

Buy ওরা মনের গোপন চেনে না Online in Bangladesh
লেখক: আদনীন কুয়াশা
- Author: আদনীন কুয়াশা
- Publisher: জ্ঞানকোষ প্রকাশনী
- Isbn: 9789849736615
- Number Of Pages: 174
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
চিত্রালেখা মেয়েটার দিক থেকে কোনোভাবেই চোখ সরাতে পারছে না। এতদূর থেকেও সে অচেনা মেয়েটার বুকের ভেতরকার হুহু করা হাহাকারটাকে খানিকটা হলেও অনুভব করতে পারছে, তার উদাস নয়নে আকাশের দিকে একটু পরপর তাকানোর কায়দা দেখে। এ শহরে কত মানুষ বুকের মধ্যে পাথরের মতো ভার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, অথচ তাদের ঠোঁটে থাকে গোলাপের পাপড়ির মতো নরম হাসি তার কোনো হিসেব নেই। চিত্রা প্রায়ই চিন্তা করে একটা শিশু যখন ছোটো থাকে সে কত অবলীলায় তার মনের অবস্থা বলে দেয় সকলকে। কীসে তার কষ্ট হয় , কে তাকে কষ্ট দিল , একটা শিশুকে কিন্তু কখনই তার কষ্ট কিংবা ব্যথা লুকাতে হয় না । ব্যাপার কতটা শুদ্ধ তাই না? মানুষ যত বড়ো হয় বয়স বাড়ে, বুকের মধ্যে ততটা নিজেকে লুকিয়ে রাখার একটা অদ্ভুত প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায় আপনাতেই । যে যত নিখুঁত করে নিজের দুঃখকষ্ট লুকিয়ে চলতে পারবে সে ঠিক ততটাই সুখী এই নশ্বর পৃথিবীতে। যেন কষ্ট দেখানোটা একটা বিরাট অন্যায়। আদৌ কি দুঃখকষ্ট বিষয়টা লুকিয়ে রাখার গোপন কোনো অধ্যায়? এই বোকা পৃথিবীটাতে দুঃখকষ্ট লুকিয়ে রাখলেই যেন সুখের জন্ম হয় এমনটা ভেবে কত মানুষ কাটিয়ে দিচ্ছে গোটা একটা জীবন। জীবনে দুঃখকষ্টের অস্তিত্ব আছে বলেই তো কত মানুষ সুখের অপেক্ষায় কাটিয়ে দেয় সারাটা জীবন।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

আমার প্রিয় লেখকের বই। বইটা ২০২৩ সালে কিনেছি প্রথম দিনই বইটা সম্পূর্ণ পড়ে ফেলেছিলাম। মনে হল যেন খুব জলদি ই শেষ হয়ে গেল। বইটির রেটিং দেওয়ার আমি কেউই না,কারণ যিনি এই বইটির লেখক তার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে।

#ওরা_মনের_গোপন_চেনে_না #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ ওরা মনের গোপন চেনে না •লেখকঃ আদনীন কুয়াশা •ধরনঃ সামাজিক •প্রকাশনীঃ জ্ঞানকোষ প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ মো: সাদিতউজজামান •মুদ্রিত মূল্যঃ ৪০০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৭৪ •প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ মাঝে মাঝে আমার যখন অধিক রাতে ফোনে একেবারেই চার্জ থাকে না, তখন আমার মনে হতে থাকে মন যেন আমাকে বারবার ধাক্কা দিচ্ছে নতুন কোনো বই পড়ার জন্য । নতুন কোনো কোনো গল্পের মাঝে নিজেকে জড়িয়ে নিতে চাওয়ার জন্য । এই সময়গুলো বড্ড অদ্ভুত হয় । কারণ এই সময়গুলোতে আমার রাতে একদমই ঘুম আসে না । আমি তাকিয়ে তাকিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকি । বাইরের রাতের অন্ধকারের দিকে মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে থেকে থেকে ভাবি, বাহ্ রাতটা কি সুন্দর তো! এইরকম রাতে আসলেই বই পড়তে হয় । আরো একটা কথা মন ভেবে বসে আমার, মন আমার তাহলে ঠিকই ভাবে । বই আসলে পড়তে হয় আমার । কিন্তু এরকম সময়গুলোতে মাঝে মাঝেই বই পড়া হয় না আমার । জেগে জেগে কাটিয়ে দিতে দিতে দেখি, রাতের অন্ধকারটা কোথায় যেন মিলিয়ে গিয়ে আলো ফুটে উঠতে শুরু করেছে । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ আজকের বই পড়তে চাওয়ার সময়টাও ভীষণই অদ্ভুত । হঠাৎ করে মনে হলো একটা বই পড়ি । সাধারণত শুক্রবারের শুরুর অধিক রাতের এই সময়টাতে আমি কখনোই সেভাবে বই পড়ি না । আমার এই সময়টিতে ভাবতে ভালো লাগে বরং । যাহোক হঠাৎ করে রাত ২টা ১৫ মিনিটে বইটি পড়তে ইচ্ছে করলো । বইটি পড়তে পড়তে যখন সময়টা শেষ হয়ে গেল, তখন সময়টা ভোর ৫টা ১৫ মিনিট । ♦নামকরণঃ এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের একজন একজন মানুষ করে করে কোনো না কোনো ভাবে সবাই একে অপরের সাথে জড়িত । একে অপরের সাথে যেন অঙ্গাঙ্গীভাবে মিলিয়ে গিয়ে যেন একে অপরকে বিভিন্ন বিশেষণের সাথে জড়িয়ে ধরতে চায় অদৃশ্য ভাবে । হয়তো কারো সাথে কারো হাসির সম্পর্ক । কেউ বা কষ্ট কিংবা দুঃখ দিয়ে বা পেয়ে একে অপরের সাথে জড়িয়ে যায় । কারো কাছে কেউ সুখে এগিয়ে যায় । এই পৃথিবীতে গড়া প্রতিটি মানুষের মন নামক এক অঙ্গরাজ্যের খবর যেন কেউ খুঁজে পায় না । এই মন নামক কঠিন রাজ্যের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যেন কঠিন এক ধাঁধা । এই গোপন চেনা বা না চেনার আখ্যানে মানুষ প্রতিনিয়ত ধুঁকতে থাকে বুঝতে পারা বা না পারার খেলায় । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ চিত্রালেখা মেয়েটার দিক থেকে কোনোভাবেই চোখ সরাতে পারছে না । এতদূর থেকেও সে অচেনা মেয়েটার বুকের ভেতরকার হুহু করা হাহাকারটাকে খানিকটা হলেও অনুভব করতে পারছে, তার উদাস নয়নে আকাশের দিকে একটু পরপর তাকানোর কায়দা দেখে । এ শহরে কত মানুষ বুকের মধ্যে পাথরের মতো ভার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, অথচ তাদের ঠোঁটে থাকে গোলাপের পাপড়ির মতো নরম হাসি তার কোনো হিসেব নেই । চিত্রা প্রায়ই চিন্তা করে একটা শিশু যখন ছোটো থাকে সে কত অবলীলায় তার মনের অবস্থা বলে দেয় সকলকে । কীসে তার কষ্ট হয়, কে তাকে কষ্ট দিল, একটা শিশুকে কিন্তু কখনই তার কষ্ট কিংবা ব্যথা লুকাতে হয় না । ব্যাপার কতটা শুদ্ধ তাই না? মানুষ যত বড়ো হয় বয়স বাড়ে, বুকের মধ্যে ততটা নিজেকে লুকিয়ে রাখার একটা অদ্ভুত প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায় আপনাতেই । যে যত নিখুঁত করে নিজের দুঃখকষ্ট লুকিয়ে চলতে পারবে সে ঠিক ততটাই সুখী এই