

Buy নীল ময়ূরের যৌবন Online in Bangladesh
লেখক: সেলিনা হোসেন
- Author: সেলিনা হোসেন
- Publisher: স্বরবৃত্ত প্রকাশন
- Isbn: 9789848939284
- Number Of Pages: 152
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

শুভকামনা 🌸
Great
চর্যাপদের সময়কার সাধারণ ও অসাধারণ মানুষের জীবন আর তাদের মাতৃভাষার জন্য দরদ নিয়ে এই উপন্যাসটি। আমার কাছে সুখপাঠ্য আর জীবন্ত মনে হয়েছে।
অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে চর্যাপদের সময়কালের পটভূমিতে রচিত 'নীল ময়ূরের যৌবন '। একই ভূখণ্ডে যেন দুটি পৃথিবী পাশাপাশি অবস্থান করছে। একটি আরেকটির সম্পূর্ণ বিপরীত। একটিতে অবস্থিত রাজার দরবার, যেখানে সমাজের উচ্চশ্রেণির আনাগোনা। যারা তৎপর থাকে তাদের অধীনস্থ নিম্ন বংশজাত প্রজাদের শাসন ও শোষণে। ক্ষমতার অপব্যবহার, যথেচ্ছ আইন তৈরি ও আইন প্রয়োগ তাদের নেশা। সাধারণ লোকের দৈনন্দিনজীবনের মুখের ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে তারা নারাজ। সংস্কৃত ভাষাকেই তাদের যতো সমাদর। তারা মানতে পারে না নিম্নবর্গের কেউ বাংলায় গীত রচনা করুক। তাদের বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করছে তারা, যাদেরকে সেই তথাকথিত উচ্চশ্রেণির দল 'ছোটলোক' বলে আখ্যা দিয়েছে। কাহ্নুপা, ডোম্বি, দেশাখ চরিত্রগুলো যার প্রতিনিধিত্ব করছে। সামাজিক ও আর্থিকভাবে তাদের অবস্থান দুর্বল। কখনো হয়তো খেতে পায়, কখনো হয়তো পায় না। কিন্তু একে অন্যের দুঃখসুখে তারা অপরাপর। তাদের মুখের ভাষা বাংলা। এটাতেই গীত রচনা করে কাহ্নুপা, ভুসুকুপা এরা। যার জন্য রাজদরবারে অপমানিত হতে হয় কানুকে। তখন তার পাশে থেকে তাকে সাহস দিয়ে যায় বইয়ের আরেক প্রধান চরিত্র ডোম্বি। পাশাপাশি গাঁয়ের লোকেদের কাছেও সমাদৃত হয় কানুর গীত। কিন্তু রাজ আজ্ঞা না মানার অপরাধে, ডোম্বির প্রতিবাদী আচরণের ফলে তাদের দিতে হয় এর চরম মূল্য। কানু, ডোম্বি, দেশাখ চরিত্রগুলো মনে থাকবে। ভালোলাগা বইয়ের তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি বই 'নীল ময়ূরের যৌবন'।
#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা রিভিউ:০১ বই:নীল ময়ূরের যৌবন লেখিকা:সেলিনা হোসেন প্রথম প্রকাশ:ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ প্রথম স্বরবৃত্ত প্রকাশ:জানুয়ারি ২০০৯ প্রকাশক:মোহাম্মাদ রহম্মত উল্লাহ পৃষ্ঠা:১৫২ গায়ের মূল্য:২০০/= #চরিত্র: কাহ্নুপাদ(চর্যাপদের প্রধান কবিদের একজন) শরবী(কাহ্নুপাদের স্ত্রী) ডোম্বি(খেয়া পারাপারের পাটনি ও কাহ্নুপাদের প্রণয়প্রত্যাশী) দেশাখ(তৎকালীন বিপ্লবী তরুণ) বিশাখা(দেশাখের প্রেমিকা) ভুসুকু(কবি ও দেশাকের বড় ভাই) সুলেখা(ভুসুকুর এককালীন স্ত্রী) বুদ্ধমিত্র(তৎকালীন বুদ্ধ রাজা) দেবল ভদ্র(রাজার ব্রাহ্মণ মন্ত্রী) সুধাকর,রামক্রী,ভৈরবী,ছুটকি,দেবকী,ধনশ্রী,অরুণ,নিখিল,সুদাম,লোকী-গুণীসহ আরো অনেক অপ্রধান চরিত্র। #কাহিনী: অসাধারণ মেধাবী কবি কাহ্নুপাদ রাজদরবারে পাংখা টানার কাজ করেন।কিন্তু মনেপ্রাণে তিঁনি একজন কবি।রাজদরবারে প্রতিনিয়তই দেখতে হয় তাঁর নিজের ভাষার প্রতি অবজ্ঞা-অবহেলা এবং অপ্রচলিত ভাষা সংস্কৃতের কদর।ব্রাহ্মণ মন্ত্রী তার রচিত গীতকে অপমান করে বলেন ছুঁচোর কেত্তন।রাজার অনুমতি পাওয়া সত্বেও মন্ত্রীর কারণে তার রচিত গীত রাজদরবারে গেয়ে শুনাতে পারেন নি তিঁনি।এ অপমানে দিশেহারা কবি মদে ডুবে থেকে নিজের যন্ত্রণা নিবারণ করতে চান। এ বই থেকে সে যুগের মানুষের জীবন-যাপন,খাদ্যাবাস থেকে শুরু করে সকল প্রচলিত সংস্কার সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।যেমন,সে যুগে কারও জমজ সন্তান হলে তাকে অসতী বলে স্বামী সংসার ত্যাগে বাধ্য করা হতো।বলা হতো দুজন পুরুষের সাথে যৌনতার ফল এটা।তাছাড়া উল্লেখ পাওয়া যায় কার্তিকের সুখরাত্রিব্রত ও চৈত্রের কাম উৎসবের।কাম উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য কামদেবতাকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে অধিক ফসল লাভ।তাছাড়া প্রকৃতিঘনিষ্ঠ এ লেখক প্রকৃতির ঔদার্য বর্ণনায়ও কোনো কার্পণ্য করেন নি।কিন্তু নিতান্ত সাধারণ মানুষগুলোর সাধারণ প্রেম,অপ্রেম ও বিরহের মাঝে ব্রাহ্মণদের দুর্দন্ড নিপীড়ন তাদের করে তোলে আরো নির্যাতিত,আরো অসহায়।ফলে কেউ কেউ নিজেদের নিয়ে ভাবতে শুরু করে নতুন করে। অর্জুনের ন্যায় দক্ষ তীরন্দাজ দেশাখ সবাইকে তীর চালনা শেখায়,প্রতিরোধের জন্য। এক পর্যায়ে ব্রাহ্মণ মন্ত্রী দুটো আইন করেন ১.ব্রাহ্মণ নিম্নবর্ণের স্ত্রীলোকের সঙ্গে যে কোনো ধরনের মেলামেশা করতে পারবে,সে যদি তার বিবাহিত স্ত্রী নাও হয় তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।এমনকি তার গর্ভে সন্তান উৎপাদন করলে সংসর্গ দোষ ছাড়া অন্য কোনো নৈতিক অপরাধ হবে না। ২.অন্যের সঙ্গে বিবাহিত নিম্নবর্ণের স্ত্রীলোকের সঙ্গে ব্যভিচার করা কম দোষের হবে।তবে নিম্নবর্ণের স্ত্রীলোককে বিবাহ করা হবে অমার্জনীয় অপরাধ। মন্ত্রীর হাতের পুতুল রাজা আগেই তো তাঁদের সব সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে তার মন্ত্রীকে দিয়ে দিয়েছিল।এবার আইন করে ব্যভিচারকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলো।প্রতিবাদ আরো ঘন হয়ে উঠলো। কাহ্নপাদ,দেশাখ,ডোম্বি ক্ষোধে ফেঁটে পড়ল। কাহ্নুপাদ অসামান্য আত্নবিশ্বাসে লিখে ফেলল,"নগর বাহিরে রে ডোম্বি তোহরি কুঁড়িআ।ছোই ছোই যাইসি ব্রাহ্ম নাড়িআ"।অর্থাৎ ডোম্বিকে ছোটলোক হিসেবে ছিনলেও,নিজেদের কাম হাসিলের বেলায় সে কথা ভুলে যায় ব্রাহ্মণ রা"।এ গীত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল।রাজার লোকেরা কাহ্নুপাদকে ধরে নিয়ে যায়।তাঁকে রাজার স্বুতি কাব্য লিখতে বলে মন্ত্রী।কিন্তু কাহ্নপাদ নিজের অবস্থানে অটল।ফলে শাস্তি তীব্র হয়।এর প্রতিবাদে মন্ত্রীর ভাগ্নে নিজের কাম হাসিল করতে এলে,ডোম্বি ছুরি দিয়ে তাঁকে হত্যা করে।রাজার লোকেরা ডোম্বিকে নিয়ে গিয়ে ফাঁসি গাছে ঝুলিয়ে দেয়।কাহ্নপাদের হাত কেটে দেয়।গ্রামে আগুন দেয়।দেশাখের তীরন্দাজ বাহিনী একদিকে তাদের ঠেকাতে থাকে অন্যদিকে সবাই ছুটে চলে একটা নিরাপদ মমতামাখা আশ্রয়ের খোঁজে। এ গ্রন্থ আপনাকে ক্ষণিকের জন্য ঘুরিয়ে আনবে চর্যাপদের যুগ থেকে।হয়তো দেশাখদের সাথে মিলে কখনও হরিণ,সঁজারু,খরগোশ কিংবা পাখি শিকাড়ে বের হবেন।কখনওবা কাহ্নুপাদ হয়ে শরবীর, দেবকীর কিংবা তার হাঁড়িয়ার নেশায় হয়ে উঠবেন মহান প্রেমিক।অথবা ভুসুকুর বিরহের সঙ্গী হয়ে আপনিও হয়ে উঠবেন মহান কবি।হয়তোবা লোকী-গুণী হয়ে খোঁজে ফিরবেন অন্য জীবনের আস্বাদ!এ যেনো ঐতিহাসিকের জন্য এক ইতিহাসগ্রন্থ,তরুণ-তরুণীর জন্য প্রেমে পূর্ণ কাব্যগ্রন্থ,আর সাধারণ পাঠকের জন্য রোমাঞ্চকর আদিগ্রন্থ!! রকমারি লিঙ্ক:রকমারি লিঙ্ক:https://www.rokomari.com/book/13294/%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B2-%E0%A6%AE%E0%A7%9F%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-






















