

Buy জল নেই, পাথর Online in Bangladesh
লেখক: ওবায়েদ হক
- Author: ওবায়েদ হক
- Publisher: উপকথা প্রকাশন
- Number Of Pages: 112
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
একটা খুনের চিন্তা মাথায় নিয়ে আমি শহরের রাস্তায় হাঁটছি। ভাবছি, যে মৃত্যু কামনা করছে তাকে মারলে সেটা খুন হবে নাকি উপকার করা হবে? রাস্তায় কত মানুষজন দেখা যাচ্ছে, কেউ চলছে পায়ে, কেউ চাকায়। আমি মুখগুলো দেখছি, প্রায় প্রত্যেকটা মুখ আমার চেনা। যে লোকটা হনহন করে হেঁটে আসছে, তাকে দেখে মনে হচ্ছে জরুরি কাজে দেরি হয়ে যাচ্ছে তার, আসলে সে এভাবেই হাঁটে। দিনের অর্ধেক সময় কাটায় চায়ের দোকানে, কমদামি সিগারেট খায়। ছুটির দিনে যে মহিলাটা কোচিং থেকে বাচ্চা নিয়ে বাসায় ফিরছে, তাকেও চিনি আমি, সিটি কর্পোরেশনে চাকরি করে সে, সব সময় একটাই বোরকা পরে। তার স্বামীকে নতুন নতুন শার্ট গায়ে প্রায়ই কমবয়সী একটা মেয়ের সাথে রিকশায় দেখা যায়। মোটর সাইকেলে যে পেটমোটা লোকটা এইমাত্র হর্ন বাজাতে বাজাতে পার হয়ে গেল, তাকে একদিন মিছিলে দেখেছিলাম, সামনের লাইনে থাকার জন্য বাচ্চাদের মতো কনুই দিয়ে ঠেলাঠেলি করছে। ফোনের পর্দায় চোখ রেখে বোকা ডোডো পাখির মতো হাঁটতে থাকা ছেলেটা, সাইকেলে গলগণ্ডের মত কলসি বেঁধে ধীর লয়ে প্যাডেল ঘুরানো দুধওয়ালা, রিকশায় ফেরা বিধ্বস্ত পতিতা, এইসব মুখ দেখছি আর ভাবছি, এই মানুষগুলোকে কি আমি খুন করতে পারবো? যার মনে দুঃখ নেই, কষ্ট নেই, অনুশোচনা নেই, মায়া নেই তার দ্বারা ভয়ানক সব কাজ করা সম্ভব। যতই ভাবছি, ততই নিজেকে খুব বিপজ্জনক মনে হচ্ছে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বই: জল নেই,পাথর লেখক : ওবায়েদ হক প্রকাশনী : উপকথা প্রকাশন জনরা : সমকালীন উপন্যাস পৃষ্ঠা : ১১২ পার্সোনাল রেটিং : ৮/১০ পাঠ প্রতিক্রিয়া : মেয়ে বাসায় না থাকলে ভাবি, এই সুযোগে বইটই বেশি করে পড়ব। অথচ তখন আর তেমন পড়া হয় না। তবে কাল “জল নেই, পাথর” হাতে নিয়ে এক বসাতেই শেষ করে ফেললাম। বইটি পড়া শেষে কেন্দ্রীয় চরিত্র পলাশ সাহেবের জন্য এক অদ্ভুত দুঃখবোধ জাগল। যেখানে মানুষ পৃথিবীতে সুখের খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ায়, সেখানে পলাশ সাহেব খুঁজে ফিরছেন দুঃখবোধ। একমাত্র মেয়ে ও স্ত্রীকে হারিয়ে তিনি যেন অনুভূতিহীন হয়ে গেছেন—যেমন অতিরিক্ত শোকে মানুষ পাথর হয়ে যায়। সেই হারিয়ে যাওয়া দুঃখবোধের খোঁজেই এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প। আর সেই সঙ্গে উঠে আসে সমাজের নানা অসংগতি ও বিচ্ছিন্ন বাস্তবতার চিত্র। ছোট পরিসরের বই হলেও কোথাও একঘেয়েমি লাগেনি। পুরো বইটিই ছিল সুখপাঠ্য। অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হওয়া চরিত্রগুলোকেও লেখক সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সমাজের নানা ধরনের মানুষ ও তাদের বৈশিষ্ট্য খুব অল্প কথায় চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। অনেকদিন পর এমন একটি উপন্যাস পড়ে সত্যিই ভালো লাগল। পলাশ সাহেব যে দুঃখবোধের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছেন, সেই দুঃখের স্পর্শ তিনি শেষ পর্যন্ত খুঁজে পান কি না, সেটা না হয় অজানাই থাকুক। তবে পাঠকের হৃদয়কে এই দুঃখবোধ ঠিকই ছুঁয়ে যাবে। বিশেষ করে যাদের ঘরে ছোট্ট আদুরে মেয়ে আছে, তাদের কাছে বইটির আবেগ হয়তো আরও গভীরভাবে ধরা দেবে....