নশ্বর পৃথিবীতে । যেন কষ্ট দেখানোটা একটা বিরাট অন্যায় । আদৌ কি দুঃখকষ্ট বিষয়টা লুকিয়ে রাখার গোপন কোনো অধ্যায়? এই বোকা পৃথিবীটাতে দুঃখকষ্ট লুকিয়ে রাখলেই যেন সুখের জন্ম হয় এমনটা ভেবে কত মানুষ কাটিয়ে দিচ্ছে গোটা একটা জীবন । জীবনে দুঃখকষ্টের অস্তিত্ব আছে বলেই তো কত মানুষ সুখের অপেক্ষায় কাটিয়ে দেয় সারাটা জীবন । ♦প্রচ্ছদঃ সাদায় আচ্ছাদিত প্রচ্ছদগুলো দেখলে আমার ইদানিং কেনো যেনো খুব মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে । বারেবারে মনে হয়, আমি যেন মুগ্ধ হওয়ারও সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি । এই প্রচ্ছদটা অসাধারণ ভাবে সুন্দর । বইয়ের পিছনের অংশের প্রচ্ছদটা যেন মায়া লাগায় খুব । ওই প্রচ্ছদটা আমার বেশি করে প্রিয় । প্রচ্ছদে কিছু লিখে রাখা অংশ থাকলে তা যে এতটা করে ভালো লাগবে তা অনুভব করতেও আমার খুবই আনন্দ । ♦চরিত্র টুকিটাকিঃ এই উপন্যাসটি তুলনায় ছোট হলেও চরিত্রের সংখ্যা অনেক । প্রতিটি চরিত্র এর জীবনের কিছু ধাপ আছে । যা নিজ নিজ গুণে জীবনে এগিয়ে যায় । তবে অরু চরিত্রটা যেন উপন্যাসে নিজের মায়া ছড়িয়ে যায় । তাছাড়া চিত্রলেখা চরিত্রটিকেও জীবনের টানাপোড়েনে বেশ লাগে । হঠাৎ করে আসা জামিল চরিত্রটিকে সত্যিই মায়া দিয়ে ঘিরে থাকতে দেখে ভালো লাগে খুব । ♦প্রিয় চরিত্রঃ এই উপন্যাসের প্রিয় চরিত্র নিয়ে ভাবতে বসলেই আমার রাশিদা চরিত্রটিকে প্রিয় চরিত্র মনে হয় খুব । মনে হয় যেন, এক জীবনে তার এগিয়ে যাওয়া, জীবনের বর্তমানে স্মৃতিচারণ করা কিংবা মানিয়ে নিয়ে নিস্পৃহতা সবই যেন ভালো লাগার এক ধাপ । এই ধাপ’নামক ধাঁচটিকে বেশ লাগে । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এই উপন্যাসের পটভূমি বেশ অন্যরকম । পারিবারিক দৃষ্টিকোণের ছোঁয়ায় দুটো পরিবারের সম্পর্কের টানাপোড়েন, সুখ-দুঃখ মিশে গিয়ে যেন একটি ঘটনার ঘনঘটায় থাকা দৃশ্যপটে একসাথে মিলে গিয়ে এক হয়ে যাওয়া আখ্যান এটি । উপন্যাসের জলছাপে দারুণভাবে শুরুতে উপন্যাসের মূলভাবকে ছন্দ আকারে ফুটিয়ে তুলতে চাওয়া অংশটা বেশ লাগে । তবে প্রতিটি জলছাপের সাথে আরেকটি জলছাপের মাঝে দৃশ্যপটে আবহ বারবার পরিবর্তন হওয়ায় এই স্থায়ীত্ব কম থাকা ঘটনাপ্রবাহ কিংবা জীবনধারাকে মাঝে মাঝে অস্বস্তি লাগে বলে মনে হয় । একেকটি দৃশ্যপটে পরিবর্তনের কারণে আবহ তেমন ভাবে না থাকায় পটভূমির মাঝে বেশ ছাড়া ছাড়া একটি ভাব এসে পড়ে । যে কারণে সম্পর্কের টানাপোড়েন, কিংবা মনস্তাত্ত্বিক এক রসায়নের এক অদৃশ্য অনুভূতি দেখাতে চেয়েও তা যেন না দেখাই রয়ে যায় । √চরিত্র গঠন এবং তার উপস্থিতি সাধারণত একটি উপন্যাসের জন্য খুবই কঠিন বিষয় । এক্ষেত্রে কোনো চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে কিংবা তাকে ঘিরে থেকেই ঘটনাপ্রবাহ চলতে থাকলে তা যেভাবে উপন্যাসটিতে চরিত্রগুলোর গঠনকে সাজিয়ে তুলতে একটু সোজা করে দেয়, ঠিক সেভাবেই চরিত্রদের উপস্থিতির জায়গাটিতে একটুখানি কঠিন করে দেয় । এই উপন্যাসটি মূলত দুই নারী চরিত্র তথা অরুনিমা এবং চিত্রলেখা এর দৃষ্টিকোণ থেকে ভেসে উঠেছে । যে কারণে চরিত্রের গঠন যখন যে ঘটনাপ্রবাহ কিংবা জীবনধারা ভেসে এসেছে সেভাবেই গঠন করা হয়েছে । সে অনুযায়ী তাদের উপস্থিতি থাকলেও উপস্থিতির সময়টিতে চরিত্রগুলোর আবহ কম থাকায় কখনও কখনও চরিত্রগুলোকে আরো সাজিয়ে নেয়া যেতো বলে মনে হয়েছে । তবে কিছু কিছু চরিত্র আছে, যাদের গঠন এবং উপস্থিতি বেশ ভালো ছিল । রাশিদা চরিত্রটিকে বেশ সুন্দর ভাবে গঠন করা হয়েছে । চিত্রলেখা চরিত্রটিকেও বেশ দারুণ ভাবে গঠন করে তার উপস্থিতি ঘটনাপ্রবাহের সাথে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । পিউলী কিংবা রেশমা এর চরিত্রের উপস্থিতি বেশ ভালো ছিল । সময়ের দৃশ্যপটে তাদের উপস্থিতি অনুযায়ী গঠন বেশ ভালো ছিল । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ জ্ঞানকোষ প্রকাশনী এর বই আমার আগে সেভাবে পড়া হয়নি যে কারণে তাদের সম্পর্কে ধারণা ছিল না সেভাবে । বইটির প্রচ্ছদটি বেশ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এছাড়া বইটির বাঁধাই দারুণ ভাবে করলেও বইতে প্রচুর পরিমাণে টাইপিং মিস্টেক আছে । যা কখনও কখনও চরিত্রগত টাইপিং মিস্টেক হিসেবেও এসেছে । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক আদনীন কুয়াশা এর বই আমার পড়া হিসেবে এটি দ্বিতীয় উপন্যাস । এর আগে তার ‘এ তুমি কেমন তুমি?’ উপন্যাসটি পড়েছিলাম । এই উপন্যাসটির পটভূমি আমার কাছে বেশ দারুণ লেগেছিল । এই বইটিতেও পটভূমি বেশ দারুণ থাকলেও আমার মনে হয়েছে আরেকটু স্থায়ীত্ব নিয়ে ঘটনাপ্রবাহ এবং জীবনধারায় ভারসাম্য কিংবা আবহ সৃষ্টি করলে বইটি আরো সুন্দর হতে পারতো । প্রচুর পরিমাণে টাইপিং মিস্টেক থাকায় শব্দপ্রয়োগে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বানান ভুল এসেছে । যে কারণে বাক্যের সংযোগে সঠিক ভাবটা কখনও কখনও আসেনি । তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা রসায়ন অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে দারুণ ভাবে পেরেছেন লেখক । যা অবশ্যই ভালো একটি দিক । লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো, আশা করি তার পরবর্তী উপন্যাসগুলো আরো সুন্দর হবে । ♦রেটিংঃ ৩.৯/৫ ♦উপসংহারঃ পৃথিবীতে আবেগ নামক বিশেষণ খুব অদ্ভুত । কখন যে কিসের জন্য এসে মনকে আচ্ছাদিত করে দিতে চায় তা কেউ বুঝে উঠতে পারে না । মায়া আর আবেগ সমগোত্রীয় হলেও আমার মাঝে মাঝে মনে হয় মায়া আসলে ভীষণই ভয়ংকর নামক এক ভালো লাগা । এই মায়া মানুষকে বারবার মুগ্ধ করে দেয় । বারেবারে আবেশিত করে রেখে দিতে হয় তা মনের মণিকোঠায় ।






















