জলকুঠুরি
বই কালেকশন

Buy জলকুঠুরি Online in Bangladesh

লেখক: মুশফিক উস সালেহীন

4.13
(8 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: মুশফিক উস সালেহীন
  • Publisher: চিরকুট
  • Number Of Pages: 160
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Published, 2022
৳ 239৳ 30020% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

ঘুম আসছে না আরিফ সাহেবের। নাকে ভেজা বাতাসের গন্ধ এসে লাগছে। চল্লিশ বছর পর এই পুরোনো বাড়িতে, পুরোনো ঝড়ের রাতে, পুরোনো সেই ভেজা গন্ধ, খুব অচেনা ঠেকছে। যেই বাড়িতে একটা সময় তিনি দু হাতে নাটাই নিয়ে দৌড়ে বেরিয়েছেন। যেই সিঁড়ির গোড়ায় রাতের বেলা চোখ বন্ধ করে ছুটতে গিয়ে হাটু কেটেছেন। যেই জানালার শার্সিতে চুড়ুই পাখির জন্য চাল চুরি করে এনে রেখে দিতেন। আজ তার সব কিছুই কেমন নতুন এবং দূরের বলে মনে হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে বরং দেশে না এলেই বোধহয় শান্তিটা রক্ষা হত। যে অতীত অচেনা হয়ে যায়, তাকে পুনরায় ধরার প্রচেষ্টা কেবল বিড়ম্বনাই সৃষ্টি করে। চারদিকের লোকজনে পরিচিত মুখও কমে এসেছে। বুড়ো বয়সে নতুন করে পরিচিতের সংখ্যা বাড়াতে আর আগ্রহ হয় না। কিন্তু সেটা না যায় প্রকাশ করা, না যায় এড়ানো। তিনি দেশে এসেছেন শুনে আজ সকালেও বেশ কিছু লোক এসে দেখা করে গিয়েছে। চেয়ারম্যান সুরুজ আলী, বাজারের মসজিদের খতীব রাইসুল সাহেব এবং তাদের দলবল। বেশিরভাগের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ ছিল, অত্র এলাকায় আরিফ সাহেবের সাথে আলাপের যোগ্যতা কেবল তারাই রাখেন। চেয়ারম্যানের শালার ছেলেও নাকি আমেরিকায় থাকে। আরিফ সাহেবের সাথে কখনো সেই ছেলের দেখা হয়নি শুনে সুরুজ আলী যারপরনাই আশ্চার্য এবং তারও বেশি মনক্ষুণ্ণ হলেন। -জলকুঠুরি

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.13
(8 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
38%
4
63%
3
0%
2
0%
1
0%
ইয়াসির আল সাইফ
ইয়াসির আল সাইফ ভেরিফাইড
18 Dec 2023

