

Buy অচেনা পথে চেনা মানুষ Online in Bangladesh
লেখক: আহমেদ শিমু
- Author: আহমেদ শিমু
- Publisher: অনুজ প্রকাশন
- Isbn: 9789849838597
- Number Of Pages: 128
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্লাপ ---- মানুষজাতী কখনোই নিখাঁদ ভালোবাসা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে পারেনা। নিঃস্বাৰ্থভাবে কেউ যখন কিছু করে তখন তাকে সবাই দূর্বল ভাবে।ইচ্ছাকৃত ভাবেই হোক কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভাবেই হোক।ফলে ভুক্তভোগী মানুষটাকে চারিদিকের কাছের মানুষগুলো এত্ত বেশি অবহেলা করে যে সে নিজেকে আবার নতুন করে গড়ে তুলতে বাধ্য হয়।শুধুমাত্র নিজে একটু বাঁচার আশায়। নিস্বাৰ্থভাবে জীবনের সবকিছু বিলিয়ে নিজের জন্য যখন খুব অল্প সময় থাকে মানুষটার তখন তাকে পূনরায় ভেঙ্গে আবার নতুন করে গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত হতে হয়। তখন ঐ কষ্টদেয়া আপন মানুষগুলোই আগের মানুষটাকে আবার খুঁজে পেতে চায়।অথচ ঐ মানুষগুলো জানেনা একটা মানুষ কতটা অসহায় বোধ করলে নিজেকে একেবারেই অন্যরকম করে তৈরি করে ফেলে।মানুষ আসলে ঠকেঠকে শেখে।তাই সহজমানুষটাই একসময় হয়ে ওঠে সবচেয়ে দুর্বোধ্য। অর্থের বিনিময় ছাড়া কেউ কোন কাজকরলে সেটার আমরা কোন মূল্য দেইনা।অথচ,এই সত্যটা আমরা কেউ বুঝিনা যে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সময় কোনকিছুর আশা ছাড়াই ব্যয় করছে সেই মানুষটাকে প্রতিদান হিসেবে একটু ভালোবাসতে জানতে হয়।তার অসময়ে ভরসার হাতটা গুটিয়ে না নিয়ে বলতে হয় পাশে আছিতো।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

