

Buy জিন্দাবাহার Online in Bangladesh
লেখক: ইমদাদুল হক মিলন
- Author: ইমদাদুল হক মিলন
- Publisher: অনন্যা
- Isbn: 9789844321694
- Number Of Pages: 256
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2016
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"জিন্দাবাহার" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ 'জিন্দাবাহার' থার্ডলেনের সাত নম্বর বাড়ি। নিম্নবিত্তের বহু মানুষের বাস এই বাড়িতে। মিলু নামের সাত বছর বয়সি এক শিশু তার চোখ দিয়ে দেখছে বাড়ির বিচিত্র মানুষগুলােকে। তাদের পেশা, প্রতিদিনকার জীবন, সুখ দুঃখ আনন্দ বেদনার ভেতর দিয়ে কেটে যাচ্ছে দিন। বাড়ির বাইরে গলির পর গলি। সেখানেও কত মানুষ জিন্দাবাহার নামের মতােই যেন বছরব্যাপী এক অদ্ভুত বসন্তকাল বিরাজ করে এই এলাকায়। ষাটের দশকের শুরুর দিককার পুরান ঢাকার জীবন নিয়ে এক মায়াবী উপন্যাস ‘জিন্দাবাহার'।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
‘জিন্দাবাহার’ বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন এর লেখা একটি উপন্যাস । তিনি বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার । তিনি গল্প, উপন্যাস এবং নাটক এই তিন শাখাতেই জনপ্রিয় রচনা উপহার দিয়েছেন। কিশোর বাংলা নামীয় পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে তার সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ । এরপর থেকে তিনি তার লেখার দ্বারা পাঠকদের মন জয় করে যাচ্ছেন । তিনি১৯৫৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরের লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে । জিন্দাবাহার বইটি তার জনপ্রিয় একটি বই । বইটি প্রকাশিত হয় এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে । বইটি প্রকাশিত হয় অনন্যা প্রকাশনী থেকে । বইটির প্রকাশক মনিরুল হক এবং বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ । জিন্দাবাহার ঢাকা শহরের একটি এলাকার একটি বাড়ির নাম । বইটি তে লেখক ষাটের দশকের পুরান ঢাকা এলাকা কে অসাধারন ভাবে বর্ননা করেছেন । জিন্দাবাহার বাড়িটির একটি মেয়ে মিলু, তার বয়স সাত বছর । বিক্রমপুর থেকে ঢাকায় আসে তাদের পরিবার । ঢাকায় এসে জিন্দাবাহার বাড়ি তে উঠে । এরপরে তাদের জীবন চলতে থাকে ঢাকায় । তারা সাধারন পরিবার হিসেবে বসবাস শুরু করলেও এক পর্যায়ে আস্তে আস্তে নিম্নবিত্ত পরিবার হয়ে যাওা এরপরে না খেয়ে থাকার মত ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের স্বীকার ও হতে হয় তাদের । পেটের দায়ে প্রেসের শিশা সংগ্রহ থেকে শুরু করে এইরকম ভাবে জীবন যাপন করতে করতে একসময় আবার তাদের গ্রামে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত এই গল্পটি লেখকের উপন্যাসে রয়েছে । উপন্যাস টি যে কোনো পাঠকের কাছেই ভালো লাগবে , উপন্যাসের অসাধারন কাহিনী আর পটভূমির জন্য ।
