নাইয়রি
বই কালেকশন

Buy নাইয়রি Online in Bangladesh

লেখক: মৌরি মরিয়ম

4.53
(10 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: মৌরি মরিয়ম
  • Publisher: অন্যপ্রকাশ
  • Number Of Pages: 200
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Published, 2024
৳ 499৳ 58014% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

জীবনে সুখ ও দুঃখ সর্বদা নিজস্ব সমান্তরাল রেখায় চলে। কিন্তু কখনো কখনো জীবনই সুখ আর দুঃখকে একই রেখায় নিয়ে আসে। তখন দুঃখ তার পথ চলতে চলতে সুখের রেখাকে মুছে দেয়। কখনোবা সুখ মুছে দেয় দুঃখের রেখাকে। 'নাইয়রি' গ্রাম বাংলার এক নারীর জীবনকে টেনে নেয়ার গল্প, বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.53
(10 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
80%
4
10%
3
0%
2
0%
1
10%
rubiqs cube
rubiqs cube ভেরিফাইড
17 Jul 2025

প্যাকেজিং ভালো ছিল।

Leeon Haque
Leeon Haque ভেরিফাইড
12 Jun 2024

দূর্দান্ত লেখা। সাধে কি আর অন্যতম প্রিয় লেখিকা ।

Touhidul Islam Mithun
Touhidul Islam Mithun ভেরিফাইড
09 Feb 2024

bad experience to read this book

Nurtaj Quadir Neela
Nurtaj Quadir Neela ভেরিফাইড
02 Feb 2024

Been a fan of her since 2018 and have loved all her writings. My forever favourite author. ⁠♡