চমৎকার একটি বই। ভালো লেগেছে।

প্রতিটি মানুষের জীবনেই গল্প থাকে; হোক তা বিষাদের কিংবা আনন্দের। আমাদের একই সমাজে মধ্যবিত্ত, বিত্তশালী, লোভী নানান চরিত্রের মানুষের বাস। একেক জনের জীবনের গল্প একেক রকম। আহমেদ শিমুর এবারের উপন্যাস ‘অচেনা পথে চেনা মানুষ’-এ ঠিক তেমনিভাবে এক মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবন সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে বিত্তশালী আর লোভী মানুষের জীবনের ছবিও প্লটে আনা হয়েছে নিখুঁতভাবে। বইটি হাতে নিলেই প্রচ্ছদে ফুটে উঠেছে কিছু রহস্যের ইঙ্গিত। একটি রক্তাক্ত বাক্সে ছুঁড়ি আর পাশে এক নারীর অবস্থান। তবে কি এই নারীই উপন্যাসের মূল চরিত্র নাকি অন্য কেউ? এই প্রশ্নের উত্তর না হয় পাঠক উপন্যাস পড়ে শেষ করে নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে। শুরুটা একদম রহস্যময় ভাবে। শীতের রাতে এক ঘটনা দিয়ে গল্পের শুরুর বুনন। শুরুতেই উপন্যাসের নায়ক চরিত্র চাকরি প্রত্যাশী রাতুলের জীবন যাপনের বর্ণনায় লেখক বর্তমান সময়ের অগণিত তরুণের বাস্তব জীবন ফুটিয়ে তুলেছেন। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে একটি ঘটনার পর কী ঘটতে যাচ্ছে তা সহজে অনুমেয় ছিল না। লেখক প্রতিটি প্লট নিখুঁতভাবে সাজিয়েছেন। উপন্যাস জুড়ে পরিবারে নারীদের অবহেলার শিকার হওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি যৌতুকের বিরুদ্ধাচরণ করে নারীকে নিজের অবস্থান তৈরির আবেদন ছিল এই লেখায়। নায়ক চরিত্র রাতুলের বড় বোন নিরুর বিবাহিত জীবনেও যৌতুকের বাজে প্রভাব পড়ছিল। জুয়ারি স্বামী প্রতিনিয়ত যৌতুকের টাকা চেয়ে অমানবিক আচরণ করত। একসময় নিরু তার স্বামীকে পুলিশে সপোর্দ করে নিজে স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। আর রাতুলের ছোট বোন তিতিরের বিয়ে ভেঙে যায় যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায়। তবে পাত্রের ইচ্ছায় বিয়ে হলেও পরবর্তীতে স্বামীর সংসারে খুব হেলায় দিন কাটছিল তিতিরের। এক সময় পড়াশোনায় অমনোযোগী তিতির আবার পড়াশোনা শুরু করে যখন নিজের অবস্থান বুঝতে পারে। ঘটনা এসব স্বাভাবিক হলেও রহস্যের গল্প ছিল ভিন্ন অংশে। একেবারে শুরুতে রাতুলের হুট করে অচেনা অজানা একজনকে বিয়ে করতে হয় এক সমস্যা এড়াতে। বিয়ের পর রাতুল জানতে পেরেছিল মেয়েটি শহরের এক প্রভাবশালীর মেয়ে আর সেই প্রভাবশালী খুন হয়েছে। খুনী তার পরিকল্পনামতো তনিমা নামের এই মেয়েকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে খুনের দায় স্বীকার করাচ্ছিল। আকস্মিকভাবেই রাতুলের চাকরি হয় ঐ প্রভাবশালী ব্যক্তির কোম্পানিতে এবং তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় খুনীকে খুঁজে বের করতে। একটা সময় পর রাতুল তার চাকরি দাতা কর্মকর্তার সকল অসৎ উদ্দেশ্য আর কর্মকাণ্ড টের পেয়ে প্রমাণ সহ পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। এদিকে ঐ ব্যবসায়ী খুনের রহস্যও উন্মোচন হয়ে যায়। উপন্যাস পড়ে মনে হবে প্রচ্ছদের নারী চরিত্রটি তনিমার অবয়ব আর জীবন সংগ্রামের গল্পে নীরুই মূল চরিত্র। আর রাতুল তো সামগ্রিক অর্থেই নায়ক চরিত্র ছিল এই উপন্যাসে। তবে উপন্যাসের শেষ হয় তিতিরের গল্প দিয়ে। যেভাবে লেখক উপন্যাসের সমাপ্তি টেনেছেন সেটা হয়ত আরেকটু ভিন্ন হতে পারত যদি কিছুটা রহস্য গল্পের প্লটে রেখে দিতেন পাঠককে তৃষ্ণার্ত করতে। বইটির প্রচ্ছদ, কাগজ, ছাপার অক্ষর আর বাঁধাই সবই যুতসই ছিল। মুদ্রণের সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু শব্দের ভুল বানান পরবর্তী সংস্করণে সঠিক হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছাবে এমনটাই প্রত্যাশা। মানুষ জাতি কখনোই নিখাঁদ ভালোবাসা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করতে পারে না। উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে গল্পের বুননের গভীরতায় বইটির নাম ভুলে যেতে পারেন। তবে উপন্যাসটি উপলব্ধি করতে পারলে বুঝা যাবে নামটি প্রকৃত পক্ষেই স্বার্থক। দিন দিন আমাদের চেনা মানুষগুলোই অচেনা পথে গিয়ে বাড়ছে দূরত্ব। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত ১২৮ পৃষ্ঠার ‘অচেনা পথে চেনা মানুষ’ বইটি পাঠক ঘরে বসেই বিভিন্ন অনলাইন বুক শপ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। বই: অচেনা পথে চেনা মানুষ লেখক: আহমেদ শিমু প্রকাশনী: অনুজ প্রকাশন প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৪ প্রচ্ছদ: সাদিতউজজামান মূল্য: ৩২০ টাকা। - তানজিদ শুভ্র, ফিচার লেখক, মিরপুর, ঢাকা।
অচেনা পথে চেনা মানুষ। অন্যায়কে পশ্রয় দিয়ে অত্যাচার সহ্য করলে জীবনে স্বাচ্ছন্দ্যে বাঁচা সম্ভব নয়। নারীদের ব্যাক্তি স্বাধীনতা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া কখনো নিজেকে স্বাধীন ভাবা যায় না। বইটিতে কথা গুলো দারুণ ভাবে তুলে ধরেছেন লেখক।
অসাধারন ছিলো বইটি
"অচেনা পথে চেনা মানুষ" উপন্যাসটি রহস্যের জালে আবদ্ধ প্রতিটি লাইন। সত্যি নিরু নামক মেয়েটির মত সহস্র মেয়ে নির্যাতিত, লাঞ্ছিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সম্পর্ক খুবই স্পর্শকাতর একটি অধ্যায়, তাই সম্পর্কে জড়ানোর আগে দশবার ভাবা উচিত। প্রতিটি চরিত্রের সংলাপ যেন এক বাস্তবতার প্রতিরূপ ধারণ করেছে। ভালোবাসার টানাপোড়নতা, বিষন্নতা, মধ্যবিত্তদের সংগ্রাম করে বেঁচে থাকা সবকিছু সুক্ষ ভাবে ফুটে উঠেছে উপন্যাসে। সত্যিই তো নিজের পায়ের তলা একবার শক্ত করতে পারলে হাজার চেষ্টা করেও কেউ আপনাকে দমাতে পারবে না। সমাজে এখনো মুখোশধারী পশুরূপে মানুষেরা আমাদের আসেপাশে আনাগোনা করছে এদেরকে পূর্বাহ্নেই রুখতে হবে। কিছু সংলাপ গা শিউরে ওঠার মতো, এমন নির্মম মানুষ হতে পারে কি? সত্যিই পাঠক হিসেবে আমি মুগ্ধ, চমৎকার লেখনী মনোভাব। পরবর্তীতে নতুনত্বের অপেক্ষায় থাকব। নিরন্তর ভালোবাসা ও দোয়া নিবেন শ্রদ্ধেয় লেখিকা (আপু)। ❤️






















