

Buy লীলাবতীর মৃত্যু Online in Bangladesh
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
- Author: হুমায়ূন আহমেদ
- Publisher: অন্যপ্রকাশ
- Isbn: 9789845021845
- Number Of Pages: 95
- Language: বাংলা
- Edition: 3th Printed, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘লীলাবতীর মৃত্যু’ বইয়ের ফ্ল্যাপের কথাঃ সপ্তম শতকের বিখ্যাত ভারতীয় গণিতজ্ঞ। শংকরাচার্যের একমাত্র কন্যার নাম লীলাবতী। মেয়েটির কপালে বৈধব্যযোগ আছে, এই অজুহাতে কন্যা-সম্প্রদানের আগে আগে বরপক্ষ মেয়েটির বিয়ে ভেঙে দেয়। লীলাবতী যখন গভীর দুঃখে কাঁদছিল তখন শংকরাচার্য বললেন, “মাগো, তোমার জন্যে কিছু করার সামর্থ্য আমার নেই, তবে পৃথিবীর মানুষ যেন বহু যুগ। তোমাকে মনে রাখে আমি সেই ব্যবস্থা করে যাব।' তিনি গণিতের একটা বই লেখেন। বইটির নাম দেন কন্যার নামে-লীলাবতী'।গল্পটি আমাকে এতই অভিভূত করে যে, 'একরাতে লীলাবতীকে আমি স্বপ্নেও দেখি।। গোলগাল মুখ। দীর্ঘ পল্লবের বড় বড় চোখ।। দৃষ্টিতে অভিমান। মাথাভর্তি লম্বা কোঁকড়ানো চুল। গায়ের বর্ণ শঙ্খের মতো সাদা।-হুমায়ূন আহমেদসূচী* নবিজী-৯* লীলাবতীর মৃত্যু-১৬* অমরত্ব-২৪* প্রসঙ্গ : আত্মা-২৮* মহেশের মহাযাত্রা-৩১* হাসপাতাল-৩৪* চ্যালেঞ্জার-৪১* মানব এবং দানব-৪৬* উন্মাদ-কথা-৪৮* অসুখ-৫২* সে-৫৫* নারিকেল-মামা-৬১* আমার বন্ধু সফিক-৬৫* শিকড়-৭১* তিনি-৭৪* একদিন চলিয়া যাব-৭৮* মৃত্যু-৮১* আমার বাবার জুতা-৮৬* হোটেল আহমেদিয়া-৯০
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ বইয়ের নাম: লীলাবতীর মৃত্যু লেখক: হুমায়ূন আহমেদ প্রকাশনী: অন্যপ্রকাশ জন্ম, মৃত্যু, আত্মা, ঈশ্বর, রোগ, চিকিৎসা এমন কিছু বিষয় নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের অনেকটা আত্মজীবনী ধরণের ছোট কিছু গল্পের সংকলন লীলাবতীর মৃত্যু। এই বইয়ের সব গল্পই উনার আত্মজৈবনিক রচনাসমগ্রতে থাকলেও স্রেফ অসমাপ্ত "নবিজী" লেখাটির জন্যই আমি বইটা আলাদা করে কিনেছি। মাত্র ৭ পৃষ্ঠার এতোটুকু লেখাই প্রমাণ করে কিনে ভুল করিনি। বইয়ের শুরুটাই নবিজী (সা:) কি নিয়ে উনার অসমাপ্ত লেখাটা দিয়ে। আমি এর আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর রেইনড্রপসের সীরাহটা পড়েছিলাম। সেখানে নবিজী (সা:) এর সম্পর্কে অনেক অনেক কিছু জানতে পারলেও সেই সময়ের আরবের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব একটা অনুধাবন করতে পারিনি। এখানে হুমায়ূন আহমেদ লেখা শুরুই করেছেন আরবের এক গোত্রের এক অসহায় পিতার নিজের কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেয়ার গল্প নিয়ে। কি যে ভয়াবহ আর হৃদয়বিদারক ভাবে সেই গল্প লিখেছেন পড়লেই বুক ভেঙ্গে আসে। এরপরই নবিজী (সা:) এর প্রসঙ্গ আনেন। উনার জন্মের সময়কাল নিয়ে ঐতিহাসিক যে বিতর্ক সেটাকে নিয়ে লিখেছেন, বিতর্ক বিতর্কের মতো থাকুক। একজন মহাপুরুষ জন্মেছেন, যাঁর পেছনে একদিন পৃথিবীর বিরাট এক জনগোষ্ঠী দাঁড়াবে -- এটাই মূল কথা। কি সুন্দরভাবেই না বিতর্ককে উড়িয়ে