

Buy মুজিযা Online in Bangladesh
লেখক: রশীদ আবরার রিয়াদ
- Author: রশীদ আবরার রিয়াদ
- Publisher: বাংলার প্রকাশন
- Number Of Pages: 168
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
মাইক থেকে ঘোষণা আসছে ‘মসিহ এসেছেন! মসিহ এসেছেন! প্রিয় এলাকাবাসী, যার আসার কথা ছিল, তিনি এসেছেন। আপনারা ঘরের বাতি বন্ধ করে ঘুমান। আর কোনো ভয় নেই, আর কোনো ভয় নেই!’ সূর্য উঠছে, ভোর হচ্ছে, হালকা হালকা কুয়াশা বাতাসে, পাখি ডাকছে, মোরগ ডাকছে এবং খুব ভালো মতোন খেয়াল করলে দেখা যাচ্ছে যে, দরবার হল থেকে মসিহ আগমনের সুসংবাদ এসেছিল, সেই ঈশ্বরের দরবার হলে এখন আগুন জ্বলছে! দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুন নিভানো পরের বিষয়, আগুন! আগুন! বলে যে কেউ চিৎকার দিবে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জঙ্গপুরবাসী কারো এখনো ঘুম এখনো ভাঙেনি। তারা সবাই নিজেদের ঘরের আলো জ্বালিয়ে রেখে আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছে। জঙ্গপুরবাসী ঘুমপ্রেমী। সবাই অনেক বেলা করে ঘুম থেকে উঠে। কিন্তু কয়েক মাস ধরে তাদের আরামের ঘুম ঠিক মতোন হচ্ছে না। আলো জ্বালিয়ে রেখে কি আর ঘুম হয়? ঘরের আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস তো এখনো তাদের হয়নি। কিন্তু তাদের কী-ই বা করার আছে? মানুষ আর কতটুকুই বা পারে? কেন তাদের ঘরের বাতি জ্বালিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে, কেন তাদের কিচ্ছু করার নেই, এর পেছনে রয়েছে একটি অলৌকিক কাহিনি...
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
দারুণ সুন্দর একটা বই। এই জনরার বই আগে কখনো পড়া হয়নি। এবারই প্রথম। অভিজ্ঞতা বেশ ভালো ছিল। বাস্তবতা ও অলৌকিক ২এর মিশ্রণে খুব সুন্দর একটা গল্প। আমি হয়তো এরকম জনরার বই আরো অনেক পড়ব। লেখকের জন্য শুভকামনা রইল। ❤️
মুজিযা একটা উপন্যাস। এখানে বাস্তব ও কল্পনা মিশে যায় জল ও জীবনের মত। বিষয় কি? বিষয়টা হলো একটা অলৌকিক ঘটনা। এমন অসম্ভব ঘটনাও যখন ঘটে যায়, তখন আমরা কি বিশ্বাস না করে পারি? অসংখ্য চরিত্রের মধ্যে, তিন যুবকের চোখ দিয়ে আমি দেখেছি পুরো উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ। রাশেদ, অনিল, ও চৌধুরী। লেখক রশীদ হলো রাশেদ, অনিল, ও চৌধুরী। আমি হলাম রাশেদ, অনিল, ও চৌধুরী। প্রেম করেছে এমন যেকোন পুরুষ হলো রাশেদ, অনিল, ও চৌধুরী। পুরুষদের দুর্নাম আছে যে আমরা ভালোবাসতে পারি না, আমাদের হৃদয় শীতল গ্রানাইট। সত্য যদি এটাই হতো, তাহলে আমাদের ভালোবাসা থেকে এক একটা জাতি, জনপদ, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান জন্ম নিল কিভাবে বলুন? পুরুষের ভালোবাসা কেমন হয় সেটা রাশেদ, অনিল, ও চৌধুরীকে দিয়ে দেখা যায়। অলৌকিক ঘটনাটার প্রবাহ ঘটেছে ঢাকা শহরে ও বাংলাদেশের শান্ত কোন এক শহরে, সমসাময়িক