ভালো খাবার ও ভালো পোশাকই চায় না। তারা একটু যত্ন ও একটু ভালোবাসা চায়, যা রামিসা চেয়েও পায়নি। না বাবা-মার থেকে না স্বামীর থেকে। রংমহল পড়ে আমি দুইটা বিষয় খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছি- ১. জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো।জন্ম আমাদের যেখানে যেভাবেই হোক না কেন আমরা বেঁচে থাকি আমাদের কাজের মাধ্যমে। আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে সবার কাজে সম্মানিত হয়। ২. জন্ম দিলেই আর্দশ মা হওয়া যায় না,আবার জন্ম না দিয়েও একজন আর্দশ মা হওয়া যায়। জন্ম না দিয়েও নিঃস্বার্থভাবে অন্যের সন্তানকে ভালোবাসে আগলে রাখা যায়। রংমহল বইটি আমাকে এক সময় কাঁদতে বাধ্য করেছে তো পরক্ষণেই হাঁসতে বাধ্য করেছে।সুখ,দুঃখ, হাসি, কান্না, বিস্ময় ও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে অনেক সুন্দর সময় কেটেছে রংমহলের সাথে। রংমহল বইটি কিনে আমার মনে হয়নি আমার টাকা নষ্ট হয়েছে। বরং বইটি পড়ার পর মনে হয়েছে টাকা দিয়ে বই কিনা টা সার্থক হয়েছে। এই যে, আমাদের দুলাভাইয়ের মিসেস ( আপু ☺️) অনেক অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই আমাদের পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য❤️❤️❤️ রংমহল বইটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল। কারণটা অন্যদিন বলবো।জীবনের প্রথম নিজের অনুভূতি লিখেছি। ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন আপাগণ। অনেক কিছু লিখে ফেলছি, আজকের জন্য টা টা।

Review Upload 1
Review Upload 2
সোহানা আক্তার শিখু
সোহানা আক্তার শিখু ভেরিফাইড
30 Dec 2024

