

Buy রজনী Online in Bangladesh
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
- Author: হুমায়ূন আহমেদ
- Publisher: অন্যপ্রকাশ
- Isbn: 9848682597
- Number Of Pages: 80
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Printed, 2008
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
বাবা 'খক খক' করছেন। এই 'খক খক' অন্যদিনের মতো নয়। আজকেরটা ভয়াবহ। যেন তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করছেন ফুসফুসের খানিকটা অংশ কাশির সঙ্গে বের করে ফেলতে- পারছেন না। আমি মনে মনে বললাম- 'আরে যন্ত্রণা!' বলেই খানিকটা অনুশোচনা হলো। যাকে বলে জন্মদাতা পিতা। বেচারা কাশতে কাশতে ফুসফুস বের করে ফেলছেন। এই সময় সহানুভূতিতে পুত্রের হৃদয় আর্দ্র হওয়া উচিত। হাওয়া-টাওয়া করা উচিত কিংবা ছুটে যাওয়া উচিত একজন ডাক্তারের কাছে। তা করতে পারছি না, কারণ এখন বাজছে ছ'টা তিরিশ। আমি ঘুমুতে গেছি রাত তিনটায়। আমার পক্ষে মমতা দেখানো সম্ভব না। তবু দেখাতাম- দেখাচ্ছি না, কারণ বাবার এই খক খক সাময়িক ব্যাপার। কিছুক্ষণের মধ্যে থেমে যাবে। আবার শুরু হবে রাতে- ঘুমুতে যাবার আগে আগে। শিয়াল প্রহরে প্রহরে ডাকে। আমার বাবা ডাকেন সকালে এবং সন্ধ্যায়। বাকি সময়টা তিনি মোটামুটি সুস্থ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

কঠিন নিষ্ঠুরতম গল্প অবলীলায় বলে গেলেন, গল্পের চরিত্রের মতো সবাই নির্বিকার থাকতে পারে না। পরলে হয়তো ভালোই হতো, আবার কে জানে হয়তো ভালো হতো না।

মধ্যবিত্ত পরিবারের দুঃখ-সুখের সাতকাহন 'রজনী'। বীরু ঢাবির ছাত্র। তার ছোট দু'বোন আছে। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে জঘন্য মানসিকতার একজন মানুষের সঙ্গে। তার বাবা-মায়ের প্রেমের বিয়ে। এই দুজনের ঘটনাকে বেশ রঙিন করে লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ। বীরুর একজন বান্ধবী আছে। তার সাথে বীরুর সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল। ভালোবাসার কীনা বোঝা যায় না। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আটপৌরে গল্প 'রজনী'

বীরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ'র ছাত্র। ফাইনাল দিয়ে দিয়েছে, মৌখিক পরীক্ষা বাকি। বীরুর দু'বোন, ছোট বোনের সাথে বিশেষ সখ্যতা নেই। বড় আপা অনুর বিয়ে হয়েছে এক অতিমিষ্টভাষী স্ত্রী-নির্যাতনকারী অমানুষের সাথে। বাবা ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে চাকরি করেন। ত্রিশ বছর বয়সে তের বছরের বালিকার প্রেমে পড়ে যান। পৈত্রিক বিষয় সম্পত্তি যা ছিল সব খুইয়ে নিঃস্ব অবস্থায় ঢাকা আসেন। যুবক বয়সে কবিতা লিখতেন, এখন সাহিত্যপ্রতিভা ব্যয় হয় পত্রিকায় চিঠি লিখে। শরীরেও বাসা বেঁধেছে নানারকম রোগ। পরিবারের একমাত্র পুত্র সন্তান হওয়ার কারণে সংসারের খুঁটিনাটি সব দায়িত্ব বীরুর ঘাড়েই পড়ে। বাবার অসুখের জন্য ডাক্তার ধীরেন কাকাকে ডেকে আনা, অনুর কাছ থেকে মাস চালানোর টাকা ধার করা এসব নিয়েই বীরুর প্রতিদিন। সবকিছুর বাইরে বীরুর জীবন আবর্তিত হয় এশা নামের অদ্ভুত মেয়েটিকে নিয়ে। এশা তার সহপাঠী, কবিতা লেখে, আপন খেয়ালে কাঠফাটা রোদে হেঁটে বেড়ায়। তাকে বীরু ভালোবাসে কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। এশার সত্যিটা জেনেও কি বীরু তার হাত ধরবে? পরিবার আর প্রেম নিয়ে এক অতি সাধারণ যুবকের পথ চলার গল্প। পাঠপ্রতিক্রিয়া: 'রজনী' খুবই গতানুগতিক হুমায়ূনীয় একটি উপন্যাস। ছকে বাঁধা একজন উদাসীন যুবক, খামখেয়ালী ব্যর্থ পিতা, কিছু অদ্ভুত বন্ধু এবং ধরা না দেওয়া একজন ভালোবাসার মানুষ। এই চরিত্রগুলোকে একই ধারায় অনেক গল্পে এনেছেন হুমায়ূন আহমেদ। গল্পে বীরুর বাবা মার প্রেমের বিয়ের অংশটা মনে হল লেখক নিজের জীবন থেকে নিয়েছেন। বইটা লেখা হয়েছে এরশাদের শাসনামলে। বইয়ে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রহলের আর ছাত্ররাজনীতির অপব্যবহার এর ক্ষুদ্র চিত্র আছে। আছে রাজনৈতিক পরিহাস। লেখক নিজেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং পরবর্তীতে শিক্ষক ছিলেন, তার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন পাওয়া যায় বইয়ে। নিতান্ত হালকা ভাবে লেখা উপন্যাসটির মধ্যেও রয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের সত্য। পিতার আয়ে আর সংসার চলে না, ছেলে যখন মিথ্যে করেই বলে চাকরির জন্য যাচ্ছে বাবা আশায় বুক বাঁধেন। প্রচন্ড শরীর খারাপ নিয়েও ভেবে যান ছেলের ইন্টারভিউ নিশ্চয়ই ভালো হচ্ছে। এভাবে আশার খড়কুটো নিয়ে বেঁচে থাকাই মধ্যবিত্তের নিয়তি। এশা, মাসুম, বীরুর সবার নিজস্ব কিছু কষ্ট আছে। তা-ই নিয়ে একেকজন একেকভাবে বাঁচে। মাত্র ৭৯ পৃষ্ঠার বইটির খুব আলাদা কোনো বিশেষত্ব না থাকলেও, হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর প্রতি ভালোবাসার কারণেই পড়া যায়। বই: রজনী লেখক: হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনায়: অন্যপ্রকাশ প্রথম প্রকাশ: ১৯৮৯ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৭৯ মূল্য: ১৫০ টাকা
বুক রিভিউ : রজনী
- উপ্যনাসের মূল চরিত্র বীরু। বীরু এবং তার পরিবারকে ঘিরেই পুরো উপ্যনাসটি এগিয়ে গিয়েছে। বীরু' বাবা ডেলটা ইন্সুরেন্স কোম্পানির হেড ক্যাশিয়ার হিসাবে সাড়ে তিন হাজার টাকা পান। তিনি যুবক বয়সে অনেক কবিতা লিখতেন। এছাড়াও বিভিন্ন কাজ করতেন। একসময় অর্থাৎ ত্রিশ বছর বয়সে তিনি তের বছরের এক বালিকার প্রেমে পড়ে যান। এবং তিনি এই প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়াতে বদ্ধপরিকর। তিনি তার দাদার কাছে গিয়ে এই মেয়ের কথা বললেন। তিনি যদি এখন এই মেয়েটাকে বিয়ে না করে তাহলে তার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। এরপর দাদা তাকে সম্মতি দেন। তবে, তার সামনে যেন কখনো না আসে। বীরু'র সাথে তার ছোট বোন পারুলের সঙ্গে সম্পর্কটা কেমন জানি। তাদের ডাক্তার হচ্ছেন ধীরেন কাকু। তার চার মেয়ে। বীরু ছোটবেলায় সবসময় অতসী'র কাছে যেত। কারণ, মিষ্টি খাওয়ার লোভে। গল্পের এক পর্যায়ে দেখা যায় বীরু'র বন্ধু টুকু অতসীকে ভালাবেসে ফেলে। সে কী শেষ পর্যন্ত মনের কথা অতসীকে বলতে পারবে? উপ্যনাসের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র - মাসুম। তাকে অবশ্য মজার চরিত্রও বলা যেতে পারে। সে চট করে নিজের চোখে পানি নিয়ে আসতে পারে। এবং, মাসুম এমনভাবে কথা বলে আর সেই কথা যদি মিথ্যাও হয় তবুও সবাই তার কথা বিশ্বাস করে ফেলে। একবার হলো কি, বীরু থার্ড ইয়ারের ক্লাস করছিলো। হঠাৎ করে মাসুম এসে স্যারকে বলতে লাগলো - একজনের এক্সিডেন্ট হয়েছে। বীরুকে এখন ছুটি দিতে হবে। মাসুমের এই কথা শুনে স্যার আর বিলম্ব না করে বীরুকে ছুটি দিয়ে দিলো। পরবর্তীতে রাস্তায় বের হয়ে বীরু উপলব্ধি করতে পারে যে মাসুম এতক্ষণ মিথ্যে কথা বলছিলো! এই উপ্যনাসের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হচ্ছে এশা। বীরু যাকে পচ্ছন্দ করে। মেয়েটি একটু অদ্ভুত প্রকৃতির। যখন সে বীরু'র কাছে চিঠি লেখে তখন সে তার পুরো নাম লেখে না। এশা'র শুধু 'এ' লেখে। এছাড়াও একবার এশা বীরুকে পুলিশবক্সের সামনে দাঁড়াতে বলে। কিন্তু, সময় গড়িয়ে গেলেও এশা'র দেখা নেই। একদিন এশা বলে যে সে ছোটবেলা থেকেই অনেক স্বাধীনভাবে চলাফেরা করেছে। ভালো ছেলেদের সাথে যেমন মিশেছে তেমনি এশা খারাপ ছেলেদের সাথেও অতি সহজভাবে মিশেছে। ফল হয় ভয়ংকর। যার জন্যে বীরু মোটেও প্রস্তুত ছিল না। কী ছিল সেই কথা?... পাঠ প্রতিক্রিয়া - হুট্ করে শেষ হয়ে গেল মনে হচ্ছে।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
বইটির পৃষ্টা সংখ্যা কত?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির মোট ৮০ পৃষ্ঠা, ধন্যবাদ।
বইটির পৃষ্টা সংখ্যা কত?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির মোট ৮০ পৃষ্ঠা, ধন্যবাদ।






















