

Buy কাবিলের বোন Online in Bangladesh
লেখক: আল মাহমুদ
- Author: আল মাহমুদ
- Publisher: নওরোজ সাহিত্য সম্ভার
- Isbn: 9789847020198
- Number Of Pages: 327
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Edition, 2017
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপে লেখা কিছু কথাএকটি বিপুল সংকটের সময় যখন বিভিন্ন ইচ্ছার সংঘর্ষে মানুষ সত্যকে চিহ্নিত করতে পারছে না। সেই সময় কয়েকটি মানুষ দুটি ভাষার উচ্চারণের পরিধির মধ্যে নিজেদের পরিচয় নির্মাণের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের মানুষের জীবনের ইতিহাসে এই ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয় অথচ এ রকম ঘটনা আমরা সাহস করে পরীক্ষা করে দেখিনি। কবি আল মাহমুদ অত্যন্ত হয়ে সফলতার পদপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন। এ এক অসাধারণ কৃতিত্ব। সর্বাংশে দ্বিধামুক্ত হয়ে একটি সময়ের শাসনের মধ্যে দুটি ভিন্ন ভাষার জীবনকে তিনি পরষ্পরের প্রতি মমতার আকর্ষণে একত্রিত করেছেন। এটা কম দক্ষতার পরিচয় নয়। ‘কাবিলের বোন’ উপন্যাসের মধ্যে জীবনের যে অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে তা দীর্ঘকাল পাঠকের মনে রেখাংকন রেখে যাবে।সৈয়দ আলী আহসান
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বইটা অনেক ভালো লেগেছে। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পর্যন্ত সময়টা লেখক এই উপন্যাসে খুব চমৎকারভাবে ধারন করেছেন।

কাবিলের বোন-আল মাহমুদ আখাউড়া জংশনের অদূরে সিলেটের মনতলা স্টেশনের কাছেই পূর্ব পাকিস্তানের শেষ সীমান্তে সৈয়দ আহমদ কাবিলের বাড়ি।পিতা আহমদ কামাল,মাতা জাকিয়া বেগম।চাচা আহমদ আলম,যাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে ছিলেন।পড়াশোনা শেষ করে বড় ভাইয়ের অজান্তে বিয়ে করেন অবাঙ্গালী মোহাজির আতর ওয়ালার মেয়ে রওনক জাহান কে।তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন সেই ভোপাল থেকে।কিন্তু বিহারি দের সাথে উঠাপড়া,বিহারি এলাকায় থাকে বলে বিহারি নামেই পরিচিত। আর বিহারি দের বাঙ্গালী অপছন্দ করতেন বিহারি দের আত্ন অহংকার ও আভিজাত্য ও দাম্ভিকতার জন্য।তাই আহমদ কামাল আহমদ আলমের বিয়ে মেনে নিতে পারেন নি,মেনে নিতে পারেন নি ভাই কে না জানিয়ে বিয়ে করার জন্য,এই কষ্টে আহমদ কামাল মারা যান,ছোট ভাই কে সৈয়দ বাড়ির সাথে সব সম্পর্ক ছেদ করতে বলে যান জাকিয়া বেগম কে।আহমদ কাবিল লেখাপড়ায় অত্যন্ত ভাল,উচ্চ শিক্ষার জন্য এত বছর পর কাবিল ঢাকায় চাচার বাসায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললে মা আর মানা করতে পারেন নি।১৯৬০ সালের এক সকালে চাচার বাসার উদ্দেশ্যে মনতলা থেকে রওনা হন।আহমদ আলম,রওনক জাহান,আহমদ আলমের মেয়ে রোকসানা কাবিল কে পেয়ে আবেগ আপ্লূত হয়ে পড়েন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতি তে।হয়ে যান শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বাস যোগ্য ছাত্র নেতা।৬৯ এর আন্দোলন,৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর যুদ্ধ। সেখান থেকে সরাসরি যুদ্ধে চলে যান আঞ্জুমান কে সাথে নিয়ে।চাচাত বোন রোকসানার সাথে গড়ে উঠে নিবিড় প্রেমের সম্পর্ক। মা জাকিয়া বেগম,চাচা আহমদ আলম,চাচি রওনক জাহান মেনে নেন তাদের সম্পর্ক। চাচির ভাইয়ের ছেলে আন্দালিব যদি ও রোকসানা কে মনে প্রানে ভালবাসতেন।কিন্তু রোকসানা কাবিলের ভালবাসার টানে তা ভাটা পড়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম বন্ধু আহমেদ নিসার,বান্ধবী আঞ্জুমান। আঞ্জুমান ছাত্র রাজনীতি তে জড়িত থাকলে ও নিসার তার উল্টো। ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন আঞ্জুমান নিসার।২৫ শে মার্চের রাতে বিশ্ববিদ্যালয় হলে প্রান দেন আহমেদ নিসার।গ্রামের বাড়িতে কাবিলের মা কে দেখাশোনা করার জন্য নিয়ে আসেন মামাতো বোন মোমেনা কে,কাবিলের মা যাকে নিজের পুত্রবধূ করার জন্য মনস্থির করেছিলেন।কিন্তু কাবিল রোকসানার ভালবাসার কাছে তা ম্লান হয়ে যায়।গ্রামের বাড়িতে আহমদ আলম,রওনক জাহান, আন্দালিব বেড়াতে গেলে গ্রামের সুদর্শনা মোমেনার প্রেমে পড়ে যায় মোহাজির আব্দালিব। রওনক জাহান তাদের বিয়ে দেয়ার জন্য মনস্থির করেন।নানাবিধ কারনে আন্দালিব মোমেনার বিয়ে পিছিয়ে যায়,এদিকে কাবিল রোকসানার বিয়ে ও হয়ে উঠেনি কাবিলের রাজনীতির জন্য।২৫ শে মার্চ রাতে সদ্য হারানো স্বামী নিসার কে ফেলে কাবিলের সাথে যুদ্ধে চলে যায় আঞ্জুমান। নানাবিধ চিন্তায় ২৫ শে মার্চ রাতেই পরলোকগমন করেন চাচি রওনক জাহান।যুদ্ধের ভয়াবহতায় ২৬ শে মার্চ ভালবাসার মানুষ কাবিল কে রেখে,সময়ের চাহিদায় আন্দালিবের হাত ধরে পাকিস্তান পাড়ি জমান রোকসানা।কাবিলের ভালবাসা কে উপেক্ষা করে আন্দালিব কে নিয়ে সেখানে সংসার পাতবেন বলে চিঠি তে লিখে যান। যুদ্ধ শেষে কাবিল স্বাধীন বাংলাদেশ পেলে ও হারিয়ে ফেলে জিবনের একটা বড় অংশ।চাচি রওনক জাহান রোকসানার বিয়ের জন্য বানানো হীরের আংটি টা কাবিলের কাছেই ছিল।এই আংটি টা যখন কাবিল ফেলে দিতে চাইল,তখন আঞ্জুমান অবাক করে দিয়ে কাবিল কে বলল- 'এই আংটি টা আমাকে পড়িয়ে দিন না কাবিল ভাই।আর ত কেউ নেই।আমি আপনার পছন্দের মানুষ নই কাবিল ভাই।তবে আপনার এখন আমাকে দরকার।ভালবাসা না হোক,দয়ামায়া, কর্তব্যবোধ জাগানো এবং সেবার জন্য আমাকে আপনার দরকার।আমি পাশে না থাকলে আপনি শেষ হয়ে যাবেন কাবিল ভাই,বরবাদ হয়ে যাবেন।আপনার পছন্দের না হই,আপনার বন্ধুর ত পছন্দের ছিলাম? দিন না হীরে টা পড়িয়ে।'

