

Buy কলিজার আধখান Online in Bangladesh
লেখক: মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
- Author: মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
- Publisher: বইমই প্রকাশনী
- Number Of Pages: 96
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
মানব জীবন নানা শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত। বেলা শেষে মানুষ হাসে তাদের প্রিয় জনদের হাসিতে। মানুষ একটু মায়ার জন্য বাঁচে। শুদ্ধতম ভালোবাসার মধ্যেই জীবনের অন্যতম সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। “কলিজার আধখান ” কাল্পনিক কোন চরিত্র দিয়ে আঁকা নয়। বরং আমাদের সমাজ থেকে নেওয়া বাস্তব এক চিত্রকে রূপ দেওয়া হয়েছে এ গ্রন্থে। প্রতিটা সন্তানের জন্য পিতা-মাতার ছায়া আবশ্যক। সময়ের কোণঠাসায় পড়ে যদি কোনো অবুঝ শিশু পিতা-মাতা নামক ছায়া হারিয়ে ফেলে তখন সেই জানে জীবন নামক গল্পটা কতটা ভয়ংকর। তার বেড়ে উঠা অতটা সহজ নয় অন্য দশটা ছেলে মেয়ের মতো। আবার সন্তানহীন দম্পতি জানে; একটা পরিবার গঠনে সন্তানের ভূমিকা, প্রয়োজনীয়তা— ঠিক কতটুকু। জীবনের বাঁকে বাঁকে চেনা যায় মুখোশের আড়ালে থাকা বহু গুণের অধিকারী মানুষদের। যারা শুধু সু-সময়ে সঙ্গী হয়। গল্পের মেইন চরিত্রে থাকা আব্দুল্লাহ- জোবাইদা এ দম্পতির বিবাহিত জীবন ভালোবাসায় ভরপুর। পরিবার গঠন হলো। তাদের (পালক) একমাত্র সন্তান আদিবা কে নিয়ে বেশ ভালোই কাটছে দিনকাল। দিব্যি চলছে সবকিছু। নেই কোনো প্রতিবন্ধকতা। এমন একটা পরিবার মাঝ পথে যদি হোঁচট খায় সর্বনাশা কোনো প্রকাণ্ড কিংবা দানবের সাথে। যদি উত্তাল ঢেউয়ে বিশাল জাহাজ হারিয়ে যাওয়ার মতো কেড়ে নেয়— সন্তান নামক সুখ টুকু! ওই কঠিন মুহূর্তের সম্মুখীন হওয়া প্রতিটা বাবা-মা জানে তাদের মতো তখন আর কোনো অসহায় মানুষ থাকে না। উড়ে যায় স্বপ্ন, থেকে যায় কিছু স্মৃতি। রেখে যায় মায়া। শুধু ব্যথা দেওয়ার তরে। তবুও মানুষ বেঁচে রয় শেষ পরিণতি দেখার জন্য হলেও। অপেক্ষা করে কলিজার আধখান সন্তান'কে ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায়। কলিজার আধখানে প্রাপ্তি অ-প্রাপ্তির একটা জীবনের গল্প সাজানো হয়েছে— অজস্র শব্দের সমাহার থেকে কিছু উপযুক্ত শব্দ দিয়ে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
"কলিজার আধখান" উপন্যাসটি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ভাইয়ের লিখা। মাশা আল্লাহ একটি বাস্তব ঘটনাকে তিনি খুব চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন। তার লেখনী এতটাই সুন্দর ও স্বচ্ছ তা বলার বাহিরে।প্রতিটি শব্দ এবং বাক্য এতোটাই সুন্দর করে লিখেছেন আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। গল্পটি আদিবা নামে একটি মেয়েকে নিয়ে ঘিরে আছে। আদিবার জন্মের পর মা মারা যাওয়া থেকে নিয়ে,বাবার ছেড়ে চলে যাওয়া এবং পরবর্তীতে পালক বাবা মা তাকে বড় করা নিয়ে। তার পালক বাবা মা আব্দুলাহ ও জোবায়দার ভূমিকা পুরো গল্প জুড়েই রয়েছে। আদিবার বেড়ে উঠা এবং হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া গল্পের নতুন মোড় নিয়ে আসে। যারা একেবারেই কখনো বই পড়েনি তারা এই কলিজার আধখান বইটি পড়তে পারে। তাদের অবশ্যই এই পড়ে মনে হবে বই পড়া আসলেই খুব প্রয়োজন। একবার হলেও এই বই পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি সবাইকে, ইনশা'আল্লাহ