উপন্যাস : জল নেই পাথর লেখক : ওবায়েদ হক জনরা : সমকালীন-সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক প্রকাশনী : উপকথা প্রকাশন প্রচ্ছদ : অনন্যা চক্রবর্তী প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ পৃষ্ঠা : ১১২ মুদ্রিত মূল্য : ২৬৭৳ রেটিং : ⭐⭐⭐⭐/৫ "অপ্রসন্নতা, অসাড়তা, অসচ্ছলতা, আড়ষ্টতা, অসহায়ত্ব,..." এই সব কিছুর মিশেলেই যেন "জল নেই পাথর" এর সৃষ্টি। যান্ত্রিকতায় জর্জরিত ইট-পাথরের শহরে নিরাসক্ততা নিয়ে দিন পার করছেন? অথবা বিষণ্ণতার অবসাদে ডুবে আছে আপনার অনিদ্রায় ভুগতে থাকা দু-চোখ? আসুন, আপনাকে একটা গল্প শুনাই। "বিষণ্ণতার গল্প"। বিষণ্ণতা নিয়ে আবার "বিষণ্ণতার গল্প" শোনার আশঙ্কা করছেন? মাইনাসে, মাইনাসে কিন্তু প্লাস হয়। তাই বিষণ্ণ মন নিয়েও অবসাদে ডুব দিলে আনিদ্রার ঘোর কাটলেও কাটতে পারে। এই গল্পের শুরু নেই, শেষও নেই। আবার হয়তো আছে। যেমন "তারিন" আর "কুটু" বিনা বাক্যালাপে বিদায় নিয়ে, তাদের গল্প সমাপ্ত করলো। কিন্তু টিফিন বাটি হাতে নিয়ে বারংবার ঘড়ির চঞ্চলতা দেখতে দেখতে হেটে যাওয়া কর্পোরেট "মাহবুব সাহেব"-দের গল্প কখনো শেষ হয় না। বিস্তীর্ণ পথ তারা নির্বিঘ্নে হেটে যায়। হাটতে হয়! তাদের কোনো "দুঃখবোধ" নেই। "সুজন"-রা আবার সব কিছুর ঊর্ধে যেয়েও নিজের গল্প টিকিয়ে রাখতে চায়। কারেন্টের শকে পচনশীল হাত-পা‘ও তাদের গল্প রুখে দিতে ব্যর্থ। অপরদিকে " শশী"-রা নিজেদের গল্পের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে উদাসীন। "লজ্জাবোধ" আর "অঅপরাধবোধে" ধুকতে ধুকতে তারা খুঁজে নেয় "সুইসাইড ব্রীজ"। যেখান থেকে ঝাপ দিলে হয়তো (?) গল্প থেকে মুক্তি মিলে। দিন শেষে " জনি ওয়াকার"-রা গল্পের মাঝেই হারিয়ে যান। না আছে যার শুরু, না আছে শেষ। একই গল্পে তারা চক্রাকারে ঘুরতে থাকেন। আর এই চক্রকে ঘিরেই তো সব কিছু। জীবন কি চক্রের ব্যতিক্রম? আমার গল্পের ইতি নাহয় এখানেই টানছি? বাকি গল্প "জল নেই পাথর" বই-য়ে তোলা থাকলো....
