

Buy নীল ধ্রুবতারা Online in Bangladesh
লেখক: ফরহাদ হোসেন
- Author: ফরহাদ হোসেন
- Publisher: অন্যপ্রকাশ
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
সেপ্টেম্বর ২০১৯। মিষ্টি হেমন্তের এক ঝলমলে সুন্দর সকাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রখ্যাত শহর শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী। ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী এই শহর, স্থাপনাশিল্পের এক সূতিকাগার। এই শহরে বাঙালি অধ্যুষিত এক এলাকায় একটি দ্বিতল বাড়িতে বসবাস করে ফাহিম। পেশায় একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী। আজ সকাল থেকেই ফাহিমের মধ্যে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে। কেন জানি এক অজানা ভালোলাগা গ্রাস করে রাখল তাকে সারাক্ষণ। সারা দিন ভীষণ উত্তেজনায় কাটল তার। হঠাৎ করে এই ভালোলাগার কারণ একটা টেক্সট মেসেজ। সকালে ঘুম ভাঙার পর বিছানায় শুয়ে শুয়ে আলসেমি করছিল ফাহিম-মেসেজের নোটিফিকেশন এল তখন। সে ফোনটা সামনে নিয়ে দেখল- সিমির মেসেজ। সে লিখেছে, 'হাই, তুমি কি শিকাগোতে আমার একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারবা?' ফাহিম বেশ কিছুক্ষণ মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে উত্তর দিল, 'চেষ্টা করে দেখতে পারি। কী ধরনের কাজ তুমি খুঁজছো?' 'জানি না। যে-কোনো কাজ-আমার পক্ষে করা সম্ভব এমন কোনো কাজ।' 'তুমি শিকাগোতে আসছ? তোমার না আসার কথা ছিল?' 'আগামীকালই যাচ্ছি। দুপুর সাড়ে বারোটায় আমার অ্যারাইভাল।' 'তাহলে তো ভালোই হলো। আমাদের কি দেখা হতে পারে?' 'বুঝতে পারছি না। আমি মাত্র একদিনের জন্যে যাচ্ছি। পরেরদিনই আবার ফিরে আসতে হবে।' 'উফ!'
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

এ সময়ের লেখকদের মধ্যে ফরহাদ হোসেন আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম। "নীল ধ্রুবতারা" বইটিও আমাকে নিরাশ করেনি। বাংলা সাহিত্যে এরকম পত্রোপন্যাস খুব বেশি নেই বলেই আমার ধারণা।

চিঠি লেখালেখির ব্যাপারটা আজকাল একেবারে অচল হয়ে গেলেও চিঠির মাঝে যেভাবে মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলা সম্ভব সে কথা টেক্সটে কি আর সম্ভব? সুলেখক ফরহাদ হোসেনের সাবলীল ভাষায় এই উপন্যাসটি আমাদেরকে নস্টালজিক জীবনে নিয়ে যাবে। ইমেইলের মধ্য দিয়ে দুটি হৃদয় কাছাকাছি চলে আসার গল্পটি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। লেখকের জন্য রইলো শুভকামনা ।

জনপ্রিয় লেখাটির বইয় আকাশে প্রকাশে আনন্দ বোধ করছি।
লেখক ফরহাদ হোসেন প্রবাস জীবনের গল্প লিখেন এমন মনমুগ্ধকর ভাষায় যে শেষ না করে ওঠা যায় না। রোমান্টিক এই পত্রোপন্যাস পড়ে আমি ভীষণভাবে নস্টালজিক হয়েছি। লেখকের লেখার সবচাইতে পছন্দের বিষয় তাঁর পরিমিতিবোধ এবং সহজ সরল উপস্থাপন। প্রবাস জীবনের নিত্য নতুন বিষয় নিয়ে তাঁর আরও লেখার অপেক্ষা করছি। শুভকামনা রইল।

#নীল_ধ্রুবতারা ★ বই পরিচিতি: বই: নীল ধ্রুবতারা লেখক: ফরহাদ হোসেন প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ প্রচ্ছদ: মো: সাদিতউজজামান মুদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০২৩ ধরন: সমকালীন উপন্যাস পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪ আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা আর কত কাল আমি রব দিশাহারা রব দিশাহারা। জবাব কিছুই তার দিতে পারি নাই শুধু পথ খুঁজে কেটে গেল এ জীবন সারা, এ জীবন সারা। ~হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ★ কাহিনী সংক্ষেপ: যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বসবাসরত ফাহিমের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পরিচয় হয় বাংলাদেশের মেয়ে সিমির। অবাক করার বিষয়, ইমেইলের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে ইমেইল আদান-প্রদানের মাধ্যমেই তাদের মধ্যে গড়ে উঠে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ, দৃষ্টিভঙ্গি, মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে তারা জানতে থাকে। হঠাৎ করে একদিন সিমি ফাহিমের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কী ঘটেছিল? তাদের মধ্যে কী কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল? ★ পাঠ প্রতিক্রিয়া: ‘নীল ধ্রুবতারা’ মূলত একটি পত্রোপন্যাস। উপন্যাসটির পরতে পরতে এর চরিত্রদ্বয়ের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। ইমেইলকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি এগিয়ে গেছে এবং এই ইমেইলের মাধ্যমেই বিভিন্ন চরিত্র সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে চাইলেই নিমেষে যোগাযোগ করা যায়। প্রযুক্তির কল্যাণে দূরত্ব এখন কোন বিষয়ই না। তবে, পূর্বে এমন সুবিধা ছিল না। চিঠির সাহায্যে মানুষ যোগাযোগ করতো, এরপর এসেছে ইমেইল। ইমেইলের সাহায্যে দূর-দূরান্তের মানুষ সহজেই যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। শুধু নিজের দেশ না, চাইলে বিদেশেও যোগাযোগ করা যেতো। মানুষের মধ্যবর্তী দুরত্ব কমে এসেছিল, পেয়েছিল দেশ-বিদেশের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের। ‘নীল ধ্রুবতারা’ উপন্যাসটিতেও ফাহিম আর সিমি ইমেইলের মাধ্যমে পরিচিত হয়ে উঠে। সময়ের সাথে সাথে তারা হয়ে উঠে একে অপরের বন্ধু। ইমেইলের সাহায্যে তারা তাদের মনের লুকায়িত কথা বলতে থাকে, যা হয়তো অনেকসময় কাছের মানুষকেও বলা সম্ভব নয়। লেখক খুব সুন্দর করে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটাকে ইমেইলের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এছাড়া, প্রবাসী জীবনের নানাদিকও উপন্যাসটির পাতায় পাতায় উঠে এসেছে। সহজ সরল ভাষায় লেখা উপন্যাসটির শেষটাও চমৎকার ছিল। সমাপ্তির জন্য উপন্যাসটি গতানুগতিক ধারার চেয়ে অন্যরকম হয়েছে। প্রচ্ছদটিও দারুণ এবং বইয়ের সাথে একদম মানানসই। সবশেষে বলতে চাই, নীল ধ্রুবতারা উপন্যাসটি সবমিলিয়ে আমার কাছে দারুণ লেগেছে। ★ বই থেকে নেয়া কয়েকটি লাইন দিয়ে রিভিউটি শেষ করছি। আকাশের ডাক উপেক্ষা করবার আছে কি বাষ্পের ক্ষমতা? ভোরের টানে উড়ে যায় গহীন রাতের তীব্রতা। তুমি আমার ভোরের আকাশ।






