বইঃকলিজার আধখান গল্পটা শুরু হয় এক মা–মরা ছোট্ট মেয়েকে দিয়ে।জন্ম দিতে গিয়েই তার মা মারা যায়, আর মেয়ে হওয়ায় বাবা মুখ ফিরিয়ে নেয়।নাম রাখা হয় আদিবা, দাদির ছায়াতলে রাখা হয়, দাদির ককিজার আদখান আদিবা। কিন্তু দাদির নিজের শরীরও ভালো না। তিনি চান আদিবাকে আরেক ছেলের বউয়ের কাছে দিতে— কিন্তু ছেলের বউ তাকে রাখতে রাজি নয়।এরই মাঝে দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঠিক তখনই আসে গল্পের মোড়— জুবাইদা আর আব্দুল্লাহ নামে এক দম্পতির বহুদিন ধরে কোনো সন্তান ছিল না। এক সহকর্মীর মাধ্যমে তারা জানতে পারে এই ছোট্ট আদিবার কথা।তারা আদিবাকে নিজের ঘরে নিয়ে আসে।আদিবার দাদির কথা অনুযায়ী, সুন্নাহ, ইসলামিক আদর্শ, দোয়া আর ভালোবাসার মাঝে আদিবা বড় হতে থাকে। এরপর তাদের ঘরেও আসে একটি ছেলে সন্তান—আরও একটি নেয়ামত। সমস্যা শুরু হয় যখন আদিবা বড় হয়।তার ওপর ভর করে বদজ্বীন। ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। কখনো কয়েকদিন, কখনো কয়েক সপ্তাহ—এভাবে বারবার হারিয়ে যেত সে।তারপর আসে সবচেয়ে ভয়ংকর সময়— পুরো নয় মাস ধরে আদিবার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নয় মাস পর তাকে পাওয়া গেল। আর তখন জানা গেল সে গর্ভবতী। আদিবার জীবনে অন্ধকার আরও ঘনীভূত হয়।ছোট্ট আলিফ জন্মায়। আর তার জন্য লড়াই করতে থাকে আদিবা কিন্তু শান্তি যেন তার কপালে ছিল না। সে আবার হারিয়ে যায়।ফিরে আসে।আবার হারায়।শেষবার আর ফিরে আসেনি— শুধু রেখে গেছে তার ছোট্ট ছেলে আলিফকে।শেষ পাতায় এসে বুকটা ভার হয়ে যায়। আদিবার জীবনে কোনো শান্তির ইতি নেই— তার কষ্ট যেন পুরো গল্পজুড়ে ছায়ার মতো লেগে থাকে। “কলিজার আধাখান” কেবল একটি গল্প নয়— এটা হলো সমাজের বাস্তবতা, ইসলাম, কুসংস্কার আর অদেখা জগতের সত্যকে সামনে আনার চেষ্টা।সাথে আছে কিছু সুন্দর সুন্নাহ, আর জীবন বদলে দেওয়া শিক্ষা।সব মিলিয়ে—এই বইটা মনকে কাঁদায়, শেখায়, ভাবায়… আর শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাঠকের মনকে ধরে রাখে। “কলিজার আধাখান” নামটা গল্পটার সাথে ভয়ংকরভাবে মানিয়ে যায়। আদিবার হারিয়ে যাওয়া, ফিরে আসা আর শেষ পর্যন্ত না–ফেরা—সব মিলিয়ে মনে হয় কারও বুকের ভেতর থেকে সত্যিই কলিজার আধাখান ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে। নামটা পুরো বইয়ের যন্ত্রণা, মায়া আর শূন্যতাকে হুবহু প্রকাশ করে। রিভিউ :রাখি



বুকরিভিউ বই: কলিজার আধখান লেখক: MD Rasedul Islam ভাইয়া প্রকাশনা : বইমই প্রকাশনী পৃষ্ঠা: ৯৬ মুল্য: ২৭৫৳ জনরা:পারিবারিক ভৌতিক উপন্যাস পাঠপ্রতিক্রয়া: আমি কলিজার আধখানের শুরু থেকেই ছিলাম। প্রচার করার সৌভাগ্যও আমার হয়েছিল, তবে আমি জনরাটা ভুলে গেছিলাম বই হাতে পাওয়ার পরে ভাবলাম একবার জিজ্ঞাসা করে নিই। তবে তা আর করিনি, না করে ভালোই হয়ছিল, কারণ যদি জনরা জেনে নিতাম ভুলে গেছি বলে হয়ত আমি এতটা হতবাক হতে পারতাম না। পাঠ প্রতিক্রিয়ায় আমি এত টুকুই বলবো প্রথম বই হিসাবে এতটা নিখুঁত লেখা আমি আশা করিনাই। আমি আরো কিছু লেখা তো পড়েছি। আমি