#রংমহল #পাঠ_প্রতিক্রিয়া 'রংমহল' - বিশাল বড় উপন্যাস। এতো বড় একটা বইয়ের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠকের মনোযোগ আর পাঠককে তৃপ্তি দেয়ার জন্য লেখককে কি পরিমাণ নিপুণতার সহিত কাজ করে যেতে হয়েছে, তা আপনি বই হাতে নেয়ার পর আর পড়তে শুরু করার পরই টের পেতে থাকবেন। আপনার মনে হতে পারে, রংমহল তো পড়েছিই তাহলে আবার বইতে কেন? আরে নারে ভাই, যখন আপনি বই পড়া ধরবেন এবং ধীরে ধীরে গভীরে যাবেন তখনই বুঝবেন আপনি তো কিছুই পড়েননি। বইয়ের রূপ, রস আপনার কাছে এতোটাই মোহনীয় লাগবে যে আপনার মনে হবে এই বই আগে কেন পড়লাম না। ভাবা যায়, ফেসবুকে এতো বড় একটা উপন্যাস পড়ার পর সেটা বইয়ে পড়তে গেলে মনে হচ্ছে আগে কিছুই পড়িনি টাইপ অনুভূতি হওয়ার পেছনে লেখক কতটা কারিশমা করেছে। তারপর আপনার কি মনে হয়,আমি শেহজাদ স্পেশালি মধুমিতাকে আগে একটু কম অনুভব করেছি? বা ওদের দুজনকে আরো বেশি পড়তে চেয়েছি? সেটা তো লেখক বইয়ে পূরণ করেছেই, তার উপরিপাওনাও লিখে গেছে। এতোটাই পরিশ্রম, ধ্যান-জ্ঞান, সময় নিয়ে লেখক লিখে গেছেন যে আপনার মন আর মননে একেবারে গেথে থাকবে বইয়ের পুরো জার্নিটা।প্রিয় মিষ্টি আপুকে বারবার লেখক বলতে গিয়ে মনে হচ্ছে আপুকে দূরের কেউ লাগছে। আমার আপু তো আমার আপুই। আবার বলি, আপনি জানেন বইয়ের এন্ডিং-এ চেঞ্জ আসবে। আসলেই কি তাই? আরে ভাই বইয়ের প্রথম থেকে লাস্ট সর্বক্ষেত্রেই আপু খুবই দক্ষতার সাথে আর আকর্ষণীয় করে সংযোজন আর বিয়োজন করেছেন যে আমি বারবার চমকে গেছি, আবার সীমাহীন আনন্দে বিগলিত হয়েছি। বারবার মন বলেছে ইশ এতো সুন্দর কেন! আর প্রচ্ছদ! সেখানে কি বলবেন? প্রথম দর্শনেই প্রচ্ছদ কি আপনার নজর কেড়েছে না? যখন বইটা পড়বেন, স্পেশালি বই পড়ার সময় যখন আপনি আরেকবার "রংমহল" দেখবেন এবং প্রচ্ছদের পিছনের কারনটা জানবেন, তখন সেই পেইজে এসে আপনি বইটা বারবার বন্ধ করে প্রচ্ছদ টা দেখবেন। আর ভাববেন লেখিকা আপু কতই না দুরদর্শিতা দেখিয়েছেন! বইয়ের বাইন্ডিং, লেখকের লেখনী, শব্দগুচ্ছ, বাক্যশৈলী, গদ্যশৈলী সবকিছুর কথা কি বলবেন? সবকিছুই একদম পার্ফেক্ট। কোথাও কম বা বেশি পাবেন না, অতিরঞ্জিত কিছু নাই। আপনি এতো বড় বইটির শেষ পর্যন্ত কখন পৌঁছে গেছেন বুঝতেই পারবেন। আপনাকে বইই টেনে নিয়ে যাবে। যতপড়বেন তত তৃষ্ণা বাড়বেই.. "রংমহল" - তার নামের মতোই সুন্দর। শুধু সুন্দর না ভয়ংকর সুন্দর। আমি গতকাল পড়ে শেষ করেছি, কিন্তু আমার মন-মনযোগ সব রংমহলে ডুবে আছে, ডুবে আছে দীঘির ওই টলটলে পানিতে, ডুবে আছে হাওরের শীতল বাতাসে, ডুবে আছে শেহজাদ-মধুমিতার ভালোবাসায়। আপনি বইটা পড়বেন আর আপনার মনে (!!!!!) বারবার এমন অবাকতার চিহ্ন অংকিত হবে। আর মুগ্ধতা! ভাই আপনি মুগ্ধতার সাগরে হাবুডুবু খাবেন। বেশি বলছি মনে হচ্ছে? আপনি আরো বেশি বলবেন তার গ্যারান্টি দিতে পারি। আপনি বই পড়তে শুরু করে কতরকম অনুভূতিতে যে বিভোর হবেন আপনি টেরই পাবেন না। এখনই আপনার খিলখিল করে হাসি আসবে, তো এখনইই আবার দিরাইয়ের আকাশ কালো করে মন খারাপ হবে। আবার চরিত্রগুলোর আনন্দে আপনি রংমহলের আকাশে ভেসে বেড়াবেন। কখনও তো সুখের আর আনন্দের কান্নাও কাঁদবেন। তখন আপনার মন বলবে, ইশ! এই আনন্দে কারো নজর না লাগুক! চরিত্রগুলোর কথা কি বলবেন? প্রথম পেইজে আপনার মনে হবে এ কোন নাট্যখানায় চলে আসলাম। অথচ দুই পেইজ পরেই আপনি টের পাবেন কি পরিমান এঙ্গেলে যে কাহিনী প্যাটার্ন চেঞ্জ হয়ে গেছে। আপনি তো সবার প্রথমেই শেহজাদে ডুবে যাবেন। "শেহজাদ"- ইশ সেতো তার নামের মতই শেহজাদা। বাহ্যিক সৌন্দর্যে বলেন আর অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য। দুদিক দিয়েই সে কানায় কানায় ভয়ংকর সুন্দর। তারপর তার 'আম্মা'- হামিদা খানম ওনার জন্য সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় আপনার মন বারবার বিগলিত হবে। ওনার দুরদর্শিতা আর জ্ঞান আপনি বলতে বাধ্য মা শা আল্লাহ। আর 'মধুমিতা' পুরো বইটা জুড়ে তাকে অনেকটা ভালোবেসে ফেলেছি। সবসময়ই বাবা-মায়ের ভালোবাসার কাঙাল এই মেয়েটি তাদের ভালোবাসা আর প্রাইরেটি পাওয়ার জন্য তরপেছে। যার কারনে নিজেকে চিনতেই ভুলে যাচ্ছিল। একটা শহুরে আর আধুনিক মানসিকতায় বড় হওয়া মেয়ের জন্য রংমহলে মানিয়ে নেয়া শুধু কষ্টকরই না দুঃসাধ্যও। পুরো বইটা জুড়ে কাউকে ছোট না করা, অপমান না করা সহ বিভিন্ন কাজে সে একটু বেশিই প্রিয় হয়ে ওঠেছে। তার যত রাগ, অভিমান, চাওয়া সব যেন শেহজাদেই শুরু শেহজাদেই শেষ। আর তার ভালোবাসাটা বই পড়েই ফিল করুন আপনারা! মধুমিতার জায়গায় দাড়িয়ে তার মত এমন পদক্ষেপ নিতে সবাই পারবেনা। আমি বারবার মধুমিতায় মুগ্ধ হয়েছি। "জন্ম হোক যথাতথা কর্ম হোক ভালো"- এই মতবাদ আর "ধৈর্য্য আর পরিশ্রমই সফলতার মাপকাঠি" - এই কথাগুলো যেন উপন্যাসের এপিঠ ওপিঠ। চেষ্টা, ধৈর্য্য,চাওয়া, পরিশ্রম মন থেকে করলে সফলতা আসবেই। 'জন্ম আর কর্ম' দুইটি মানব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জমিদারের ঘরে জন্ম নিয়েও শাফকাত, শেহজাদ, শাহাদাতের মধ্যে কাজ-কর্মে,মানষিকতার যেমন বিস্তর ফারাক, তেমনি বেদের ঘরে জন্ম নিয়ে জোছনা যেন উজ্জ্বল একটা দৃষ্টান্ত। শাফকাত আমার কাছে যে মিচকে শয়তান, এই বেটার পান খাওয়া আর মাথা ব্যাথার অযুহাতে বউকে বিছানায় নেয়ার কথা পড়লেই আমার বমি আসে। তেমনি শাহাদাত আর জোছনা এই দম্পতি দেখিয়ে দিয়েছে ভালোবাসা কি না পারে। একটা নারীর কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ মাতৃত্ব। সেখানে আঘাত পরার পর শাহাদাতের জোছনাকে আগলে ধরা, শেহজাদের জন্য শাহাদাতের ভালোবাসা সবকিছু ভীষণ ভালো লাগার। এই দম্পতি আমার একটু বেশিই পছন্দের। এই বইটার একেকটা চরিত্র একেকটা রত্ন। দু-তিনটা বাদে। বইটা পড়ে শাফকাত, শালিনী,..., দের যেমন দেখিছি, তেমনি দেখেছি রামিসা, রিনি, মাইনুল হোসেন, সোহাগীর মত অভগাদেরও। তাশরিফ, বাদল, জান্নাত, ফাতেমা খালা, মজনু কাকা,সাজিদ, কল্লোল আরও নতুন কিছুচরিত্র তাদের জীবনবোধ, জীবনের গতিপথ নিয়ে রংমহল রঙে রঙিন। শেহজাদ- ভাই তুমি এতো সুন্দর কেন? তোমার মনটা তার চেয়েও বেশি সুন্দর কেন? তুমি এতো ভালো কেন? তোমার এতো ধৈর্য্য কেন? তোমার ভালোবাসার ধরন এতো মোহনীয় কেন?এই পুরো তুমিটাই সম্মানীয় ও ভালোবাসার একটা মানুষ। চরিত্রকথন পরে কোনো একসময় করবো। এই বইটা নিয়ে বলতে গিয়ে বলতেই মন চাইবে। আমার তো এখনি আবারও পড়তে মন চাইছে। আফিফা পারভীন আপু রংমহলে আপনি এতো জাদু কেমনে করেছেন বলেন তো? এতো সুন্দর করে লিখে গেছেন আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। মহান আল্লাহ আপনার লেখায় বারাকাহ্ দিন। সমস্ত বদনজর থেকে হেফাজত করুন। ভালোবাসা রইলো আপু 🥰