ছুটির দিনে দুপুরের ভাত খেয়ে বিছানায় মাথা রেখে বইটা পড়া শুরু করি। চোখে আরামের ঘুম উঁকি দিচ্ছিলো। ভাবলাম ২/৪ পৃষ্ঠা পড়তে পড়তে "ঘুমেষে" পড়বে। কিন্তু হল তার উল্টো। ২/৪ পৃষ্ঠা পড়ে আমার উঁকি দেয়া ঘুম সম্পূর্ণ উবে গেল। ঘুমের আরাম পড়ার আরামের কাছে হার মানলো। এত ভালো লাগছিল, না পড়ে থাকতে পারলাম না। কত কঠিন কথা কত সহজ ও সাবলীলভাবে বলে ফেললেন- হাসপাতালের দালানগুলোকে আজ আর নিষ্ঠুর মনে হচ্ছে না, কেমন অসহায় লাগছে দেখতে। আসলে রড-সিমেন্টের এই দেহটার নিজস্ব কোনো চরিত্র নেই, এর ভেতরে থাকা মানুষগুলোই ভবনের চরিত্র ঠিক করে দেয়। থানার দালানটাকে দেখি চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে থাকে। পুরাতন জমিদার বাড়িটা বুড়ো হয়ে নুয়ে পড়েছে, কিন্তু অহংকার একটুও কমেনি। স্কুলের দালানটাকে দেখে মনে হয় তপ্ত রোদে কোনো এক বালক কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমার অফিসটাকে দেখে মনে হয় গরুর খামার। অনেকগুলো গরুকে বেঁধে রাখা হয়েছে টাই দিয়ে। তাদের টাকা খেতে দেওয়া হয় মাসে একবার। বিনিময়ে দোহন করা হয় প্রতিদিন। দুধ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না তারা, রক্ত দিয়ে শোধ দেয়। খুব স্বাভাবিক বর্ণনাও এত চমকপ্রদ উপায়ে বলেন যে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই- ছেলেটার বয়স তেরো-চৌদ্দ হতে পারে। গায়ে ঢিলেঢালা শার্ট, দুইটা বাদে সব বোতাম শার্টটাকে ত্যাগ করে গেছে। কোমরে একটা অনিচ্ছুক জিন্সপ্যান্টকে সে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে। প্যান্টের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়রোগ দেখা দিয়েছে। তার চুলগুলো খুবই একগুঁয়ে, সব কয়টা স্বতন্ত্র, যে যার মতো শুয়ে বসে আছে, কোনো শৃঙ্খলা নেই। নাকের নিচে গোঁফের রেখা তার চেহারায় যে সারল্য ছিল তার সবটাই ঢেকে দিয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের হিমু ধাঁচের গল্প, কিন্তু লেখক নিজের স্বতন্ত্রতা সফলভাবে বজায় রেখেছেন। গল্পের প্রতিটা ডালপালা শেষে এসে খুব সুন্দরভাবে মিলিত হয়েছে। এত মুগ্ধতা ও উত্তেজনা নিয়ে শেষ কবে কোন বই শেষ করেছি মনে নেই। লেখকের বাকি বইগুলোও পড়ার জন্য মুখিয়ে আছি আপাতত।

কাহিনী সংক্ষেপঃ দুঃখবোধহীন মাহবুবের দিনাতিপাত নিয়ে উপন্যাসটির কাহিনী এগিয়েছে। তিনি কোনো দুঃখ অনুভব করেন না। খুব কাছের কিছু মানুষ তার জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর থেকেই তার এই অবস্থার জন্ম নেয়। তার ভিতর কোনো অনুভুতি জাগে না, রাগ-দুঃখ-হতাশা-সুখ, কিছুই অনুভুত হয়না। তাই ডাক্তারের শরনাপন্ন হন। ডাক্তার তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখতে। হয়তবা তাতে মাহবুব সাহেবের মনে দুঃখবোধ জন্ম নিবে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। মাহবুব সাহেব ভেবেছিলেন বিষয়টা হয়ত ক্ষণস্থায়ী, কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু দিন পার হচ্ছিল তার এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছিল না। এর মাঝে বিচিত্র ধরনের কিছু চরিত্রের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। শেষ পর্যন্ত মাহবুবের পরিনতি কি হয় জানতে হলে বইটা পড়তে হবে আপনাকে। আশাকরি একদমই নিরাশ করবে না বইটা। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইটাকে সামাজিক উপন্যাসের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাসও বলা যায়। তবে সহজ সাবলীল ভাষায় লেখা একটি সাদামাটা কাহিনীর বই, তবুও যেন অসাধারণ! শেষের টুইস্টটা ভাল ছিল, তবে কেমন যেন বিষন্নতা ভর করছিল বার বার।
বেশ ভালো লেগেছে।






