দেখেছি— প্রথম বইয়ে অনেকের লেখায় কিছুটা বাচ্চামো থাকে! তবে বই পড়ে মনে হয়েছে বেশ পাকাপোক্ত হাতের লেখা। নামের যথার্থতা : অনেক বই রিভিউ আমার করা হয়েছে তবে নামের যথার্থতা কখনো বলা হয়নি। আজ বলছি “কলিজার আধখান” নামটা একেবারে, যথার্থ। প্রিয় কলিজার আধখান, তোকে ব্যক্ত করা অসম্ভব আমার পক্ষে। তুই আমার কলিজার অর্ধেক। তুই ছিলি আমার দুঃখ নিবারণের মাধ্যম। তুই আমার হৃদ আকাশের পুষে রাখা আকাশ। তুই ছিলি আমার বাগানের একমাত্র গোলাপ। কাঁটার ভয়ে কেউ ধরে নি তোকে। অথচ কেউ জানতো না এই কাঁটার মাঝে ভালোবাসা মিলে। রিভিউ: বইয়ের শুরুতেই যেভাবে আদিবা মাতৃস্নেহ হারা হয়ে পড়ে ভেবেছিলাম, সে হবে বাবার চোখের মণি, তবে আমি ভুলে গিয়েছিলাম বাংলাদশের সব মানুষ বংশ প্রদীপ চায়! আর সেটা ছেলেই হতে হবে। নয়তো মুখের ওপর নেমে আসবে আঁধারের কালোমেঘ।কিছু অকৃত্রিম স্নেহ এখানে দেখিয়েছেন যা আসলেই প্রসংশার দাবিদার। আর বইটা পড়ে মনে হয়েছে সম্পর্ক হলে এমনই হওয়া উচিত। সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতাও তুলে ধরেছেন। আরও তুলে ধরেছেন ধর্মের কিছু মিথ্যা গোঁড়ামি! এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ। শেষটা যেভাবে করেছেন আমি আশাও করিনি। এটা যে এভাবে পারিবারিক ভৌতিক উপন্যাসে রূপ নেবে —আমি শেষ করার আগ অবদি বুঝতেই পারিনি! কি হয়েছিল শেষে? কি ঘটেছিল আদিবার সাথে? জানতে হলে পড়ে ফেলুন! #কলিজার_আধখান রিভিউ: Tamiul Touhid
#বুক_রিভিউ বই: কলিজার আধখান লেখকঃ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম প্রকাশনীঃ বইমই বইঃ আমার একজন প্রিয় মানুষের উইশলিস্টের বই ছিলো "কলিজার আধখান"। সেটা দেখেই মূলত " কলিজার আধখান" পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। "কলিজার আধখান" কেন জানি নামটাই টানে খুব। লেখক আলোচনাঃ "কলিজার আধখান" মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস। লেখক বইটি লিখেছেন একজন নিঃসন্তান দম্পতির একটা সন্তানের আকাঙ্খা এবং একজন এতিম মেয়ে আদিবার জীবনে ঘটে যাওয়া সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, হতাশা-বিষাদ নিয়ে যা প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশে সব-সময় আমরা দেখতে পাই। আমি বলবো যে প্রথম উপন্যাস হিসেবে লেখক তার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং বরাবরই তিনি সফল হয়েছেন। বই পর্যালোচনাঃ মানুষের জীবনের প্রথম স্মৃতিটা খুব সুখের হয়।কলিজার আধখান বইটি এক মায়ের বিশেষ স্মৃতি। যে স্মৃতিতে সুখ পেয়েছে অশেষ। হাজারো ব্যর্থতার মাঝে একটি মাত্র প্রাপ্তি নিয়ে জীবনটা শেষ করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, সুখকর এ স্মৃতি খুব ভালোভাবে ইতি টানতে পারেনি তবুও মানুষ বেঁচে রয় একটু প্রশান্তির জন্য। হ্যাঁ মানুষ বেঁচে রয় তার কলিজার আধখান কে আঁকড়ে ধরে, বহুকাল মানুষ বাঁচতে চায়। কাহিনী সংক্ষেপঃ " কলিজার আধখান " উপন্যাসটি রচিত হয়েছে আদিবা নামের ছোট্ট একটি এতিম মেয়েকে ঘিরে। আদিবার মা মরিয়ম বেগম আদিবাকে জন্ম দেওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই মারা যায় এবং আদিবার বাবা তাকে তার বৃদ্ধ দাদির কাছে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বৃদ্ধ দাদি আছিয়া বেগম আদিবা কে নিয়ে ভীষণ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে পড়ে যান কারণ তার পক্ষে আদিবাকে লালন_পালন করা কোন ভাবেই সম্ভব ছিলো না। তাই তিনি আদিবার জন্য একজন অভিভাবক খুঁজতে থাকেন। অনেক রিকোয়েস্ট করার পরও তার অন্যান্য ছেলেদের পরিবারে আদিবার ঠাঁই হয়না। এদিকে নিঃসন্তান আব্দুল্লাহ-জোবায়দা দম্পতি আদিবার কথা জানতে পেরে আদিবা কে পরম স্নেহে কোলে তুলে নেন। আদিবা যেন তাদের ঘরে এক টুকরো কলিজার আধখান হয়ে লালিত পালিত হতে থাকে। এদিকে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হলে আদিবার বাবার চাকরি চলে যায় এবং তারা স্থায়ীভাবে গ্রামে চলে যায়। গ্রামে গিয়ে আদিবার জীবনে ঘটতে থাকে একের পর এক ভৌতিক ঘটনা..... পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ কলিজার আধখান উপন্যাসটি পড়ে আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো আমার চোখের সামনে ঘটনাগুলো ঘটছে। আব্দুল্লাহ জোবায়দা দম্পতির কষ্টগুলো সমাজের মানুষের নানা কথায় তাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া আমাকেও কষ্ট দিয়েছে। আদিবার শেষ পরিণতি কী হয়েছিলো তা জানার আকাঙ্খা ই থেকে গেলো। উপন্যাসটি পড়তে আমার সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা ভালো লেগেছে তা হলো লেখক প্রত্যেক অধ্যায়ে মোটিভেশনাল স্পীচ দিয়েছে। যা একজন বাস্তবমুখী মানুষ হিসেবে আপনাকে শেষ পর্যন্ত উপন্যাস টি পড়তে টেনে নিয়ে যাবে। প্রিয় অংশঃ মা-বাবা কাকে বলে জানেন? নিজের সুস্থ সন্তানটাকে যেমন আদর করেন,অসুস্থ ও পঙ্গু সন্তান টাকেও আদর করেন। অথচ তারা জানেন--এই সন্তান কখনো তাদের তেমন কোনো উপকারে আসবে না তবুও তার যত্নের প্রতি কোনো অবহেলা করেনা। এটা শুধু পৃথিবীতে বাবা-মায়ের দ্বারাই সম্ভব। কারণ, তারা সন্তানকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসে। প্রিয় উক্তিঃ ১.তরবারির আঘাত সহ্য করতে পারলে ও কথার আঘাতে আত্মহত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না মাটির তৈরি মানুষগুলো। ২. সময়ের কফিনে খেয়েছে কত মানুষ আর প্রিয়জন। ৩.জীবন এক খন্ডিত মেঘের মতো। কখনো জমা হয় নীলাভ লোভনীয় রুপে। আবার কখনো বা ভয়ংকর বিদঘুটে রঙে। তবুও জমাট বাঁধা টুকরোকে মেঘই বলে। ৪. মা ছাড়া জীবন-যাপন নামহীন উপন্যাসের মতো.. মূল্যায়নঃ আমার মতো ছোট্ট একজন পাঠক তাঁর উপন্যাস সম্পর্কে যত বলবে ততই কম হয়ে যাবে। উপন্যাসটি যথার্থতা বিচারে লেখক তাঁর পরিপূর্ণ টাই দিয়েছেন । যে কোন পাঠককে মুগ্ধ করবে এবং ভালো লাগায় আছন্ন করে রাখবে উপন্যাসটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত। লেখকের প্রথম উপন্যাসের মতো দ্বিতীয় উপন্যাস ( তুমি এলে হারিয়ে যাওয়ার দিনে)টির ও উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করি।আজকে এ পর্যন্তই আমি সুমাইয়া সারাহ আপনাদের সাথে "কলজার আধখান" নিয়ে নিজের কিছু মনের কথা প্রকাশ করলাম। আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। রেটিং ৯.৫/১০