জিন্দাবাহার- ইমদাদুল হক মিলন এর ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বই। জিন্দাবাহার একটি বাড়ির নাম। যেখানে সাত তার নিজের চোখ দিয়ে সেই বাড়ির সকলকে দেখছে। লেখক পুরান ঢাকার ষাটের দশকের জীবনকে তাঁর লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়াস দেখিয়েছেন মাত্র। উপন্যাস এ লেখক লঞ্চে করে আসা একটি পরিবারের ঢাকায় আসা ও তাদের কথপোকন দিয়ে শুরু করেছেন। মা ও তাঁর সন্তানদের ঢাকায় আসা ও ষাট দশকের পদ্মার কিছু বর্ণনাও লেখক দিয়েছেন। হঠাৎ করেই চারদিকের পরিবেশটা খারাপ হয়ে গেল। একদিকে ঢেউ অন্যদিকে হাওয়া। মা ও আম্মা ২ জনই দুয়া পড়ছেন। সন্তানদের মধ্যে আজাদ ছাড়া কেউ সাঁতার জানে না। তাই তারা চিন্তা করতেছেন।কিন্তু অল্পকিছু ক্ষনের মধ্যেই বাবা লঞ্চঘাটে উপস্থিত।তখনও সদরঘাট টার্মিনাল হয় নি।টার্মিনাল থেকে বাহির হয়ে একটা ঘোড়ার গাড়ি। লেখক সেই সময়ের কিছু চিত্র তাঁর লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন। সদরঘাটে নানা ধরনের দোকান- কাপড়, মুদি, খেলনা ইত্যাদি। হারিকেনের ও হ্যাজাকবাতির সময় তখন। বাতি জলছে। আসার পথে তেমন খাওয়া হয়নি। চারদিকে অনেক খাবার দোকান। ঘোড়ার গাড়ি চলছে সাথে আব্বাও আছেন। আহসান মঞ্জিল ও বুলবুল ললিতকলা একাডেমির পাশে দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে। এই দুই বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা। দূরে আলো দেখা গেলেও পুরো রাস্তার তেমন আলো সেই সময় ছিল না। এই ভাবেই লেখক তাঁর উপন্যাসের শুরু করেছেন তাঁর এই লিখায়। খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।

জিন্দাবাহার। পুরান ঢাকার একটি এলাকা। এখানকার থার্ড লেনের সাত নম্বর বাড়ি। নিম্নবিত্তের বহু মানুষের বাস এই বাড়িতে। মিলু নামের সাত বছর বয়সী এক শিশু তার শিশু-চোখ দিয়ে দেখছে বাড়ির বিচিত্র মানুষগুলোকে। তাদের পেশা, প্রতিদিনের জীবন, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার প্রতিচ্ছবি দেখছে তার সরল চোখে। কখনো আনন্দ এসে ভাসিয়ে নিচ্ছে তাকে, কখনো বেদনার ভার নত করছে। কখনো কৌতূহলে দিকশূন্য হয়ে যাচ্ছে সে। কখনো সে আকাঙ্ক্ষায় হয়ে যাচ্ছে কাঙাল। ষাটের দশকের শুরুর দিকের পটভূমি। মাধ্যম সাত বছর বয়সী শিশুর সরল কৌতূহলী চোখ। কিন্তু উঠে আসছে সে সময়ের পূর্ণ ছবি। পুরান ঢাকার চালচিত্র। ‘জিন্দাবাহার’। জনপ্রিয় লেখক ইমদাদুল হক মিলনের বৃহদায়তনিক গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস। বিক্রমপুর এলাকা থেকে এসে পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার লেনের ভাড়া বাড়িতে ওঠে একটি পরিবার। এই পরিবারেরই এক সন্তান মিলু। সে শিশু-চোখ দিয়ে দেখছে সব কিছু। সদরঘাটে লঞ্চ থেকে নামার সময় থেকেই তার শুরু। তারপর রাতের ঢাকা। একে একে এগলি-সেগলি-তস্যগলি, নবাববাড়ি, নবাববাড়ির লোকজন, আহসান মঞ্জিল, বিহারিবাড়ি, লায়ন হল, বিজয় সিনেমা হয়ে তার বাবার জৌলুসপূর্ণ জীবন ধীরে ধীরে সাধারণ হতে হতে নিম্ন পর্যায়ে চলে যাওয়া। বাবার চাকরি না থাকায় একসময় না খেয়ে থাকার যন্ত্রণা, তখনকার মনস্তত্ত্ব, একটু খাবারের জন্য বড়লোকের বাড়িতে যাওয়া, একটু পয়সার জন্য প্রেসের সিসার টুকরা সংগ্রহ, চরম অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে বাবার ভেঙে পড়া জীবন, মায়ের পরাজিত মুখ। একসময় হেরে গিয়ে, বেঁচে থাকার সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য আবার তাদের গ্রাম-দেশে চলে যাওয়ার ভেতর দিয়ে শেষ হয়ে যায় এই করুণ আখ্যান। মাঝখানে সময়ের ব্যাপ্তি মাত্র এক-দেড় বছর। সময়টাই যেন ঘোরের। জিন্দাবাহার এলাকাটাই যেন ঘোরের। এই ঘোরের মধ্যে সত্যিকার ঘোর নিয়ে আসে মিলু নামের শিশুটি, যে আচ্ছন্ন করে রাখে ‘জিন্দাবাহার’ উপন্যাসের প্রতিটি শব্দের সঙ্গে। এই ঘোর একসময় তাকে বেদনার দিকে নিয়ে যায়। উপন্যাসটি শেষ হয়ে যায়।






