#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ 'একজন মেয়ে তার জীবনে নানান স্বরে কাঁদে- কখনও বুঝহীন বালিকার আবদারের কান্না; কখনও কিশোরীর অস্তিত্বসংকটের কান্না; কখনও তরুণীর অব্যক্ত প্রেমের অভিমান; কখনও মায়ের পৃথিবী উজাড় মমতার কান্না। সব কান্নার স্বর আলাদা। কিন্তু পুরুষের সব কান্না একরকম- প্রথমে সশব্দে, তারপর শব্দহীন, তারপর অশ্রুহীন।' -মুশফিক উস সালেহীন উপরের বাক্যগুলো, লেখক উপন্যাসে উল্লেখ করেছেন, একটা বিশেষ সময়ে। কিন্তু এ বাক্যগুলো যে উপন্যাসের মূলভাবকেই এভাবে ব্যক্ত করবে তা আমার ধারণায় ছিল না। বলছিলাম জল কুঠুরি'র কথা। • কাহিনী সংক্ষেপ: প্রায় চল্লিশ বছর পর নিজ দেশে ফিরে আসেন আরিফ সাহেব। যখন দেশ ছেড়েছিলেন তখন মুক্তিযুদ্ধ চলমান। তবে ঠিক কি কারণে দেশ ছেড়েছিলেন, তা আজও অস্পষ্ট আরিফ সাহেবের কাছে। গ্রামের বাড়িতে ফিরে স্মৃতি নাড়া দিলে, অতীতের খোঁজে ছুটলেন তিনি। গ্রামের এক অসহায় তবে আত্মমর্যাদাবান মেয়ে রিতা। একমাত্র সন্তান রাতুলকে নিয়ে তার বাস। তার সংগ্রামী জীবনে কেউ পাশে থাকতে চায়, তো কেউ পাশে থাকার নামে সুযোগ খুঁজে বেড়ায়। • পাঠ প্রতিক্রিয়া: • • শুরুতেই প্লট নিয়ে বলি। 'মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক' কিংবা 'মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক' বলা যাবে কিনা জানই না, তবে প্লটের মূল প্রসঙ্গ ছিল মুক্তিযুদ্ধ এবং এর কাহিনী বর্তমান ছিল যুদ্ধের চল্লিশ বছর পর। শুনে কিছুটা অতি সাধারণ ইতিহাসভিত্তিক কাহিনী মনে হলেও আসলে তা নয়। বৃষ্টির দিনে পড়া শুরু করেছিলাম। প্লটের চাহিদা অনুযায়ী এমন আবহাওয়ায় এই বইটা পড়া বেশ আরামদায়ক ছিল। কেননা কাহিনীর সূচনা ঘটেছে বৃষ্টির মৌসুম দিয়ে। তবে স্লো রিডার হওয়ায় একদিনে বইটা শেষ করতে পারিনি। ফলস্বরূপ, উপন্যাসের মাঝে একটু বেশি স্লো লেগেছে। বইটাকে আমি যদি তিনটি ভাগে ভাগ করি, তাহলে শেষ ভাগটাই হবে আমার পছন্দের অংশ। প্রথমাংশ প্লট গঠনের জন্য যথার্থ আর মধ্যাংশ ধীর গতিতে এগিয়েছে। এক্ষেত্রে, পাঠকের মনে হতে পারে কাহিনী একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে প্রকৃতপক্ষে সমাপ্তি উপভোগের জন্য এ বিষয়টা কিছুটা হলেও জরুরী ছিল। • • উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র দু'জন। আরিফ সাহেব ও রিতা। শুরু থেকেই একই সময়ে সমান্তরালভাবে দু'জনের কাহিনী, দৃষ্টিভঙ্গি, স্মৃতি ও পরিস্থিতির কথা বর্ণিত হয়েছে। উভয় চরিত্রের জীবনযাত্রার একাংশ লেখক চিত্রিত করেছেন বেশ সূক্ষ্মভাবে। তাদের মাঝে মুখ্য যে সাদৃশ্য তা হল আক্ষেপ। একজন আজ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েও মনের মাঝে আক্ষেপ পুষে আছেন, আরেকজন দারিদ্র্যতা ও পরিস্থিতির শিকার হয়ে আক্ষেপ পোষণ করছে। এই আক্ষেপ ও একই গ্রামে অবস্থান ছাড়া আদতে চরিত্র দুটির মাঝে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা সেটা নাহয় পাঠকই খুঁজে বের করুক। এছাড়া পার্শ্ব চরিত্রদের মাঝে লেখক কুটিল ও সুবিধাবাদী চরিত্র যেমন রেখেছেন, তেমনি এখানে ছিল ছুটি ও রাতুলের মতো নিষ্পাপ ও নিঃস্বার্থ চরিত্রও। • • উপন্যাসে শব্দচয়ন ছিলো সহজ ও সাবলীল। লিখনশৈলী নিয়েও লেখককে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রশ্নই আসে না। প্রতিটি দৃশ্যপটে সর্বোচ্চ স্বাভাবিকতা রাখার চেষ্টাই যেনো তিনি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: আইস্ক্রিমের বক্সে টাকা রাখা, কনডেন্স মিল্ক এর কৌটায় চারা রোপণ এসব সূক্ষ্ম বিষয় আমার নজর কেড়েছে। আবার, কয়েক জায়গায় ছোটখাটো বিষয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টাও ভালো লেগেছে। যেমন: একটা দৃশ্যে আরিফ সাহেব অন্য চরিত্রের সাথে কথোপকথন শেষ করে হঠাৎই দোকান থেকে খাতা কিনলেন। কিন্তু এ দৃশ্যে খাতা কেনার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু তৎক্ষণাৎই লেখক মনে করিয়ে দিলেন যে, আগের দৃশ্যপটে ছুটির সাথে আরিফ সাহেবের খাতা ছিড়ে কাগজের নৌকা বানানোর একটা কথোপকথন হয়েছিলো। আরেকটা উদাহরণ দেই, রাতুল যখন পড়ায় ফাঁকি দিচ্ছিল,তখনই তার মা বুঝে যায় যে, রাতুল কিছুক্ষণ পর গল্প শুনতে চাইবে। অন্য একজন চরিত্রের আগমনে বেশ কিছুক্ষণ গল্প শোনানোর কোনো প্রসঙ্গ উঠেনি উপন্যাসে। কিন্তু সেই চরিত্র বিদায় নেবার সাথে সাথেই রাতুল তার মায়ের কাছে গল্প শুনতে চাইলো। এসকল 'ডিটেইলিং' এর সূক্ষ্ম হিসাব আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। • • উপন্যাসের আকারের বিচারে এতে সংলাপের পরিমাণ কম। গল্প কথকের বিবরণেই এর অধিকাংশ প্রকাশ পেয়েছে। তবে এ বিষয়টা খুব একটা দৃষ্টিকটু লাগেনি। • • সমাপ্তি অংশে মোচড় থাকবে সেই আশা নিয়েই পড়া এগিয়েছি। হতাশ হইনি একদমই। প্রথমেই বলেছিলাম, শেষ অংশই আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। তার কারণ, সমাপ্তি অংশের মোচড় গুলো আমাকে ধরাশায়ী করতে পেরেছে। সাধারণত, থ্রিলার হলে আমি শুরুর দিকের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে এক বা একাধিক 'থিওরি' ভেবে রাখি। ভিন্ন জনরা হলেও এক্ষেত্রে দু'টি 'থিওরি' ভেবে রেখেছিলাম, কিন্তু হিসেব অনুযায়ী কাহিনী এগোয়নি বলে আশা ছেড়ে পড়তে লাগলাম। আর ঠিক এখানেই বাজিমাত করলেন লেখক। আমার ধারণা করা থিওরি বাস্তবায়িত তো হলো কিন্তু ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন কারণে ও ভিন্ন পরিস্থিতিতে। সাথে আরো কিছু মোচড় যুক্ত হওয়ায় উপন্যাসের সমাপ্তি বেশ উপভোগ করেছি আমি। • • উপন্যাসের বেশ কিছু বাক্য ও সংলাপ আমার মনে ধরেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: 'কেবল মৌসুমি রোগের অজুহাতে শৈশবকে নষ্ট হতে দেওয়াটা অনুচিত।' 'একবার যে মানুষ মানুষ ছাড়তে শিখে যায়, সে আর কখনোই কাউকে ধরে রাখতে চায় না। এক সুর কেটে গেলে সে অন্য গান ধরে।' 'মানুষ সব কথা যাচাই করতে চায় না। যেটা কানে শুনতে আরাম, সেটা মিথ্যে হলেও বিশ্বাসযোগ্য।' 'প্রকৃতি ভীষণ জটিল নিয়মে চলে, কিন্তু তার ফলাফল খুব সহজসরল- হয় দুর্ভোগ না হয় উপভোগ। এর মাঝামাঝি কিছুই নেই।' "ফটো তুলে রাখতে হবে কেন? আমার চেহারা মনে রাখা কি এত শক্ত?" 'যে আঘাত একবার এসে যায়, তা সেরেও যায়। কিন্তু যে আঘাত সম্ভাব্য, তা প্রতিদিনই অল্প অল্প করে ক্ষত বৃদ্ধি করে এবং মাঝে মাঝে সেই আশঙ্কা বরং মূল আঘাতকেও চাপিয়ে যায়।' 'পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক বিষধর প্রাণী হলো মানুষ। তারা যতদিন বেঁচে থাকে, স্থলে-জলে-জীবনে, কেবলই বিষ ছড়িয়ে যায়। আস্তে আস্তে নিজের জীবনটাও বিষাক্ত করে ফেলে। তারপর সেই বিষক্রিয়ায় আত্মিক মৃত্যুবরণ করে জড়বস্তুর মতো টিকে থাকে, যতদিন না শরীরটাও হাল ছেড়ে দেয়।' • নামকরণ: উপন্যাসের নামকরণ সার্থক বলা যায়। কোনো গভীর অর্থ হয়তো বহন করে না। তবে এক বুক আক্ষেপ নিয়ে উপন্যাসের শুরু ও শেষের সাক্ষ্যই যেনো দিয়ে যাওয়া কুঠুরির নামেই যেন এর নাম। • প্রচ্ছদ: প্রচ্ছদটা মোটামুটি লেগেছে। মূল কাহিনীর খুব বেশি ছাপ নেই এখানে। তবে খুব সম্ভবত মুখ্য একটি চরিত্রের অস্তিত্বের নিশ্চয়তা রক্ষার প্রতীক হিসেবে প্রচ্ছদের পুষ্পচিত্রকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। • ব্যাক্তিগত মতামত: • • উপরের লেখায় আমি উল্লেখ করেছি, উপন্যাসে সংলাপ তুলনামূলক কম, বিবরণ বেশি। বিশেষ করে স্মৃতিচারণমূলক অংশে। আমার ধারণা, প্রায় চল্লিশ বছর পুরনো অতীতের সংলাপ যেনো অসংলগ্ন না হয়ে যায় সেদিকে সতর্কতা রেখেই লেখক এমন করেছেন। • • মসজিদের ইমাম চরিত্রের মাঝে 'স্বার্থপরতা' দেখানোর বিষয়টি দৃষ্টিকটু লেগেছে। চরিত্রটা আংশিক 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের মতো মনে হয়েছে।যেহেতু, মূল কাহিনীর সাথে এর কোনোভাবেই সম্পর্ক নেই, লেখক এ বিষয়টি বাদ দিলেও পারতেন। • হিংসা কারো জন্য সুফল বয়ে আনেনি। হিংসার আগুনের একটামাত্র দেয়াশলাই জ্বালিয়ে দিতে পারে সমগ্র সাধের সাম্রাজ্য। জল কুঠুরির মূল শিক্ষা এটাই। পাঠকেরা পড়লেই বুঝতে পারবেন সেটা। সব মিলিয়ে, জল কুঠুরি আমার জন্য কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তবে, যথাযথভাবে উপভোগ করতে চাইলে পাঠকদেরকে এক বসায় পড়ে শেষ করার পরামর্শ দিবো। • বই: জল কুঠুরি • লেখক: মুশফিক উস সালেহীন • জনরা: সমকালীন • প্রকাশনী: চিরকুট প্রকাশনী • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০ • প্রচ্ছদ: জাওয়াদ উল আলম • প্রচ্ছদ মূল্য: ৩০০ টাকা ব্যাক্তিগত রেটিং: ৭/১০ ~ইয়াসির আল সাইফ

