

Buy মেহের Online in Bangladesh
লেখক: মোর্শেদা হোসেন রুবী
- Author: মোর্শেদা হোসেন রুবী
- Publisher: চলন্তিকা
- Isbn: 9789849757757
- Number Of Pages: 352
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
আকাশে আজ রোদ নেই। বাতাসে ভেজা গন্ধ। যেন কাছাকাছি কোথাও বৃষ্টি হয়েছে। একটা ঠান্ডা আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে সকাল থেকেই। অবশ্য কদিন ধরেই রোদ আর মেঘ লুকোচুরি খেলছিল। একজন এলে অপরজন লুকিয়ে যায়। শীত এখনও নামেনি কিন্তু চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে আগেভাগেই। প্রকৃতিতে এখনই শীতের আমেজ টের পাওয়া যায়। শীতের শুরু আর শেষটা মেহেরের ভীষণ পছন্দের। শীত পড়ার আগের শীতেল আমেজ আর চলে যাবার বেলায় বাসন্তী আমেজ দুটোই চমৎকার লাগে। আজ সকালেও আম গাছের মাথার ওপর দিয়ে সূর্যটাকে একটু একটু করে দেখা যাচ্ছিল। কী অদ্ভুত সুন্দর সোনালী একটা কুসুম। যাকে কেবল দেখতেই ইচ্ছে করে, ভেঙে মুখে পুরতে ইচ্ছে করেনা। দুপুর নাগাদ কুসুমটা আরো গাঢ় আর স্থির হয়েছিল। কাজ করতে করতে যতবারই মুখ তুলেছে ততবারই কুসুমটাকে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছে। ভেবেছিল বিকেলে সব কাজ সেরে আয়েশ করে কুসুমটাকে দেখবে আর তার ছবি মনের মধ্যে পুষে রাখবে। ইচ্ছেটা বাস্তবায়ন করা যায় নি। তার আগেই কুসুমটা ভেঙে একাকার হয়ে গেছে। একখন্ড ছাইরঙা মেঘ এসে ঢেকে ফেলেছিল ওটাকে। তখনই বুঝেছে আজ আর রোদ চড়বে না।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
নব্বই দশকের গ্রামীন ও শহুরের সামাজিক পরিবেশটা লেখিকা সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন এই উপন্যাসে। "মেহের" চরিত্রটি এতোটাই স্বতন্ত্র যে আলাদা করে সে মনে স্থান করে নেয়, এককথায় বলতে হয় না পড়লে মিস করবেন!

বইটা অনেক জটিল তবুও ভালো লেগেছে।

- এইযে আমি এখানে । মেহেরনিগার 💜🌸
#রিভিউ ⚫ বইয়ের ফ্ল্যাপ - মেহের যেদিন প্রথম ঢাকায় পা রাখল সেদিন তার চোখে বড় হবার স্বপ্ন। মফস্বল থেকে আসা এই তরুনীর সামনে তখন নতুন পরিবেশ, নানা সমস্যা। ধীরে ধীরে সে পরিচিত হতে লাগল সহপাঠীদের সাথে। বিশেষ সখ্যতা জন্মালো দুজন বান্ধবীর সাথে। মুনিয়া আর নেহা। যাদের মননে চিন্তনে বিরাট বৈপরীত্য থাকার পরেও তারা পরস্পরের পরম শুভাকাঙ্খী। মেহের নিজেও জানলো না কখন সে আর পাঁচজন মেয়ের মত সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। ভয়ংকর ভাবে জড়িয়ে গেল বান্ধবীদ্বয়ের জীবনের জটিলতার সাথে। খুব অল্পদিনেই বদলে গেল গোটা জীবনের ছক। ঘটনাচক্রে মেহেরের পরিচয় হলো মুনিয়ার বাল্যসখা ওমর হায়দারের সাথে। রাগী, গোঁয়ার দাম্ভিক এক যুবক। মুনিয়ার ভাষায় রক্ষণশীল শাসক। যে একা সবকিছু নিজের করে রাখতে চায়। তার প্রচন্ড তাচ্ছিল্য আর অহমিকায় আহত মেহের যখন সন্তর্পণে সরে আসতে চাইলো তখনই ঝড়ের বেগে জীবনে এলো প্রেম। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই তচনচ করে রেখে গেল দুজনকে। নব্বই দশকের শেষের দিকে প্রায় রক্ষণশীল সমাজ যখন উদারতার দিকে যাত্রা শুরু করেছে তখনকারই কিছু পড়ুয়াদের উড়ুক্কু জীবনের খন্ডচিত্র সম্বলিত উপন্যাস মেহের। বন্ধুবাৎসল মেহের সেই মেয়ে যে নিজেকে পুড়িয়ে হলেও চারপাশ আলোকিত করতে চায়। ⚫ ব্যক্তিগত পাঠপ্রতিক্রিয়া - বই পড়ি আমি শান্তির জন্য, তৃপ্তির জন্য। নতুন করে কোনোকিছু শেখার জন্য, বোঝার জন্য, অজানাকে জানার জন্য। যেকোনো বই শুরু করে শেষ না হওয়া পর্যন্ত বইয়ের সাথে লেগে থাকার ব্যাপারটা দারুণ লাগে আমার কাছে। পাশাপাশি চরিত্রদের আপন ভেবে তাদের নিয়ে কল্পনার আলাদা জগৎ সাজানোর অনুভূতিটাও অন্যরকম সুন্দর। সাবলীল ও ঝরঝরে লেখা যদি হয়, তাহলে তো কথাই নেই। একটা বই পাঠককে কখনও হাসায়, কখনও কাঁদায়, কখনওবা চমৎকার সব উপলব্ধির সামনে এনে দাঁড় করায়। লেখক 'মোর্শেদা হোসেন রুবি' এই 'মেহের' উপন্যাসের মাধ্যমে নব্বই দশকের দৃশ্য তুলে ধরতে গিয়ে পাঠকদের একটা স্মরণীয় জার্নির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রের নিখুঁত বর্ণনা, উপস্থাপন সবকিছু ছিল পারফেক্ট। একবারের জন্যেও মনে হয়নি, এই চরিত্রটা না হলেই ভালো হতো। উল্টে একেকটা চরিত্রকে ঘিরে তৈরী হওয়া গল্প ভীষণরকম উপভোগ্য ছিল। পড়তে গিয়ে কোনোপ্রকার বিরক্তবোধ হয়নি, বরং প্রতি পৃষ্ঠায় কী হবে কী হবে তা জানার জন্য একটা তীব্র আকর্ষণবোধ করছিলাম। এই বিশাল সাইজের বই একবসাতে শেষ করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছি। ⚫ বইয়ের ভালো দিক - 'মেহের' নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমতী, সৎ ও সাহসী একটা মেয়ে। প্রচণ্ড আত্মসম্মানবোধের অধিকারিণী হওয়ায় তাকে একটু বেশি-ই পছন্দ হয়েছে। লেখক এই উপন্যাসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন, পরিবার, সমাজ, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার এক চমৎকার কাহিনী। বিচিত্র এই জীবনে অনেক কঠিন মুহূর্ত আসে, আসবে, সেইসব কঠিন মুহূর্তগুলোকে সঙ্গী করেও কীভাবে জীবনটাকে উপভোগ করা যায়, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতে গিয়ে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ঢেলে দিতে হয়, কীভাবে একজন ভালো মেয়ে, ভালো সন্তান হয়ে বাঁচতে হয়, এসব ছাড়াও আবেগকে দমিয়ে রেখে জীবনে সৎ হয়ে বাঁচতে হবে, এরকম আরও নানান সব উপলব্ধির জন্ম দিয়েছেন। সম্পর্ক নিয়ে মেহেরের চিন্তাভাবনা, লেখকের প্রকাশভঙ্গি ও প্রতিটি চরিত্রের প্রাণবন্ত বিশ্লেষণ বইটাকে আরও চমৎকার করে দিয়েছে। নির্দিষ্ট একটা অংশকে শুধু ভালো বললে ভুল হবে, এই গোটা বইটাই ভালো। ⚫ বইয়ের মন্দ দিক - মোটা সাইজের এই বইয়ের মন্দ দিক কিছুই নেই। তবে একটা জায়গায় লেখক মিতুর জায়গায় রিতু লিখেছেন, যেটা চোখে পড়ার পর মনে