Sakib
Sakib ভেরিফাইড
31 Jan 2024

#নাইয়রি #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ নাইয়রি •লেখকঃ মৌরি মরিয়ম •ধরনঃ সামাজিক •প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ •প্রচ্ছদঃ সামিউল ইসলাম চৌধুরী আশুতোষ দেবনাথ •মুদ্রিত মূল্যঃ ৫৮০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২০০ •প্রকাশকালঃ একুশে বইমেলা ২০২৪ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ ইদানিং আমার আবার আগের মতো অদ্ভুত এক রোগ হয়েছে । এই রোগ নিয়ে ভাবতে বসলেই নিজেকে ভীষণ উদাসীন মনে হয় । উদাসী হয়ে স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে খুব । পৃথিবীতে কতশত চরিত্র নামক মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায় । কত মানুষের সাথে শুধু জীবনে একবারই দৃষ্টি বিনিময় হয় । হয়তো সময়ের টানাপোড়েনে জীবনের ব্যস্ততায় আর তাকানো হয় না । আর ফিরে ভাবা হয় না যে, আমার যেমন একটা মন আছে । মন নামক শহরে তীব্র আকর্ষণ হাহাকার করে বেড়ায় । নিজের অনুভূতি জানা এবং বোঝার আকুতি নিজেকে গড়ে দেয় । ঠিক সেভাবেই প্রতিটি মানুষের জীবনেই মন নামক শহরে কল্পনা ঘিরে বসে । কল্পনা তাদেরকেও ভাবুক করে তুলে । তারাও মনে মনে চিন্তা করে । এটা যেদিন থেকে আমার মনে হওয়া শুরু হলো, সেদিন থেকেই অস্বস্তির বাঁকে পড়তে শুরু করলাম যেন আমি । সেদিন থেকে শুরু হওয়া এই অনুভূতি আমাকে সারাটা মুহূর্ত আঁকড়ে ধরে বসে । বারবার মনে হতে থাকে, আমি যেমন মানুষকে নিয়ে ভাবি, মানুষটা এরকম মুহূর্তে পড়লে কিরকম করবে ভাবনা রাজ্যে সেরকম বসত গড়ি, মানুষটাও সেরকম করে ভাবে । সেরকম ভাবেই অনুভব করে । এরকম সময়গুলোর জন্যেই ইদানিং মানুষগুলোর দিকে মাঝে মাঝে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করে খুব । তাদেরও অবয়বের ভিতরে জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আছে বলে ভালোলাগায় আচ্ছন্ন হতে ইচ্ছে করে । এই পৃথিবীতে মন এর মতো বিষয়টা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং কাছের বলেই বোধহয় নিজের স্ব স্ব জিজ্ঞাসু অনুভূতিগুলোই কেউই তা থেকে লুকোতে পারে না । সবাই নিজের কাছে অনুভূতিতে ভালো হয়ে থেকে যেতে চায় । ভালো লাগা নিয়ে আবেশিত হতে চায় । নিজের মন নামক মায়ায় কে না আচ্ছন্ন হয়! ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ ইদানিং আমার ভীষণ বিচিত্র অনুভূতি হয় । নিজেকে নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করে না তেমন একটা । যেভাবে চলার মনে হচ্ছে যেন সেভাবেই চলে যাচ্ছে সবকিছু । তাই সেভাবে পড়াও হয় না । বাসায় এসে নিজেকে ঘুমের ঘোরে তৈরি করে দিতে ইচ্ছে করে খুব । এই ঘোরটিকে আচ্ছন্ন করতে আমার ততটা সময়ও দিতে হয় না । সপ্তাহের প্রতিটি দিন এই বইটি পড়ার জন্য যে দিনটির অপেক্ষায় বসে থাকি, ঠিক সেই দিনটিই যখন সপ্তাহ ঘুরে আসে । সেদিন আমি প্রবল ঘুমের মায়ায় নিজেকে এলিয়ে দেই । আজকে হঠাৎ করেই এই রাতে মনে হলো, অনেক দিন হলো আমার আয়োজন করে বই পড়া হয় না । আয়েশ করে বইকে জড়িয়ে ধরা হয় না । আজকে ঠিক সেই কারণেই কিনা জানি না, ঠিক রাত ২টা ৩০ মিনিটে বইটি পড়তে বসেছিলাম । যখন পড়া শেষ হয়ে গেল তখন সময়টা সকাল ৬টা । এই শহরে এখনও ভীষণ কাছের কাছের সুর বয়ে আসে । পাখিদের কিচিরমিচির শব্দের সুরে যেন বইটি শেষ হওয়ার ইতিহাস টানে । ♦নামকরণঃ একটা সময় ছিল যখন আমার একটা ধারণা হয়েছিল । আজ সেই ধারণা যেন সমাজের বিভিন্ন বিবর্তনেও নিজের একটা রেশ ধরে রেখেছে । আমার এই