

Buy মৃত্যুকল্প Online in Bangladesh
লেখক: ইশরাক অর্ণব
- Author: ইশরাক অর্ণব
- Publisher: বাতিঘর প্রকাশনী
- Number Of Pages: 192
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
নোংরা রাজনীতির বলি হয়ে তো কতজনকেই খুন হতে হয়, সুরাহা হয় কয়টি? একটি খুন, ওই খুনের সূত্র ধরে ছুটতে গিয়ে আরেকটা খুন। খুন দুটির মাঝে কি কোনো যোগসাজশ আছে নাকি নিতান্তই কাকতালীয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তে নামল হোমিসাইড ডিটেকটিভ জাভেদ হুসেন ও তার সহযোগীরা। সামান্য ক্লু’র খোঁজ পেয়ে সেটা নিয়ে কাজ করতেই আভাস পেল বিশাল এক ষড়যন্ত্রের, যার মূল প্রোথিত অনেক গভীরে। কি সেই ষড়যন্ত্র? সবথেকে বড় কথা খুনগুলো করেছে কে? হায়দার আলী, শহরের সবথেকে নামকরা ক্রিমিনাল ল’ইয়ার। অপরাধীদের জগতে রীতিমত সেলিব্রেটি সে। বেশিরভাগ কেসেই অপরাধীকে মুক্ত করে আনতে পারে। কিন্তু এবার হায়দার আলীর ক্লায়েন্ট এমন কেউ, যার বিরুদ্ধে প্রমাণ কংক্রিটের মত শক্ত। হায়দার আলী কি পারবে নিজের ক্লায়েন্টকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নাকি উল্টো তাকেই বরণ করতে হবে কঠিন কোনো পরিণতি? প্রত্যেকটা রহস্যের উত্তর রয়েছে মৃত্যুকল্পে। পুলিশি তদন্ত, রাজনৈতিক কূটচাল, লোভ, আইনি লড়াইয়ের এক আখ্যান উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
শহরে হঠাৎ একজন তরুন রাজনীতিবিদ খুন হন। ঘটনার তদন্তে নামে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের দক্ষ অফিসার জাভেদ ও তার টিম। লাশের গায়ে পাওয়া যায় মৃত ব্যাক্তির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সান্টুর চুল। সেই চুলের সুত্র ধরে সান্টুর বাসায় হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় খুনে ব্যাবহৃত পিস্তল ও মৃতের ওয়ালেট। হাতে নাতে প্রমান পেয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সান্টু কে। আপাত দৃষ্টিতে এটা একটা ওপেন এস শাট কেস। কিন্তু জাভেদের মনে খটকা লাগে। কেমন জানি খুব সহজেই অপরাধী ধরা পরে গেল। মনে হলো কেউ যেন হাতে ধরে তাদের হাতে আসামীকে তুলে দিল। এর পেছনে অন্য কোন মাস্টারমাইন্ড খুনির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা প্রবলভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠল ডিটেকটিভ জাভেদের অনুসন্ধিৎসু মনে। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠল যখন সান্টুর পক্ষে নিযুক্ত শহরের সবচেয়ে বড় ডিফেন্স লইয়ার হায়দার আলির লাশ পাওয়া গেল তারই গাড়ির ভেতর। কে করলো খুন তাকে? তবে কি হায়দার আলি এমন কোন ক্লু উদ্ধার করতে পেরেছিল যার কারনে বেঘোরে জীবনটা গেল তার? নোটবুকে লেখা স্পাইডার বয়টা কে? শহরের প্রাক্তন মেয়রের সাথে এই খুনের সম্পর্কটা কি? ক্ষমতার লড়াই নাকি অর্থের লোভ কোনটার কারনে খুন হলো তরুন নেতা ও হায়দার উকিল। কেঁচো খুড়তে যে সাপ বেরিয়ে আসলো সেই সাপের ছোবল থেকে জাভেদ নিজেকে রক্ষা করতে পারবে তো? ==পাঠ প্রতিক্রিয়া== এক কথায় পুরো গল্পটাতেই ছিল টান টান উত্তেজনার। প্রতি মূহুর্তে বদলে যাচ্ছিল দৃশ্যপট। সামনে আসছে নতুন ক্লু, ঘটনা মোড় নিচ্ছে একেবারেই ভাবনার বাইরে নতুন কোন দিকে। লেখক তার লেখনিতে গল্পের নায়ক ও খুনির যে চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এক কথায় অসাধারন। গল্পে পটভুমিতে যে শহরটার বর্ননা দেয়া হয়েছে সেটার নাম লেখক উল্লেখ না করলেও সেই শহরের বাসিন্দা হিসেবে আমি নিজেকে সহজেই রিলেট করতে পেরেছি। তাই গল্পের ঘটনাপ্রবাহ আমার কাছে আরো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। লেখকের শব্দচয়ন আধুনিক ও মানানসই। লেখনশৈলি চমৎকার। বলে না দেয়া হলে কেউ হয়ত বুঝতেই পারবে না এটা লেখকের প্রথম মৌলিক উপন্যাস। গল্পের শেষের দিকে খুনির পরিচয় প্রকাশের সময় যে টুইস্টের সম্মূখিন হয়েছি আসলেই চমকে গেছি। এইজায়গাটায় লেখক একটা নতুনত্ব এনেছেন। সাধারনত থ্রিলার গল্পগুলোতে আমরা অপরাধি কে যেমনটা দেখে আসি এই গল্পের অপরাধী তেমন গতানুগতিক কেউ না। বিষয়টা আমার মতো অন্যান্য পাঠকদেরও চমকে দেবে। ব্যাক্তিগত রেটিং: ৯/১০

বইয়ের নাম :মৃত্যুকল্প লেখক :ইশরাক অর্ণব জনরা :পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার/ক্রাইম থ্রিলার প্রকাশনি : বাতিঘর প্রকাশনি নিখুঁত তদন্তপ্রক্রিয়া, অল্পবিস্তর কোর্ট রুম ড্রামা এবং নোংরা রাজনৈতিক কূটচাল এই তিনটি জিনিসের সমন্বয়ে চমৎকার একটা গল্প পড়লাম। কাহিনী সংক্ষেপ : শহর থেকে দূরে মহানগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস হোস্টেলের পিছনে নির্জন নিরালা জায়গায় হঠাৎ একদিন পাওয়া গেল এক লাশ। সেই লাশের তদন্ত সূত্রে ডাক পড়ল তিন হোমিসাইড ডিটেক্টিভ জাভেদ হুসেন, ফিরোজ ইকবাল এবং সাদিয়া সামাদ।তদন্ত করে জানা গেল লাশ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাংসদের সদ্য সাবেক নেতা,স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী মাহমুদুল হকের।তাহলে কি রাজনৈতিক কোন স্বার্থ জড়িত এর সাথে??খুনের পিছনে আছে কোন রাজনৈতিক দল??নোংরা রাজনীতির শিকার কি মাহমুদুল হক? অপরদিকে হায়দার আলী একজন ক্রিমিনাল ডিফেন্স ল'ইয়ার।আইনের ফাঁকফোঁকড় ভেদ করে আসামীর সাজা কমাতে বা বেকাসুর খালাস দিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।পুলিশের সাথে তাঁর সাপে-নেউলে সম্পর্ক।বেশ কিছু কেস পুলিশের বিপক্ষে লড়ে আসামীকে কে মুক্তি প্রদান করতে সাহায্য করে।আচমকা একদিন তাঁর নিজের গাড়িতে খুন হওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। অইদিকে মাহমুদুল হকের খুনের কেসে কোন সুহারা করতে পারেনি হোমিসাইড ডিটেকটিভরা এরই মধ্যে আবার এই খুন।তবে কি দুই খুনের মধ্যে সাদৃশ্য আছে কোন?আড়াল থেকে অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে না তো? পাঠ-পর্যালোচনা : ১.প্রথমেই বলতে চাই লেখকের প্রথম উপন্যাস হিসেবে এই বইটি বেশ ভাল লেগেছে।একটা পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার বইয়ে সবচেয়ে যে জিনিসগুলো গুরুত্বপূর্ণ তা হল খুঁটিনাটি তদন্তপ্রক্রিয়া,ফরেন্সিক ডিটেইলস,পোস্টমর্টেম প্রক্রিয়া ইত্যাদি।গল্পে বেশ সুন্দরভাবে পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে। জাভেদ,ফিরোজ এবং সাদিয়ার ক্রাইম সিন পর্যবেক্ষণ,সূত্র খোঁজা,ফরেনসিক স্পেশালিষ্ট দের তৎপরতা,পোস্টমর্টেমের নিখুঁত বর্ণনা,পিস্তলের বর্ণনা,ব্যালিস্টিক রিপোর্ট, ডিএনএ ম্যাচিং,মোবাইল ট্রেসিং,সিসিটিভি ফুটেজের বিশ্লেষণ এই তথ্যগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গল্পে বর্ণনা করা হয়েছে।একটা পারফেক্ট পুলিশ প্রসিডিওরাল থ্রিলার এ যেসব উপাদান দরকার ঠিক ততটুকুই সূক্ষভাবে লেখক গল্পে তুলে ধরেছেন। ২.বেশি ভাল লেগেছে যেটা সেটা হল তদন্তের জন্য ব্যবহৃত কিছু টার্ম ব্যবহারের সাথে পাশে ছোট করে জিনিসটার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।যেমন এক জায়গায় লিখা ছিল "এনটিডি" যা পরের লাইনে সুন্দর করে ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যা বই পড়ার সময় জানতে পারবেন।এছাড়া ফিংগার প্রিন্ট তথ্যের জন্য ন্যাশানাল ডাটা বেজ চেক করা,কোল্ড কেস কি জিনিস তার ব্যাখ্যা যা এই জনরার পাঠকদের গল্প বুঝার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ৩.নোংরা রাজনীতি, ক্ষমতার প্রতি লোভ,রাজনৈতিক কূটচাল,আমজনতা থেকে শুরু করে পুলিশ ফোর্সের অসহায়ত্ব,বিশ্বাসঘাতকতা সব কিছুর সংমিশ্রণে দেশীয় প্রেক্ষাপটে এক দুর্দান্ত মৌলিক থ্রিলার।সবকিছু এক মলাটে এখন পর্যন্ত পশ্চিমা বিশ্বের বিদেশী থ্রিলার গুলোতেই এর স্বাদ অনুধাবন করতে পেরেছি।মৌলিক গল্পে এরকম স্বাদ দেওয়ার জন্য লেখক কে একটা ধন্যবাদ। ৪.গল্পটির মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের ক্যারেক্টর আমার হচ্ছে হায়দার আলী।হালকা একটা কোর্ট রুম ড্রামা আছে বইটিতে যেটা হচ্ছে আমার এই বইয়ের সবচেয়ে পছন্দের পার্ট।যেভাবে পুলিশ এবং প্রসিকিউটরকে ঘোল খাইয়ে আসামী কে সাজা ভোগ করার থেকে বের করে এনেছেন সেটা পড়েই আমার মাইকেল কনেলির এক বিখ্যাত চরিত্র 'মিকি হলার "এর কথা মনে পড়ে গেছে। ৫.