Rafia Rahman
Rafia Rahman ভেরিফাইড
31 May 2022

নাম: জলকুঠুরি লেখক: মুশফিক উস সালেহীন জনরা: সমকালীন প্রচ্ছদ: জাওয়াদ উল আলম প্রকাশনী: চিরকুট প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২২ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০ মুদ্রিত মূল্য: ৩০০/- যে একবার সম্পর্ক ভাঙতে শেখে, সে আর কখনও গড়তে পারে না। ভুলতে চাওয়া অতীত পিছু ছাড়ে না আবার যা মনে রাখা দরকার তা মনে থাকে না! কোনো স্মৃতি আবার মনের গুপ্ত কুঠুরিতে লুকিয়ে থাকে। সময়ে-অসময়ে হঠাৎই উদয় হয় মনের গহীনে... সুদীর্ঘ চল্লিশটা বছর পেরিয়ে গেছে। নিজের চিরচেনা গ্রামে আবার ফিরে এসেছেন আরিফুর রহমান। কিন্তু সেই চিরচেনা রেখে যাওয়া গ্রাম-পরিবার-প্রিয়জনেরা আর আগের মতো চেনা লাগে না! মুক্তিযুদ্ধের দামামা যখন চারিদিকে বেজে চলেছে সেইসময়ই দেশ ছাড়েন আরিফ সাহেব। এতটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি এসেছেন আবার তবে আসার কারণটা অন্যরকম.. দেশে থাকা সম্পত্তি তিনি রানু ফুফু আর ভাই জহিরকে দিয়ে দেশের সাথে অবশিষ্ট বন্ধনটুকু থেকেও মুক্তি চান। কিন্তু কেন? অনিচ্ছা সত্ত্বেও কেন আরিফ সাহেবকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল? আর কেনইবা এখন চান না দেশ-পরিবারের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতে? শৈশবের বন্ধু করিম মজুমদারকে হঠাৎই পেয়ে যান। জানতে পারেন তিনি দেশ ছাড়ার পরই আগুনে জ্বলে ছাড়খাড় হয় হিন্দুপাড়া! মনে পড়ে যায় প্রেমিকা ততুশ্রীর কথা। দূরত্ব বাড়লে সম্পর্কে চিড় ধরে তাই বলে কি সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়? একসময়কার প্রেয়সীর সন্ধানে বেড়িয়ে পড়েন কিন্তু কথায় আছে না কিছু জিনিস অজানাই শ্রেয়। অতীতের চেনারা বর্তমানে অচেনা হয়ে ধরা দেয়। বেড়িয়ে আসে অপ্রীতিকর কিছু রহস্য যা বদলিয়ে দিয়েছে সকলের জীবন! জীবন বড়ই নির্মম। তাও যদি হয় একলা কোনো নারীর তাহলে তো কথায় নেই। এমনই এক মা রিতা। একমাত্র সন্তান রাতুলকে নিয়ে কঠিন সংগ্রামে জীবন পার করছে। হঠাৎই অসুস্থ হয়ে যায় রাতুল সেই সাথে ধেঁয়ে আসতে থাকে নোংরা হাত। একদিকে অসুস্থ সন্তান অন্যদিকে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচা... বৃষ্টিস্নাত দিনে আরিফ সাহেবের অতীতের স্মৃতিচারণা দিয়ে শুরু ❝জলকুঠুরি❞। ভাতিজা হারুনের মাধ্যমে দেখা হয়ে যায় একসময়ের প্রিয় দোসর করিমের। কথাচ্ছলে উঠে আসে ততুশ্রী, রূপা, রাশেদ ভাই, সতীনাথদের কথা। কিন্তু কে কোথায় আছে জানা নেই। কেনইবা দেশ ছাড়ার পরে গ্রামে শুরু হয় গণহত্যা? শ্রীর খোঁজ আর অজানা প্রশ্নগুলোর জবাবের আশায় হারুনকে নিয়ে অভিযানে নেমে পড়েন। বারবার বাঁধা আসে, আবছাভাবে জানায় দিয়ে যায় কিছু থাক না অজানা। আবেগ-অনুভূতি, না পাওয়া-অসমাপ্তের হাহাকার, যড়যন্ত্র, ঈর্ষা, মোহের মিশ্রণ ঘটছে বইয়ে। কাহিনীর প্রয়োজনে যেখানে চরিত্রের সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। আগে এসেছে চরিত্র আর চরিত্রকে ঘিরে ঘটনা তারপর কাহিনী। প্রতিটি চরিত্রকে লেখক সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। প্রকৃতির বর্ণনা হয়েছে সহজ-সাবলীলভাবে। মনে হচ্ছিল যেন গ্রামবাংলায় চলে গেছি। একের পর এক চরিত্রের পরিচয় আর কাহিনীর ধারা ভালো লেগেছে। প্রথমে মনে হয়েছিল আরিফ সাহেব আর রিতার গল্পের মধ্যে কোনো সংযোগ নেই। তবে শেষটা পড়ে যেন ঘোরে চলে গেছি। ব্যক্তিমনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। কিছু বিষয়ে খটকা রয়ে গেছে। রিতাকে প্রথমে পরিজন হারা একা বলা হলেও কিন্তু এমনটা না। যেহেতু তার বাবা এখনও আছে। আর এতকিছু হওয়ার পরও কেন মেয়ের খোঁজ নেননি বা আসেন নায় দেখা করতে বিষয়টা পরিষ্কার না। আর মাকে নিয়ে রিতার আবেগ থাকলেও একবারও বাবার কথা আসে নায় কেন? শেখ কাদিরের হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ বুঝলাম না। মিলি চরিত্রটাও কেমন জানি ধোঁয়াশা। বানানে টুকিটাকি কিছু ভুল আছে, ❝র❞, ❝ো❞, ❝ে❞, ❝নাই/নায়❞- এর ব্যাবহারে। বইয়ের প্রোডাকশন যথেষ্ট মানসম্মত। বাঁধাই, পেজ, হার্ডকভার, বইয়ের জ্যাকেটের মান ভালোই। প্রচ্ছদ ও নামলিপি বেশ নান্দনিক। তবে প্রচ্ছদের সাথে বইয়ের বিষয়বস্তু ঠিক মিলাতে পারি নাই।

Md Rakib Hasan
Md Rakib Hasan ভেরিফাইড
15 May 2022

========= কাহিনী সংক্ষেপ ========== “মানুষ কখনোই মানুষকে চিনতে পারে না। কারণ তারা চিনতে চায় না। তারা নিজের মতো করে একটা গঠন তৈরি করে। কিছুটা সত্যও থাকে তাতে, তবে বেশিরভাগই থাকে কল্পনা। এবং মানুষ কল্পনায় বিশ্বাস করতেই ভালোবাসে।” দীর্ঘ ৪০ বছর পর জমি-জমা ভাগবাঁটোয়ারা করতে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছেন অরিফুর রহমান সাহেব। হাতের তালুর মত একসময় সবকিছু পরিচিত থাকলেও এতদিন পরে কোথাও যেন এক অদৃশ্য দেয়াল অনুভব করেন তিনি। সে বিড়ম্বনা এমন যে অস্বস্থির দেয়াল পাহাড়সম উঁচু না হলেও তা পুরোপুরি টপকানোও যায় না! বার বার চেষ্টা করলেও অতীতের ফেলে আসা স্মৃতি তাকে বারবার নাড়িয়ে দেয়। অতীতে ফেলে আসা কিছু স্মৃতি বারবার তার মনে ভীষণভাবে আলোড়ন তুলছে। সেইসব স্মৃতি এবং অজানা কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য তাই তিনি ভাতিজা হারুনকে নিয়ে বৃষ্টি-বন্যার মাঝেই নেমে পড়েন সেসব জানার তাগিদে। রানু ফুপু, রূপা রাণী শীল, করিম উল্লাহ মজুমদার, সতীনাথ, রাশেদ সারোয়ার সবাই কি কিছু মনের গভীরে কষ্টদায়ক অতীত লুকিয়ে রেখেছেন? কি বা হয়েছিল সেদিন ততুশ্রীর? অবশেষে সবকিছুই যখন তার কাছে পরিস্কার হলো তখন তিনি তার মুখের ভাষা, চিন্তার খেই-সব যেন একসাথে হারিয়ে ফেললেন। প্রকৃতপক্ষেই,“যে অতীত অচেনা হয়ে যায়, তাকে পুনরায় ধরার প্রচেষ্টা কেবল বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে।” ========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ========== জলকুঠুরি বইয়ের প্রেক্ষাপট বর্তমান সময়ে, কিন্তু তার মূল প্রোত্থিত ১৯৭১ সালের সেই ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ সময়ে। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সবাই তার কোন না কোন আপনজনকে হারিয়েছেন। সেই হারানোর বেদনা এবং তার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন নিয়ে লেখকের এই জলকুঠুরি। গল্পের ধারা খুব সুন্দর এবং স্বাভাবিক ধীরলয়ে আগালেও ঠাণ্ডা সুরেই শেষদিকে দারুণ কিছু চমক দিয়ে পাঠকের মনে আলোড়ন তুলে দিয়েছেন লেখক। স্মৃতিচারণমূলক অতীত খুঁজতে গিয়ে সেটা পরিণত হয় দুঃসহ এক অতীতে! প্রেম-ভালোবাসা/জীবন সংগ্রাম/যুদ্ধকালীন সামাজিক অবস্থা/না পাওয়ার আক্ষেপ- সবই একে একে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন তার অসাধারণ লেখনীতে। হিংসার বশবর্তী হয়ে মানুষ যে কী করতে পারে তা সত্যিই ভয়ংকর! প্রোডাকশনঃ চিরকুটের প্রোডাকশন বরাবরই ভালো। কভার ডিজাইন আমার মোটামুটি লেগেছে। পেজের কোয়ালিটি, বই বাইন্ডিং, ফন্ট সাইজ ঠিক আছে। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০।