যে জীবন, তার absurdity আছে গল্পের পরতে পরতে। আমার ইচ্ছা করছে চাইতে, সবাই যেন বইটা পড়ে। মানুষ হয়ে জন্মেছি, সুতরাং আমার এই চাওয়াটা তো পুরন হতেই পারে, তাই না? একের পর এক ত্রিশ সেকেন্ড বা এক মিনিট এর AI Generated, statistically likely composition এর অর্থহীন ক্লিপ দেখার জামানায়, বসে বসে তিন চার ঘন্টায় সবাই একটা বই পড়বে, তা যতই সুন্দর গ্রাফিক্স, ফরম্যাট, ও ফন্টে সাজানো হোক না কেন - এ তো আরেক অলৌকিক ব্যাপার। কিন্তু তিন ঘণ্টার নৌকাভ্রমণে, যেটায় প্রায় নৌকাডুবি হয় হয় করে, সেখানে আমি নৌকার ছইয়ে বসে পুরো বইটা শেষ করে ফেললাম, শত দীর্ঘশ্বাসের মাঝে। এটাও আরেক মুজিযা বটে। সুতরাং আমি আশা রাখলাম, চাইলাম, আরো অনেক আত্মাই যেন এই বইটা পড়ে।
আমি যে খুব নিয়ম করে বই পড়ি এমন না। আগ্রহ জন্মালে পড়ি। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মাঝে রিয়াদ একজন। বিষয়বস্তু যেমনই হোক, রিয়াদ দুর্দান্ত লেখে। লেখকের বন্ধু হলে একটা সমস্যা আছে। গল্পের চরিত্র, বর্ণনা পূর্ব পরিচিত মনে হয়। তবুও আগ্রহ নিয়ে পড়ি। এর আগেও ওর বিভিন্ন চিত্রনাট্য পড়ার সুযোগ হয়েছে। নতুন ভাবে আবিষ্কার করেছি লেখক সত্ত্বাকে। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সেসব লেখা, চরিত্র, লাইন ধরে আলোচনা হয়। ভাব প্রকাশের একটা মাধ্যম হয়ে যায় গল্পের লাইনগুলো। গল্পের সুখ দুঃখ নিজের মনে হয়। কখনো নিজেকে অনীল মনে হয় আবার নিজেদের মধ্যে কাউকে মনে হয় চৌধুরী সাহেব। গল্পে এমন কিছু চরিত্র আছে যারা এই পৃথিবীতেই বাস করেন কিংবা করতেন। তাঁদেরকে খুব কাছ থেকে দেখে লেখা। যেকোনো সৃষ্টিশীল মানুষই দিনশেষে একজন রক্তে মাংসে গড়া মানুষ। তাঁর কর্মেই বেঁচে থাকে ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতি গুলো। রাশেদ হয়তো রশীদ নিজেই। রাশেদ হতে পারে আমি, তুমি, আপনি। রাশেদ হতে পারে স্বয়ং আম্বানি! রিয়াদের প্রথম বই মুজিযা। বই প্রকাশের আগেই সে জানান দিল এটা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ লেখা। সত্য মিথ্যা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে। আপনার কাছে আমার ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা থাকলে বইটা কেনার অনুরোধ রইলো। কিন্তু বিনে পয়সায় শিল্পের স্বাদ চাইলে আমাদের যাত্রা এখানেই শেষ। বইটা প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য। জীবনযুদ্ধে প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য। যারা ধাক্কা খেয়েছেন, খাচ্ছেন, ধৈর্যের মর্ম বোঝেন। শুধু বয়সে ১৮ ও তদূর্ধ্ব হলে চলবে না। বইয়ের পাতা কয়টা এবং দ্রুত বুঝে ফেলা টাইপ বই পড়তে চাইলে এটা সেই বই না অবশ্যি! Good trip পেতে চাইলে পুরো বই একটানা পড়ে ফেলতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা লাগবে।






