হলো, এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল অথবা বেখেয়ালিতে হয়ে গেছে। পরবর্তী মুদ্রণে এই ভুলটা শোধরে নিতে লেখকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ⚫ আপনি কেন বইটি পড়বেন - স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচা দোষের কিছু না। কিন্তু স্বাধীন জীবনযাপন করতে গিয়ে নিজেকে উচ্ছৃঙ্খল জীবনের দিকে ঠেলে দেয়ার নাম স্বাধীনতা হওয়া উচিত নয় বোধহয়। একটা মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাববে, নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিবে, কীভাবে সামনের পথ এগোবে, জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী বাছাই করবে, এতটুকু অবশ্যই তার নিজের সিদ্ধান্তে হওয়া উচিত। কিন্তু এই সিদ্ধান্তগুলো নিতে গিয়ে কেউ কেউ যখন জেনে-বুঝে নিজেকে চরম ধ্বংসের একটা জীবনের দিকে নিয়ে যায়, বোধবুদ্ধি থাকার পরও ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারে না অথবা বুঝতে চায় না, কেবলই স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার নামে ভুলের দিকে পা বাড়ায়, এতে তো বোধকরি সেই মানুষ নিজেই নিজেকে ঠকায়। অন্যায় বা ভুল পথ কখনও কল্যাণকর হয় না, জীবন শেষ পর্যন্ত ভুলেগড়াই থেকে যায়। এই বইটা শুধু একটা বই-ই নয়, সর্বোপরি সববয়সী পাঠকের জন্য চমৎকার উপলব্ধি। একজন 'মেহের' ও তাকে ঘিরে থাকা অসংখ্য চরিত্রদের জানতে এবং তাদের পরিণতি জানতে আজই পড়ুন মোর্শেদা আপুর অনবদ্য সৃষ্টি 'মেহের'। ⚫ পছন্দের উক্তি - “চুরি তো সর্বাবস্থায় চুরিই। হোক তা হৃদয় বা অন্যকিছু। জয় করার সাথে চুরি করাকে কোনোভাবেই মেলানো যায় না। একটা সম্মানের অন্যটা অপমানের। আমি এতদিন ধরে অপমান বয়ে চলেছি। ভাগ্যে থাকলে জয়ী হব একদিন।” ⚫ বই সম্পর্কে অন্যান্য সব তথ্য - বই - মেহের লেখক - মোর্শেদা হোসেন রুবি জনরা - সমকালীন উপন্যাস প্রকাশনী - চলন্তিকা প্রচ্ছদ - ফাইজা ইসলাম মুদ্রিত মূল্য - ৯০০/- প্রকাশকাল - ২০২৪ ***
#চলন্তিকা_বুকরিভিউ_প্রতিযোগিতা_২০২৪ #রিভিউ_নং_১ "আমি নিজেকে কখনও ছেলেদের সাথে মেলাতে পছন্দ করিনা। যুক্তি খুঁজে পাইনা। একটা ছেলের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্যতম নারীসূলভ আচরণ বেশি দেখা গেলেই লোকে তাকে মেয়েলি পুরুষ বলে। আবার মেয়েদের ক্ষেত্রেও তাই। অথচ দিনরাত ঐ একই স্লোগান। নারীপুরুষ একই রকম। দুজনেই মানুষ। যারা সব জেনেশুনেও নারী পুরুষের সমতার বাজে তর্ক এনে নারীকে ঠেলেঠুলে পুরুষের কাতারে ফেলতে চায় আমি তাদের মতো জেগে জেগে ঘুমাই না। (মেহের) বই: মেহের লেখক: মোর্শেদা হোসেন রুবি প্রকাশনী: চলন্তিকা প্রচ্ছদ: ফাইজা ইসলাম মুদ্রিত মূল্য: ৯০০৳ পৃষ্টা সংখ্যা: ৩৫২ নামকরণ ও প্রচ্ছদ কথনঃ বইয়ের প্রচ্ছদের রঙটা আমার অনেক প্রিয়। নজরকাড়া প্রচ্ছদ একদম। বইয়ের কাহিনীর সাথে মিল রেখে প্রচ্ছদ করানো হয়েছে। একটা বারান্দা তার সাথে