Review Upload 1
Review Upload 2
Review Upload 3
Review Upload 4
880****332
880****332 ভেরিফাইড
30 Dec 2024

✨রংমহল অনুভূতিকথন রংমহল এখানে হাজারো রঙের মানুষ তাদের রঙ/বেরঙ্গের গল্প মহলের আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়ায়।মানুষ এমন প্রাণী যে রাজার ঘরের জন্মেও রাজা হতে পারেনা আবার ভিখারিনীর ঘরে জন্মেই বড় কিছু হয়ে যায়।জন্মে মানুষের হাত না থাকলেও কর্মে আছে তাই কর্মগুনেই তারা হয় গুনী। একটা বই সেখানে একজন নায়ক হলেও পুরো বই জুড়ে অসংখ্য নায়ক থাকে।নায়ক আমরা তাকেই বলি যিনি সবার মন কর্মগুনে, চরিত্রগুনে জয় করে নিতে পারে দুষ্চরিত্র কাউকে নায়ক কেউ বলে না।এখানে রমিজ উদ্দিন, বাদল,তাশরিফ, শাহাদাত,সাজিদ আর কল্লোল তাদের জীবনের নায়ক।যদিও কল্লোল অল্প সময় ছিল তবুও তার রেশ বইজুড়ে ছিল।অসাধারণ বন্ধু এমন চরিত্র সচরাচর কমই দেখা যায়। প্রেম-অপ্রেমের দোলাচড়ে অনেকগুলো জীবন দুলেছে।অনেক মানুষ অপ্রেম নিয়েও সংসার করে যাচ্ছে তবে কাউকে মনে রেখে কেউ কোনদিন সুখী হতে পারেনি ভাগ্যের এক অমোঘ সত্য ভালোবাসলেই সবাই পায় না আর পেয়ে হারালে দুঃখ যায়না। মানুষ বলে সুখ আর দুঃখ সবসময় একরকম থাকে না শুধু হামিদা খানম আর রামিশার বেলায়ই বুঝি এমন হওয়ার ছিল।জোসনা সেতো নিজ কর্মে জোসনার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।মধুমিতা ভীষণ বুদ্ধিমতী আবার বোকা সুন্দরী যে সরল মনে অন্যের মনের গরল ধরতে না পেরে সহজেই প্রভাবিত হয়ে যায়।ওর প্রতি রাগ আসার কথা হলেও আসে না, কিছু চরিত্র এমনই হয়। শেহজাদ সেতো এক প্রহেলিকা যাকে যায়না ধরা যায়না ছোঁয়া কিন্তু ভালোবাসার মানুষের জন্য সহজলভ্য। ওর শেষ কথাগুলো, কষ্টগুলো মনটা পোড়ায়। পরিশেষে তৃপ্তিজনক সমাপ্তি। রঙে বেরঙের রংমহলে সবাইকে স্বাগতম। 😌

Review Upload 1
Review Upload 2

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

প্রশ্ন

pages??

উত্তর

Dear customer, the book has 488 pages. Thanks for your question.

প্রশ্ন

এই বইয়ের ২য় খন্ড রয়েছে

উত্তর

প্রিয় গ্রাহক, না, রংমহল বইটির কোনো ২য় খণ্ড বর্তমানে প্রকাশিত হয়নি। এটি একটি স্বতন্ত্র উপন্যাস। ধন্যবাদ।

প্রশ্ন

pages??

উত্তর

Dear customer, the book has 488 pages. Thanks for your question.

প্রশ্ন

এই বইয়ের ২য় খন্ড রয়েছে

উত্তর

প্রিয় গ্রাহক, না, রংমহল বইটির কোনো ২য় খণ্ড বর্তমানে প্রকাশিত হয়নি। এটি একটি স্বতন্ত্র উপন্যাস। ধন্যবাদ।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)