পৃথিবীতে সবথেকে বড় যে ধারণাটি মানুষের মধ্যেকার রসায়নে, কিংবা পারস্পরিক মমত্ববোধে । তা হলো, বিয়ে নামক একটি শব্দ যা দুইটি মানুষের মাঝে শুধু এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনই নয় । তা যেন হঠাৎ করে তুমুল কিছু শব্দের ধাক্কায় দুজন মানুষের পাশাপাশি কতগুলো মানুষের একাত্মতায় আরো কাছের করে তুলে দেয় । দুজন মানুষ একসাথে মায়ায় জড়িয়ে পড়ে । পৃথিবীতে বোধহয় ভালোবাসার থেকেও মায়া সবথেকে কাছের । ভালোবাসা হয়তোবা রয়ে যায়, গভীর রাতের চাঁদের মতো দূরে থেকে বিকিরণ করে থাকে । কিন্তু দুজন মানুষ আটকে পড়ে যায় সংসার নামক এক মায়ায় । এই বিয়ে নামক এক বন্ধনের খেলায় মেয়েটিকে বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নাইয়র হয়ে আসতে হয় নিজেকে নাইয়রি উপাধি দিয়ে । এই উপাধি নিজেকে আজন্মকাল ধরে রাখার তাড়া কেউ করতে চায় না । তবুও স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কতগুলো ক্ষণের অপেক্ষা নামক মুহূর্ত তাকে এই উপাধি তাড়া করে বেড়ায় । এরকমই এক মেয়ের নাইয়রে নাইয়রি উপাধি নিয়ে তা থেকে ছাড়া পেয়ে শ্বশুর বাড়িতে ফেরার এক আখ্যান যেন নাইয়রি । সত্যিই কি তার এই নামকরণটি নিজের জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল নাকি তা নিজের সাথে বয়ে বেড়াতে হয়েছে সারাটি বছর, সারাটি জীবন! এক মেয়ের নাইয়রি থেকে জীবনের অপেক্ষা করার এই গল্পে মেয়েটিকে ভীষণ ধৈর্য ধরে যেতে হয় যেন । দারুণ অসাধারণ এক নামের এই উপন্যাসটিকে তাই ভীষণ ভালো লেগে যায় যেন আমার । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ জীবনে সুখ ও দুঃখ সর্বদা নিজস্ব সমান্তরাল রেখায় চলে । কিন্তু কখনো কখনো জীবনই সুখ আর দুঃখকে একই রেখায় নিয়ে আসে । তখন দুঃখ তার পথ চলতে চলতে সুখের রেখাকে মুছে দেয় । কখনোবা সুখ মুছে দেয় দুঃখের রেখাকে । ‘নাইয়রি’ গ্রাম-বাংলার এক নারীর জীবনকে টেনে নেয়ার গল্প, বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প । ♦প্রচ্ছদঃ জীবন বয়ে যায়, বয়ে যায় সময়ের স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে হোক অথবা স্রোতের অনুকূলে কিংবা প্রতিকূলে । তবুও জীবন বয়ে যায় । বয়ে যায় নদীর বাঁকে রোজকার ঢেউয়ের শব্দের গর্জনের মতো করে । জীবনে যেন পানির স্রোতের জোয়ার ভাটার মতো করে কতকিছুই ঘটে যায় । ঢেউ যেভাবে নদীকে উত্তাল করে তুলে, আবার নদীকেই প্রাণ দেয় । সেভাবে মানুষের জীবনে কতশত মুহূর্তের উপস্থিতি ঘটে । নদীর এই জীবনে নৌকাগুলো যেন ভীষণ এক বাস্তবিকতার অনুভূতি দেয় । এরকম ভাবেই গড়ে তোলা এই প্রচ্ছদটাকে প্রথম দেখেই আমি ভালোবেসে ফেলেছিলাম । খুব কম বইয়ের প্রচ্ছদকে আমি ভালোবেসেছি । ভীষণ জীবন্ত হয়ে থাকা এই প্রচ্ছদটিকে উপন্যাসের আদলে পরিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বলে ভীষণ ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হতে হয় যেন! ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ এই উপন্যাসে বেশ অনেকগুলো চরিত্র আছে । কয়েকটি চরিত্র নিয়ে লিখবো । •জেসমিনঃ গ্রামবাংলার চঞ্চল স্বভাবের এক নারী । যার স্বভাবের সাথে গ্রামে একটা মিষ্টি গন্ধ টের পাওয়া যায় । দস্যি নাম চলে আসা মেয়েটিকে উচ্ছল, প্রাণবন্ত এবং হাসিখুশি স্বভাবের মেয়েটিকে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই যেন শুরু হয় নিজের ভালোবাসা আসার পরে থেকেই । ধৈর্য এবং অপেক্ষা নামক দুইটি অসাধারণ বিশেষণকে নিজের সাহসী গুণ দিয়ে আয়ত্তে