দিলেন তিনি। এরপর আর বেশীদূর লিখা হয়নি। তবে অতোটুকু লেখাই বিশাল আফসোসের জন্ম দিয়েছে আমার মনে। একজন পাঠক এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসাবে হুমায়ূন আহমেদ স্যারের জাদুকরি লিখনীর মধ্য দিয়ে নবিজী (সা:) এর জীবনী পড়তে পারলাম না এই আফসোস আমার আজীবন থাকবে। অনেক অনেক ভালো ভালো লেখা না পড়েই হয়তো আমি এই পৃথিবী থেকে চলে যাবো। তবে মৃত্যুর ওপারের দুনিয়াতে যদি আমাকে সুযোগ দেয়া হয় অন্তুত একটা কিছু পড়ার, তাহলে আমি এটাই পড়তে চাইবো করুনাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে। পরের লেখাটি লীলাবতীর মৃত্যু। লেখকের ভয়াবহ এক দুঃসময়ের একান্ত ব্যক্তিগত দুঃখগাঁথা। তবে সেটা উনার ব্যক্তিগত থাকেনি। কেনো না লেখাটা পড়ার সময়ে আমার চোখেও জল চলে এসেছিলো। এতো এতো বছর পর যেখানে লেখক নিজেই নেই, সেখানে তার কষ্টের কথা ভেবে, শাওনের কষ্টের কথা ভেবে আমার চোখে পানি চলে আসাটা বোধহয় একটু বাড়াবাড়িই। কি করবো! উনি লিখেছেনই এমনভাবে। লীলাবতীর কবর হবে আজিমপুরে গোরস্থানে। সেখানে তার বড় ভাই আছে। বোন খেলবে ভাইয়ের হাত ধরে। পিতৃ-মাতৃস্নেহ বঞ্চিত এই দেবশিশু আর নিঃসঙ্গ বোধ করবে না। এই ধরণের লেখা পড়ে কিভাবে ঠিক থাকা যায়!! অমরত্ব নিয়ে লেখাটায় আমরা খুঁজে পাই কিভাবে যুগে যুগে বড় বড় রথি মহারথী হতে আধুনিক বিজ্ঞানীরাও অমরত্বের সন্ধান করে যাচ্ছেন সেই গল্প। পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে। শ্রাবণ মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে। সেই অপূর্ব অলৌকিক সংগীত শোনার জন্য আমি থাকবো না। কোনো মানে হয়! বিভিন্ন সময়ে আত্মার অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের করা বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার কথা লেখা প্রসঙ্গ:আত্মা লেখাটি। লেখকের আস্তিকতার অসংখ্য উদাহরণের একটা হয়ে থাকবে এই লেখাটা। মহেশের মহাযাত্রাটাও উপরের দুইটা লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে। এবং যথারীতি লেখকের নান্দনিক লিখনশৈলীর ছোঁয়া রয়েছে এখানেও। হাসপাতাল লেখাটা বইয়ের অন্যতম প্রিয় লেখাগুলোর একটি। এই লেখাটিতে লেখক তিনটি গল্প এবং দুইটি পাদটীকা দিয়েছেন। প্রতিটা লেখা অত্যন্ত মুগ্ধতা নিয়ে পড়েছি। পাদটীকা গুলোতে তসলিমা নাসরিনের মায়ের চিকিৎসা বিষয়ক গল্প পড়ে হতবাক হয়েছি। এবং তসলিমা নাসরিনের প্রতি লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি পড়ে উনার প্রতি শ্রদ্ধাও জেগেছে। পরের লেখাটি শক্তিমান অভিনেতা চ্যালেঞ্জারকে নিয়ে। চ্যালেঞ্জারের তরুণ বয়সের গল্প পড়ে লোকটার প্রতি প্রবল শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া অন্যতম জঘন্য এক ঘটনার সময়ে লেখকের অনুভূতিগুলো ফুটে উঠেছে এরপরের মানব ও দানব লেখাটিতে। ছোট ভাই আহসান হাবীবকে নিয়ে লেখা উন্মাদ-কথা পড়তে গেলে লেখক এক সময় কিভাবে নিদারুণ কষ্টের মাঝে দিয়ে বিরাট এক সংসার টেনেছেন তার একটু ধারণা পাওয়া যায়। এই লেখাটিতে অবাক হয়েছি