Kazi Hasan Jamil
Kazi Hasan Jamil ভেরিফাইড
22 Feb 2024

❝চল্লিশ বছর, সংখ্যায় যত বিশাল মনে হয় সময়টাকে, স্মৃতিতে ততটা বিশাল নয় মোটেও। চল্লিশ বছর ভবিষ্যৎ, অনেক সময়। কিন্তু চল্লিশ বছর অতীত, নিমেষমাত্র। পাড়ি দেওয়া শেষ হয়ে গেলে, পথের দূরত্ব কমে যায়।❞ . ষাটোর্ধ আরিফ সাহেব দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর দেশে ফিরেছেন জমি-জমা সংক্রান্ত কিছু কাজে। না, জমিতে ভাগ বসাতে আসেননি, এসছেন নিজের ভাগের জমি-জমা তার ছোট ভাইয়ের নামে লিখে দিতে। যে একবার সম্পর্ক ভাঙতে শেখে, সে আর কখনও গড়তে পারে না। সব সম্পর্কেই সে ভাঙন দেখে। ভবিষ্যতের একাকিত্ব দেখে। সম্পর্ক গড়া এবং ধরে রাখার চেষ্টায় অপ্রয়োজনীয়তা দেখে। আরিফ সাহেবও তাই দেখেছেন, এর জন্য আর সম্পর্কের মায়ায় জড়িয়ে থাকতে চাননি। . চল্লিশ বছর পূর্বে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার আব্বা তাকে বর্ডার ক্রস করিয়ে ভারতে খালার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে আমেরিকায় মামার বাসায় গিয়ে থাকতে শুরু করেন তিনি। এরমধ্যে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাই সকল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যেতে শিকড়ের প্রতি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত অধিকার ভাইয়ের নামে লিখে দিতে দেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে ফিরে অনেক অনেক পরিবর্তন লক্ষ করেন তিনি। যে রানুফুফু ছিল তার খেলার সাথী একসাথে থাকতো তারা বন্ধুর মতো, যাকে রানু ফুফু নয় শুধু রানু ডাকতেন সেই রানু ফুফু এখন তার সামনে আসার আগে আঁচল দিয়ে ভালো মতো শরীরটাকে আবৃত করেন। . সুদীর্ঘ চার দশক পর দেশে এসে সবকিছুই যেনো অচেনা ঠেকছে। এ যেনো তার পরিচিত শৈশবের কমলপাড়া নয়। মানুষগুলোও আর আগের মতো নেই। কিন্তু কোথায় তার কৈশোরের প্রেম, তার ভালোবাসার সঙ্গী যার সাথে সে সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল, সেই ততুশ্রী? যাকে সে শ্রী বলে ডাকত...কোথায় সেই রাশেদ ভাই যিনি যুদ্ধের সাহসিকতার সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন? কোথায় তার বন্ধু করিম মজুমদার, করিমের ভালোবাসা রূপা? আর কোথায়ই বা আছে সতিননাথ? কেন সরকার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পর মুসলিমদের মজুমদার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী? কি হয়েছিল তিনি চলে যাওয়ার পর? . এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করেন সবাই কেন যেনো এসব প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছে, তাকে বলতে চাচ্ছে না পুরোনো অতীত। কিন্তু চল্লিশ বছর পূর্বের স্মৃতিগুলো তাকে তাড়িত করছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। . ❝সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, যার মেরুদণ্ড শক্ত নয়, তার ঔদ্ধত্ব সহ্য করা হয় না।❞ . অন্যদিকে সহায় সম্বলহীন রিতা তার সন্তানকে নিয়ে প্রতিনিয়ত যেনো এক সংগ্রাম করে চলেছেন। স্বামী পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় এই সংগ্রাম। কীসের সংগ্রাম? বেঁচে থাকার সংগ্রাম, অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। তবুও কোনরকম ভাবে বেঁচে থাকা নয়, সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে আত্মসম্মানের সাথে বেঁচে থাকার লড়াই। সমাজে এক অসহায় নারীর যে কত ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা বেশ ভালো ভাবেই বুঝতে পারছিলেন রিতা সারওয়ার। কিন্তু কিছুই করার ছিল না তার। . ❝প্রকৃতি ভীষণ জটিল নিয়মে চলে, কিন্তু তার ফলাফল খুব সহজসরল, হয় দুর্ভোগ, না হয় উপভোগ।❞ . বিধাতা মনে হয় তার জন্য দুর্ভোগই রেখেছেন। এতো সব সমস্যার মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে বন্যায় তার বীরাঙ্গনা মায়ের কবর ভেঙে যেতে শুরু করে। এরই মধ্যে আবার তার ছেলে রাতুল অনেক অসুস্থ হয়ে পরে। একদিকে ভয়াবহ আর্থিক সমস্যা, অন্যদিকে সমাজে ভালো মানুষীর মুখোশ পরে থাকা কিছু মানুষের কুনজর, যারা রয়েছে শুধুমাত্র সুযোগের অপেক্ষায়... . জলকুঠুরি, এটা কি কোনো রোমান্টিক উপন্যাস?- নাহ। তাহলে এটা কি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?- নাহ। তাহলে? কি নিয়ে জলকুঠুরি উপন্যাস? . জলকুঠুরি কিছু মানুষের গল্প নিয়ে রচিত এক উপন্যাস। তাদের ফেলে আসা অতীতের গল্প, রঙিন স্বপ্নের গল্প। গল্পগুলো পুরোনো, তবে এখনো তা স্মৃতি হিসেবে বয়ে বেড়ায় সেই মানুষগুলোর মননে, মস্তিষ্কে। কি নিয়ে সেই গল্প? গল্পগুলো ভালোবাসার, খুনশুটির, বিরহের, প্রতিশোধের, প্রতিহিংসার...এক অতীতের। যা আজ চল্লিশ বছর পরেও কারো জন্য বুকে পাথর হয়ে টিকে আছে, কারো জন্য কিংবা আক্ষেপ হয়ে... যে অতীত আর কখনো ঠিক করা যাবে না, অখণ্ডনীয় এক অতীতের গল্প জলকুঠুরি। . জলকুঠুরি কি শুধু কিছু মানুষেরই গল্প?- নাহ। জলকুঠুরি প্রকৃতিরও গল্প। প্রকৃতির সাথে মানুষের, মানুষের সাথে প্রকৃতির এক অবলা উপখ্যান। . ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: . পড়ে শেষ করলাম তরুণ লেখক মুশফিক উস সালেহীনের "জলকুঠুরি" উপন্যাস। জলকুঠুরি, ১৬০ পৃষ্ঠার এই ছোট কলেবরের বইটির মাধ্যমে লেখক অনেক কিছু বলেছেন বা বলতে চেয়েছেন। শুরুটা খুবই সাদামাটা; বিদেশ ফেরৎ আরিফ সাহেবের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে। পুরো উপন্যাস জুড়েই ছিল বিভিন্ন মানুষের এই স্মৃতিচারণ। শুরুটা সাদামাটা হলেও ধীরে ধীরে লেখক আমার পাঠক মনে অনেক প্রশ্নের উৎপত্তি ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। ছোট একটা বই হলেও কাহিনীর তাগিদে লেখক অসংখ্য চরিত্রের অবতারণা করেছেন। শুরুতে বেশ খাপছাড়া লাগছিল কিছু বিষয়। এমনকি গল্পের মাঝামাঝি এসেও তার হিসাব মেলাতে পারছিলাম না। কিছু চরিত্রের ভূমিকা কি এই গল্পে তা বুঝতে পারছিলাম না। ধীরে ধীরে যখন আমার পাঠক মনের জটগুলো খুলতে শুরু করে তখনও একটা জিনিস বেশ খোঁচাখুঁচি করছিল। যদিও বিষয়টা আমি উপভোগ করেছি। . যেহেতু সামাজিক উপন্যাস সেখানে আমি থ্রিলারের মতো কোনো মাথা আউলে দেওয়া টুইস্টের আশা করিনি। অবশ্য সেরকম মাথা আউলে দেওয়া টুইস্ট ছিলও না এই বইয়ে। টুইস্ট ছিল বিভিন্ন প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির, বেদনাদায়ক কিংবা বিরহের। এমন কিছু বাঁক ছিল যা আসলে অনুমান করা যায় না আগে থেকেই অন্তত আমি করতে পারিনি।. প্রতিটা ঘটনা, প্রতিটা চরিত্র বেশ বাস্তব। কখনো কখনো মনে হচ্ছিল এটা তো আমাদের বর্তমান সমাজেরই দৈনন্দিন জীবনের চিত্র। একটা শিশুর মন কেমন হয়ে থাকে, সে কেমন কল্পনার রাজ্যে বসবাস করে, কিংবা স্বামীহীন এক নারীর প্রতিনিয়ত সমাজের সাথে সমাজে বসবাস করা ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে থাকা কিছু মানুষের সাথে সংগ্রাম করে চলতে হয়, বা বাঁচতে হয় তার চিত্র বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে। আমাদের গ্রাম বাংলার মানুষের আচার-আচরণ, ভাষা, কুসংস্কার মোটকথা গ্রামীণ জীবন ব্যবস্থার এক চিত্র লেখক জলকুঠুরি উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। . শুরুতে যেমনটা বলেছিলাম বইটা শুধু কিছু মানুষেরই না প্রকৃতির গল্প। পুরো গল্প জুড়েই ছিল বৃষ্টির কথা, পানির কথা, প্রকৃতির কথা। বিশেষ করে যারা কখনো গ্রামে যায়নি তারা এই বইটির মাধ্যমে গ্রামীণ প্রকৃতি, জনপদ, গ্রামের সহজ সরল মানুষের জীবন ব্যবস্থা, প্রকৃতির প্রতিকূল পরিবেশের সাথে সংগ্রাম বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারবে। তবে এই উপলব্ধিটা কিছু মানুষের জন্য হবে আক্ষেপের, যারা কিনা উন্নত জীবন ব্যবস্থার জন্য শহরে পাড়ি জমিয়েছে। তাদের কাছে এই বর্ণনাগুলো হবে কিছুটা কষ্টের, এর মাধ্যমে নিজের গ্রাম কিংবা নিজের শিকড়ের প্রতি টান অনুভব করবে তারা। বই জুড়ে বর্ষাকালের গ্রামীণ জীবন বিশেষ করে বন্যায় কবলিত জনপদগুলোর পরিণতি কি হয়ে থাকে তা লেখক বলেছেন জলকুঠুরির মাধ্যমে। পাশাপাশি শহুরে মানুষদের জন্য বৃষ্টি অনেকটা শৌখিন ব্যাপার বা রোমান্টিক কোন ব্যাপার হলেও গ্রামীণ জীবনে বৃষ্টি যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। . এখন আসি উপন্যাসটির সমাপ্তি নিয়ে। সমাপ্তি নিয়ে একটা জিনিস লক্ষ করা যায় যে পুরো বই ভালো লাগলেও সমাপ্তি নিয়ে পাঠক সন্তুষ্ট হতে পারে না। আমার সাথেও এমন অনেকবার হয়েছে, সমাপ্তিটা হয়তো ঠিক ছিল তবে কেন জানি মন মতো হয়নি। কিন্তু আমার মতে এই বইটার এর থেকে সেরা সমাপ্তি হতে পারে না। শুরু থেকে মনের ভিতরে খোঁচাতে থাকা প্রশ্নের উত্তরও পেয়েছি এর মাধ্যমে। সেরা সমাপ্তি হলেও কেন জানি মনে হচ্ছিল এমন সমাপ্তি না হলেও পারতো। এমন সমাপ্তি বুকের ভিতর থেকে শুধুমাত্র দীর্ঘশ্বাস বের করে... . ১৬০ পৃষ্ঠার এই বইটিতে লেখক চরিত্রায়নে বেশি সময় ব্যয় করেনি। কিন্তু বইয়ে প্রত্যাকটি চরিত্র নিয়ে খুঁটিনাটি যে বর্ণনা রয়েছে চরিত্রগুলোকে অনুভব করার জন্য আমার মনে হয় যথেষ্ট। কিছু চরিত্র মনে দাগ কাটতে সক্ষম। যেমন: রিতা চরিত্রটা। . স্বামী ছাড়া একজন মহিলাকে সন্তান নিয়ে সমাজে বেঁচে থাকতে হলে কি পরিমাণ সংগ্রাম করতে এবং কি ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তার উদাহরণ রিতা। প্রতিকূল পরিবেশেও রিতার আত্মসম্মানবোধ আমাকে মুগ্ধ করেছে। রিতা এই বইয়ের একজন সংগ্রামী চরিত্র যে কিনা বিষম পরিস্থিতিতেও নিজের আত্মসম্মানবোধ ঠিক রেখে প্রতিনিয়ত পুরো সমাজের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন। . পাশাপাশি ছুটি চরিত্রটাও বেশ ইন্ট্রেসটিং। ছুটি চরিত্রটার মাধ্যমে আমরা আমাদের পুরনো শৈশবকে খুঁজে পাই। বিশেষ করে ছুটির ভাব ভঙ্গি, কথার ধরণ দারুণ উপভোগ করেছি। আসলে একজন বৃদ্ধ মানুষের জীবন অনেকটা একাকিত্বের, বিষণ্ণতার। এই সময়টাতে তাদের মুখে একটু হাসি ফোটাতে এই ছুটি চরিত্রের মতো চরিত্রের খুব প্রয়োজন তা বেশ ভালোভাবেই জলকুঠুরি পড়ে উপলব্ধি করা যায়। . এর বাইরে আরিফ সাহেব, হারুণ চরিত্রগুলোও বেশ ভালো লেগেছে আমার। পাশাপাশি করিম মজুমদার, খতিব সাহেব, হেডমাস্টার, শেখ কাদির, লতিফা সহ অন্যান্য চরিত্রগুলোও বাস্তব লেগেছে। এটা এই বইয়ের অন্যতম শক্তিশালী একটা দিক, প্রতিটা চরিত্র এত বাস্তব যে আমি এরমধ্যে আমাদের সমাজের অনেক চরিত্রকে দেখতে পাচ্ছিলাম, অনুভব করতে পারছিলাম। লেখক তার লেখনশৈলীর মাধ্যমে প্রতিটি চরিত্রের মাঝেই কিছু স্বকীয়তা দিয়েছেন, একটা পেছনের গল্প রেখেছেন এবং চমৎকারভাবে তাদের উপস্থাপন করেছেন। এরজন্যই প্রতিটা চরিত্রই সার্থক। . সমালোচনা করার মতো তেমন কিছু আসলে এই বইয়ে খুঁজে পেলাম না। তবে আমার পাঠকমন আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর চেয়েছিল। যেমন সরকারি চাকুরীজীবী একজন বাবা থাকতে কেন রিতাকে অভিভাবকহীন অবস্থায় থাকতে হয়, মানুষের কাছে টাকা ধার করে ছেলের চিকিৎসা করাতে হয়, এই বিষয়ে আরো ডিটেইলে বলা থাকলে ভালো হত। আবার রিতার স্বামীর বিষয়ে আরো কিছু তথ্য লেখক দিতে পারতেন তাহলে রিতার এই করুণ অবস্থার কারণ সম্পর্কে পাঠক ভালো ধারনা পেত। . এগুলো বাদ দিলে এক কথায় দারুণ এক উপন্যাস জলকুঠুরি। গ্রামীণ বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধের সময় এলোমেলো হয়ে যাওয়া কিছু রঙিন স্বপ্ন, পাকিস্তানিদের বীভৎসতা, দেশীয় কিছু বাঙালিদের নিজস্ব জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হলে পড়তে পারেন এই বইটি। আশাকরি বইটার সাথে ভালো একটা সময় কাটবে এবং হয়তো জীবনে চলার পথের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ন শিক্ষাও অর্জন করতে পারবেন। . ◑ লেখনশৈলী: . তরুণ লেখক মুশফিক উস সালেহীন এর ঋ, কাকতাড়ুয়া, জাদুকর আমার উইশ লিস্টে থাকলেও বিভিন্ন কারণে নেওয়া হয়নি। তাই লেখকের লেখা আমার পড়া প্রথম বই ❝জলকুঠুরি❞। সামাজিক উপন্যাস হিসেবেও লেখকের প্রথম বই এটা। সেদিক থেকে বলতে গেলে লেখকের শব্দচয়ন,সংলাপ প্রশংসনীয়। বিভিন্ন বর্ণনা বিশেষ করে প্রাকৃতিক বর্ণনাগুলো লেখক এতো বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে একটা সময় এই ইট পাথরের শহর থেকে দূরে গিয়ে আমার গ্রামের বাড়িতে প্রকৃতির মাঝে বসবাস করার তীব্র আকাঙ্খা অনুভব করেছি। খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয়ের বর্ণনাগুলো বাস্তবিক লেগেছে যার মাধ্যমে গল্পের দৃশ্যপটগুলো খুব সহজেই ভিজুয়ালাইজ করতে পারা যায়। এতো সুন্দর ভাবে লেখক মাটির কথা, বাতাসের কথা, নদীর কথা বা প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরেছেন তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। . ◑ বানান, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন ও অন্যান্য: . বর্তমান সময়ে দেখা যায় বিভিন্ন প্রকাশনী বইকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বইয়ের বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকে ফোকাস করে। ফলে দেখা যায় চমৎকার প্রোডাকশন সম্পন্ন বই পড়তে গিয়েও চরম বিরক্তির উদ্রেক ঘটে শুধুমাত্র অত্যধিক বানান ভুল ও দক্ষ সম্পাদনার অভাবে। সেদিক থেকে চিরকুট প্রকাশনী নিয়ে অভিযোগের কোনো জায়গা নেই। বইটার সম্পাদনা বেশ ভালো ছিল এবং বানান ভুলও দুই-একটা বাদে তেমন চোখে পড়েনি। তবে কিছু জায়গায় নাম বিভ্রাট চোখে পড়েছে। এক জায়গায় ততুশ্রীকে তনুশ্রী বলা হয়েছে। এবং আরিফ সাহেবকে আরিফ রহমান ও আরিফুর রহমান বলা হয়েছে। এর বাইরে বড়সড় কোনো ভুল ছিল না তবে কিছু কিছু সংলাপ অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেগেছে। বইয়ের এই প্রচ্ছদটি করেছেন জাওয়াদ উল আলম ভাই। খুবই সিম্পল একটা প্রচ্ছদ তবে এর মধ্যে একটা স্নিগ্ধ ভাব আছে। পাশাপাশি বইয়ের নামলিপিটাও মাননসই লেগেছে। সবমিলিয়ে সিম্পলের মধ্যে আমার পছন্দের একটা প্রচ্ছদ এটা। আর চিরকুটের প্রোডাকশন কোয়ালিটি, বাইন্ডিং নিয়ে আর কিছু বলার নাই, কেননা নান্দনিকতার জন্য চিরকুট প্রকাশনী বইপাড়ায় বেশ জনপ্রিয়। তাই এবারেও তারা বরাবরের মতোই চমৎকার প্রোডাকশন দিয়েছে। আর বইয়ের দামও খুব বেশি না। প্রোডাকশন কোয়ালিটি, বইয়ের কন্টেন্ট অনুযায়ী দাম নিয়ে আমি স্যাটিসফাইড। . ◑ পছন্দের অংশ: . ⊕ সমাজে টিকে থাকার মানে কথার তেজ বা মূল্য বিসর্জন দেওয়া না। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করা। . ⊕ একবার যে-মানুষ মানুষ ছাড়তে শিখে যায়, সে আর কখনোই কাউকে ধরে রাখতে চায় না। . ⊕ মানুষ কখনোই মানুষকে চিনতে পারে না। কারণ তারা চিনতে চায় না। তারা নিজের মতো করে একটা গঠন তৈরি করে। কিছুটা সত্যও থাকে তাতে, তবে বেশিরভাগই থাকে কল্পনা। এবং মানুষ কল্পনায় বিশ্বাস করতেই ভালোবাসে। . ⊕ যে একবার সম্পর্ক ভাঙতে শেখে, সে আর কখনও গড়তে পারে না। সব সম্পর্কেই সে ভাঙন দেখে। ভবিষ্যতে একাকিত্ব দেখে। সম্পর্ক গড়া এবং ধরে রাখার চেষ্টায় অপ্রয়োজনীয়তা দেখে। . ⊕ সহজ সত্যি স্বীকার করা এবং মেনে নেওয়া খুব কঠিন কাজ। ভাগ্যের ফেরে অনেককিছু হারিয়ে যায়। আবার ভাগ্যই আরও অনেককিছু মিলিয়ে দেয়। মানুষের অভ্যেসই এমন। হারানোর তালিকায় তাদের প্রাত্যহিক মনোযোগ। কিন্তু পাবার ভান্ডারের দিকে দু-বেলা সন্তোষ প্রকাশের সুযোগ নেই। . ⊕ জগতের সকল অপূর্বতার খোঁজে হাজার হাজার পথ চললেও, শান্তির খোঁজে সেই পুরোনো বাড়িতেই ফিরতে হয়। . ⊕ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক বিষধর প্রাণী হলো মানুষ। তারা যতদিন বেঁচে থাকে, স্থলে-জলে-জীবনে, কেবলই বিষ ছড়িয়ে যায়। আস্তে আস্তে নিজের জীবনটাও বিষাক্ত করে ফেলে। তারপর সেই বিষক্রিয়ায় আত্মিক মৃত্যুবরণ করে জড়বস্তুর মতো টিকে থাকে, যতদিন না শরীরটাও হাল ছেড়ে দেয়। . ⊕ যে আঘাত একবার এসে যায়, তা সেরেও যায়। কিন্তু যে আঘাত সম্ভাব্য, তা প্রতিদিনই অল্প অল্প করে ক্ষত বৃদ্ধি করে এবং মাঝে মাঝে সেই আশঙ্কা বরং মূল আঘাতকেও ছাপিয়ে যায়। . ⊕ একজন মেয়ে তার জীবনে নানান স্বরে কাঁদে- কখনও বুঝহীন বালিকার আবদারের কান্না; কখনও কিশোরীর অস্তিত্বসংকটের কান্না; কখনও তরুণীর অব্যক্ত প্রেমের অভিমান; কখনও মায়ের পৃথিবী উজাড় মমতার কান্না। সব কান্নার স্বর আলাদা। কিন্তু পুরুষের সব কান্না একরকম- প্রথমে সশব্দে, তারপর শব্দহীন, তারপর অশ্ৰুহীন। . ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.২/৫ . ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বইয়ের নাম : জলকুঠুরি ➠ লেখক : মুশফিক উস সালেহীন ➠ জনরা : সামাজিক উপন্যাস ➠ প্রকাশনী : চিরকুট প্রকাশনী ➠ প্রচ্ছদশিল্পী : জাওয়াদ উল আলম ➠ পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৬০ ➠ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা

Peal Roy Partha
Peal Roy Partha ভেরিফাইড
29 Apr 2022

▌স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ⚊ ❛জলকুঠুরি❜ ❝যে অতীত অচেনা হয়ে যায়, তাকে পুনরায় ধরার প্রচেষ্টা কেবল বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে।❞ দীর্ঘ সময়ের পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনও কি তেমন কোনো বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে? অতীতের ফেলে আসা স্মৃতি, বারবার যখন মনে পড়ে—তা কি এড়িয়ে চলা যেতে পারে? সে-জন্য কি আধো কোনো প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজন? —উত্তর হয়তো হ্যাঁ কিংবা না। বিনিদ্র রজনীর খোঁচাতে থাকা অনুভূতিরা কি জলকুঠুরিতে বন্দি থাকে? তাদের কি কখনও মুক্তির দাওয়াত দেওয়া হয় না? এই বিড়ম্বনা আর অতীতের সাথে জলকুঠুরির কী সম্পর্ক? জল আর কুঠুরি। খুব পরিচিত না হলেও দুটো পরিচিত শব্দ। কুঠুরি অর্থ ছোটো ঘর। জলের ওপর তৈরি করা কোনো ঘরকে গ্রামবাংলার মাচা বলতে লোকে বেশি পছন্দ করে। বিশেষ করে পুকুরের ওপর হাঁস-মুরগি পালনের জন্য এমন মাচা তৈরি করে অনেকে। তবে কি শুধু এই লালন-পালনের জন্য এমন জলকুঠুরি তৈরি করা? ঠিক মিলছে না; কোথাও যেন গড়মিল আছে। এই জলকুঠুরির আসল রহস্য কী তবে? ❛জলকুঠুরি❜ উপন্যাসে আক্ষরিক অর্থে লেখক জলের ওপর ভেসে থাকা ছোটো ঘরকে স্মৃতি লালন-পালনের বায়োস্কোপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যেখানে বসে স্মৃতিদের সাথে কথা বলা যায়; অন্তর্দাহে নিজেকে পোড়ানো যায়। অন্তত আমার তা-ই মনে হয়েছে। তবে এর দুটো কারণও অবশ্য রয়েছে। প্রথম কারণ—দুটো অপরিচিত মানুষের অস্তিত্বকে ভালোবাসার শপথে মিলিয়ে দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা। লেখক কিন্তু শুরু থেকে গল্পের মাঝামাঝি পর্যন্ত এমন কোনো আভাস দিয়ে বসেননি যে তিনি অস্তিত্ব সংকটের জাল বুনছেন। খুব ধীরে আর যত্ন করে চলা গল্প যখন সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত—ঠিক তখনই তিনি; তার আমোঘ অস্ত্র ছুড়ে দিলেন পাঠক হৃদয় লক্ষ্য করে। যে অস্ত্র মনোবেদনার। কতটুকু সফল তিনি এই বেদনার আখ্যান রচনা করতে? বেদনা আর মন নিয়ে যে যুদ্ধ তিনি রচনা করেছেন—সেখানে পাঠকের ভাবনার কী আছে তবে? আর দ্বিতীয় কারণ? অল্পতে এমন অধিক প্রশ্নের জন্ম দেওয়াটা আমার এক ধরনের বদভ্যাস। অনেকে এতে বিরক্ত হোন। কিন্তু আমার ভালো লাগে। যে দ্বন্দ্ব আমি বইয়ের পাতা থেকে ধার করি, তা আপনাদের সাথে শেয়ার করে শোধ করি। এই প্রতিক্রিয়া আপনার-আমার নীরব কথোপকথনের সাক্ষী। যদিও উক্ত উপন্যাস যে অল্প প্রশ্নের জন্ম লেখক দিয়েছেন বলেছি, তার গভীরতা প্রাচুর্যে পূর্ণ। ❛জলকুঠুরি❜ উপন্যাসের দ্বিতীয় কারণ বেশ স্পষ্ট, একেবারে জলের মতো পরিষ্কার। কারণ জল-ই এখানে সব। যে জলে শুধু মাছ ভাসে না; ভাসে নৌকাও। বর্ষার ভরা মৌসুমে বন্যায় প্লাবিত হওয়া একটি গ্রামের চিত্রপটকে উক্ত উপন্যাসে খুব যত্ন করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। প্রকৃতির সাথে মানুষের দ্বন্দ্ব, মানুষের সাথে মানুষের কলহ। এই কলহ নিশ্চুপ, অন্ধকারের মতো। যা কখনও আলোর দেখা পায় না। যেখানে ঈর্ষা আছে, প্রতিহিংসা আছে। প্রকৃতি স্নিগ্ধ রূপের বর্ণনা আর চরিত্রদের টানাপোড়েনের চঞ্চলতায় পুরো উপন্যাসে আরামসে কয়েক ঘণ্টা ডুবে থাকা যায়। দম বন্ধ হওয়ার অবকাশ একেবারে নেই। ঠিক যেন, প্রেমের মরা জলে ডুবে না। এই সত্য—সহজে স্বীকার করতে বাধ্য। ❝সহজ সত্য স্বীকার করা এবং মেনে নেওয়া খুব কঠিন কাজ। ভাগ্যের ফেরে অনেক কিছু হারিয়ে যায়। আবার ভাগ্যই আরও অনেক কিছু মিলিয়ে দেয়। মানুষের অভ্যেসই এমন। হারানোর তালিকায় তাদের প্রাত্যহিক মনোযোগ। কিন্তু পাবার ভাণ্ডারের দিকে দু-বেলা সন্তোষ প্রকাশের সুযোগ নেই।❞ যা একবার হারিয়ে যায় তা আর ফিরে আসে না। তেমনই স্বাধীনতা যে সবার জন্য সুখ বয়ে নিয়ে আসে না; তারও এক অনন্য উদাহরণ রয়েছে উক্ত উপন্যাসে। তাই তো মান্না দে-এর গানের লাইনগুলো বলতে ইচ্ছা হয়— ❝আমিও রাধার মত ভালোবেসে যাবো হয় কিছু পাবো নয় সবই হারাবো এই চেয়ে থাকা আর প্রাণে সয় না সবাই তো সুখী হতে চায় তবু কেউ সুখী হয়... কেউ হয় না...❞ ◆ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা— ❛জলকুঠুরি❜ কোনো মিষ্টি প্রেমের দুষ্ট উপন্যাস নয়। নেই কোনো খুনশুটি বা অতি মাখামাখি বিষয়। যুদ্ধটাও যে খুব করুণার তেমনও নয়। সামসময়িক উপন্যাস থেকে এ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রচেষ্টা। যেখানে একজন চরিত্রের মনস্তত্ত্বের লড়াইয়ের সাথে সুনিপুণভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একটি গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের গল্প আর বন্যা কবলিত অবস্থায় জর্জরিত চরিত্রদের চিন্তাভাবনা আর করণীয় কাজের বিবরণ সমূহ। গল্পের চরিত্রদের মধ্যে লেখক যে-সব কনফ্লিক্ট তুলে ধরতে চেয়েছেন; তা যেন অতি পুরানো অথবা নিত্যনৈমিত্তিক। সমাজের চোখে যা অপরাধ, তাতেই যেন আসল স্বাদ। যে স্বাদ উপেক্ষা করা কোনো সমবয়সি বালক-বালিকার মাঝে থাকে না। তেমনই থাকে না চরিত্র (ইজ্জত) নিয়ে ছেলেখেলা। যা বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মূল বাধা। লাল চোখ মেলে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা হায়েনারা সমাজের শিক্ষিত আর মার্জিত মুখের অধিকারী। মুখে ভালো আর মনে কালো মেখে চলা এমন চরিত্র যেন উপন্যাসটিকে করেছে আরও পোক্ত। প্রকৃতি আর মানুষের খেলা—উক্ত উপন্যাসে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। সাবলীল লিখনপদ্ধতি আর মনকাড়া বর্ণনা শৈলী দিয়ে উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ অবধি সাজানো। এ যেন আমার পরিচিত কোনো গ্রামের গল্প, লেখক শুধু রংতুলির কালো আঁচড়ে সাদা পাতায় এঁকেছেন সবটুকু। গল্পে যে খুব রহস্য-রোমাঞ্চ দিয়ে ভর্তি তেমনও না। তবে ক্লাইম্যাক্সে যে ধাক্কা লেখক দিতে চেয়েছেন তা যেন পূর্ব নির্ধারিত। যা উপন্যাস শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লুকায়িত থাকে। একেবারে তুরুপের তাসের মতো তিন থেকে চারটি ক্লাইম্যাক্স সিন নিয়ে লেখক বসে ছিলেন। প্রয়োজনে সেই রহস্য উন্মোচন করে ভালো লাগা দিগুণ করেছেন। এই ভালো লাগা আবার দুঃখের; অখুশি হয়ে সুখীর অভিনয় করা যাকে বলে। ভালো সময় কাটানোর পাশাপাশি বাস্তবতার অনেকটা ছোঁয়া পেতে এমন একটি উপন্যাস অবশ্যই পাঠ্য। ● গল্পের শুরু এবং কিছু প্রশ্ন— মুক্তিযুদ্ধের চল্লিশ বছর পর জমিজমা ভাগবাঁটোয়ারা করতে গ্রামে ফিরলেন আরিফ সাহেব। এত বছর পর পুরোনো বাড়িতে, পুরোনো ঝড়ের রাতে, পুরোনো সেই ভেজা গন্ধ, খুব অচেনা ঠেকছে। যেই সিঁড়ির গোড়ায় রাতের বেলা চোখ বন্ধ করে ছুটতে গিয়ে হাঁটু কেটেছেন। যেই জানালার শার্সিতে চুড়ুই পাখির জন্য চাল চুরি করে এনে রেখে দিতেন। আজ তার সব কিছুই কেমন নতুন এবং দূরের বলে মনে হচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে বরং দেশে না এলেই বোধহয় শান্তিটা রক্ষা হতো। চারদিকের লোকজনে পরিচিত মুখও কমে এসেছে। বুড়ো বয়সে নতুন করে পরিচিতের সংখ্যা বাড়াতে আর আগ্রহ হয় না। কিন্তু সেটা না যায় প্রকাশ করা, না যায় এড়ানো। সবকিছু এড়িয়ে গেলেও যায় না শুধু—অতীত। এমন