আনার এক অসাধারণ চেষ্টা করে যায় মেয়েটি । •জয়নাল মির্জাঃ ভীষণ ক্ষুরধার মস্তিস্কের এই মানুষটি ভাবনা চিন্তা করে কাজ করেন । নিজের স্বার্থের জন্য সবকিছুকে যেভাবে খোয়াতে চান ঠিক সেভাবেই নিজের সম্মানকে নিয়ে ভাবার জন্য প্রিয় মানুষদেরকে বিপদে ফেলতেও পিছপা হন না তিনি । •রঞ্জুঃ হাসিখুশি স্বভাবের সাহিত্যে আকর্ষণ থাকা মানুষটি হঠাৎ করেই ভালোবাসা নামক ঝরে এলোমেলো হয়ে যায় । আর পৃথিবীতে কে না জানে, এই ঝর নামক এলোমেলো বিষয়টি আরো মনকে সুখ সুখ অনুভূতি দেয় । ভালোবাসার জন্যেই এগিয়ে চলতে থাকে প্রিয়তমা মানবীর জন্য মনের মাঝে অনুভূতি বুনে । •আব্বাসঃ পরিবারের বড় ছেলেদের সংসারের বটগাছটি হয়ে দাঁড়াতে হয় যেন । বটগাছের মতো প্রকাণ্ড হয়ে সংসারের প্রতিটি বিপদে নিজেকে এগিয়ে নিতে হয় । পরিবারের যত সুখ তাকে ভাগ করে নিয়ে দুঃখকে পাল্লায় নিজের ভাগেই পুরোটা নিয়ে বসত গড়ার এক অদ্ভুত সুর বাজে তার মাঝে । •মুকুলঃ অনুভূতির বিবর্তন নামক তত্ত্বের তুলনা করার চেষ্টা না করেই মানুষটি সংসার নামক মায়ায় জড়িয়ে যায় । জীবনের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা যতদিনে করতে হয় ততদিনে নিজের শখ কিংবা স্বপ্নকে গড়ে না তুলতে পারার পেছনে অজস্র কারণ হয়ে ধরা দেয় । তবুও জীবন এগিয়ে যায়, বয়ে যায় সময় । •মুস্তাফিজঃ পেশায় ডাক্তার মানুষটির মনের মাঝেও যেন একরাশ ভীষণ মায়া । এই মায়া নিয়ে থাকা মানুষটির বিপদে আপদে সাহায্য করার এক দারুণ মানসিকতা আছে । ভালোবাসার মানুষটির পাশে সবসময়ে থাকার এক আকাঙ্ক্ষা তাকে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করায় যেন, ভালোবাসা মানুষটিকে ভালো রাখার এবং নিজেকে সেরা প্রমাণ করার । •রেনুঃ অসাধারণ একটি চরিত্র হয়ে থাকা নারীটি গ্রামের সেরকম একটি চরিত্র, যে যৌথ পরিবারের সংসারে বাড়ির বড় বউ হয়ে আসে । নিজেকে যেন নিজের সংসারের আদলে গড়ে নিয়ে নিজের দুহাতে সংসারকে আঁকড়ে ধরে রাখে । মনের মাঝে গড়ে তোলা এই সংসারটিতে নিজের মায়াকে বিছিয়ে দেয় যেন প্রবল ধৈর্যবোধ নিয়ে । একদিন মনের পাশাপাশি আবহেও সুখ মিটবে । •মিনাঃ পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বা তার জন্য হঠাৎ করে রাখতে না পারাটা একজন স্বাভাবিক মানুষের মধ্যেই পড়ে । মিনা তেমনই একজন । সংসারকে ভালোবেসে নিজের পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তে সে পাশাপাশি কাছাকাছি হয়ে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে দাঁড়ায় কিন্তু কখনও নিজেকে পরিস্থিতি যেন গড়ে নেয় । •হালিমা বিবিঃ নিজের হাতে গড়ে তোলা সংসার কখনও গড়ে তুলতে তুলতে ভীষণ স্বার্থের এক পরিবেশের তৈরি হয় যেন । এই স্বার্থ যেন হঠাৎ এক ধাক্কায় এক নারীকে নিজের জীবন নিয়ে প্রশ্ন করে ফেলে । প্রবল স্বার্থান্বেষী এই নারী নিজের ছেলেদের মাঝেও তুলনা করার এক চেষ্টা করে যান জীবনভর । •নুরজাহানঃ পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতি মানুষকে হঠাৎ করে ছোট দেয় যেন মনের মাঝে । মনের মাঝে গড়ে ওঠা শহরে নিজেকে নিয়ে ভাবনার জায়গাটিও কম থাকে । নিজেকে নিজেরই ভীষণ শূন্য মনে হয় যেন । এই শূন্যতায় কেউ পরশ বুলিয়ে দিতে গেলেও যেন কাঁটা স্থানে হাত পড়ার মতো করে ব্যথা জেগে উঠে । ভালোবাসা দিয়ে গড়ে ওঠা পাশের মানুষটিকেও তখন নিজের দুর্বলতার জন্য নিজেকে অযোগ্য বলে মনে হয় । নিজের অমোঘ আকর্ষণে তখন কিছু ভুলের নামান্তরে দোষ করা হয়ে ওঠে মানুষের । ধৈর্য বোধহয় সবকিছুর উত্তর জমা করে রেখে দিয়ে মানসিক রোগী নারীটিকে