আরেকটা পছন্দের বিষয় হচ্ছে গল্পটি তে আমার সবচেয়ে প্রিয় এক গোয়েন্দা চরিত্র এরকুল পোয়ারোর একটি বিখ্যাত লাইন "লিটল গ্রে সেল" অর্থ্যাৎ "মগজের ধূসর কোষ" ব্যবহার করতে হবে বাক্যটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।এই রেফারেন্স টা দেখে সত্যি দারুন লেগেছে জানি না লেখক ইচ্ছে করেই দিয়েছে নাকি গল্প বলার ছলে এসে পড়েছে। যা ভাল লাগে নি : ১.এন্ডিং এ বেশ তাড়াহুড়ো করেই যেন খুনীকে ধরে ফেলা হল যেন খুনী বসেই ছিল ধরা খাওয়ার জন্য।এই জায়গায় খুনী কে ধরার আগে আরেকটু ফিল্ড ওয়ার্ক করে,ধরার মুহুর্তটা আরো বিস্তারিতভাবে জিনিসটা উপস্থাপন করলে দারুন হত। ২.লেখকের গল্প বলার ভংগি ছিল দারুণ। তবে বাক্য গঠনে কোন কোন জায়গায় দূর্বলতা দেখা গেছে স্পষ্টভাবে।আশা করি সামনে বাক্য গঠনে আরো পারদর্শিতা দেখা যাবে। ৩.হায়দার আলী চরিত্র টা কে আরো বিল্ড আপ করানো উচিত ছিল।খুব তাড়াতাড়ি ই যেন মেরে ফেলা হয়েছে যদিও আমার চরিত্রটা পার্সোনালি ভাল লেগেছে দেখে আমার মতামত ব্যক্ত করলাম। কেন পড়বেন বইটি : উপন্যাসটিতে মাথা ঘোরানো টুইস্ট টার্ন নেই যদিও শেষ দিকে একটা টুইস্ট আছে তবে অনেকেই ধারনা করে ফেলতে পারেন আগেই।এটি স্লো বার্ন থ্রিলার।নিখুঁত তদন্তপ্রক্রিয়া,প্রতিটি তদন্ত প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ,ফরেনসিক ডিটেইলস,পোস্টমর্টেম এসব পুলিশি কায়দায় ইনভেস্টিগেশন পড়ার প্রতি যাদের তীব্র ঝোঁক তাদের নিঃসন্দেহে দেশীয় প্রেক্ষাপটে এই মৌলিক থ্রিলার টি পড়া উচিত। প্রচ্ছদ,বাইন্ডিং ও অন্যান্য : ১.প্রচ্ছদ টা অনেক পছন্দ হয়েছে ।হলুদের মধ্যে লাল,কালোর সংমিশ্রণে দারুন লেগেছে।দূর থেকে এক দেখাতেই দারুণ লেগেছে এবং হাতে নিয়েও একটা ফিল পেয়েছি।প্রচ্ছদ শিল্পী কে অশেষ ধন্যবাদ সুন্দর একটা প্রচ্ছদের জন্য। ২.বাইন্ডিং টা স্মুথ ছিল,টাইট বাইন্ডিং দেওয়া হয় নি। টেবিলে রেখে দুই দিকে খুলেই পড়া যায় তেমন সমস্যা হয় নি কোন। ৩.একটা ফিতা বুকমার্ক এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।থাকলে ভাল হত। ৪.বানান ভুল ছিল প্রচুর।অনেক জায়গায় "গতিবিধি" এর জায়গায় "গতবিধি" লেখা ছিল, " নিয়ে যাবে" এর জায়গায় "লিয়ে যাবে"। এছাড়া" ধরনের" বদলে "র" উঠে গিয়ে "ধনের" হয়ে গেছে প্রায় সবখানেই। এই ভুলগুলো বেশ দৃষ্টিকটু লেগেছে। লেখক প্রথম মৌলিক থ্রিলার হিসেবে বেশ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।আশা করি সামনে আরো দারুণ দারুণ এই টাইপের জনরার বই আমাদের উপহার দিবেন।শুভকামনা আগামীর জন্য। রেটিং : ৪/৫