Oshadaron

কাবিলের বোন ও আল মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক যে ক'টি বই আমার পড়ার সুযোগ হয়েছে তন্মধ্যে কবি আল মাহমুদের লেখা "কাবিলের বোন" এখনো অবধি আমার পড়া শ্রেষ্ঠ বই, শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। না, আমি এখানে ইতিহাসের বিচার করতে বসিনি। আমি কোন ঐতিহাসিক কিংবা ইতিহাসবেত্তাও নই। তবে বাংলা সাহিত্যের একজন পাঠক হিসেবে বইটি পাঠপূর্বক আমার মস্তিষ্কে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে, আমার হৃদয়ের গহীনে সাহিত্যের যে রস উৎসারিত হয়েছে তা ই ব্যক্ত করতে বসলাম । সৃজনশীল লোকেরা রস সৃষ্টির জন্য তাদের সৃষ্টিকর্ম পরিচালনা করে থাকেন। আর আপন সৃষ্টিকর্ম দ্বারা পাঠক হৃদয়ে রসের বন্যা বইয়ে দিতে উপন্যাসিক আল মাহমুদ এখানে পুরোপুরি সফল। কী অসাধারণ একটি বই, প্রাণবন্ত বর্ণনা, চমৎকার গল্পের গাঁথুনি। যেন আমি চোখের সামনে জীবন্ত দেখতে পাচ্ছি মনতলা গাঁয়ের মেঠোপথ কিংবা ঢাকার ১০ নং বনগ্রাম লেনের দোতালা বাড়িটা। অথবা ভীষণ বিপ্লবে ফেটে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও তার আশপাশ, ছাত্রজনতার উত্তাল মিছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানের আশা-ভরসার একমাত্র আশ্রয়স্থল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সাথে এক ছাত্রনেতার সম্পর্ক, সাক্ষাৎ ও নির্দেশ মোতাবেক কাজ। মনে হয় আমিও সেই মিছিলেরই একজন। অথবা দু'জোড়া তরুণ-তরুণীর চতুষ্কোণ প্রেমের রসায়ন, পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্ব। মূলত 'যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান' এই শিকড় থেকেই উপন্যাসের শুরু। এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দূভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ছয় দফা, ছাত্র আন্দোলন এবং বেশ ক'জন মানব-মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন। এবং পাওয়া না পাওয়ার এই খেলায় লুকায়িত উপন্যাসের নামের সার্থকতা। কাবিলের বোন কাবিলের বোন ই; অন্য কিছু নয়। কিছুটা অপ্রত্যাশিত কিন্তু অত্যন্ত আকর্ষণীয় সমাপ্তির দরুন এই উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে তার নিজের একটা জায়গা করে নিয়েছে এবং পাঠক হৃদয়ে দাগ কেটে গেছে। এই গ্রন্থে, গল্পে আল মাহমুদ প্রমাণ করেছেন যে তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ ই নন; বরং তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টাও বটে।

মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করা একটা বইও যে এতো চমৎকার হতে পারে তা "কাবিলের বোন" না পড়লে বুঝতেই পারতাম না! সত্যি স্মৃতিতে গেঁথে থাকার মতো এক দারুন কীর্তি।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
ei boier ki pdf ace?? keo plz pdf koren
প্রিয় গ্রাহক, বর্তমানে বইটির ই-বুক ভার্সন নেই, ধন্যবাদ।
ei boier ki pdf ace?? keo plz pdf koren
প্রিয় গ্রাহক, বর্তমানে বইটির ই-বুক ভার্সন নেই, ধন্যবাদ।






