বই: কলিজার আধখান লেখক: মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম প্রকাশক: বইমই প্রকাশনী রিভিউ লেখক: Hasibur Rahman বইটির জনরা দেওয়া হয়েছে ভৌতিক ও পারিবারিক। তবে এটি পারিবারিক জনরাতেই বেশি মানানসই ছিল। বইটি পড়তে গিয়ে বারবার বিরক্তি এসেছে, যার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ১. গল্পের সংলাপে সম্বোধনের একরকম স্থিরতা নেই। কখনো ‘আপনি’, আবার কখনো ‘তুমি’ এই দ্বৈততা পাঠপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ২. স্বামী-স্ত্রীর কথোপকথনে অতি আধিখ্যেতা লক্ষ্য করা গেছে, যা সংলাপগুলোকে কৃত্রিম করে তুলেছে। ৩. লেখক সাধারণ কথোপকথনের মধ্যে অতিরিক্ত সাহিত্য ঢুকিয়ে দিয়েছেন, যা অনেক জায়গায় অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। ফলে সংলাপগুলো প্রাকৃতিক হয়ে ওঠেনি। ৪. ফারাবি এবং আব্দুল্লাহ লোকাল বাসে চড়েছে। লেখক এখানে লোকাল বাসের পুরো নাড়ি-নক্ষত্র বের করে এনেছেন। আবার তারা রিক্সায় চড়েছে। শহরে সব রিক্সাওয়ালাদের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরেছেন। আদিবা নিখোঁজ হওয়ার পরে তাকে চৌমুহনী খুরশিদ আলম কমপ্লেক্সের সামনে পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ তাকে আনতে যাবে এমন উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে লেখক গাড়ির যাত্রী, ট্যাক্স কার্ড, হারিকেনের তেল নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। এভাবে ঢাকা শহরের জ্যাম, আদাবরের বাসার নাম্বার, এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক লেখার কারণে কাহিনী মূলধারা থেকে থেকে বারবার পিছলে পড়েছে। ৫. কিছু ঘটনাবলী বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খায় না। যেমন— লেখক উল্লেখ করেছেন যে আছিয়া বেগম ভীষণ অসুস্থ, তাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি বিভাগে রাখা হয়েছে। অথচ পরক্ষণেই লেখা হয়েছে যে আদিবার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে করতে আছিয়া বেগম কখন যে বাড়িতে পৌঁছে গেছে, টেরও পাননি। প্রশ্ন হচ্ছে, কেউ যদি ইমারজেন্সিতে ভর্তি হয়, তাহলে কিছুক্ষণ পরই সে বাড়িতে ফিরে কীভাবে? আবার সেই মানুষটাই কিভাবে গেস্ট আসলে নিজে গেস্টরুমে যায় তাদের সাথে কথা বলতে? ৬. আব্দুল্লাহ-জোবাইদা ইসলামিক চিন্তাধারার মানুষ। তাহলে তারা কীভাবে বন্ধু ফারাবির সঙ্গে বাইরে বের হয়ে তিনজন একসঙ্গে একটি সিএনজিতে বসে? এটি তাদের চরিত্রের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়েছে। ৭. কাহিনির বর্তমান ও অতীতের মধ্যে স্থানান্তর সুস্পষ্ট নয়। লেখক বর্তমান লিখতে লিখতে হঠাৎ ভবিষ্যতে চলে গেছেন, কিন্তু সেটা বোঝানো হয়নি। ফলে মনে হয়েছে, কাহিনি বর্তমানে এগোচ্ছে। ৮. আব্দুল্লাহ ও জোবাইদাকে সিএনজিতে বসিয়ে রেখে, তাদের কথোপকথনের এত অল্প সময়ের মধ্যেই ফারাবি কীভাবে আদিবার জন্য দুহাত ভরে জামাকাপড় ও খেলনা কিনে ফিরল? এটি অবাস্তব মনে হয়েছে। তবে লেখক কিছু সত্য কথা বলেছেন। যেমন—বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বা খারাপ অভ্যাস হলো যাচাই-বাছাই না করেই কোনো বিষয়ে মন্তব্য করে ফেলা। এই পর্যবেক্ষণটি যথার্থ ছিল। এটি লেখক এর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক বই। লেখার ভিতরে এই ধরনের বিষয়গুলো বাদ দিলে তার লেখনী চমৎকার।
