আরো অদ্ভুত করে দিতে থাকে । •শরিফা বানুঃ কিছু সংসার নামক মায়া আছে । যে মায়াগুলোতে হাত বুলোলেই আটপৌরে শাড়ি পরা এক মধ্যবয়স্কা নারী চোখের সামনে ভেসে উঠে যেন । মনে হয় এই সংসারকে নিজের হাতে, তিল তিল করে গড়ে তোলার পেছনে এই নারীর ধৈর্য আছে । ভালোবাসা আছে । অনুধাবন আছে । শরিফা বানু তেমন একটি চরিত্র । যিনি সাহায্য করার পাশাপাশি ধৈর্য ধরে প্রতিটি মুহূর্তে এগিয়ে নিতে চান । মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভীষণ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন কষ্টকে সয়ে যাওয়ার । ♦টুকিটাকিঃ এছাড়াও জীবনের টানাপোড়েনে চলার পথে আরো কিছু চরিত্রের মুখোমুখি হওয়ার মতো করে এই উপন্যাসেও বেশ কিছু চরিত্র চলে আসে । এই উপন্যাসে চলে আসে বন্ধুর জন্য মনের মাঝে মমতা নিয়ে অপেক্ষা করা মানিক চরিত্রটি । বন্ধু নামক আখ্যানকে সত্যি করে দিয়ে বন্ধুর বিপদে সাহায্য করার এক চেষ্টা থাকে তার মাঝে । এছাড়াও উপন্যাসে চলে আসে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে পোষণ করা সেই মামুন চরিত্রটি । কোহিনুর বানু আটপৌরে স্বভাবের একজন নারী । যিনি নিজের সংসারের মানুষগুলোর জন্য ধৈর্য ধরে সব পরিস্থিতি সয়ে যান । নিজের সন্তানদের ভালো থাকার কামনা করে যান জীবনভর । এছাড়াও উপন্যাসে আসে হারুন ব্যাপারী নামের একটি চরিত্র । সমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষটি জীবনে এগিয়ে চলতে চায়, গ্রাম বাংলার জমি নিয়ে একটি চেষ্টা তার জীবনে হঠাৎ করে একটি ধাপ এনে দেয় । উপন্যাসে আসে রেহানা নামক একটি চরিত্র । যার জীবনে নিজের স্বামীর ভালো থাকার পাশাপাশি নিজেকে সুখী করার এক অদ্ভুত চেষ্টা থাকে । কিছু মানুষ থাকে যারা পরিস্থিতি যেভাবে আসে সেভাবেই কাজ করে । হয়তো তখন ভাবনাচিন্তা করার চেষ্টা থাকলে করে ফেলে । ঠিক সেরকমই রেহানা । না ভালো না মন্দ এরকমেরই মিশেলে গড়ে ওঠা একটি চরিত্র রেহানা । ময়না ভীষণ সাহায্য করার মানসিকতা নিয়ে থাকা একটি চরিত্র । মাহফুজ এর মতো চরিত্রগুলোও আজকাল সমাজে যেন হঠাৎ করে চলে আসে । সুযোগ পেলেই বিভিন্ন দোষ করার ইচ্ছা ধরে রাখে মনে । ♦প্রিয় চরিত্রঃ এই উপন্যাসে আমার প্রিয় চরিত্র নিয়ে হঠাৎ করে ভাবার অবকাশ পেলাম যেন । হঠাৎ করে মনে হচ্ছে, আসলেই তো । এখনও তো মনকে জিজ্ঞাসা করা হলো না, যে কে প্রিয় চরিত্র । হঠাৎ যেন আবার নিজেই সেখান থেকে বলে ফেললো কেউ, এই উপন্যাসে তোমার প্রিয় চরিত্র হতে পারে দুইটি । এক, জেসমিন । যে তার জীবনের নাইয়রি হয়ে থাকার মুহূর্ত থেকে নিজের জীবনে প্রতিটি বিশাল গুণ নিয়ে ফিরেছিল । ধৈর্য এবং অপেক্ষা সাথে সাহসের মিশেলে নিজেকে অসাধারণ করে গড়ে তুলেছিলেন । এছাড়াও উপন্যাসে অন্যতম যে প্রিয় চরিত্রটি, সেটি হলো শরিফা বানু । এই সমাজের প্রতিটি গ্রাম বাংলায় এরকম কিছু চরিত্র হঠাৎ করে যেন ধরা দেয় । হঠাৎ তাদেরকে অনুভব করে ভীষণ কাছের মনে হতে থাকে যেন । ভীষণ মমত্ববোধ নিয়ে তারা অপেক্ষা করে প্রিয় মানুষগুলোর বাড়ি ফেরার । অপেক্ষা করে সবাইকে সাহায্য করার মানসিকতা রাখার । পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে কাছে রাখার এক অসাধারণ চেষ্টাকেও । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √হঠাৎ করে ঘোষণা হলো, অন্যদিন ঈদের ম্যাগাজিনে লেখক মৌরি মরিয়ম এর একটি ছোট গল্প থাকবে । নাম তার নাইয়রি । আমি হঠাৎ করে নিজের মাঝেই অনুভব করেছিলাম যে আমি ভীষণ কাঁপছি আনন্দে । সেই সময়ে প্রকৃতির পরিবেশের সাথে আটকে থাকার ওই সুরে নাইয়রি যেন আমাকে শান্তি দিয়েছিল । আরো দিয়েছিল একরাশ সুখে থাকার আহ্বান । সেই সেদিনের নাইয়রিই উপন্যাস হয়ে বর্ধিত রূপে ফিরে এলো যেন আগের মতোই অনুভূতি নিয়ে । √নাইয়রি! এই উপন্যাসের প্রেক্ষাপট এর সময়কাল আমার ভালো যে লাগবেই তা আমি পড়ার আগেই বুঝেছিলাম । কারণ ভীষণ চেনা নিজের পরিবেশকে পাশে পাবার জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম খুব । মুক্তিযুদ্ধ, এবং তার পরবর্তী সময়কাল নিয়ে গড়ে ওঠা গ্রামবাংলার এই প্রেক্ষাপটকে আমি ভীষণ ভালোবাসি । ভালোবাসি এর নিজস্ব স্বকীয়তা নিয়েও । তা বজায় রাখার যে ধাঁচ থাকে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । উপন্যাসে তা বেশ সুন্দর ভাবেই বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে । কিন্তু আমি অপেক্ষা করছিলাম মূলত উপন্যাসের পটভূমি নিয়ে । উপন্যাসের পটভূমি এবং এর জীবনধারা গড়ে উঠেছে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা নিয়ে । এই জেলায় পটভূমি গড়ে উঠার কারণেই কিনা জানি না, নিজেকে ভীষণ প্রতিটি দৃশ্যপটে কাছের মনে হয়েছে খুব । গ্রাম বাংলার এক ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেন ওই সময়কার মুহূর্তে । ১৯৭৪ সালের পরবর্তী সময়কাল থেকে গড়ে ওঠা এই দৃশ্যপটগুলো যেন ভীষণ সময়কে ধরে রেখে দিতে চেষ্টা করে । প্রতিটি পরিস্থিতি ওই সময়টিতে অনুধাবন করে রাখা হয়েছে । ভালোবাসা এসেছে ওই সময়ের আদলে । জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক মতভেদ অথবা সামাজিক কুসংস্কার থেকে জীবনের টানাপোড়েনে উপন্যাসের আবহে যেন দারুণ একটি সুর এসেছে । উপন্যাসের আবহে তাই যেন অনেকখানি জায়গা ছিল । তা বেশ ভালো ভাবে তৈরি করা হয়েছে । যা দৃশ্যপটগুলোতে ভারসাম্য দিয়েছে । √এই ধরনের উপন্যাসে যখন পটভূমি জীবনধারা অনুযায়ী সাজাতে চায়, তখন বেশ অনেকগুলো চরিত্র রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়ে । সাধারণত একটি উপন্যাসে কতগুলো চরিত্র থাকবে, তা উপন্যাসের বিষয়বস্তুর চাহিদাই গড়ে তুলে । যখন কোনো উপন্যাসের পটভূমি বিরাজ করে থাকে অনেকগুলো চরিত্রের । সেই উপন্যাসগুলো পড়তে আমার কেনো যেন ভালো লাগে খুব । এই উপন্যাসেও ঠিক সেভাবেই অনেকগুলো চরিত্র এসেছে । প্রতিটি চরিত্র গঠন এবং তাদের উপস্থিতি আসার জন্য উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করা হয়েছে যেন । সময় এবং সমাজের বিভিন্ন দংশনে যখন যে চরিত্রের আবেশ প্রয়োজন তাই যেন এসেছে । এক্ষেত্রে চরিত্রগুলোর মধ্যকার রসায়ন কিংবা বিভিন্ন কথোপকথন বেশ ভালো ছিল । জেসমিন চরিত্রটি হঠাৎ করেই সময়ের প্রয়োজনে যেন হঠাৎ করে নিজেকে বুঝতে পারলো, নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলো । জেসমিন চরিত্রটিকে দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তার নাইয়রি জীবনের পরোক্ষ ভাবে ইতি বোধহয় বেশ ভালো ছিল । এছাড়াও জেসমিন এবং রঞ্জু এর মধ্যকার রসায়ন এবং প্রেম হতে চাওয়া ভালোবাসা ওই সময়কাল এর প্রেক্ষাপটে দারুণ ভাবে এসেছে অনুভূতিতে । হাতে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেওয়া ভালোবাসা ভীষণ মানসিকভাবে মনের দিক থেকে এসেছে যেন । এছাড়াও মুকুল এর চরিত্র গঠন এবং উপস্থিতি অসাধারণ ছিল । হয়তো মুকুল চরিত্রটি বেশ সময় নিয়ে করা হয়েছে বলেই ওকে বেশ ভালো ভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হয় । ওকে মানসিকভাবে বেশ সময় দেয়ার প্রয়োজন ছিল পাশের মানুষদের । যা তুলনামূলক করা হয়েছে বলেই ওর মনস্তাত্ত্বিক আবহ অনুধাবন করতে পারেনি সাময়িক সময়টিতে । এক্ষেত্রে ধৈর্য এর ভীষণ প্রয়োজন । যা অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এক্ষেত্রে পাশে থাকা মিনা চরিত্রটির আদলও উপন্যাসে দারুণ ছিল । উপন্যাসে তার উপস্থিতি বেশ মায়া লাগার মতো ছিল । √যেহেতু উপন্যাসের পটভূমি বরিশাল বিভাগ জুড়ে গড়ে তোলা । এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়কাল এর । সেজন্য ভাষায় এবং কথোপকথনে আঞ্চলিক কথা জুড়ে ছিল । যা অদ্ভুতভাবে আমার ভীষণ কাছের এবং পাশের । নিজেকে ভীষণ ভাবে প্রতিটি দৃশ্যপট এবং পরিস্থিতিতে যেন কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি বলে মনে হয়েছে তখন । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসটিকে আমার গ্রামের পুরোটা জুড়ে রূপক অর্থে বলে মনে হয় । সেই ছোটবেলায় ফিরে যাওয়া অদ্ভুত এক নিঃশ্বাস চলে আসে যেন আমার মাঝে । বরিশালে জন্ম হওয়া এই মানুষটির প্রতিটি মুহূর্তকে ভীষণ ভাবে অনুভব করতে ইচ্ছে হয় যেন । এই উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলকে নিয়ে গড়ে তোলা সেই ছন্দটিকে আরো বেশ ভালো ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন । ধান নদী খাল, এই তিনে বরিশাল । এই উপন্যাসের দৃশ্যপটেও যেন তা ভেসে এসেছে । গ্রাম বাংলায় ধানের বীজ বপন থেকে ধান সেদ্ধ করা পর্যন্ত যে মুহূর্তগুলো থেকে শুরু করে নদী এবং খালের মোহনা যেন বিস্তৃত হয়েছে এই উপন্যাসের পটভূমিতে । যা ভীষণ ভালোলাগায় আবেগতাড়িত করেছে । ছোটবেলায় ধান রোদে শুকোতে দিয়ে ধানের মাঝামাঝি জর্দার কৌটা দিয়ে চাকা বানিয়ে হাঁটার চেষ্টা করা মনে পড়ছে । ধান শুকোনোর জন্য উঠানে পা গলিয়ে হেঁটে যাওয়ার ওই মুহূর্তগুলো কাছের হয়ে রয়ে যায় । এছাড়াও উপন্যাসে যৌথ পরিবারের এক অসাধারণ চেষ্টা করা হয়েছে যেন । যৌথ পরিবার নামক সুখ গ্রাম বাংলায় যা রেশ ছড়িয়ে দেয় তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যেন । এছাড়া উপন্যাসের কিছু কিছু মুহূর্ত বেশ কাছের হয়ে ধরা দেয় যেন । উপন্যাসে বেশ কয়েকটি কবিতা ছন্দ আকারে হোক কিংবা অনুভূতির বিবেচনায় হোক যা ব্যবহার করা হয়েছে । যা বেশ ভালো লাগার মতো এক অনুভূতি দিয়েছে আমাকে । ফেসবুকে গল্প চলাকালীন ব্যবহৃত ছবিটি বইয়ের প্রতিটি জলছাপে ব্যবহার হওয়া যেন উপন্যাসটিকে আরো ভালো লাগায় আচ্ছন্ন করে দেয় । এছাড়াও উপন্যাসের শেষ দৃশ্যপটটি যেন সময়ের বিবর্তনে গড়ে ওঠা মুহূর্ত বলেই আরো ভালো লাগায় মনটি ভালো হয়ে যায় । অবশেষে জেসমিন এর নাইয়রি জীবনের শেষটি আদৌ হয়েছিল কিনা তার এক অনুভূতি মনের মাঝে আসাটা যেন আমার কাছে প্রিয় হয়ে থাক । এছাড়াও চিঠির আদানপ্রদানে কবিতার পাশাপাশি কামিনী ফুলের ছড়াছড়ি কিংবা জেসমিন কে ছুঁয়ে যাওয়া হিজলগাছের ফুলে পুকুরে ছেয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলো হঠাৎ করে ভীষণ মোহময় করে দেয় যেন । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী হিসেবে আমার সবসময়ই প্রিয় হয়ে ধরা দেয় । তাদের বই বাঁধাই থেকে প্রচ্ছদকে ফুটিয়ে তোলা এবং পৃষ্ঠা এবং বইয়ের অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদি দারুণ ভাবে গড়ে তোলা মনে হয় । এই বইটির ক্ষেত্রেও সেভাবেই গড়া হয়েছে বলে মনে হয় । বইটির বাঁধাই বেশ দারুণ ছিল । প্রচ্ছদটিও বেশ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । প্রচ্ছদটি দেখলেই কেনো যেন হাত বুলিয়ে আমার মায়া লেগে যায় । এছাড়াও পৃষ্ঠা গঠনও বেশ ভালো ছিল । জলছাপ দারুণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে । উপন্যাসের দৃশ্যপট পরিবর্তনে একটু ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে যা বেশ ভালো ছিল । তবে উপন্যাসে বেশ কিছু টাইপিং মিস্টেক আছে । যদিও আঞ্চলিক ভাষায় ব্যবহৃত উপন্যাসে টাইপিং মিস্টেক থাকেই সাধারণত । তবে উপন্যাসে চরিত্রের নামেও টাইপিং মিস্টেক আছে । যদিও তা সেভাবে সমস্যায় ফেলেনি । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ ‘নাইয়রি’ লেখক মৌরি মরিয়ম এর তেরোতম উপন্যাস । এবং এখন পর্যন্ত বোধহয় সবথেকে সেরা উপন্যাসটিও । গ্রামবাংলার প্রেক্ষাপটে তৈরি এই উপন্যাসটিকে লেখক যেভাবে লেখার চেষ্টা করেছেন তা বেশ দারুণভাবে ছিল । নিজের রোমান্টিক ঘরানায় থাকা উপন্যাসগুলোকে পাশ কাটিয়ে দিয়ে নাইয়রি এর শক্ত অবস্থান অবশ্যই দারুণ কিছু মুহূর্ত দিবে লেখকের জন্য । এই উপন্যাসে প্রথম দিকে একটি বিষয় আমাকে খুবই বেশি ভালোলাগা দিয়েছে । যা হলো উপন্যাসের আবহে বর্ণনামূলক ভাবের আধিক্য থাকা । প্রতিটি বর্ণনায় বেশ কিছু বর্ণনা রাখা হয়েছিল যা লেখক বেশ সুন্দর ভাবে করেছেন । এছাড়াও কিছু ইতিহাস রেখেছেন আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যা দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এছাড়াও সময়ের প্রয়োজনে যখন উপন্যাসের গতি পরিবর্তন হয়েছে, গতানুগতিক ধাঁচ বেড়েছে উপন্যাসের পটভূমিতে বর্ণনার জায়গাটি কোথাও একটু একটু কমেছে যা অবশ্যই পরিস্থিতির প্রয়োজনে । এই পরিমিতিবোধ দারুণ এক সংযোগ স্থাপন করেছে । এক্ষেত্রে লেখক বেশ ভালোভাবে তা সাজিয়েছেন । এই ধরনের উপন্যাসগুলোকে আমার কেনো জানি খুবই ভালো লাগায় ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে করে, কারণ তখন মন থেকেই আমি আন্দোলিত হতে থাকি । পরিশেষে অন্যরকম এক শুরুর জন্য লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো । ♦রেটিংঃ ৫/৫ ♦উপসংহারঃ বেশ অনেকগুলো দিন পরে, রাতে উপন্যাস পড়ার শেষে অনুভূতি প্রকাশ করার সময়ে যখন জানালা দিয়ে অনুভব করি সকালের আলো রুমে এসে পড়েছে তখন হঠাৎ করে ভীষণ ভালো লাগে সবকিছু । মনে হয় যেন নিজের পুরোনো আমিকে ফিরে পেয়েছি দীর্ঘদিন পরে । আমি এই নিজের সত্ত্বাকে ভালোবাসি । কিন্তু আবার হয়তো অনেকগুলো দিন পরে এভাবে বই পড়া হবে । এভাবেই ফিরে তাকানো হবে বইগুলোর দিকে হঠাৎ করে । একটু হাসার চেষ্টা করা হবে । ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করি, নাইয়রি থেকে শ্বশুর বাড়িতে ফেরার মুহূর্তে জেসমিন এর সেই ‘বাড়ি আসো’ বলে পাঁচবারের আহ্বানে অনুভূতির আধিপত্য আরো বেশি থাকার চেষ্টাকে । অনুভব করি গ্রামের একরাশ মায়ায় ঘেরা সুন্দর নিঃশ্বাসকে । রঞ্জুর ভীষণ ভালোবাসায় হঠাৎ করে মন থেকে চলে আসা কবিতাগুলোকে । মনে পড়ে রঞ্জুর বারান্দায় শীতের কুয়াশা ভেদ করে কখন তা কাটিয়ে কখন বর্ষা হয়ে ফুল ফোটার এক আকাঙ্ক্ষা জন্মে । মনে পড়ে হঠাৎ করে মুকুলকে কারো বুঝতে পারার চেষ্টাকে । এই অনুভবগুলোই আমাকে নিঃশ্বাস দেয় । ভালো থাকার আহ্বান জানায় । ঠিক তখন মনে হয় আমি ভালো আছি । ভালো আছি । সত্যিই বোধহয় ভালো আছি ‌।

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

প্রশ্ন

Is this a hardcover?

উত্তর

Dear customer, Yes, this book is hardcover. Thanks for your question.

প্রশ্ন

Is this a hardcover?

উত্তর

Dear customer, Yes, this book is hardcover. Thanks for your question.

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)