বারান্দা জুড়ে বেগুনী ফুলের রাজ্য। বইয়ের প্রধান মেয়ে চরিত্রকে নিয়ে নামকরণ করা হয়েছে। খুব ভালো হয়েছে প্রচ্ছদটা। পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ বইটা আমি খুব করে উপভোগ করেছি। রুবি আপুর লেখা আমার অনেক পছন্দ তাই তার সব বই পড়া হয়েছে। মেহের বইতে সবকিছু লেখক দারুণ লিখেছেন। আমাদের দেশের বেশিভাগ মেয়েরা বাড়ি ছেড়ে ভালো ভার্সিটিতে পড়ার জন্য হোস্টেল জীবন বেচে নেয়। সেই হোস্টেল জীবন কিন্তু কখনো সহজ হয় না। নব্বই দশকের জীবন-যাপন, চিঠি আদান-প্রধান সব জানা যাবে বইটি পড়ে। এক মেয়ের জীবনের সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গল্প জানতে হলে পড়তে হবে বইটি। চরিত্র কথনঃ মেহের বইতে অনেক অনেক চরিত্র আছে। সব চরিত্রগুলা লেখক তার লেখনশৈলীর মাধ্যমে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ★মেহের - উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে মেহের, যার নামে বইয়ের নামলিপি করা হয়েছে। মেহেরের যে গুণটা আমার বেশি ভালো লেগেছে তা হলে মেহের দারুণ বুদ্ধিমতী মেয়ে। যে কোন পরিস্থিতি সে তার বুদ্ধি দিয়ে মোকাবেলা করে। কিভাবে পরিবারের সকলকে নিয়ে সবার মন জুগিয়ে চলতে হয় তা জানতে হলে অবশ্যই মেহের সম্পর্কে পড়তে হবে। ★উমর - উমর সম্পর্কে সবার ধারণা সে খুব রাগী, বদমেজাজি কিন্তু তার মনটা অনেক ভালো। যে কোন মানুষের বিপদে সে এগিয়ে যাবে এতো করে তার বিপদ হলেও সে চুপ করে থাকতে পারে না। মানুষের উপকার কারার গুণটা আমার অনেক ভালো লেগেছে। আরো জানতে হলে বইটি পড়বেন অবশ্যই। ★মুনিয়া - মুনিয়া অনেক ভালো একটা মেয়ে খুব সহজে সবার সাথে মিশে যায়। ছেলে হোক বা মেয়ে কারো সাথে মিশতে সে জড়তা অনুভব করে না। তবে তার একটা অভ্যাস হলো সে নিজের মনের কথাই ঠিক মতো বুঝে না খুব স্বাধীনচেতা। ★নেহা - নেহাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। এই চরিত্রটার জন্য মনে একটা দাগ কেটে রয়েছে। তাকে সবাই খারাপ মেয়ে হিসেবে জানলেও সে যে প্রতারিত হয়েছে তা তো কেউ খবর রাখেনা। মেহেরের প্রতি বড় বোনের মতো আগলে রাখার গুণটা ভালো লেগেছে। মুকুল,শান্তা, মেহেরের বাবা- মা এমন আরো অসংখ্য চরিত্র নিয়ে বইটি রচিত হয়েছে। যে যার স্থান থেকে সঠিক। (বিঃদ্রঃ) বইতে তেমন কোন বানান ভুল চোখে পড়েনি তবে একদম লাস্টে একটা শব্দ হবে মিতু সেখানে রিতু লেখা এছাড়া বাকিসব খুব ভালো হয়েছে।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
! কবে পাওয়া যাবে বইটি৷
প্রিয় গ্রাহক, দুঃখিত, বইটি পাওয়া যাবে না। ধন্যবাদ।
বইটি কত পৃস্ঠার?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৫২। ধন্যবাদ।
! কবে পাওয়া যাবে বইটি৷
প্রিয় গ্রাহক, দুঃখিত, বইটি পাওয়া যাবে না। ধন্যবাদ।
বইটি কত পৃস্ঠার?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৫২। ধন্যবাদ।






