কিছু স্মৃতি যা আরিফুর রহমানকে প্রতিনিয়ত আত্মকলহে ভুগিয়ে মারছে। কী সেটা? কেন হঠাৎ ফেলে আসা পুরোনো স্মৃতিরা জাগ্রত হচ্ছে? এর কারণ খুঁজতে ভাতিজা হারুনকে নিয়ে মাঠে নামেন ষাটোর্ধ্ব মানুষটি। রিতা সারওয়ার সমাজের শুধু কি দয়ার পাত্র? না-কি এর পেছনে রয়েছে কোনো কূ-রহস্য? রানু ফুফুর রহস্যময় আচরণের কারণ কী? করিম মজুমদার কোন সত্য লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন? আর কেন? প্রশ্ন বরাবরই অনেক, উত্তর জলকুঠুরিতে... ═══════════════════════════════ ❛জলকুঠুরি❜ উপন্যাসের শুরুটা অতীত আর বর্তমানের স্মৃতি রাঙানোর খেলা। তবে খুবই সামান্য। পুরো গল্প জুড়ে এমন দৃশ্যপটের নাড়াচাড়া চলতে থাকে। গল্পের প্রধান চরিত্র আরিফুর রহমানকে দিয়ে কাহিনির সূত্রপাত। ধীরে ধীরে লেখক পরিচিত করাতে থাকে একে একে সব চরিত্রদের। এমন চরিত্র পরিচিতি; লেখকের লেখার কমন ফ্যাক্টর। টাইমলাইন ঠিক রাখার জন্য ধাপে ধাপে চরিত্র পরিচিত করাতে লেখক সিদ্ধহস্ত। তার ওপর আসল নাম, ডাকনাম মিলিয়ে শুরুটা একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বের হলেও; পারিপার্শ্বিক আবহ গল্পে মজে যাওয়ার মতো যথেষ্ট। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে একটি গ্রামের অবস্থা ঠিক কেমন হয়; বিশেষ করে বন্যায় কবলিত অঞ্চলগুলো—তা লেখক দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন উক্ত উপন্যাসে। সব মিলিয়ে শুরুটা ভালো। ● গল্প বুনট » লিখনপদ্ধতি » বর্ণনা শৈলী— লেখকের গল্প বুননের ধরন চমৎকার। কয়েকটি ঘটনাকে একই সময়ে একসাথে টেনে নেওয়ার দক্ষতা দেখার মতো। ছোটো-ছোটো বিষয়গুলো যে বর্ণনা লেখক দিয়ে থাকেন, তা পুরো দৃশ্যকে মানসনেত্র দিয়ে দেখতে দারুণ লাগে। এর বিশেষ কারণ লিখনপদ্ধতি। খুবই সাবলীল লেখা। সহজ শব্দ চয়নে পুরো উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত। প্রত্যকটি চরিত্রদের কথোপকথন আর চলনবলন খুবই নিখুঁত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তেমনই দেখানো হয়েছে মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোও। গ্রাম্য প্রেক্ষাপটে লেখা হলেও, ভাষায় যে মার্জিত ভাব তা লক্ষণীয়। অর্থাৎ গ্রামে যে এখন শুধু আঞ্চলিক ভাষার প্রচলন আছে; তেমনও না। শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার চেষ্টা এখন প্রায় পরিবারে করতে দেখা যায়। লেখক সে-দিকটিও খেয়াল রেখেছেন দেখে ভালো লাগল। এ-ছাড়া এমন উপন্যাস পড়ার মোক্ষম সময় হলো—কোনো ভরা বৃষ্টির দিনে হাতে কফি অথবা চা খেতে খেতে পড়া। তাহলে বইয়ের চরিত্র আর বর্ণনার সাথে বেশি করে খাপ খাওয়ানো যাবে। ওয়েদার ডিমান্ড না থাকলে সেটা অবশ্য অন্য কথা। ● যেমন ছিল গল্পের চরিত্ররা— উক্ত উপন্যাসে স্ট্রং পয়েন্ট হচ্ছে চরিত্ররা। মূল চরিত্রদের পাশাপাশি সব কয়টি চরিত্র ছিল স্বতন্ত্র। ছোটো থেকে বড়ো, প্রত্যকটি চরিত্রদের যে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য লেখক দিয়েছেন—তা উপলব্ধি করার মতো। বইয়ের ব্যাপ্তি অনুয়ায়ী হয়তো সব চরিত্রকে সেভাবে বিস্তারিতভাবে দেখানো সম্ভব হয়নি, তবে যতটুকু সময় নির্ধারিত ছিল—তাতেই যথেষ্ট ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছে তারা। আরিফ সাহেবের সাথে সাথে তার ভাতিজা হারুন, বন্ধু করিম এবং রিতা চরিত্রটি আমার বেশ পছন্দের। বাদবাকি চরিত্রদের অবস্থান বেশ ইতিবাচক। ● শেষের গল্প বলা প্রয়োজন— সমাপ্তি নিয়ে একগলা আক্ষেপ আমাদের সব সময় থাকে। একটি সুন্দর বইয়ের সুন্দর সমাপ্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তেমনটা হয়েছে ❛জলকুঠুরি❜ উপন্যাসের ক্ষেত্রে। পুরো কাহিনিকে দক্ষ হাতে টেনে যে সমাপ্তি লেখক দিয়েছেন; তা সন্তুষ্ট করার মতো। ঠিক এমনটাই হয়তো আমার পাঠক সত্তা চেয়েছিল। পাঠকের উদ্দেশ্যে পূরণ করতে লেখক যেন এমন সমাপ্তি বেছে নিয়েছেন। গল্পের শক্তিশালী দিকগুলো নিয়ে ভাবলে যা যথোপযুক্ত। ● খুচরা আলাপ— গ্রাম্য সমাজে টিকে থাকতে গেলে ঠিক কী কী সমস্যার মুখোমুখি একজন নারীকে হতে হয়; কী করে সেটা এড়িয়ে চলতে হয়—লেখক তা ভালোভাবে তুলে ধরেছেন। দু থেকে তিন রকম নারী স্বভাব এই উপন্যাসে নিয়ে এসেছেন। যা গল্পে ভালোই প্রভাব ফেলে। তেমনই কিশোর জীবনের প্রেম-ভালোবাসার পরিণতি, ধর্ম অর্জন-বিসর্জনের চিন্তা, লাভ-লোকসানের হিসাবনিকাশ ইত্যাদি খুব অল্পতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। ❝যে আঘাত একবার এসে যায়, তা সেরেও যায়। কিন্তু যে আঘাত সম্ভাব্য, তা প্রতিদিনই অল্প অল্প করে ক্ষত বৃদ্ধি করে এবং মাঝে মাঝে সেই আশঙ্কা বরং মূল আঘাতকেও ছাপিয়ে যায়।❞ উপন্যাসে ঘাতপ্রতিঘাতের বিষয়টি গতানুগতিক মনে হলেও; প্রচলিত। পূর্বেও যেমন হয়েছে, বর্তমানেও তেমনই হচ্ছে। যুগ পালটে গেলেও মানুষের মনের ময়লা এখনও কয়লা হয়ে রয়ে গেছে। এ যেন কখনও চলে যাওয়ার কিংবা শেষ হওয়ার না। ❝পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক বিষধর প্রাণী হলো মানুষ। তারা যতদিন বেঁচে থাকে, স্থলে-জলে-জীবনে, কেবলই বিষ ছড়িয়ে যায়।❞ ◆ লেখক নিয়ে কিছু কথা— লেখকের ঋ এবং কাকতাড়ুয়া আমার পড়া। কাকতাড়ুয়া বইটি আমার ব্যক্তিগত পছন্দের। সেই লিস্টে এখন যুক্ত হলো ❛জলকুঠুরি❜। সামসময়িক লেখকদের মধ্যে মুশফিক উস সালেহীন দারুণ লিখেন। ওনার কিছু কাজ যদিও এখনও পড়া বাকি; বিশেষ করে ‘জাদুকর’ ট্রিলজি। ট্রিলজির তৃতীয় বই প্রকাশিত হলে অচিরেই সংগ্রহ করে নিব। এ-ছাড়া যারা এখনও লেখকের কোনো লেখা পড়েননি তারা উক্ত উপন্যাসটি পড়ে নিতে পারেন। ভালো লাগবে এইটুকু আশ্বাস নির্দ্বিধায় দিতে পারি। ● বানান ও সম্পাদনা— বেশ কিছু বানান ভুলের দেখা পেলেও প্রচলিত কিছু বানান ভুল চোখে পড়ার মতো। তেমনই কিছু জায়গায় সম্পাদনার অভাব বোধ করেছি। নামের গড়মিল এবং একজন চরিত্রকে একই সিকোয়েন্সে একবার জামা আবার শাড়ি পরানোর মতো ভুল তো রয়েছে-ই। এক্ষেত্রে আরও যত্নশীল হওয়া যেত। বিশেষ করে বাহ্যিক চরিত্রদের নিয়ে আর একটু খোলাসা করা গেলে ভালো হতো। নির্দিষ্ট চরিত্রদের সমাপ্তি দিলেও, অমুকের বাপ কেন মেয়েকে চিনল না-সহ এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। কিছু রহস্য কাহিনি শেষ হওয়ার পরও থেকে গিয়েছে। তবে এ-কারণে মূল গল্পে তেমন কোনো সমস্যা হতে দেখা যায়নি। ● প্রচ্ছদ— খুবই সাধারণ আর মন ভালো করে দেওয়ার মতো প্রচ্ছদ। নতুনদের মধ্যে জাওয়াদ ভাই বেশ ভালো কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ওনার কিছু সিগনেচার কাজ রয়েছে; যার মধ্যে এটি একটি। প্রচ্ছদে বইয়ের নামটা ‘জল কুঠুরি’ কি ইচ্ছাকৃত লেখা না-কি এইভাবে নামলিপি করা হয়েছে? ● মলাট » বাঁধাই » পৃষ্ঠা— বইয়ের মলাট, বাইন্ডিং, পৃষ্ঠা সবই ঠিকঠাক। বাহ্যিক প্রোডাকশন নিয়ে কিছু বলার নেই। ভেতরের প্রোডাকশনে আরেকটু সময় নিয়ে করা যেত বলে মনে করছি। ≣∣≣ বই : জলকুঠুরি • মুশফিক উস সালেহীন ≣∣≣ জনরা : সামাজিক ‘লাইট’ থ্রিলার ≣∣≣ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২২ ≣∣≣ প্রচ্ছদ : জাওয়াদ উল আলম ≣∣≣ প্রকাশনা : চিরকুট প্রকাশনী ≣∣≣ মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা মাত্র ≣∣≣ পৃষ্ঠা : ১৬০

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)