আহসান হাবীব সাহেবের শব্দের রঙ দেখতে পাওয়ার বিরল ক্ষমতার ব্যাপারে জানতে পেরে। সে লেখাটি শেষ করে মন খারাপ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের মতো দেখতে এক তরুণের স্বপ্ন পূরণ না হওয়াটা বেশ আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে মনে। আমার বন্ধু সফিক এই লেখাটি কি বাস্তব লেখা? এমন মানুষও আছে দুনিয়াতে যে নিজের সংসারের পিছনে একটা টাকাও খরচ না করে সেই টাকা খরচ করে পথশিশুদের চিকিৎসার পিছনে? নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়েছে এই লেখা পড়ে। জীবনে কি করতেছি আমরা!! মানুষ কোনো একটা জায়গায় দীর্ঘদিন বসবাস করলে সেখানেই তার মায়া জন্মে যায়। সেই মায়ার শেকড় ছাড়তে কি নিদারুণ কষ্ট হয় সেটাই উঠে এসেছে শিকড় লেখাটিতে। আমার মনে আছে আমাদের নিজেদের বাড়ি করার পর সেখানে সব নিয়ে আসার সময়েও, নিজেদের একটা বাড়ির আনন্দের চেয়ে পুরোনো ভাড়া বাসা ছেড়ে আসার দুঃখে বেশী ব্যথিত ছিলাম। পুরোনো স্মৃতিটাকেই জাগিয়ে তুলেছেন লেখক। মৃত্য লেখাটি বইয়ের আরেকটা গল্প যা মনে দাগ কেটে গিয়েছে। এই লেখার শেষ লাইনগুলো উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারলাম না। পবিত্র কোরআনে সূরা আল-ওয়াকিয়া, আয়াত ৮৪ ও ৮৫ তে বলা হয়েছে, একজন মানুষ যখন মারা যায়_ তোমরা তখন তাকে ঘিরে বসে থাকো। কিন্তু তোমরা জানো না, তোমরা ওই মৃত্যুপথযাত্রীর যতটা কাছে বসে থাকো আমি তারচেয়েও অনেক কাছে থাকি। ভদ্রলোক শান্তস্বরে বললেন, মৃত্যুর সময় পরম করুণাময় যদি আমার পাশে থাকেন, তাহলে আর ভয় কি? বিজয় দিবসের সময়ে নিজের বাবার স্মৃতিচারণ করে লেখা আমার বাবার জুতা৷ যুদ্ধে নিজের বাবার মৃত্যু নিয়ে খুব করুণ মন খারাপ করিয়ে দেয়ার মতো একটা লেখা। মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা চেতনাকে বর্তমানে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে এখনকার জেনারেশন আর এই বিষয়গুলোকে আগের মতো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে না। হোটেল আহমেদিয়া লেখাটি পড়লে সেই সময়ের ভয়াবহতার সামান্যতম আঁচ হলেও করতে পারবে পাঠক। এছাড়া অসুখ, নারিকেল মামা, তিনি, একদিন চলিয়া যাবো এই লেখাগুলো পড়তে ভালোই লেগেছে। জাদুকরের লেখনীতে সবই পড়া যায় মুগ্ধতা নিয়ে। যদিও বেশীরভাগ লেখা আমার অনেক অনেক আগেই পড়া ছিলো, তবুও নতুনভাবেই উপভোগ করেছি। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ০৮/১০ (উনার বইয়ের রেটিং কিভাবে দেয়া যায় সে ব্যাপারে এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। আমার তো উনার সবই ভালো লাগে। তাই স্বাভাবিকভাবেই রেটিং থাকবে বেশী) 🔮 প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ 🔮 পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬ 🔮 বর্তমান মূদ্রিত মূল্য: ৩০০ টাকা
অসাধারণ একটি বই
🖤

প্রিয় লেখকের জীবনের অনেক অজানা অধ্যায় এই বইয়ে আপনারা খুঁজে পাবেন সাথে অবাকও হবেন।
দারুণ বই।






















