

Buy কালো হরফের অশ্বারোহী Online in Bangladesh
লেখক: আলীম আজিজ
- Author: আলীম আজিজ
- Publisher: আলোঘর প্রকাশনা
- Isbn: 9789843398604
- Number Of Pages: 156
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2016
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“কালো হরফের অশ্বারোহী” বইয়ের প্রথম ফ্ল্যাপ এর লেখা: জনপ্রিয় এক কথাসাহিত্যিক মারা গেছেন, রেখে গেছেন এক তরুণী স্ত্রী! তাঁর মৃত্যু নিয়ে দেখা দিয়েছে কিছু প্রশ্ন। লেখক আনিস মাহমুদ মারা গেছেন এই বাক্য দিয়েই শুরু যে উপন্যাসের, তারপর শুধু লেখকের কুশলী হাতে এক এক করে পর্দা সরে যাবার মতাে। উন্মােচিত হয়েছে জটিল, গৃঢ় এক রহস্যের। লেখক আনিস মাহমুদ যেন আমাদেরই অতি পরিচিত কোনাে চরিত্র, যার জনপ্রিয়তাকে ঘিরে প্রচলিত নানা মিথ, নানা গল্প। যে মুহূর্তের সিদ্ধান্তে নিজের চেয়ে প্রায় অর্ধেকেরও কম বয়সী এক মডেলকে বিয়ে করে হৈচৈ বাধিয়ে দেন সারা দেশে, যে তুড়ি বাজানাের মতাে পরক্ষণেই বেছে নেন লেখালেখিহীন স্বেচ্ছানির্বাসিতের এক জীবন। এহেন খেয়ালী, আত্মপর আনিস মাহমুদ। তারপর পরবর্তী পাঁচ বছর আর কোথাও থাকেন না, না। কোনাে বইয়ে; না কোনাে আলােচনায়। তারপরই বজ্রপাতের মতাে এই একলা মৃত্যু! কেন? উত্তর মেলাতে পাঠককে যেতে হবে উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত। তার আগে এক এক করে উন্মােচিত হতে থাকবে একেকটি মুখ: লেখকের তরুণী স্ত্রী, তার রহস্যময় এক প্রেমিক, আর নামপরিচয়হীন এক যুবকসহ আরও অনেকে। এই উপন্যাস যেমন অংশত এক রহস্যগল্প, আবার। অংশত এক প্রেমের অজানা আখ্যানও- বাংলা ভাষার চিরায়ত সাহিত্যধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লেখকের ভিন্নতর নতুন এক সাহিত্যসৃষ্টির প্রয়াস। এই উপন্যাস।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
আলীম আজিজের নাম জড়িয়ে ছিল সেবার সাথে আমাদের সোনালী দিনগুলোতে। সেবার অনেক বইয়ের প্রচ্ছদ পরিকল্পনাতেই উনার নাম থাকতো। খুব সম্ভবত "শত্রু শহর" নামে একটা ওয়েস্টার্ন দিয়ে তার লেখালেখির সাথে পরিচয় হয়েছিল। আলীম আজিজ এরপর দেশের অনেক দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য পাতার সম্পাদন করেছেন। এখন আছে TBS এর ইজেলের সাথে। "কালো হরফের অশ্বারোহী" বইটি একজনের রেকমান্ডেশন পেয়ে কেনা। এক কথা সাহিত্যিকের মৃত্যু দিয়ে বইয়ের শুরু। সেই রহস্যের জট খুলেছে ধীরে ধীরে। বইয়ের যে দিকটা আমার খুব ভাল লেগেছে সেটা হলো পুরনো দামি বা আমরা এখন যেগুলোকে ভিন্টেজ বলি সেই বইয়ের আলোচনা। সেই সব বই নিয়ে, সেই সব বইয়ের দাম নিয়ে, সেই বইগুলোর কালেক্টরদের নিয়ে কথা। লেখক দারুণ দক্ষতার সাথে কাহিনীর গতি নির্ধারণ করেছেন। খুব বিশাল গল্প না ফেঁদে , মেদহীন ঝরঝরে লেখাতে উন্মোচন করেছেন হত্যারহস্য। আমি পাঁচে সাড়ে চার দিয়ে দিচ্ছি। :)

প্রথমেই একটু বলে রাখি, বইয়ের রিভিউটা লিখছি স্বেচ্ছায়। বইটি আমি রকমারি থেকে কিনিনি, আজ থেকে ২ বছর আগে আলোঘর প্রকাশনী তাদের বই কতক দিয়ে যায়। কৌতুহলবশত একদিন দুপাতা উল্টালাম। ঐখান থেকেই আমার রহস্যের প্রতি নেশা লেগে গেল। অনেকদিন খুজছিলাম কোথায় বইটির একটা ভালো রিভিউ বলব, আজ পেয়ে গেলাম। নিছক একটা ভালো বইয়ের জন্য লিখছি। দেশখ্যাত এক লেখক উনি। হঠ্যাৎ ভোরে এক আগন্তুক বৃষ্টি ভেজা হয়ে আসল কাক ভোরে। যেই ঢুকতে যাবে অমনি কারো পায়ের শব্দ। আগন্তুক খুজে পেল আরেক আগন্তুককে! আড়ালে লুকায়। আগন্তুকের ছায়ামূর্তি মুর্ছে যায়। সকালে খবর আসে, লেখক মারা গেছেন! মূলত লেখক নিজেকে এখানে একজন প্রাচীন বই বিক্রেতা হিসেবে থাকেন। বই বিক্রির খাতিরে লেখকের সাথে তার খুব নিকট সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিন্তু লেখকের মৃত্যু রহস্যের বেড়াকলে ফেসে যান তিনি। একে একে স্মৃতি ভেসে উঠে তার। খুব কাছে থাকার কারণে অনেক ব্যাক্তিগত আলাপ আর তথ্য পেতে থাকি, যা হয়ত কোনো রহস্যের পেছনে থাকতে পারে? অনেক মুখের সাথে পরিচিত হচ্ছি কিন্তু কোনটা আসল আর কোনটা ভেসে যাওয়া ভেলা তা গল্পের ক্রমবর্ধমান পরিধিই বলে দিবে। একটা মৃত্যু তদন্ত চোখের সামনে। কত বাধা আর হিসাবের মার-প্যাচ। সময় সীমিত, দেশখ্যাত লেখকের মৃত্যু রহস্যের সত্যিই সমাধান করা যাবে তো? অদ্ভুদ সব চরিত্র উঠে আসে যার ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না। খুব চেনা মানুষেরও তাহলে আছে অচেনা কোনো দিক? যা ভাবছেন তা কি ভুল না সঠিক? এতটাই বর্ণনাত্মক সুক্ষ্মতা যেন আপনি সত্যি কোনো দৃশ্যকল্পের অভিনেতা। গল্পের কোথায় আপনি সমাধান পেয়ে যাবেন তা বলব না। বলব প্রতিটা লাইনকে গুরুত্ব দিন, অনুমানের তীর হয়ত লেগে যাবে। যারা সত্যি বইটার মজা নিতে চান তারা লেখা ছেড়ে যাবেন না বা শেষের দিকে পড়বার চেষ্টা করবেন না, কারণ আপনি এতে পড়া শেষ করলেও উপন্যাসের সার্থক অনুভূতি পাবেন না। এতটাই সুক্ষ্মভাবে বর্ণিত আপনার কাছে বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে পড়া শেষে যে এটা শুধুই গল্প? বইটি নিরিবিলি এবং প্রায় সপ্তাহখানেক সময় নিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো। পড়া শেষে আপনাকে ভাবনার আকাশে তাকাতে হবে। তখন বৃষ্টি ফোটায় যদি আপনার চোখ ভিজে যায়, তবে বুঝব আপনি ধরতে পেরেছেন এর সার্থকতা। আমি এরপর অনেক উপন্যাস পড়েছি কিন্তু ঠিক এই স্বাদ পাইনি। আমার কাছে এর মর্যাদা অনেক। ভাবতে শিখেছি, আর লিখতেও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। লেখক আলিম আজিজকে ধন্যবাদ।
বইয়ের নিচে চাপা পড়ে লেখকের মৃত্যু একখানা ঘটনা বটে। জীবনের সঙ্ঘারাম থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় উপাত্তের কাহিনি বিন্যাস করে করে যে গল্পলেখক নিজের গল্পের নিচে চাপা পড়ে মারা গেলেন - তাকে উদ্ধারের কোন পথ নাই। এটাই হয়তো ট্রাজেডি। ট্রাজেডি কখনো কখনো নিছক দুর্ঘটনার মত দেখায়; আদতে তা হয়তো খুন। আর খুনের মামলা মানে একটা উত্তেজনা। সেই উত্তেজনাকে কিছুটা স্থিরভাবে বসিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে তার পাপড়ি খুলতে থাকলে উম্মোচিত হয় রক্তাত্ব সত্য। পুঁথিগন্ধময় ভাড়ারের সমস্ত অপমৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যুর মত দেখালেও তার আড়ালে যে কালের গোপন অভিসন্ধি আছে তা খুব সহজ জীবনের গল্পে তুলে ধরেছেন আলীম আজিজ Alim Azij। তাঁর উপন্যাস 'কালো হরফের অশ্বারোহী' একটি দুর্দান্ত পূর্ববঙ্গীয় থ্রিলার। পুরাতন বই সংগ্রাহক বিখ্যাত লেখককে দুর্লভ মূল্যবান পুরোনো বই জোগাড় করে দিতে গিয়ে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় উক্ত উপন্যাসের কথকের সাথে। সেই সুবাদে ঢাকার নীলক্ষেত, পুরানা পল্টনের পুরানো বই ব্যবসায়, তিরিশটা অতি দুর্লভ বইয়ের গল্পও উঠে আসে। গোয়েন্দা গল্পের ছলে নব্বইয়ের গড়ে উঠা নতুন ঢাকা শহরের গল্পও এখানে আছে। ঔপন্যাসিকের প্রয়াস মুগ্ধ হওয়ার মত। অনেকদিন যারা সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাসের খোঁজে আছেন তাদের জন্য এই উপন্যাসটি একটি চমক হতে পারে। আমার বেশ ভাল লেগেছে। ভাল লাগাটি যেহেতু রুচি নির্ভর; তাই আমার রুচিতে যাদের আস্থা আছে, উপন্যাসটি তারা পড়তে পারেন। বইটি আমি রকমারি থেকে কিনেছি। কাটাবনের কনকর্ড মার্কেটের 'আলোঘর প্রকাশনী'র ভুতল দোকানটিতে বইটি কিনতে পাওয়া যায়।






















